বুদ্ধদেবের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বুদ্ধদেবের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ গত ৩১ জুলাই থেকে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

জনপ্রিয় সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার এক শোকবার্তায় বুদ্ধদেবের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গত ৩১ জুলাই থেকে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বুদ্ধদেব। সেখানেই রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘদিন শহরের একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, মূত্রনালিতে সংক্রমণের পাশাপাশি লিভার ও কিডনির সমস্যা ছিল বুদ্ধদেবের। বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে তার দৃষ্টিশক্তিও ঝাপসা ছিল।

নতুন করে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল সাহিত্যিকের। তাতে সংক্রমণ ধরা না পড়লেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি।

১৯০৬ সালের ২৯ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব গুহ। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বুদ্ধদেব সাহিত্যের বেশ কিছু অনন্য চরিত্রের স্রষ্টা।

তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘জঙ্গল মহল’। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ‘মাধুকরী’, ‘কোজাগর’, ‘অববাহিকা’, ‘বাবলি’র মতো একের পর এক উপন্যাস উপহার দিয়েছেন পাঠকদের।

কিশোর সাহিত্যেও বুদ্ধদেবের ছিল অবাধ বিচরণ। তার সৃষ্ট ‘ঋজুদা বা ‘ঋভু’র মতো চরিত্রে মুগ্ধ অসংখ্য পাঠক।

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়

আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়

ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমদ রফিক। ফাইল ছবি

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আহমদ রফিক একাধারে বরেণ্য ভাষাসংগ্রামী, বুদ্ধিজীবী, লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তিনি আমাদের মহান মনীষী। ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমদ রফিকের চিকিৎসার জন্য তিন লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তাকে অনুদানের চেক পৌঁছে দেয়া হয়।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ভাষাসৈনিক আহমেদ রফিককে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আহমদ রফিক একাধারে বরেণ্য ভাষাসংগ্রামী, বুদ্ধিজীবী, লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তিনি আমাদের মহান মনীষী। ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছেন। বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

‘সৃষ্টিশীল লেখা ও গবেষণা ছাড়াও তিনি জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আহমদ রফিকের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও তার সুচিকিৎসাসহ যেকোনো সহায়তার প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় পাশে থাকবে।’

আহমদ রফিকের পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়

চিকিৎসার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া অনুদানের চেক ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমদ রফিকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২০ মার্চ নিজ বাসায় পড়ে গিয়ে আহত হন ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র গবেষক আহমদ রফিক। ৯২ বছর বয়সী লেখককে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গ্রিনলাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আহমদ রফিক ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। ভাষা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তার চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেলেও ইন্টার্ন করার কোনো সুযোগ তিনি পাননি। এ কারণে চিকিৎসার বদলে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৫ সালে একুশে পদক পান আহমদ রফিক। ২০০১ সালে বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ এবং ১৯৭৯ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে ‘রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য’ উপাধি পান।

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্ত্রী-সন্তান নেই। স্বজনদের মধ্যে ভাইয়েরা সবাই মারা গেছেন। একজন ভাগনে থাকলেও তিনি আছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে আর্ট ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আর্ট ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৭৫ নারী শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প।

একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন হয় ‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পের।

শিল্পকলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় দুই দিনের এই আর্ট ক্যাম্পে শিল্পী ফরিদা জামান, নাইমা হক, রোকেয়া সুলতানা, কুহু প্লামনডন, কনক চাঁপা চাকমা, আইভি জামান, ফারজানা আহমেদ শান্তা, সীমা ইসলাম, জয়া শাহরীন হক ও সৈয়দা মাহবুবা করিমসহ ৭৫ জন নারী শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৭৫ নারী শিল্পীকে নিয়ে আর্ট ক্যাম্প
‘শেখ হাসিনা: বিশ্বজয়ী নন্দিত নেতা’ শীর্ষক আর্টক্যাম্পে অংশ নেয়া চিত্রশিল্পীরা। ছবি: সংগৃহীত

২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এ আর্ট ক্যাম্প। এরপর ক্যাম্পের চিত্রকর্মগুলো নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ১ নম্বর গ্যালারিতে শুরু হবে মাসব্যাপী প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

২৮ বছরে চিত্রা থিয়েটার

২৮ বছরে চিত্রা থিয়েটার

নড়াইলের নাট্য সংগঠন চিত্রা থিয়েটারের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

শোভাযাত্রা শেষে নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার গণকবর এবং জেলা জজ আদালতের পাশের বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

শোভাযাত্রা, পুষ্পমাল্য অর্পণসহ নানা আয়োজনে নড়াইলের নাট্য সংগঠন ‘চিত্রা থিয়েটার’ এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

