নগরীর প্রবেশ পথেই ভাঙা সড়কের ভয়

নগরীর প্রবেশ পথেই ভাঙা সড়কের ভয়

কুমিল্লা মহানগরীর অন্যতম প্রবেশপথ শাসনগাছা আলেখারচর সড়কে বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে খালের মতো হয়ে আছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় লোকজন জানান, এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নগরীতে যাওয়া-আসা করেন। আলেখারচর মেডিসিন মার্কেট-সংলগ্ন সড়কটির দুই পাশে ড্রেন ছিল। তবে অবৈধ দখলের কারণে এখন আর ড্রেন নেই। যার ফলে ড্রেনের পানি রাস্তায় জমে।

অটোরিকশায় যাত্রী নিয়ে পড়িমরি করে কোনো রকমে ভাঙা গর্ত পার হন চালক সামছুদ্দিন। যাত্রীরাও যেন হাফ ছেড়ে বাঁচেন। এ সড়কে চলতে গেলে প্রতিদিনই সামছুদ্দিনকে ভয়ে থাকতে হয়, কখন না অটোরিকশা পড়ে যায়, আহত হন যাত্রীরা।

এই সড়কটি কুমিল্লা মহানগরীর অন্যতম প্রবেশপথ শাসনগাছার আলেখারচরে। সড়কটির মেডিসিন মার্কেটের সামনে অন্তত ৩০০ মিটার ভাঙা আর বড় গর্ত। তার মধ্যে হাঁটু সমান গর্ত ৩০ ফুট রাস্তায়। বৃষ্টি হলেই পানি জমে খালের মতো হয়ে যায়।

সামছুদ্দিন বলেন, ‘আইজ বছর দেড়েক এই রাস্তাডা ঠিক অয় না। কারে কইলে রাস্তাডা ঠিক কইরা দিব, কও একবার। আমডা হগ্গল ডাইবার (ড্রাইভার) গিয়া হেই অফিসাররে কই।’

স্থানীয় লোকজন জানান, এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষের চলাচল।

তারা জানান, আলেখারচর মেডিসিন মার্কেট-সংলগ্ন সড়কটির দুই পাশে ড্রেন ছিল। তবে অবৈধ দখলের কারণে এখন আর ড্রেন নেই। যার ফলে ড্রেনের পানি রাস্তায় জমে।

এতে সড়কের পিচ, খোয়া উঠে গিয়ে বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। সড়কটির উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও একই অবস্থা।

নগরীর প্রবেশ পথেই ভাঙা সড়কের ভয়

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বছর দেড়েক ধরে সংস্কার নেই। আর কবে সংস্কার হবে তাও জানেন না তারা।

সরেজমিনে সোমবার সকালে দেখা যায়, শাসনগাছা থেকে আলেখারচর সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে। পিচ ও খোয়া উঠে এবড়োথেবড়ো হয়ে আছে।

নগরীর বিভিন্ন হসপিটাল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. শরিফ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কুমিল্লা থাইক্কা ঢাকা আর ঢাকা থাইক্কা কুমিল্লা- এই জায়গাডার মতো খারাফ রাস্তা আর নাই। কবে ধইরা রাস্তাডা এরুম, কেউ ঠিক কইরা দেয় না।’

নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুস সামাদ বলেন, ‘প্রতিদিন নিমসার বাজার থাইক্কা তরকারি আনি। এই জায়গায় আইলেই টেনশনে থাহি। ভ্যানগাড়িডা উল্ডাইয়া নিয়ে তরকারিডি পানিত পইরা যায়।’

কুমিল্লা সতেচন নাগরিক কমিটির সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যদি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকে তাহলে তার দায়ভার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ অচিরেই সড়কটি সংস্কারে এগিয়ে আসবেন৷

নগরীর প্রবেশ পথেই ভাঙা সড়কের ভয়

কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বি বলেন, ‘সড়কটি দুই পাশে স্থাপনা হওয়ার কারণে সড়কে পানি জমে খোয়া-পিচ উঠে গিয়ে বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।

‘আমরা এখন ইট দিয়ে সাময়িক সংস্কার করছি। তবে সমস্যাটি স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

ফেরি চালুর দাবিতে অনশন। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘ ২৩ দিনেও ঘাট চালু জাজিরা ফেরিঘাট; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালুর দাবিতে মঙ্গল মাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে চলছে গণ-অনশন।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটি নামের সংগঠন শনিবার সকাল ৯টা থেকে এই অনশন করছে। সংগঠনের বক্তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।

