বালু তোলার সময় করতোয়ায় মিলল মর্টার শেল

বালু তোলার সময় করতোয়ায় মিলল মর্টার শেল

করতোয়া থেকে উদ্ধার করা মর্টার শেল। ছবি: নিউজবাংলা

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেনজীর আহমেদ জানান, মর্টার শেলটি সচল না পরিত্যক্ত পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। সৈয়দপুর সেনানিবাসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এসে এটি ধ্বংসের ব্যবস্থা করবে।

পঞ্চগড় শহরে করতোয়া নদী থেকে একটি মর্টার শেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, এটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

পৌর এলাকার রামেরডাংগা এলাকা থেকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রহমত আলী ও আব্দুর রাজ্জাক নামের দুজন সোমবার সকালে রামেরডাংগায় করতোয়া থেকে বালু তুলতে যান। বালুর স্তূপে লোহার পুরোনো দণ্ডের মতো কিছু একটা দেখতে পেয়ে তারা সেটি সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় নিয়ে আসেন।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম পঞ্চগড় সদর থানায় খবর দেন।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেনজীর আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, পুলিশ গিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে মর্টার শেলটি নিরাপদ জায়গায় রাখে। এটি সচল না পরিত্যক্ত পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের।

বেনজীর আহমেদ আরও জানান, সৈয়দপুর সেনানিবাসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এসে এটি ধ্বংসের ব্যবস্থা করবে।

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্যরা

কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

কক্সবাজারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কিছু ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করব‌ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজার উখিয়া ৪ নং রাজাপালং ইউপির উখিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ব্যাগ ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ তল্লাশি করে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে।’

এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২ পিস ইয়াবাসহ ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) টহল দল।

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগ নেতা যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন। মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানির জন্য আত্মহত্যা করলাম..।’

কুমিল্লায় এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহানগর যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

২৯ বছর বয়সী এই তরুণ কুমিল্লা সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে।

প্রেমের সুবাদে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন এমরান। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের সম্পর্কে দেখা দেয় জটিলতা।

মুন্নার স্ত্রী ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান বলে ধারণা করতে থাকেন মুন্না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর একপর্যায়ে মুন্না আত্মহত্যা করেছেন, দাবি স্বজনদের।

বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মুন্নার বাবা মতিউর রহমান।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

স্বজনদের অভিযোগ, মেয়েটি মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যেতেও বলতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার মুন্না আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি ও মেসেজ পাঠান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি স্ত্রী। অভিমান করে নিজের শোবার ঘরেই সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর শুক্রবার লক্ষ্মীপুর আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে নিখোঁজের চার মাস পর দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাজধানী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাজধানীর মহাখালীর একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রায়হান চৌধুরীর আদালতে নেয়া হয়। সেখানে তার জবানবন্দি নেন বিচারক।

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে তার মা রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জিসান আলমসহ তিনজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরে গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর একটি বাসায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

অপহরণ না প্রেম করে পালিয়ে গেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মামলায় কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক যুবক। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ জিসানের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে জিসানসহ কয়েক বখাটে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মনিকা আক্তার এখনও অবুঝ। তার বয়স ১৫ বছর। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক বখাটে। ঘটনার দিন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়।

‘এরপর বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে জিসান আমার মেয়ের প্রাণনাশ এবং অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি ও হুমকিধমকি দেয়। মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় খুশি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

শিশুটির বাবা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম তাকে হার্টের চিকিৎসা দিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে এক পল্লি চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বরগুনা থানায় চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মামলা করেন। ওই দিন রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। মাসুম প্রাথমিকভাবে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা দেন।

তিন হাজার টাকায় পরীক্ষাগুলো করানোর পর মাসুম রিপোর্ট দেখে তাদের জানান, ইয়ামিনের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তাকে পরপর চার দিন চারটি ইনজেকশন দিতে হবে। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাসুম নিজ হাতে একটি ইনজেকশন দেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মাসুমকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থাপত্র অনুসারে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে খিঁচুনি দিয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।

সাইদুল বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অবশ্য অপচিকিৎসার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি বরগুনার নলটোনা এলাকার হাসান নামের একজন তার মায়ের হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক মাসুমের কাছে নিয়ে যান।

হাসানের অভিযোগ, মাসুম তার মায়ের অপচিকিৎসা করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মাসুম উল্টো তাকে হুমকিধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মাসুমের চিকিৎসায় তার মায়ের হাত প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তার মা সুস্থ হন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক মাসুমকে জেলার টাউন হল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

পদ্মার ভাঙন, স্কুল মুহূর্তে বিলীন

পদ্মার ভাঙন, স্কুল মুহূর্তে বিলীন

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে রাজবাড়ী সদরের চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, ‘চর সিলিমপুরে হঠাৎ ভাঙনে স্কুলসহ সিসি ব্লকের ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলসহ ১০০ মিটার এলাকা মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মাপাড়ের শতাধিক স্থাপনা। এর মধ্যে বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে স্কুল ও মসজিদ।

জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চর সিলিমপুর গ্রাম। গ্রামের শিশুদের লেখাপড়ার একমাত্র ভরসা চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাও নদীতে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় সিরাজ ফকির বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। স্কুল নদীতে চলে গেছে। আমাগো বাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। কখন নদীতে ভেঙে যায়।’

৬০ বছর বয়সি রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমার সব শেষ অইয়া যাইবো এইবার। এর আগে আরও দুইবার বাড়ি সরাইয়ে এহানে আয়ছিলাম। এইবারও মনে অয় চইলা যাবি গাংগে। আমার তো ছোট্ট একটা ঘর ছাড়া কিচ্ছুই নাই। আমি কনে যাবো।’

চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রনি জানায়, তার বাড়ি এই স্কুলের পাশেই। সে এই স্কুলে পড়ত। এখন সে কোথায় পড়বে। তার বাড়িটাও আছে ভাঙন ঝুঁকিতে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল নদীতে চলে গেছে। আমি এখন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এই স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে।’

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, ‘চর সিলিমপুরে হঠাৎ ভাঙনে স্কুলসহ সিসি ব্লকের ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

শরীয়তপুর সদরে জ্বিনের আছর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে। আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

শরীয়তপুর সদরে জিনের আসর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার খিলগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে নির্যাতন করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার সকালে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত দুলাল গাজীর বাড়ি ওই এলাকাতেই। তামান্না আক্তার নামের ওই নারী ভত্তাইসার গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে।

তামান্নার বাবা তোতা মিয়া জানান, ২০১৮ সালে দুলালের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেয়ের। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তাকে মারধর করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তামান্নাকে টয়লেটে আটকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন দুলাল।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে।

‘আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

এ বিষয়ে দুলাল গাজী বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে মারধর করিনি। তাকে জিনে আসর করেছে। সে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আবার ফিরে আসে। তাকে কে মারধর করে আমি জানি না।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ‘তামান্না নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী মারধর করছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ওই নারীকে ফোন করি। তার বাবার বাড়ির লোকজনকে বলেছি লিখিত অভিযোগ দিতে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান মেয়েটিকে জিনে আসর করেছে। এমন ভিত্তিহীন কথা তারা কেন বলছেন তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন:
রাবির সেই পুকুরে আরও দুটি মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার 
সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটাল সেই মর্টার শেলের

শেয়ার করুন