কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকায় দুই কোটি টাকায় হাজিখালি খালের মুখে নির্মিত স্লুইসগেটটি কোনো কাজেই আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতক্ষীরা জেলায় পানি নিষ্কাশনে তৈরি করা অধিকাংশ স্লুইসগেটের কোনো কার্যকারিতা নেই। পাউবো একের পর এক অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করছে। কোমরপুরের স্লুইসগেটটিও তেমনই একটি প্রকল্প।

সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন বছর আগে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দুই কোটি টাকায় হাজিখালি খালের মুখে নির্মিত স্লুইসগেটটি কোনো কাজেই আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতক্ষীরা জেলায় পানি নিষ্কাশনে তৈরি করা অধিকাংশ স্লুইসগেটের কোনো কার্যকারিতা নেই। পাউবো একের পর এক অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করছে। কোমরপুরের স্লুইসগেটটিও তেমনই একটি প্রকল্প।

তাদের অভিযোগ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর গত তিন বছরে এক ফোঁটা পানিও বিল থেকে নদীতে নিষ্কাশন করতে পারেনি স্লুইসগেটটি। উল্টো নদীর পানি বিলে ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সাতক্ষীরার পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি দুর্যোগপূর্ণ, বন্যাকবলিত ও লবণাক্ত উপকূলীয় এলাকা। এ অঞ্চলে বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, কৃষিজমি সম্প্রসারণ ও লবণাক্ততা থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর আওতায় পোল্ডার রয়েছে সাতটি।

কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

এর মধ্যে পোল্ডার ২ ও সম্প্রসারিত ২-এর আওতায় পড়েছে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলা। পোল্ডারটির পূর্বে বেতনা নদী ও দক্ষিণ-পশ্চিমে মরিচ্চাপ নদীবেষ্টিত।

পাউবো কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় উপকৃত এলাকায় জমির পরিমাণ ১১ হাজার ২৯৬ হেক্টর। এখানে বাঁধ রয়েছে ৬২ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার এবং স্লুইসগেট রয়েছে ২১টি। খাল রয়েছে ৬৫ দশমিক ২২০ কিলোমিটার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটগুলোর মধ্যে দু-একটি ছাড়া প্রায় সব কটি অকেজো। পানি নিষ্কাশনে কোনো ভূমিকায় রাখতে পারছে না কোটি কোটি টাকার প্রকল্পগুলো।

কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

কোমরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, কলারোয়া থেকে সাতক্ষীরা সদর হয়ে আশাশুনি পর্যন্ত বেতনা নদীর দুই তীরের গ্রামগুলো পানিতে ডুবে আছে। জুলাইয়ে তিন দিনের বৃষ্টিতে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে ডুবে গেলেও হাজিখালি খালের মুখে নির্মিত স্লুইসগেটটি দিয়ে কোনো পানিই নিষ্কাশন হয়নি।

তিনি আরও জানান, তিন উপজেলার শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ডুবে রয়েছে প্রায় এক মাস। রান্নাঘরের চুলা ডুবে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজারও পরিবার। বাড়িতে যাতায়াত করতে রাস্তার ওপর সাঁকো তৈরি করা হয়েছে।

রফিকুল বলেন, ‘কলারোয়া থেকে আশাশুনি পর্যন্ত বেতনার তীরে জলাবদ্ধতা। ফসল ও ঘরহারা মানুষের দুর্দশার অন্ত নেই। পানিতে ভাসছে বাড়িঘর, পুকুর, মাছের ঘের, কবরস্থান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।’

কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

একই গ্রামের নূর ইসলাম সরদার বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই ভেসে যায় আমাদের আয়ের উৎস মৎস্যঘের। আমরা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। এ বছর সামান্য বৃষ্টিতে সব তলিয়ে যায়। এখনো গ্রামের পর গ্রাম পানিতে। প্রায় দুই কোটি টাকার হাজিখালি বিলের স্লুইসগেট পানি নিষ্কাশনে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না।’

স্থানীয় একজন বলেন, ‘কোন আক্কেলজ্ঞানে এখানে স্লুইসগেট নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, তা আমাদের জানা নেই।

‘যেখানে বিলের থেকে নদী উঁচুতে, সেখানে স্লুইসগেট নির্মাণের মানে সরকারি টাকা লুটপাট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি। কী দরকার ছিল দুই কোটি টাকা পুঁতে রাখার? যে স্লুইসগেট এক ফোঁটা পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা রাখে না, সেই গেট নির্মাণের কোনো প্রয়োজন নেই।’

কাজে লাগছে না ২ কোটি টাকার স্লুইসগেট

এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী খনন করতে হবে। বেতনা নদীর আগের মানচিত্র অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। দখলদারদের হাত থেকে বেতনা নদীকে রক্ষা করতে না পারলে জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না।

স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘বেতনা নদীর হাজিখালি খালের মুখে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের স্লুইসগেটটি জনগণের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনতে পারছে না। আর কোনো দিন পারবেও না, যদি নদীর আদি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না যায়।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। নতুন স্লুইস কোথায়, কয়টি, কত টাকায় নির্মিত হয়েছে, তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব।’

