ডা. সাবিরার খুনি কে, তিন মাস পরেও ধন্দে পুলিশ

ডা. সাবিরার খুনি কে, তিন মাস পরেও ধন্দে পুলিশ

নিজ ফ্ল্যাটে হত্যার শিকার হন চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান। ফাইল ছবি

গত ৩১ মে সকালে কলাবাগান ফার্স্ট লেনের ৫০/১ নং বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে গ্রিনলাইফ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক সাবিরা রহমানের রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খুনি কোনো আলামত রেখে যায়নি। তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়, এমন একটি ক্লুও খুঁজে পায়নি পুলিশ।

রাজধানীর কলাবাগানে ঘরে ঢুকে চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমানকে হত্যার তিন মাসেও কোনো কূলকিনারাই করতে পারল না পুলিশ।

থানা পুলিশের ব্যর্থতার পর তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে বাহিনীটির বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই। তারা দায়িত্ব পেয়েছে এক সপ্তাহ নাগাদ। এখনও কিছু গুছিয়ে উঠতে পারেনি।

গত ৩১ মে সকালে কলাবাগান ফার্স্ট লেনের ৫০/১ নং বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে গ্রিনলাইফ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক সাবিরা রহমানের রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তার কক্ষে ঢুকে খুন করা হয়েছে বেশ নিখুঁতভাবে। পেছন থেকে ছুরিকাঘাতের বড় ক্ষত ছিল কাঁধ ও ঘাড়ের মাঝামাঝি জায়গায়। পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সে আগুনে পুড়ে যায় দেহের অনেকখানি।

কিন্তু খুনি কোনো আলামত রেখে যায়নি। তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়, এমন একটি ক্লুও খুঁজে পায়নি পুলিশ।

সেই কক্ষে ডা. সাবিরা থাকতেন একা। তিন কক্ষের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীকে। এদের একজন ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আর ফেরেননি তখনও। অন্যজন একজন মডেল, যিনি ভোরে জগিংয়ের জন্য বের হন।

সেই বাড়িতে একজন দারোয়ান ছিলেন, কিন্তু কারা নিচ থেকে উঠেছেন, খুন করে চলে গেছেন, তিনি দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

সেই বাড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। আর ডা. সাবিরার কক্ষে কারও আঙুলের ছাপও পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা।

শুরু থেকেই ঘুরপাক খাওয়া তদন্ত কর্মকর্তারা একে ‘একটি নিখুঁত খুন’ হিসেবেই দেখছিলেন। তারপরও আশা করছিলেন, হয়তো কোনো না কোনো একটি উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে, যে পথ ধরে এগিয়ে খুনিকে শনাক্ত করা যাবে।

কিন্তু সেটি আর হয়নি। সেই বাসায় সাবলেটে ভাড়া থাকা নারী মডেলের কাছ থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আর তাকে সন্দেহ করার মতোও কোনো উপাদান পায়নি পুলিশ, পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের উপকমিশনার শরীফ মাহমুদ ফারুকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি মাস থেকে কাগজে-কলমে পিবিআই কাজ করছে। আমাদের কাছে এই মামলার কোনো আপডেট নাই। আমরা যে তদন্ত করেছি, তার কাগজপত্র, ডকুমেন্ট ও মামলার পুরা ডকেট আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।

‘আমরা অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। সাক্ষাৎকারের লিখিত রূপ, আমাদের কাছে জব্দ আলামত, মেডিক্যাল রিপোর্ট সবকিছুই পিবিআইকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এটা নিয়ে পিবিআইয়ের দুইটা টিম কাজ করছে।’

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘চলতি মাসের ২২ তারিখে মামলাটি আমরা হাতে পেয়েছি। ডকেট পর্যালোচনা করছি। ফরেনসিকের কোন কোন রিপোর্টগুলো আসল, সেগুলো দেখছি। এই মামলার আপডেট তদন্তের পর জানাতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত চালাচ্ছিলাম। এখন যেহেতু তদন্ত আমাদের হাতে, সেহেতু আরও জোরালোভাবে তদন্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘ডা. সাবিরার বাসায় সাবলেটে থাকা ওই নারী মডেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিলাম আমরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে আমরা তাকে ডাকি। ডিবি পুলিশসহ সবাই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি আগের বাসা পরিবর্তন করে নতুন বাসায় উঠেছেন।’

ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির বলেছিলেন, ‘যেটা বোঝা যাচ্ছে সাবিরাকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। তার ঘাড়ে ও পিঠে ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে। ঘাড়ের নিচে গভীর ক্ষতের দাগ আছে। তাকে মার্ডার করার পরই শরীরে আগুন লাগানো হয়েছে। আগুন লাগার কোনো আলামত আমরা পাইনি। আগুনটা লাগানো হয়েছে তার শরীরে।’

সাবিরা ফ্ল্যাটটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি বিবাহিত, তবে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তিনি অন্য জায়গায় ভাড়া থাকতেন।

সাবিরার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তারা মাকে খুনের দিন পাশেই নানির বাসায় ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

রংপুরে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই পিয়ারুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় থানা থেকে বন্ধু রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পেয়ারুল ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুন্না। শ্বশুরবাড়ি রংপুরের বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় যখন পৌঁছান তখন রাত ১১টা।

মূল সড়কের কাছেই বাড়িটি। সেখানে যাওয়ার রাস্তায় তখন মাদক সেবন করছিলেন পারভেজ রহমানসহ কয়েকজন। সেই দৃশ্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে যান এএসআই পেয়ারুল; মুন্না যান শ্বশুরবাড়ি।

বাড়িতে না ঢুকে দরজা থেকেই স্ত্রী মনিকার কাছে টাকা চান মুন্না। এর একটু পরই তিনি পেয়ারুলের চিৎকার শোনেন, ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’।

তখনই সবাই দৌড়ে এসে দেখেন পেয়ারুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

রংপুরে মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ারুল ইসলাম নিহতের ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন মুন্নার শাশুড়ি লাইলী বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পেয়ারুলের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন তিনি।

লাইলী বেগম বলেন, ‘পেয়ারুল আমার জামাই মুন্নার বন্ধু। নিয়মিত ওঠাবসা, যায়-আসে, খাইদাই করে। ওই দিন পেয়ারুল ছিল থানায়। মুন্না তখন বলছিল, টাকা লাগবে, আমি শ্বশুরবাড়ি যাব। পরে থানাত পেয়ারুলসুদ্ধে খাওয়া-দাওয়া করছে। পরে আমার জামাই আর পেয়ারুল একসাথে আসছে।

‘পেয়ারুল বাসায় না ঢুকি ওখানে (বাড়ির কাছে) কয়টা চ্যাংড়া (ছেলে) গাঞ্জা খাইতেছে ওখানে দাঁড়াইচে। ততক্ষণে আমার জামাই আমার কাছে আসছে, বাসায় ঢোকে নাই। ওই সময় ওই ছেলেটার (গ্রেপ্তার পারভেজ) সাথে কথা-কাটাকাটি হইচে।’

পেয়ারুলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় পেয়ারুল ওই ছেলেটাক কইছে, তুমি এখানে কী করো..। কেন বসি আছ, নেশা খাও কেন, এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি হইচে। এরপর পেয়ারুল ধরছে আরকি ছেলেটাকে। মানে কোমরের বেল্ট ধরছে, ওকে চেক করবে যে তার কাছে আরও কিছু আছে নাকি।’

‘ছেলেটা কইছিল ছাড়ি দেন। পেয়ারুল যে ছাড়ি দেয় না, তখন পেয়ারুল চড়-থাপ্পড় মারছে আর কইছে এই বয়সে নেশাটেশা করো। বেয়াদব ছেলে, এইলে কথা কইছে।’

লাইলী বেগম আরও বলেন, ‘পেয়ারুল ভালো করি ধরছে তো...। এই সময় মোবাইল বের করার কথা কয়া ছেলেটা চাকু বের করে মারি দিচে। পালাবার চেষ্টা করছে তয় পারে নাই।

‘আমার জামাই তখন আমার বাড়ির সামনে দাঁড়ায়ে আছে। বেটিক ডাকে টাকা চাইতেছে... তখনই পেয়ারুল কইছে ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’। অ্যাই (মুন্না) ফির দৌড়ি গেইচে। হামার বেটি ফির দৌড়ি যায়া দেখে পেয়ারুলের গাতও (শরীর) রক্ত, হামার জামাইয়ের গাতও রক্ত।

লাইলী বেগম জানান, পোশাকের কারণে তারা বুঝতে পারেননি পেয়ারুল কতটা আহত। পরে বাসায় নেয়ার পর পেয়ারুল গামছা দিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাতের স্থানটি বেঁধে নেন। এরপর পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পুলিশ পেয়ারুলকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