চিত্রা থিয়েটার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালে একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার গণকবর এবং জেলা জজ আদালতের পাশের বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের সভাপতি মলয় কুন্ড, সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু, চিত্রা থিয়েটারের সাদারণ সম্পাদক ইমান আলী মিলন, সৈয়দ ওসমান আলীসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

একেকটা লুক তৈরি করতে তার প্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময় লাগে। এই কাজটিকে তিনি একপ্রকার থেরাপি মনে করেন। যা তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।

লানা ভ্যন ডেন হিউভেল একজন চিত্রকর। মুখটিই তার ক্যানভাস। ছবি আঁকার জন্য ক্যানভাসের পরিবর্তে তিনি ব্যবহার করেন নিজের চেহারা। আসলে চেহারাটাই তার ক্যানভাস। ছোটবেলা থেকে তিনি মেকআপ এবং ফেস পেইন্টিং ভালোবাসেন। সেই চর্চা বজায় রেখেছেন আজও।

একেকটা লুক তৈরি করতে তার ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময় লাগে। এই কাজটিকে তিনি একপ্রকার থেরাপি মনে করেন। যা তাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়।

ছবি আঁকতে তিনি ব্যবহার করেন জলরং। তবে মাঝেমধ্যে তাকে গ্লিটারও ব্যবহার করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘এসব করতে গিয়ে মুখের ত্বকে কোনো সমস্যা হয় না। ছবি তৈরির পর তিনি সাধারণত বেশিক্ষণ রেখে দেন না। ছবি তোলার পরপরই ধুয়ে ফেলেন।’

লানা নেদারল্যান্ডে বাস করেন।

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

চেহারাটাই তার ক্যানভাস

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

ধসে পড়লে সংস্কার?

ধসে পড়লে সংস্কার?

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি: নিউজবাংলা

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল ভবন আলেকজান্ডার ক্যাসেল ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত।

বছরের পর বছর আশ্বস্ত করা হচ্ছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল বা লোহার কুঠি সংস্কার করা হবে। কার্যত ফলাফল শূন্য। ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীদের প্রশ্ন, ধসে পড়লেই কী এটি সংস্কার করবে কর্তৃপক্ষ?

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল এ ভবনটি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত। বাকি অংশে ময়লা জমেছে।

দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ফটকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লিখে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। তবু ভবনটির ছাদের নিচে বসে কিংবা চারদিকে ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন অনেকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮৭৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার শতবর্ষ উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় তৎকালীন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের স্ত্রী আলেকজান্দ্রাকে। তার নামেই এর নামকরণ হয় ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেল’।

এর নির্মাতা মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সুকান্ত সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের পারে প্রায় ২৭ একর জমির বাগানবাড়িতে সুরম্য অট্টালিকাটি নির্মাণ করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

এটি তৈরিতে লোহার ব্যবহার বেশি হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘লোহার কুঠি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে এটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতল ভবনের ছাদে অভ্র ও চুমকি ব্যবহার করে প্রাসাদের ভেতর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বহু গুণীজন ময়মনসিংহ সফরকালে এখানে এসে থেকেছেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

১৯২৬ সালে সফরে এসে ভবনটিতে থেকেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একই বছর আসেন মহাত্মা গান্ধী। আরও এসেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, লর্ড কার্জন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।

স্থানীয় শাহরিয়ার মেহেদী মোল্লা নামের একজন ব্যবসায়ী জানান, বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে কেউ ময়মনসিংহে এলে এই ভবনটি এক নজর হলেও দেখতে আসেন। তবে বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দূরের দর্শনার্থী নেই বললেই চলে।

ধসে পড়লে সংস্কার?

নাদিম পারভেজ নামে এক ভবন ডিজাইনার বলেন, ‘ভবনটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে একবার ধসে পড়লে ময়মনসিংহের ইতিহাসের একটি সাক্ষী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

স্থাপনাটির ছাদের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন ফিরোজ নামে এক যুবক। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি শহরের আকুয়া এলাকায় বসবাস করি। সপ্তাহে এক দিন হলেও বিকেলে এই ভবনটির সামনে কিছুক্ষণ বসে থাকি।

‘একদিকে নিরিবিলি পরিবেশ আর অন্যদিকে আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী ভবন। তবে ছাদের নিচে বসে মাঝেমধ্যেই অনেককে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ লেখাটা কেউ মানতেই চান না। যদি কারও মাথায় ধসে পড়ে তাহলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

