টাকা নিয়ে টিকা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মী বরখাস্ত

টাকা নিয়ে টিকা দেয়া স্বাস্থ্যকর্মী বরখাস্ত

প্রাথমিক তদন্তে জাকিরের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৩১ জনকে সিনোফার্মের টিকা দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কমিটি।

টাকার বিনিময়ে করোনার টিকা দেয়ার অভিযোগে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি সোমবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুসরাত জাহান মিথেন।

বরখাস্ত ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই পোর্টার বা টিকাবাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম মোনাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জাকিরের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৩১ জনকে সিনোফার্মের টিকা দেয়ার সত্যতাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এই কমিটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ ছিল, গত ১৯ আগস্ট উপজেলার মরাদোন গ্রামে ও ২২ আগস্ট ঠাকুরচর গ্রামে কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে টাকার বিনিময়ে সিনোফার্মের টিকা দিয়েছে জাকির।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নাইমুল ইসলাম মোনাস বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাকিরের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুসরাত বলেন, ‘ইপিআই পোর্টার জাকিরের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ডিজি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে যদি জাকির হোসেনের সঙ্গে আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন সাখাওয়াত উল্লাহ।

এ বিষয়ে জাকির হোসেনের বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করেছেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের ৮ বছরের এতিম বীথি। লাল রঙের নতুন ফ্রক আর রঙিন টুপি মাথায় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আয়োজনে যোগ দেয়। নতুন পোশাকের আনন্দে তার মুখে ছড়িয়ে পড়ছিল খুশির ঝিলিক। কিছুক্ষণ পরপর খুশিতে বলে উঠছিল ‘শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী’।

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে। কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নিবন্ধন ছাড়াই ৭৫ লাখ মানুষকে গণটিকা দেয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

পাবনা

ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাবনায় শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনের উৎসব আয়োজন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে সরকারি শিশু পরিবারের ৭৫ এতিম শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। এ সময় শিশুদের হাতে নানা উপহারও তুলে দেন তিনি।

পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের ৮ বছরের এতিম শিশু বীথি। লাল রঙের নতুন ফ্রক আর রঙিন টুপি মাথায় দিয়ে সেই আয়োজনে যোগ দেয়। নতুন পোশাকের আনন্দে তার মুখে ছড়িয়ে পড়ছিল খুশির ঝিলিক। কিছুক্ষণ পরপর খুশিতে বলে উঠছিল ‘শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী’।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

শিশুদের কেক খাওয়া আর মিষ্টিমুখে পুরো স্বাধীনতা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা।

সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্ববধায়ক সুবর্ণা সরকার জানান, করোনাকালে সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা বাইরে আসার সুযোগ পায়নি। তারা একঘেয়েমির মাঝে সময় পার করছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নতুন পোশাকে বাইরে আসতে পেরে তারা ভীষণ খুশি।

পাবনা সমাজ সেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার পল্লব ইবনে শায়েখ বলেন, ‘দেশের সকল বড় আয়োজনে এতিম শিশুরা বঞ্চিত হয়। উৎসবের দিনগুলোতে স্বজনহারা শিশুদের ভীষণ মন খারাপ থাকে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উৎসবে আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে পেরে তারা সত্যিই উৎসবের আনন্দ পেয়েছে।’

পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নির্যাতিত, নিপীড়িত ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজে স্বজনহারা হয়েও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এতিম শিশুদের মুখে হাসি দিয়েই আমরা উৎসব শুরু করতে চেয়েছি। হাসিমাখা মুখে শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছে। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

পরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

খুলনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘দুর্বার বাংলা’ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে এ দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

রাজবাড়ী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ৩০০ রিকশা-ভ্যান শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার।

এর মধ্যে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল ও ১ কেজি তেল রয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে থেকে খাদ্যসহায়তা পেয়ে খুশি রিকশা-ভ্যান শ্রমিকরা।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অসহায়দের খাদ্যসহায়তা করেছি। তারা খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।’

মাগুরা

প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে মাগুরায়ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জালাল উদ্দিন, মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়ার্দ্দারসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব‌রিশা‌ল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বরিশালে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সংলগ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন নেতা-কর্মীরা।