ঘটনার একই বর্ণনা দেন তেলিপাড়া গ্রামের আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘ওমরা (লাইলী) যা কইছে ওইলে ঘটনাই হয়।’

হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওকত আলী সরকার জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। পেয়ারুল সাদা পোশাকে সেই অভিযানেই ছিলেন। অভিযানে যাওয়ার আগে থানায় আবশ্যকীয় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (অপরাধ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি পুলিশের ওপর কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ নয়। তাৎক্ষণিক একটা পরিস্থিতির কারণে সে (আসামি) হয়তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য বা পুলিশের কাছ থেকে পালানোর জন্য কাজটা করেছে। যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আমরা থ্রেট মনে করছি না।’

পুলিশের এই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা শোকাহত ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনোবল ভেঙে যায়নি। কারণ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত পেশাদার। আমরা সব সময় চ্যালেঞ্জিং কাজ করছি।’

এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পেয়ারুল ২০১১ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এএসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় যোগ দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়।

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন চায় আদালত

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন  চায় আদালত

ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানের (বাঁয়ে) নামে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার মামলার এজাহার গ্রহণের পর এ আদেশ দেয় ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালত। এ সময় শাহবাগ থানা পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন বিচারক।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শাহাবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক মো. নিজাম উদ্দিন।

এর আগে শনিবার রাতে ইভানার মৃত্যু ঘটনায় দুই জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন তার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী।

এরা হলেন ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লা।

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চিকিৎসকের (নেফ্রোলজিস্টের) পরামর্শপত্র অনুযায়ী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইভানাকে গত এক বছর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইভানা তার বন্ধুদের জানান, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার স্বামী রুম্মান তাকে (ইভানাকে) ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন।

১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগের নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ছেলের বয়স ৮ আর মেয়ের বয়স ৬।

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

কিশোর হত্যা মামলায় দুজন কারাগারে

কিশোর হত্যা মামলায় দুজন কারাগারে

প্রতীকী ছবি

ওসি দুলাল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক কিশোর হত্যা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ।

দুই আসামি হলেন উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মহসীন এবং চট্টগ্রাম নগরীর ইতালি কলোনি এলাকার মো. ইরফান।

এর আগে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে মো. শাকিল নামের ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাকিল একই উপজেলার শিকলবহা ইউনিয়নের মো. নাজিমের ছেলে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন শাকিলের বাবা নাজিম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে শাকিলের মোবাইল ফোন ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের পর বিকেলে তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

ওসি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

মামলাল এজাহার থেকে জানা যায়, শাকিল কর্ণফুলীর পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় একটি গ্যাসের দোকানে কাজ করত। অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য মাঝেমধ্যে রাতে রিকশা চালাত সে।

শুক্রবার বিকেলেও রিকশা নিয়ে বের হয় শাকিল। কিন্তু এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল বলেন, ‘উদ্ধারের সময় শাকিলের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

শম্পা বেগম। ছবি: সংগৃহিত

শম্পার মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

নিখোঁজ মেয়ের জন্য অপেক্ষার পালা শেষ। খুনের ছয় বছর পর বাবা জেনেছেন, মেয়ে শম্পা বেঁচে নেই। মরদেহ দাফন হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণী হিসেবে। সেই কবর চিহ্নিত করতে এখন ছুটছেন বাবা ইলিয়াস শেখ।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে শম্পার হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে। গ্রেপ্তার করেছে তার কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপনকে। আসামির স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, শম্পাকে হত্যা ও মরদেহ গুমের নানা চেষ্টার তথ্য।

পিবিআই সদর দপ্তরে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার তুলে ধরেন শম্পা বেগমকে হত্যা ও তার কথিত স্বামী স্বপনকে গ্রেপ্তারের তথ্য।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ। ব্রিফিংয়ের সময় বড় পর্দায় মেয়ের ছবি দেখে ঢুকরে কেঁদে উঠেন তিনি।

পরে নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ছয় বছর আগে মেয়ে নিখোঁজ হলেও আবার দেখা পাবেন, এমন আশায় ছিলেন এতদিন। গত বুধবার পিবিআই সদস্যরা তাকে জানান, শম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন মেয়েকে জীবিত দেখার আশা ছেড়ে মরদেহ বা কবরের চিহ্নটুকু খুঁজতে খুলনা থেকে তিনি ছুটে এসেছেন ঢাকায়।

