জন্মাষ্টমীতে এবারও আমেজ নেই পুরান ঢাকায়

জন্মাষ্টমীতে এবারও আমেজ নেই পুরান ঢাকায়

করোনা মহামারির কারণে জন্মাষ্টমীতে এবারও আমেজ নেই পুরান ঢাকায়। শোভাযাত্রা, র‍্যালি, মিছিল জন্মাষ্টমীর প্রধান আকর্ষণ হলেও গত বছরের মতো এসবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মতো এবারও শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হচ্ছে ঘরোয়াভাবে। সনাতন ধর্মের প্রবক্তা ও প্রাণপুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রার্থনা, পৃথিবী থেকে যেন অচিরেই বিদায় নেয় এই ভাইরাস।

মহামারির কারণে জন্মাষ্টমীতে এবারও আমেজ নেই পুরান ঢাকায়। শোভাযাত্রা, র‌্যালি, মিছিল জন্মাষ্টমীর প্রধান আকর্ষণ হলেও গত বছরের মতো এসবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পুরান ঢাকার ‘শাঁখারীবাজার একনাম কমিটি’ পরিচালিত শ্রীশ্রী শ্রীধর জিউ বিগ্রহ ও শ্রীশ্রী বংশীবাদন জিঁউ বিগ্রহ মঠের প্রধান পুরোহিত অজয় চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, পুরান ঢাকার সনাতন ধর্মানুসারীরা ঘরোয়া ও পারিবারিকভাবে দিনটিকে উদযাপন করছে।

শাঁখারীবাজারের বাসিন্দা শিখা রানি সাহা। তার আট বছরের ছেলে অয়নকে নিয়ে স্থানীয় একটি মার্কেট থেকে রাধাগোবিন্দের পোশাক কিনেছেন বাসায় ঘরোয়াভাবে জন্মাষ্টমী উদযাপন করবেন বলে।

শিখা রানি বলেন, ‘করোনা মহামারি থেকে যাতে মানুষ মুক্তি পায় এবং পরিবারের লোকজন যেন সুস্থ থাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমীতে সেই প্রার্থনা।’

সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কৌশিক দেবনাথ মন্দিরের দানবাক্সে টাকা দান করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ইষ্ট দেবতার কাছে প্রার্থনা, মহামারিসহ সব অমঙ্গলের চিহ্ন সমাজ থেকে দূর হোক।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতেই পৃথিবীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। অত্যাচারী স্বৈরশাসক কংসরাজকে বধ করেছিলেন তিনি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে নানা সাজে সেজেছে পুরান ঢাকার মন্দিরগুলো। রয়েছে ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নানা কর্মসূচি।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে স্বামীবাগ আশ্রমে ছয় দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ইসকনের সদস্য ও কর্মী শান্তি রায় নিউজবাংলাকে জানান, ঢাকাসহ সারা দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।

জন্মাষ্টমীতে এবারও আমেজ নেই পুরান ঢাকায়

এর মধ্যে রাজধানীর স্বামী ভোলানন্দ গিরি আশ্রম, প্রভু জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, রাধামাধব জিউ দেব বিগ্রহ মন্দির, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, শিবমন্দির, রামসীতা মন্দির, মাধব গৌড়ীয় মঠসহ বিভিন্ন মন্দিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার ওয়ারী, লক্ষ্মীবাজার, তাঁতীবাজার, লালবাগ, বংশাল, নিমতলা, চকবাজার, মিটফোর্ড কলোনিসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘অধর্ম ও দুর্জনের বিনাশ এবং ধর্ম ও সুজনের রক্ষায় কৃষ্ণ যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমন করেন। মহামারি থেকে আমাদের মুক্তি দিতে তিনি যেন আবারও আসেন, এই আমাদের প্রার্থনা। এ ছাড়া, বিশ্ব থেকে সব ধরনের হিংস্রতা, কুটিলতা, পাপ যেন আগুনে ভস্ম হয়ে যায় সেটিও আমাদের প্রার্থনায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর মানবন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরে দুর্নীতি ও অনিয়মকারীদের বিচারের দাবিতে মানবন্দন হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর ব্যানারে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ তোলেন, এই প্রকল্পে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন। এ ছাড়া, ঘর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীও

উপহারের ঘর নিয়ে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি নই। গরিবকে ঘর করে দেব, সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে?’