ছায়ানট ময়মনসিংহের সভাপতি আপেল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ভবনটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। কী কারণে এটি সংস্কার করা হচ্ছে না, আমাদের জানা নেই। তবে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে আমাদের খুব বেশি কিছু সরকারের কাছে চাওয়ার নেই। আমরা চাই আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক।’

এদিকে স্থাপনাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তারা এটিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা হিসেবে অভিহিত করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

সামাজিক সংগঠন ময়মনসিংহ জন-উদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির ফটকে ঝুঁকিপূর্ণ লিখে শুধু একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই ক্ষান্ত কর্তৃপক্ষ। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, অথচ এটির নিচে বসে মানুষ গল্প করে। অনেকে ভবনটির নিচে বসে থাকে। তখন ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে, এর দায় নেবে কে?’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের এই চিহ্ন ধরে রাখা প্রয়োজন। আর ভাস্কর্য যতটুকু এখনও টিকে আছে, ততটুকু রক্ষার জন্য প্রহরী দিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা দরকার।

ধসে পড়লে সংস্কার?

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘আর কিছু দিন এই অবস্থায় থাকলে ভবনটির সম্পূর্ণ অংশই খসে পড়বে। ইতিমধ্যে মার্বেল পাথরে নির্মিত আকর্ষণীয় ভাস্কর্যগুলোর হাত ভেঙে গেছে।

‘ভবনটির চারপাশে ঝোপঝাড়। ইতিহাস টিকিয়ে রাখতে স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

এই বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ময়মনসিংহের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেলটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। করোনার কারণে স্থাপনাটিকে দর্শনীয় হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়নি। তবে আশা করছি, দ্রুত এর সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

পঠনে-আন্দোলনে ৮৫ বছর

পঠনে-আন্দোলনে ৮৫ বছর

দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য সংগঠন সিলেটের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সংসদ। এর সদস্যরা জানান, অবিভক্ত ভারতে শিল্প-সাহিত্যে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের জন্যই এই সংগঠনের জন্ম। তৎকালীন প্রেক্ষাপটের কারণে এই সংসদের নাম মুসলিম সাহিত্য সংসদ রাখা হয়েছিল। তবে এখন এর সঙ্গে সব ধর্মের মানুষই সম্পৃক্ত।

যাত্রা শুরু একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশনার মধ্য দিয়ে। এরপর তা রূপ নেয় সংগঠনে, হয়ে ওঠে একটি সাহিত্য আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনেও রয়েছে এর অনন্য ভূমিকা। এটি সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, যা কেমুসাস নামে সুপরিচিত।

এই অঞ্চলের সাহিত্য চর্চা ও পাঠাভ্যাস তৈরিতে ৮৫ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন। ১৯৩৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় এটি। দেশের প্রাচীনতম এই সাহিত্য সংগঠন এখন সিলেটের ঐতিহ্যেরই অংশ।

১৯৪৭ সালের ৯ নভেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ। তখন ভারত-পাকিস্তান সবেমাত্র আলাদা হয়েছে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। ওই সভায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে।

এ অঞ্চলের ইতিহাসবিদদের মতে, এটিই রাষ্টভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম কোনো সভা। এরপর ৩০ নভেম্বর নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আরেকটি আলোচনা সভার করে সংগঠনটি। সেখানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী।

উর্দুর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে এই সভা পণ্ড করে দেন। এর প্রতিবাদে রাজপথেও নামেন বাংলা ভাষার সমর্থকরা। সভায় পাঠ করা মুজতবা আলীর সেই প্রবন্ধ পরবর্তী সময়ে ছাপা হয় সাহিত্য সংসদের নিয়মিত প্রকাশনা ‘আল ইসলাহ’-তে।

এই আল ইসলাহর মাধ্যমেই ১৯৩৬ সালে যাত্রা শুরু হয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের।

সংগঠনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৩২ সালে ‘অভিযান’ নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হক। সে বছরই এর নাম বদলে রাখা হয় ‘আল ইসলাহ’।

আল ইসলাহকে কেন্দ্র করে সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে চার বছর পর ১৬ সেপ্টেম্বর হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগার মোতাওয়াল্লি সরেকওম আবু জাফর আব্দুল্লাহর বাড়ির বৈঠকখানায় আলোচনায় বসেন কবি নূরুল হক। সেদিনই সংগঠন হিসেবে জন্ম নেয় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট বা কেমুসাস।

পঠনে-আন্দোলনে ৮৫ বছর


সেখানে মরমী কবি হাসন রাজার ছেলে দেওয়ান একলিমুর রাজাকে সভাপতি এবং দরগা শরিফের আবু জাফরকে সম্পাদক করা হয়। পরে কবি নূরুল হক কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