পিবিআই জানায়, শম্পা চট্টগ্রামে হত্যার শিকার হলেও অজ্ঞাত তরুণী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার হয় ঢাকায়। এরপর ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দাফনের কাজ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে খুনের শিকার হন খুলনা দৌলতপুরের তরুণী শম্পা বেগম। কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তাকে হত্যার পর মরদেহ ট্রাঙ্কবন্দি করে একটি বাসে তুলে দেন। যা ঢাকার গাবতলীতে উদ্ধার হয়।

হত্যার আগের রাতে মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শম্পার। পরদিন খুলনায় যাবেন বলে বাবাকে জানান। তারপর থেকে অপেক্ষায় বাবা ইলিয়াস শেখ।

মেয়ের মরদেহ দেখার জন্য ইলিয়াসের শেষ ইচ্ছা এখন পূরণ হবার নয় বলেই জানান মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। যেখানে শম্পাকে দাফন করা হয়েছিল, সেই চিহ্নটুকু এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, অজ্ঞাত পরিচয়ের কবর দীর্ঘদিন চিহ্নিত করে রাখার ব্যবস্থা নেই। তবে যে করবস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে, যারা ব্যবস্থাপনা করেছেন তাদের কাছে শুধুমাত্র নথি পাওয়া যেতে পারে।

মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

‘কবরের জায়গায় মরদেহের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে জুরাইন কবরস্থানে মাটি ভরাট করা হয়েছে, সেখানে দাফন হলে তো কিছুই করার থাকবে না। অন্য কবরস্থানে হলেও দাফনের তিন মাস পরই মরদেহ পাওয়া যায় না। নথি যাচাই করে শম্পার মরদেহ সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায় তা তার বাবাকে বলা যাবে।’

আলোচিত মামলাটির তদন্ত হয়েছে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ও অন্যতম লক্ষ্য ছিল তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা। এরপর ছিল আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়। এ দুটিই আমাদের কর্মকর্তারা সফলভাবে করতে পেরেছেন। এখন মামলার স্বার্থেই যাচাই করা হবে কবর কোথায় হয়েছিল, সেই তথ্য।’

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।’

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘লুট’, আঘাতে দুজনকে ‘হত্যা’। রাতে দূরের যাত্রায় নতুন নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হলো কি?

এই ঘটনায় পুলিশ যে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে যাত্রীদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

যাত্রীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ অতিক্রম করার পর ডাকাত দল লুটপাট শুরু করে। তারা কামরায় ওঠেনি, উঠেছে ছাদে। নির্বিঘ্নে লুটপাট করেছে তারা। এরপর নেমে গেছে। কেউ বাধাও দিতে পারেনি।

কেন বাধা দেয়া যায়নি, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।

‘আর ট্রেন যখন চলে তখন অনেক শব্দ হয়। তাই ছাদে কী হচ্ছে বোঝা যায় না। আর ট্রেনটি যখন জামালপুর আসে তখন ছাদে শুধু আহতরাই ছিলেন। যদি ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠেন তাহলে অন্য স্টেশনে উঠেছেন। এই জায়গায় আমাদের করার কিছু নেই।’

ট্রেনের ছাদে ওঠা স্পষ্টত আইনবিরুদ্ধ। আর করোনাকালে আসনের বাইরে কোনো যাত্রী তোলাও নিষেধ। অথচ ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল উপচে পড়া, কামরার পাশাপাশি ছাদেও চড়েছেন শত শত মানুষ। অথচ কোনো স্টেশনে তাদের সেখানে উঠতে বাধাও দেয়া হয়নি। এখানে রেলের কর্মীদের দায়িত্বহীনতার প্রসঙ্গটিও সামনে আসে।

এই বিষয়ে এক প্রশ্নে জামালপুর রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা তো নতুন কোনো ঘটনা নয়।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ শহর অতিক্রম করার সময় ছাদে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রী রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থাইক্যা বিকাল ৪টায় কমিউটার ট্রেনে উঠি। টিকিট পাই নাই। আর অনেক ভিড় আছিল। তাই ছাদে উঠি। ছাদে অনেক লোক আছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন গফরগাঁওয়ে আসলাম, তখন ছাদে বেশ কয়েকজন উঠল। গফরগাঁও থাইকে ট্রেন ছাড়ার পর কমপক্ষে সাতজন ট্রেনের সামনে থাইকে ডাকাতি করা শুরু করে। আমি মাঝখানে আছিলাম।