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে ভূমিহীনরা খুশি হয়েছিল। প্রয়োজনের তুলনায় ঘরের সংখ্যা অপ্রতুল হলেও কয়েক জেলায় এই ঘর ভূমিহীনদের মাঝে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে তারা এখন সে ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। জীবন রক্ষার আশ্রয়স্থল এখন জীবননাশের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বরাদ্দের হিংসভাগ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন হাতুরি-শাবল দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ভেঙেছেন। আমরা দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্ত সকলের পরিচয় জাতির কাছে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়।

০১. প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।

০২. স্থানীয় সরকার নির্দলীয় হতে হবে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করতে হবে।

০৩. প্রত্যেক জেলার খাসজমি বণ্টন কমিটিতে ভূমিহীনদের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।

০৪. প্রত্যেক জেলায় কল-কারখানা গড়ে তুলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৫. জাতপাতের নামে শ্রেণি বৈষম্য দূর করে মেহনতি জনতাকে বিভক্তিকরণ নীতি বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল আমীন, কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুল রহমান লুৎফর, সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ভূঁইয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক খালেদুজ্জামান পারভেজ বুলবুলসহ বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রংমিস্ত্রি বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওভার ব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে ছুরিকাঘাতে এক রংমিস্ত্রির নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রংমিস্ত্রির নাম বাঁধন। তবে কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

৩২ বছর বয়সী বাঁধনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

ওই পথচারী জানান, বাঁধন রঙের কাজ করতেন। পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় থাকতেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফরহাদের মরদেহের সামনে স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মন্তাজ আলী ফরহাদ নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী ফরহাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার জয়নগর গ্রামে। তিনি লালবাগের শহীদ নগর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারওয়ান বাজারে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
কারওয়ান বাজার মোড়ের ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ফরহাদের রিকশা। ছবি: রাফসান জানি/নিউজবাংলা

ফরহাদের ফুপা খোকন মিয়া বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যালে এসে মরদেহ শনাক্ত করি।’

তিনি জানান, ফরহাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসজুড়ে বাসা ভাড়ার অসংখ্য লিফলেট দেখা গেলেও বাসা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

৭ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু একটি যুতসই বাসা খুঁজে পাওয়া এখন তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ।

ছেলেদের কোনো হল না থাকায় এবং মেয়েদের একমাত্র হলটি চালু না হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন বিপদে। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ক্যাম্পাসের আশপাশে হন্যে হয়ে বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ঢাকার মেস ছেড়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণত প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পর পুরান ঢাকায় বাসা ভাড়ার একটা চাপ পড়ে। তবে এবার সব বর্ষের শিক্ষার্থী হন্যে হয়ে বাসা খোঁজায় সেই চাপ কয়েক গুন বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেশি টাকা ভাড়া দাবি করছেন বাড়িওয়ালারাও। এ ছাড়া মানসম্মত বাসা, পড়ার পরিবেশ আছে এমন বাসা খুঁজে পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাসা খুঁজে বেড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘করোনার সময় বাসা ছেড়েছিলাম। ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস খুললে এসে বাসা নেব। কিন্তু এখন এসে কোনো বাসায়ই সিট পাচ্ছি না। সব পূরণ হয়ে গেছে। বাসা খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত। সামনে আবার পরীক্ষা!’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে ঢাকায় আসায় বাড়িওয়ালারা আগের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছে। জামানতও বেশি দাবি করছে৷ করোনায় আমাদের আর্থিক অবস্থাও খারাপ। তাই কোনো কিছুই হিসাবে মিলছেনা।’

গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা বলেন, ‘মেয়েদের বাসা খুঁজে পাওয়া অনেকটাই মুশকিল হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়েও হলটি খুলে দিচ্ছে না। হল খুলে দিলে আমাদের আবাসন সঙ্কট অনেকটাই কেটে যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তিথি। পরীক্ষার রুটিন পেয়ে গাইবান্ধা থেকে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন। টানা পাঁচ দিন পুরান ঢাকার অলি গলি ঘুরেও কোনো বাসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফার্মগেটের একটি মেসে সিট নিয়েছেন।

