নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে

নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে

নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাট পর্যন্ত সড়কটির হাঁপানিয়া বাজার থেকে বর্ষাইল বাজার পর্যন্ত দূরত্ব সাড়ে সাত কিলোমিটার। এ অংশটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ উঠে অসংখ্য খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বেরিয়ে গেছে ইটের খোয়া। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া থেকে বর্ষাইল বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের পিচ উঠে অসংখ্য স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। বৃষ্টি হলে এ গর্তে পানি জমে ছোট ছোট ডোবার মতো সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রশস্ত হওয়ায় পাশাপাশি দুটি বড় গাড়িও চলতে পারে না।

দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে এ এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাট পর্যন্ত সড়কটির হাঁপানিয়া বাজার থেকে বর্ষাইল বাজার পর্যন্ত দূরত্ব সাড়ে সাত কিলোমিটার। এ অংশটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ উঠে অসংখ্য খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বেরিয়ে গেছে ইটের খোয়া। গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্য যানবাহন চলাচল করে। দুই উপজেলায় যাতায়াতে সহজ পথটির এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।

চকআতিতা গ্রামের রুবেল হোসেন জানান, সড়কটি দীর্ঘ দিন সংস্কার করা হয়নি। আবার রাস্তাটি সরু হওয়ায় একটি ট্রাক গেলে আরেকটি যেতে পারে না। এই সড়ক দিয়ে মালবাহী ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উল্টে সড়কের নিচে পড়া আশঙ্কা রয়েছে।

নওগাঁর হাঁপানিয়া-মাতাজি সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে

কেশবপুর (ডাঙাপাড়া) গ্রামের সাবেদ হোসেন বলেন, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নাই। পিচ ওঠে রাস্তার মাঝে যেন ছোট ছোট ডোবার সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকা নেমে উল্টেও গেছে অনেকবার।

বর্ষাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জোহা জানান, রাস্তাটি বেহাল হওয়ার প্রধান কারণ দুপাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা চালকল। এগুলোর কারণে বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে রাস্তায় জমে থাকে। এতে দ্রুতই পিচ নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, সড়কটি মারমা ও ঝাড়গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম, র্কীত্তিপুর ইউনিয়ন এবং মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাট যাওয়ার সহজ পথ। প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ যান এ সড়কে চলাচল করে। রাস্তাটির গুরুত্ব বেড়ে যাওয়া মানুষের সুবিধা হয়েছে। তবে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

নওগাঁ সদর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী ইমতিয়াজ জাহিরুল হক জানান, সড়কটি মেরামতের জন্য প্রায় ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার টেন্ডার হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন।

এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার আসিক আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার কানসাটে গোপালনগর মোড় এলাকায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রেনুয়ারা বেগম ও দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের হারুন আলী।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে ২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিদর্শক আরও জানান, হেলপার ট্রাকটি চালাচ্ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তার এক বছর বয়সী নাতি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলঢুপ পাতন গ্রামের ৭০ বছরের সফিক উদ্দিন ও তার নাতি আরিয়ান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সকালে ফাজিলপুর এলাকায় বিয়ানীবাজার থেকে যাওয়া প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কানাইঘাটমুখী পিকআপ ভ্যানের। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে হুছনা বেগম, ফাতেমা আক্তার পপি, তামান্না ও নাসির উদ্দিনকে। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহদুটিও সেখানে নেয়া হয়েছে।

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন পিকআপচালক।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়। 

দিনাজপুর শহরের রামনগরে ফেসবুকে লাইভে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গাঁজা সেবন করানোর অভিযোগে এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়।

আসাদুজ্জামান জানান, ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে ভিডিওতে যাকে গাঁজা দেয়া হচ্ছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন, রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান।

এ ঘটনার পর লাইভ করা সাদ্দাম নামের ওই আইডির মালিককে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

কহিনূর ভিলার মূল ফটক। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে স্বাধীনতার পক্ষে থাকায় পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও তাদের স্মৃতি রক্ষায় নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বাড়ির সামনে যে স্মৃতিফলক আছে সেখানে অস্পষ্ট হয়ে গেছে শহীদদের নাম। উত্তরসূরি ও স্থানীয় লোকজন বাড়িটি সংস্কারের দাবি জানালেও প্রশাসন এখনও দ্বিধায়।

কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালীপাড়ায় রজব আলী খান চৌধুরী লেনের ৪৭ নম্বর বাড়িটি কহিনূর ভিলা। একতলা এ বাড়িটি এখন বেহাল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই বাড়ির ১৬ জনকেই গলা কেটে হত্যা করে রাজাকার ও বিহারিরা। সেই থেকে এ দিনটি ‘কহিনূর ভিলা গণহত্যা দিবস’ হিসেবে জেলায় পালিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে স্বাধীনতার পক্ষে থাকায় নিশ্চিহ্ন করা হয় পরিবারটিকে। তাদের স্মৃতি রক্ষায় এত বছরেও নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বাড়ির সামনে যে স্মৃতিফলক আছে, সেখানে অস্পষ্ট হয়ে গেছে শহীদদের নাম।