‘পরে আমার এইখানে আইসেও ছুরির ভয় দেখায়ে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ সব নিয়ে যায়। অন্ধকার আছিল। তাই ওরা মাস্ক না পরলেও চেহারা দেখা যায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনে প্রচুর ভিড় থাকায় আমরা অনেকে ছাদে উঠি। গফরগাঁও থেকে ডাকাতেরা ছাদে ওঠে। যার যা কিছু ছিলে সব নিয়ে গেছে।

‘পরে আমরা কয়েকজন মিল হয়ে কিছু মাল ফেরত চাইতে গেলে আমাদের অনেক মারধর করে। ওই জায়গায় অনেকজন ছিল, কিন্তু কেউ বাধা দেয় নাই। ওদের মাইরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমার আর কিছু মনে নাই।’

মো. ফারুক নামে আরেকজন বলেন, ‘টঙ্গী থেকে ট্রেনের ছাদে উঠি। গফরগাঁওয়ে আসার পর আমাদের ২০-২৫ জনের সব মাল নিয়ে নেয় সাতজন। ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই আমি সব দিয়ে দিছি।

“ময়মনসিংহ আসার পর নাহিদ ভাই (আরেক যাত্রী) আমাদের ডাক দিয়ে বলে, ‘ভাই, চলো যায়ে বলি, টাকাগুলো নিয়ে নেন। মালগুলো দিয়ে দেন। পরে আমি যাই নাই। ওরা গেছে। ওরা যাওয়ার পরেই কারেন্ট চলে গেছে। এমন সময় অন্ধকারে দেহি মারামারি হইতাছে।

“পরে আমি চিৎকার মারলেও ট্রেনের শব্দে কেউ কিছু শুনে নাই। পরে একটা ব্রিজ আইছিল। তহন আমরা শুয়ে পড়ছিলাম। এরপরে উইঠে দেহি ডাকাতরা আর নাই। পরে জামালপুর আসলে আমরা নিচে নাইমে সবাইরে খবর দেই।“

এত যাত্রী মিলে কেন প্রতিহত করা গেল না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রেনের ছাদে অনেকজন ছিলাম। কিন্তু ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই কেউ আগায় নাই।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত

গত রাতে জামালপুরে মৃত অবস্থায় যে দুজনকে পাওয়া যায়, তার একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে সকালে।

তারা হলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহিদের ছেলে নাহিদ ও জামালপুর শহরের বাগেড়হাটা বটতলা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর।

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পুলা ওর বড় বোনকে ঢাকা রাখতে গেছিলে। আমরা জানতাম না যে এই ঘটনা ঘটছে। রাতে বাড়িতে আয় নাই। সারা রাত আমরা পুলারে খুঁজছি।

‘সকালে একজনের মুখে শুইনে আইসে দেখি আমার পুলার লাশ পইড়ে আছে। আমরা এডের বিচার চাই। আমার পুলার দুইডে সন্তান আছে। এহন ওদের কে দেখব।’

ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’

এসব বিষয়ে ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কিছু দুষ্কৃতকারীর আক্রমণের আঘাতেই দুজন মারা যায়। আমরা এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন

ঝুমনের মুক্তি কবে

ঝুমনের মুক্তি কবে

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে।’

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপন জামিন পেলেও কারাগার থেকে এখনও মুক্ত হননি।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবক এখনও আছেন জেলা কারাগারে।

ঝুমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা বাড়ছে ঝুমনের পরিবারের।

আইনজীবীদের ধারণা, রোববার ঝুমনের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে পারে।

শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল আলম শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঝুমন দাসের জামিনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনও কোনো আদেশ পাইনি।

‘হাইকোর্টের জামিন আদেশ প্রথমে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে এসে পৌঁছবে। সেখান থেকে বেইল অর্ডার আসলে আমরা তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা আদালতে ঝুমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমনের জামিনের আদেশ দেয়।

ঝুমনকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে আরও আছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি যেতে পারবেন না সুনামগঞ্জের বাইরেও।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে পাঁচ দফা চার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল।

এর মধ্যে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস, পেলেন জামিন।

ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাস বলেন, ‘তার জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন:
এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়

শেয়ার করুন