তামজিদ ইমরান অর্নব নামে এক জবি শিক্ষার্থী মনে করেন, ছাত্রী হল চালু হলে ৮০-১০০টি বাসা ফাঁকা হয়ে যাবে। তখন বাসার চাহিদা কমে গেলে বাজেট অনুযায়ী ভাল একটা বাসা পেতে সুবিধা হবে ছেলেদের।

বাসা খুঁজে হয়রান শিক্ষার্থীরা বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনলাইনেও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপে অনেকেই সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ক্যাম্পাস খুলবে এই আশায় বাসা ছাড়েনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মিমি। তাই করোনার সময় বাড়িতে থেকেও প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া মাসে মাসে ভাড়া পরিশোধ করেও ফিরে এসে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টর স্যারের সাথে আগামীকাল বসবো। আমরা আলোচনা করে দেখি বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আর এডভান্সের ব্যাপারটার সমাধান করা যায় কিনা। এর আগেও প্রক্টর স্যার এমন সমস্যার সমাধান করেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করবো যেন ভাড়াটা পূর্বে যেরকম ছিলো সেইরকমই রাখে। আর অ্যাডভান্স শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেন বেশি না নেয়।’

এ ছাড়াও বাসাভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানাতে বলেন তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের যেনো মেস বাসা খুঁজতে সমস্যা না হয়, সেজন্য পরীক্ষার আগে চার সপ্তাহ সময় দেয়া হবে। সে অনুযায়ীই গত ৭ সেপ্টেম্বর আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’

‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’

শাহবাগে ইভ্যালির গ্রাহক ও বিক্রেতারা রাসেল ও শামীমার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যে গ্রাহকের মামলায় রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি ভুয়া গ্রাহক। প্রকৃত গ্রাহক তারাই। ইভ্যালির বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। ইভ্যালিকে তারা সময় দিতে চান।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন নুরুল হক। নিজেকে ইভ্যালির প্রকৃত গ্রাহক দাবি করে বলেন, ‘এই মাসের ২৮ তারিখ আমার অর্ডার করা বাইক দেয়ার কথা ছিল। রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’

শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক এবং বিক্রেতারা রাসেল ও শামীমার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায় কর্মসূচিটি।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া নুরুল হক আরও বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দামি পণ্য কেনার সুযোগ আমাদের নেই। তাই ছাড় পেয়ে বাইক কেনার অর্ডার করেছিলাম।’

কয়েক দফা স্থান বদলের পর জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে রাসেলের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ এসে কয়েকবার সরিয়ে দিলেও তারা আবারও জমায়েতের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় লাঠিচার্জেরও শিকার হন কয়েকজন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যে গ্রাহকের মামলায় রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি ভুয়া গ্রাহক। প্রকৃত গ্রাহক তারাই। ইভ্যালির বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। ইভ্যালিকে তারা সময় দিতে চান।

কামাল উদ্দীন নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালিতে আমার আট লাখ টাকা আটকে আছে। আমি তো কোনো অভিযোগ করিনি। ইভ্যালির রাসেল ভাই আমাদের কাছে ছয় মাস সময় চেয়েছে। আমরা সবাই সময় দিতে রাজি।’

নুরুল ইসলাম নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালিতে আমাদের ইনভেস্টের টাকার দায় রাসেল ভাই ছাড়া কেউ নেয়নি। এখন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমাদের টাকা কে দেবে? সরকার কী আমাদের টাকা ফেরত দেবে? আমরা রাসেল ভাইয়ের মুক্তি চাই।’

সাইফুল নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘সরকার এতদিন কই ছিল? একটা গ্রাহকের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ ইভ্যালির গ্রাহক ৮০ লাখ। এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু না। রাসেলকে যদি আটকে রাখা হয়, তাহলে সরকারকে আমাদের টাকার দায় নিতে হবে।’

তাহমিদ নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘আমি এই ইভ্যালিতে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা লাভ করেছি। কেউ বাপের সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যবসা করে না। সে ব্যাংক লোন করে। ১০০ কোটি কেন, হাজার কোটি টাকাও দেনা থাকে। এটি ব্যবসার নিয়ম। এ ধরনের দায় বা ঋণ হাশেম গ্রুপ বা বেক্সিমকো গ্রুপেরও আছে।’