উত্তরসূরি ও স্থানীয় লোকজন বাড়িটি সংস্কারের দাবি জানালেও প্রশাসন এখনও দ্বিধায়।

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

দেশওয়ালীপাড়ার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন আহমেদের বর্ণনায় উঠে আসে সেদিনের ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘কহিনূর ভিলার মালিক রবিউল হক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তার বেকারির ব্যবসা ছিল। মা কহিনূরের নামে বাড়ির নাম রাখেন তিনি। এই বাড়িকে তখন মানুষ রুটি বাড়ি হিসেবেও ডাকতেন।

‘স্থানীয় বিহারিদের সঙ্গেও রবিউল হকের ভালো সম্পর্ক ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর বেকারি বন্ধ করে তিনি পরিবার নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে কমলাপুর গ্রামে চলে যান। পরে বিহারিরাই তাদের ডেকে নিয়ে আসে বেকারি চালানোর জন্য। হঠাৎ করেই ওই রাতে বিহারিরাই বাড়ির ১৬ জনকে জবাই করে হত্যা করে।’

মুক্তিযোদ্ধা নাসির আরও বলেন, ‘সাফিয়া নামের এক নারী এই ১৬ জনের দাফন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ঘটনার কিছুটা দেখেছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা যান তিনি।’

সাফিয়ার বরাত দিয়ে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘বিহারিরা প্রথমে এসেই বাড়ির বারান্দায় চা-পানি খায়। পরে বাড়িতে ঢুকে ছোট বাচ্চাদেরও গলা কেটে হত্যা করে। পাশের পুকুরেও দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। বাড়ির মালিক রবিউল ইসলামের দুই স্ত্রী ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। ঘাতকরা তাকেও ছাড়েনি।’

‘১৮ সেপ্টেম্বর সকালে সবাই বাড়ির সামনের ড্রেনে রক্ত দেখে ঘটনা আঁচ করে।’

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

নাসির উদ্দীন জানান, নিহত ১৫ জনই একই পরিবারের সদস্য আর আসাদ নামের একজন ছিল কর্মচারী। এর মধ্যে রবিউল হক, তার ভাই আরশেদ আলী, ছেলে আব্দুল মান্নান ও আব্দুল হান্নানের মরদেহ পাওয়া যায় নফর শাহ মাজারের কাছে হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায়। অন্যদের মরদেহ ছিল ওই বাড়িতেই।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা, ওই চারজন কোনোভাবে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের ধাওয়া করে নফর শাহ মাজারের কাছে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়।

মরদেহগুলো বাড়ির পেছনেই কবর দেন স্থানীয় লোকজন।

দেশ স্বাধীনের পর এই পরিবারের উত্তরসূরিরা ভারত থেকে এসে কহিনূর ভিলায় বসবাস শুরু করেন। তাদের পুনর্বাসন করে বাড়িটি অধিগ্রহণ করে স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়া তোলার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন।

পরিবারের সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘কহিনূর ভিলা এখন ভেঙে পড়ছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে আমরা বাস করছি। কেউ কোনো খোঁজই নেয় না।’

নিহতদের শহীদের মর্যাদা দেয়া ও তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান পরিবারের আরেক সদস্য আকলিমা খাতুন হাসি।

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল বলেন, ‘কহিনূর ভিলার মতো দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গণহত্যার জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব জায়গা থেকে ইতিহাস জানতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হতে পারবে।’

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য হাজি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ আমাদের নেই। তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তবে বিষয়টি হৃদয়বিদারক।’

কহিনূর ভিলা সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তিনি দেখবেন।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

ফেরি চালুর দাবিতে অনশন। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘ ২৩ দিনেও ঘাট চালু জাজিরা ফেরিঘাট; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালুর দাবিতে মঙ্গল মাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে চলছে গণ-অনশন।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটি নামের সংগঠন শনিবার সকাল ৯টা থেকে এই অনশন করছে। সংগঠনের বক্তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।

পদ্মা সেতুতে বারবার আঘাতের কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে জরুরি যানবাহনের চলাচল নিয়ে বিপাকে পড়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুকে এড়িয়ে সেতুর ভাটিতে নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট জাজিরা প্রান্তে ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘাটে স্থাপন করা হয় নতুন পন্টুন।

দীর্ঘ ২৩ দিনেও সেই ঘাট চালু হয়নি; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জামাল মাদবর জানান, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। সেই সেতুকে ফেরির আঘাত থেকে রক্ষার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচল করবে। সেই জন্যই নির্মাণ করা হয় ঘাট।

‘তবে শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের ফেরি চলাচল শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আমরা এর আগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান কর্মসূচি। দাবি মানা না পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক মো. আশিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, নতুন চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণে পলি পরে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে এই পথ দিয়ে এই মুহূর্তে ফেরি চলাচল করা সম্ভব না।

তিনি জানান, জরিপ করে খননকাজ সম্পন্ন করা গেলে ফেরি চালু করা সম্ভব। তবে এখন স্রোত কমে যাওয়ায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথেই ফেরি চলাচলের শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
উড়ালসড়কে গাড়ি উঠবে কবে
বউভাতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ভাইয়ের
রাস্তা পারের সময় বাস চাপায় নিহত ২ নারী
ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, মৃত্যু ১
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

শেয়ার করুন