এই সংগঠনের বর্তমান কমিটির সদস্য ও আল ইসলাহের প্রাক্তন সম্পাদক কবি আব্দুল মুকিত অপি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অবিভক্ত ভারতে শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে মুসলমানরা পিছিয়ে ছিলেন। তাদের দমিয়েও রাখা হতো। মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই তৎকালীন অগ্রসর চিন্তার মানুষজন মিলে গঠন করেছিলেন এই সাহিত্য সংসদ।’

অপি জানান, প্রথমে দরগা শরিফের মোতাওয়াল্লি আবু জাফরের বাড়ির পাশের একটি ঘরে ছিল সংগঠনটির কার্যালয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবু জাফর, আমীনুর রশীদ চৌধুরীসহ সিলেটের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রচেষ্টায় দরগার পাশে জমিতে স্থানান্তর হয় সাহিত্য সংসদের কার্যালয়। এখন সেখানে নির্মিত হয়েছে সংগঠনটির বহুতল ভবন।

অপি আরও জানান, মাত্র ১৯টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু হয় কেমুসাসের পাঠাগারের। এখন তাতে আছে অর্ধলক্ষাধিক বই। দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য কিছু বই এবং শিলালিপিও সংরক্ষিত আছে সেখানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতের লেখা কোরআন শরীফ।

কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দীন আহমদের নামে চার হাজারেরও বেশি সংগ্রহ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি জাদুঘরও আছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সুলেমানের নামে একটি মিলনায়তনও করা হয়েছে।

শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পাঠাগার। পাঠকদের আনাগোনায় জমজমাট থাকে প্রায় প্রতিদিনই।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি জসীমউদ্‌দীন, শেরেবাংলা এ কে ফজুলল হক, কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সঙ্গীতজ্ঞ আব্বাস উদ্দিন, কবি সুলতানা কামাল, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, বাউল শাহ আবদুল করিমসহ অনেক বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের পদচারণে হয়েছে এই সাহিত্য সংসদে।

কেমুসাসের সভাপতির দায়িত্বে এখন আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

পঠনে-আন্দোলনে ৮৫ বছর

সংসদের সহসভাপতি সেলিম আউয়াল বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিকাশে কেমুসাস অনন্য অবদান রেখে চলছে। এর মুখপত্র আল ইসলাহ ৮৫ বছর ধরে প্রায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ১৯৪৭ সালেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আল ইসলাহে সম্পাদকীয় লেখা হয়।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৪৩ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তার জন্য ‘নজরুল সাহায্য ভান্ডার’ গঠন করে কেমুসাস। এ দেশে প্রথম নজরুল সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজনও করে এই সংগঠন। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে বসে সাহিত্য আসর। জেলার সাহিত্যপ্রেমীরা সেখানে আড্ডায় মেতে ওঠেন।

সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০০১ সাল থেকে ‘কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কার’ দিয়ে আসছে এই সংগঠন। জ্ঞানচর্চায় ও সমাজসেবায় অবদানের জন্যে প্রতিবছর একজন বা দুইজনকে সাহিত্য সংসদের ‘সম্মানসূচক সদস্য পদ’ দেয়া হয়।

নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতি, কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি বছর এই সংগঠন তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘শেকড়ের সন্ধানে অভিযাত্রা’।

এছাড়া, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর বসে ‘কেমুসাস বইমেলা’।

সংসদের কার্যকরী কমিটির সদস্য ছড়াকার রিপন আহমদ ফরিদী বলেন, ‘তৎকালীন প্রেক্ষাপটের কারণে এই সংসদের নাম মুসলিম সাহিত্য সংসদ রাখা হয়েছিল। তবে এখন এর সঙ্গে সব ধর্মের মানুষই সম্পৃক্ত। সাহিত্যচর্চা ও মানুষের পাঠাভ্যাস তৈরিতে সব সময়ই কাজ করে যাবে এই সংসদ।’

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন

শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছিলেন শরৎচন্দ্র

শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছিলেন শরৎচন্দ্র

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের আবেদন কতটা তা বোঝা যায় এটা জেনে যে, তার সাহিত্যকর্ম ঘিরে উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ। সেই সময়ের সমাজব্যবস্থাকে নিয়ে লেখা তার উপন্যাসগুলো যেন সময়ের আয়না হয়ে আছে এ সময়ের মানুষের কাছে।

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় বাংলার শরৎ, চলে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শরৎচন্দ্র জন্মেছিলেন ১৫ সেপ্টেম্বর।

না, শরতে আসেননি তিনি। এসেছিলেন শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে।