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে

এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে

প্রতীকী ছবি

ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনসার আল ইসলামের সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে তিন দিনের হেফাজতে নেয়ার আদেশ দেন।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অফ বাংলাদেশের (এআইইউবি) মাইক্রোবাসে পেট্রোল বোমা হামলার মামলায় আনসার আল ইসলামের সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।

মামলার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গুলশান থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা করে। সেই মামলায় শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে নেয়ার আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তথ্যটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোলোয়ার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দেলোয়ার এআইইউবির ছাত্র পরিবহনের মাইক্রোবাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। পরে গাড়িতে থাকা লোকজন ও স্থানীয় টহল পুলিশ তাকে আটক করে।

পুলিশ জানান, সারা বিশ্বে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন করা হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক ও স্টাফদের ওপর বড় পরিসরে হামলা করে প্রাণহানির মাধ্যমে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

ইউটিউব, ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন উগ্রবাদী ওয়াজ, মুসলমানদের নির্যাতনের ভিডিও দেখে সে উগ্রাবাদী হয়ে ওঠেন ও হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ হামলার বিষয়ে তার আরও অনেক নির্দেশদাতা ও সহযোগী রয়েছে বলেও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন

মেট্রোরেলের মালামাল বিক্রি হচ্ছিল ভাঙারির দোকানে

মেট্রোরেলের মালামাল বিক্রি হচ্ছিল ভাঙারির দোকানে

মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামালসহ গ্রেপ্তার চোর চক্রের ৫ সদস্য। ছবি: নিউজবাংলা

মেট্রোরেল প্রকল্পের বিভিন্ন ধরনের মালামাল চুরির অপরাধে একটি চক্রের হোতাসহ ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মেট্রোরেলের কাজে ব্যবহৃত ১ হাজার ৩৫৪ কেজি চোরাই মালামাল ও ৩টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরি করে সেগুলো কেটে বেচার উপযোগী করে বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা হতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে একটি চক্র এমন কাজ করে আসছিল।

মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরির অপরাধে ওই চক্রের হোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন, চক্রের প্রধান দেলোয়ার হোসেন, তার সহযোগী দুলাল হোসেন, হাসমত বেপারী, রবিন ও আনোয়ার হোসেন।

এ সময় তাদের কাছ থেকে মেট্রোরেলের কাজে ব্যবহৃত ১ হাজার ৩৫৪ কেজি চোরাই মালামাল ও ৩টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

এই চক্র কিছুদিন আগেও মেট্রোরেল প্রকল্পের ২ টন মালামাল বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পল্লবী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এডিসি আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ চুরি যাওয়া মালামালের বিষয়ে অভিযোগ করে। অভিযোগ পেয়ে পল্লবীর সিরামিক রোড এলাকা থেকে দুলাল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের প্রধান দেলোয়ার হোসেনসহ বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মেট্রোরেলের মালামাল চুরি শুরু হয়েছে। পল্লবীর মেট্রোরেল ৮৪ নম্বর পিলার থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার ২৪৭ নম্বর পিলারের এলাকায় এই চুরি হয়েছে।

কী পরিমাণ মালামাল চুরি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা কিছুদিন আগে মেট্রোরেলের দুই টন মালামাল বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেছে। বৃহস্পতিবারের অভিযানে দুটি ভাঙারির দোকান থেকে জব্দ করা মালামাল উদ্ধার করা হয়।’

এডিসি আরও বলেন, ‘চক্রটি আগেও মেট্রোরেলের মালামাল চুরি করেছে। তাদের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এ ছাড়া আসামিদের কাছ থেকে অন্য কোনো বড় কোম্পানি চুরি হওয়া মাল ক্রয় করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ আগেই মেট্রোরেলের মালামাল পাহারা দেয়ার জন্য আলাদা ফোর্স দেয়া হয়েছে। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘণ্টা আলাদা ফোর্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জন্মাষ্টমীর আরাধনায় স্কুল খোলার আকুতি
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

শেয়ার করুন