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

সাকি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া নির্বাচনে গিয়ে আর ধোঁকা খেতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

রংপুরের সুমি কমিউনিটি হলরুমে সোমবার দুপুরে দলটির ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাকি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন কিন্তু কথা রাখেন নাই। কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাজেই আপনার কথায় আর কেউ বিশ্বাস করে না। বাংলার মানুষ আপনার পদত্যাগ চায়।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনাকে সম্মান দিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো আপনার ডাকে গিয়েছিলাম। ২৯ তারিখ রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে, প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, নিজেদের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে রাতে ব্যালট ছাপিয়ে নিলেন। ব্যালট বাক্স ভরে নিলেন।

‘কোথাও কোথাও ভোটই আছে ১০০ সেখানে পড়েছে, ১১০ বা ১২০টা। এতই অতি উৎসাহী ছিলেন তারা। আমরা জনগণ আর ধোঁকা খেতে রাজি নই। সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা মানুষ দেখেছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশে আরেকটি নির্বাচনের জন্য লড়াইয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

‘যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে। সবাইকে আন্দোলনে নামিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পথ সৃষ্টি করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কর্ণসূতি গ্রামের মোড়ল শামিম আহম্মেদ জানান, জান্নাতুল ও প্রতিবেশী মিথিলা বাড়ির পাশে খালে ভেলায় করে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা দুজনই খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরেক শিশু।

উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামে সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

৫ বছর বয়সি জান্নাতুল খাতুন ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে।

এ ঘটনায় মিথিলা নামে আরেক শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কর্ণসূতি গ্রামের মোড়ল শামিম আহম্মেদ জানান, কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে শিশু জান্নাতুল তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। জান্নাতুল ও প্রতিবেশী মিথিলা বাড়ির পাশে খালে ভেলায় করে খেলছিল।

একপর্যায়ে তারা দুজনই খালের পানিতে পড়ে যায়। মিথিলা ছটফট করতে থাকলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

মোড়ল শামিম আরও জানান, বাড়ির আশপাশে কোথাও জান্নাতুলকে না পেয়ে খালে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে জাল দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে পানির নিচ থেকে জান্নাতুলকে উদ্ধার করা হয়।

পরে দুজনকে হাসপাতালে নেয়া হলে জান্নাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত মিথিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা

দালাল চক্রের ৩ সদস‍্যকে জরিমানা

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের তিন সদস‍্যকে জরিমানা করেছে ভ্রাম‍্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাহী ম‍্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে একটি দালাল চক্র রোগীদের ভুল তথ‍্য দিয়ে ব‍্যক্তিমালিকানাধীন বেসরকারি ক্লিনিক ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে আসছিল।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের তিন সদস‍্যকে জরিমানা করেছে ভ্রাম‍্যমাণ আদালত।

সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন, শাজাহান আলী, বাকের আলী এবং সোহাগ হোসেন।

নির্বাহী ম‍্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি দালাল চক্র রোগীদের ভুল তথ‍্য দিয়ে ব‍্যক্তিমালিকানাধীন বেসরকারি ক্লিনিক ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বেলা ২টার দিকে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তিন দালালকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ সময় কয়েকজনকে মুচলেকা দিয়ে এমন অপরাধ না করার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক পীর আর নেই

সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক পীর আর নেই

সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক পীর মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

একজন প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি জেলাব্যাপী শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের সময় চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মিছিল করে গ্রেপ্তার হন।

সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব মারা গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর সোমবার বেলা পৌনে ১২টায় মারা যান। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী তেঘরিয়া পীর বাড়ির ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড় মালেক হোসেন পীর। ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি।

যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি সামাজিক নানা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন।

জেলাব্যাপী একজন প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের সময় চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মিছিল করে গ্রেপ্তার হন।

জেলা আওয়ামী লীগের দুই বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদু মুকুট, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

সাগর হালদারের জালে ১৬ কেজি ওজনের কাতল মাছটি ধরা পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে প্রায় ১৬ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মা নদী থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে জেলে সাগর হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে ১৫ কেজি ৮০০ গ্রামের মাছটি পেয়ে বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে শাকিল সোহান মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। আড়ত মালিক শাজাহান শেখ মাছটি ১ হাজার ৪৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন।

পরে মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ মোবাইলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে ঢাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ৭০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন।

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের পাশে দোয়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মালেকের বাড়ি গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ানী এলাকাতেই।

মালেকের পরিবারের দাবি জমিসংক্রান্ত মামলার জেরে তাকে হত‌্যা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, মালেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অসুস্থ ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে বাবাসহ বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয় আরও দুজন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় উম্মেতুনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো, ৩ বছর বয়সী শিশু মোশারফ মিয়া, ৮ বছর বয়সী রূপা আক্তার ও জব্বার মিয়া। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

আহত তিনজনের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

পরে মাধবপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপা আক্তার মারা যায়।

আরও পড়ুন:
স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

শেয়ার করুন