পদ্মা সেতুতে বারবার আঘাতের কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে জরুরি যানবাহনের চলাচল নিয়ে বিপাকে পড়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুকে এড়িয়ে সেতুর ভাটিতে নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট জাজিরা প্রান্তে ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘাটে স্থাপন করা হয় নতুন পন্টুন।

দীর্ঘ ২৩ দিনেও সেই ঘাট চালু হয়নি; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জামাল মাদবর জানান, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। সেই সেতুকে ফেরির আঘাত থেকে রক্ষার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচল করবে। সেই জন্যই নির্মাণ করা হয় ঘাট।

‘তবে শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের ফেরি চলাচল শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আমরা এর আগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান কর্মসূচি। দাবি মানা না পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বাস। ছবি: মাহফুজ নান্টু/কুমিল্লা

মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস নাথের পেটুয়ামুখী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে চারজন নিহত ও একজন আহত হন।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে উপজেলার নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার খবর আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে শুরুতে বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক্টরের আংশিক সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের পরই বাসটি সামনে এগিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশের গর্তের দিকে টেনে নেয়। এরপর অটোরিকশাটির ওপর উঠে যায় বাস।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুল কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়েছেন। বাসের যাত্রীরা হতাহত হননি। অটোরিকশায় থাকা আহত আরোহীদের আশপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা গেছে ঘটনাস্থলেই।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চাপ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত এক মাসে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ শিহান মাহমুদ বলেন, 'হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড আছে ২৪টি। গত কয়েক দিনে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

‘প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চাপ এতটাই বেশি যে মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীর জায়গা দিতে পারছি না। এসব শিশুদের অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।’

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান জানান, ভাদ্র মাসের গুমোট গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

তিনি বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

তবে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। সঙ্গে রাখেন আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম এবং মধু রাখার বালতি। সংগ্রহ করেন মধু। আর এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এক মৌচাক ভাঙলে পাওয়া যায় ১৫-২০ কেজি মধু। শতভাগ খাঁটি ও বিশুদ্ধ মধু ক্রেতাকে পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দেন মামুন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের রতন বরিষ গ্রামে।

২০১৯ থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন মধু সংগ্রহের কাজ। তবে গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়ি চলে আসেন তিনি। পরে নিজের এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই আবার শুরু করেন মধু সংগ্রহ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

তবে মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাকের মধু সংগ্রহ করা গেলে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। অনলাইনে মধু বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

মামুন জানান, মূলত মৌমাছিরা নিজেদের খাদ্য হিসেবেই মধু ফুল থেকে আহরণ করে। ফুলের মধ্যে নেক্টার নামের এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে। প্রথমে ফুল থেকে এই নেক্টার কর্মী মৌমাছিরা পান করে তাদের দেহের মধু থলিতে সংরক্ষণ করে মৌচাকে নিয়ে যায়। পরে মৌচাকে থাকা মৌমাছির মুখে দিয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা। এরপর মৌচাকের মৌমাছিগুলো ফুলের রসের সঙ্গে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বেশ কয়েক ধরনের এনজাইম যোগ করে মৌচাকে সেগুলো জমা করে।

মধু শক্তি প্রদানকারী খাদ্যগুলোর মধ্যে একটি। দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। প্রাকৃতিক মধুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

মামুন বলেন, ‘মধু সংগ্রহের কাজে সহযোগী হিসেবে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন। আমরা সারা বছর গ্রামগঞ্জে সাইকেল চালিয়ে প্রাকৃতিক চাকের মধুর সন্ধান করি। কোথাও মধুর সন্ধান পেলে ছুটে যাই সেখানে। মধু সংগ্রহ করার সরঞ্জাম সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। এরপর চোখ খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে আমাদের একজন মৌচাক কাটি। সঙ্গে রাখা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা মধু সংগ্রহ করি।’

এই উদ্যোক্তা জানান, শীতকালে প্রকৃতিতে ফুল বেশি ফোটে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এই সময়েই মৌচাকগুলোতে মধুও বেশি পাওয়া যায়।

মধু চেনার সঠিক উপায়ও জানালেন মামুন। বলেন, ‘মানুষ মধু কিনতে গিয়ে ব্যাপক সংশয়ে পড়েন। মধু চেনার বেশ কিছু প্রচলিত উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। চুন দিয়ে পরীক্ষা, ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা, পিঁপড়া দিয়ে পরীক্ষা-এগুলো আসলে সঠিক উপায় না।