শরতে রাত তাড়াতাড়ি আসে আর আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকে। এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গাছের পাতার ঝরে যাওয়া।

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে ঋতু শরতের প্রভাব কতটুকু তা নিয়ে খুব একটা জানা যায় না। তবে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে যে পাতা ঝরার মতো বেদনা বিদ্যমান, তা হয়তো স্বীকার করবেন পাঠকেরা।

শরৎচন্দ্র সাহিত্যিক। লিখেছেন উপন্যাস, নাটক, গল্প, প্রবন্ধ। ‘বিরাজবৌ’, ‘বিন্দুর ছেলে’, ‘পরিণীতা’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘দত্তা’, ‘গৃহদাহ’, ‘শুভদা’ তার লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস। তবে যে উপন্যাসের কথা বললে সবাই তাকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারেন, সেই উপন্যাসটি হলো ‘দেবদাস’।

বলিউডের সঞ্জয় লীলা বানসালি নির্মিত শাহরুখ-ঐশ্বরিয়া অভিনীত দেবদাস সিনেমায় এক পাতা ঝরার দিনে দর্শকদের কাঁদিয়ে চলে গিয়েছিলেন পারুর দেবা।

দেবদাস উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র লিখেছেন বাংলায়। কিন্তু সাহিত্যটির আবেদন এতটাই যে বাংলাসহ একাধিক ভাষায় উপন্যাসটি নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা।

বাংলা, হিন্দি এবং তেলেগু ভাষাতে উপন্যাসের নামেই অর্থাৎ দেবদাস নামেই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে আটবার।

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের আবেদন কতটা তা বোঝা যায় এটা জেনে যে, তার সাহিত্যকর্ম ঘিরে উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ।

সেই সময়ের সমাজব্যবস্থাকে নিয়ে লেখা তার উপন্যাসগুলো যেন সময়ের আয়না হয়ে আছে এ সময়ের মানুষের কাছে। ভবিষ্যতের মানুষও একই রকম অনুভব করবেন তার সাহিত্য পড়ে।

অথচ এ কথাসাহিত্যিককে দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয়ও ত্যাগ করতে হয়েছিল। ১৮৯৪ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এনট্রান্স পরীক্ষা পাস করেন শরৎ। কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু তা আর শেষ করতে পারেননি তিনি। এর পর শুরু হয় তার কাজের সন্ধান।

১৯০৩ সালে বার্মা রেলওয়ের অডিট অফিসে অস্থায়ী চাকরি শুরু করেন শরৎচন্দ্র। ১৯০৬ সালে শরৎচন্দ্র রেঙ্গুনে একটি অফিসে চাকরি পান এবং পরবর্তী ১০ বছর সেখানে চাকরি করেন। ১৯১৬ সালে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে রেঙ্গুন থেকে বাংলায় ফিরে আসেন শরৎচন্দ্র।

রেঙ্গুনের উপকণ্ঠে বোটাটং পোজনডং অঞ্চলের যে বাসায় শরৎচন্দ্র থাকতেন, সে বাসার নিচে শান্তি দেবী নামে এক ব্রাহ্মণ মিস্ত্রির কন্যা থাকতেন। মদ্যপ হবু বরের হাত থেকে বাঁচাতে শান্তি দেবীর অনুরোধে তাকে বিয়ে করেন শরৎচন্দ্র। তাদের এক পুত্রসন্তানও হয়। প্লেগ রোগে স্ত্রী ও তার এক বছরের সন্তান মারা যায়। এর অনেক দিন পর শরৎচন্দ্র রেঙ্গুনে কৃষ্ণদাস অধিকারী নামে এক ভাগ্যান্বেষী ব্যক্তির অনুরোধে তার ১৪ বছরের কন্যা মোক্ষদাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি মোক্ষদার নাম রাখেন হিরন্ময়ী দেবী। তারা নিঃসন্তান ছিলেন।

১৯৩৭ সাল থেকে শরৎচন্দ্রের অসুস্থতা শুরু হয়। ১৯৩৮ সালের ১২ জানুয়ারি শল্য চিকিৎসক ললিতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় তার দেহে অস্ত্রোপচার করেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চার দিন পর ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় শরৎচন্দ্র শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

শরৎচন্দ্রকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হিসেবে ধরা হয়। বুধবার এ সাহিত্যিকের ১২৬তম জন্মদিন। শরৎচন্দ্র ১৮৭৬ সালের আজকের এই দিনে হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
সাহিত্যিক বুদ্ধদেবের প্রয়াণ
আবার হাসপাতালে বুদ্ধদেব, নেয়া হয়েছে আইসিইউতে

শেয়ার করুন