‘আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য মধুতে আগুনে জ্বেলে ও পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখান। এগুলো মধু চেনার সঠিক উপায় নয়। একমাত্র ল্যাবটেস্টই আসল মধু চেনা যায়। তবে আসল মধুর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে যেটি অনুধাবন করা যায়।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ

নওগাঁয় শ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ দুই মাস আগে কেটে জলাশয় বড় করেন আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বারবার স্থানীয় প্রশাসনে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন। উল্টো ওই আওয়ামী লীগ নেতাই নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান তারা।

স্থানীয় লোকজন জানান, চন্দননগর দরগাপাড়া ও তাতিহার গ্রামে তিন শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সরকারি লালমাটি পুকুরের উত্তরপাড়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি মহাশ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা।

প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে সরকারি পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান। দুই মাস আগে শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও সংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ কেটে পুকুরে পরিণত করেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল পাহান বলেন, ‘ওই শ্মশানে স্বজনদের মৃতদেহ সৎকার করতে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাধা দেন। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’

তাতিহার গ্রামের বাসিন্দা রুপেন সরদার বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ওই জায়গা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আমরাও ছোটবেলা থেকে জায়গাটিকে শ্মশান হিসেবেই চিনি। হঠাৎ করে খালেকুজ্জামান প্রভাব খাটিয়ে শ্মশানের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। থানায় অভিযোগ করায় এখন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

স্থানীয় চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে খালেকুজ্জামান সালিশে বসতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত একটা সমাধান হওয়া উচিত।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বলেন, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটা শ্মশান নয়। ওই জায়গা খাস সম্পত্তি। কোনো দিনই ওই জায়গা কবরস্থান কিংবা শ্মশান ছিল না। শ্মশানের জায়গা হলে আমি কোনো দিনই জবরদস্তি করতাম না।

‘আমি ২০ বছর ধরে চন্দননগরের চেয়ারম্যান ছিলাম। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না আমি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (এসি ল্যান্ড) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

বরগুনা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূল নকশা বদলে মূল ঘর ও বারান্দার একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও। নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় সরকারি নকশা পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুন্ন হয়েছে ঘরের গুণগতমান।

অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ইচ্ছামতো নির্মাণ করেছেন এইসব ঘর। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

তারা জানান, ভিন্ন নকশার কারণে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। আর নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে খসে পড়ছে প্লাস্টার, বালু উঠছে মেঝে থেকে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সবার জন্য ঘর নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে বরগুনাসহ সারা দেশে ৭০ হাজার ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বরগুনা সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩০টিসহ পর্যায়ক্রমে ২১৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নীতিমালা। দুর্নীতি ঠেকাতে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি। এ ছাড়া ঘরের জন্য দেয়া হয় আলাদা নকশা।

সারা দেশে সরকারি সেই নকশায় ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রম।

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ইট, বালু, কাঠসহ সব সামগ্রী নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। দেয়ালের পুরুত্বও ঠিক নেই বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) না থাকায় প্রকল্প-২-এ সেই দায়িত্ব দেয়া হয় বেতাগী উপজেলার পিআইও মো. ওয়ালিউল্লাহকে।

তবে ওয়ালিউল্লাহ দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকায় বরগুনা সদর উপজেলায় মূলত দেখাশোনা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী হওয়ায় হুমায়ুন কারও পরামর্শ না নিয়ে নকশা বদলে ইচ্ছেমতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার দক্ষিণ লাকুরতলা গ্রামে দেখা যায়, দুই শতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অন্য ঘরগুলোতে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে।

হস্তান্তর করা ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, মো. জহিরুলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নকশায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। এখন পর্যন্ত সব ঘর হস্তান্তর না হলেও খসে পড়া শুরু করেছে পলেস্তারা। মেঝে থেকেও বালু উঠছে। কয়েকজন নিজ উদ্যোগে মেঝে ঠিকও করে নিয়েছেন।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তার (প্রকৌশলী হুমায়ুন) সঙ্গে কোনো কথাই বলা যেত না। নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘর তৈরি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন। কার প্রভাবে কীভাবে হুমায়ুন এত ক্ষমতা পেল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ইউএনও সামিয়া শারমিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। আমি আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ঘর হস্তান্তর হয়নি। ঘর নির্মাণে অনিয়ম কিংবা নকশাবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে
২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে থমকে গেছে জীবন
ফসলি মাঠে ‘এতিম সেতু’
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের

শেয়ার করুন