নগরীর সোহেল চত্বরে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সেখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

একই সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের পক্ষে প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, আয়শা তৌহিদা লুনাসহ কাউন্সিলররা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এ উপলক্ষে সকাল থেকে বরিশাল নগরীর ২৯টি টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে চলছে গণটিকাদান কার্যক্রম।

এ ছাড়া বিকেলে নগরীর সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ।

এদিকে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, জন্মদিনের কেক কাটা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকালে ফেরিঘাট রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কেটে ও আতসবাজি ফুটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছে জেলা ছাত্রলীগ।

জেলা শহরসহ ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন তারা।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

পরে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘শেখ হাসিনা জনগণের আস্থার প্রতীক ৷ দেশের ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। তার হাত ধরেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।’

এ সময় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারী

বর্ণিল আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন করেছে নীলফামারী পৌর আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

আনন্দ শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিল্পকলা অডিটরিয়ামে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

এতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন বক্তব্য দেন।

এ সময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মাসুদ আলাল, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান বুলেট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নোয়াখালীর মাইজদীর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দোয়া, আলোচনা সভা ও কেক কাটা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

আলোচনা সভার আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ভোলা

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ভোলার প্রান্তিক জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণটিকা দান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ কার্যক্রমে জেলার ৬৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ১ লাখ ৬ হাজার জনকে টিকা প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় গড়ে দেড় হাজার মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

টিকাদান কেন্দ্রে বয়োজ্যেষ্ঠ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

টিকাদান কার্যক্রমে জনসাধারণকে অবহিত করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ওয়ার্ড মেম্বর, গ্রাম পুলিশও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে দেশব্যাপী ৭৫ লাখ মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হবে। এর আওতায় ভোলার ১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ মানুষকে সিনোফার্ম টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হবে।’

এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে আনন্দ র‌্যালি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার পাবনা প্রতিনিধি ইমরোজ খন্দকার বাপ্পি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল, মাগুরা প্রতিনিধি ফয়সাল পারভেজ, ব‌রিশা‌ল প্রতিনিধি তন্ময় দাস, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি নূর আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহেল এবং ভোলা প্রতিনিধি আদিল তপু।

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির স্কুলছাত্রী

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির স্কুলছাত্রী

নিজের বিয়ে ঠেকাতে থানায় হাজির হন এক স্কুলছাত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় গিয়ে মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলার পর তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’

মা ও খালা দিতে চান বিয়ে। তাদের অনেক বোঝানোর পরও রাজি করাতে পারেনি ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

অবশেষে বিয়ে রুখতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে থানায় হাজির হয় চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী।

পুলিশ জানায়, মেয়েটি বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবার চায়ের দোকান আছে। মা একটি মুড়ির কারখানায় চাকরি করেন।

সম্প্রতি তার মা ও খালা পড়ালেখা বন্ধ করে বিয়ে দিতে চান। বিয়ের জন্য ঠিক করে ফেলেন ছেলে। তাদের বুঝিয়েও মানাতে না পেরে মেয়েটি থানায় অভিযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে ওই এলাকায় পুলিশ আরেকটি বাল্যবিয়ে ভেঙে দেয়ায় সে থানায় আসার উৎসাহ পেয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে পুলিশের একটি দল তাদের বাসায় গিয়ে মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলার পর তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

মংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

নির্ধারিত জুতো না পরায় বাগেরহাটের মোংলার একটি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

মোংলার সেন্ট পলস স্কুল নামের ওই বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্লাস শুরুর সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে।

এর আগে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, স্কুলের পোশাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত চাপ দেয়া যাবে না, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এ কথা বলেন। তারপরও সেন্ট পলস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী এমনকি ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও।

শিক্ষার্থীরা নিউজবাংলাকে জানায়, সকালে বিভিন্ন ক্লাসরুম পরিদর্শনে আসেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ঠিক আছে কিনা তা দেখতে তিনি ক্লাস শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। সে সময় দেখা যায়, কয়েক ছাত্রের পোশাক ঠিক থাকলেও জুতা ছিল ভিন্ন।

এমন শতাধিক ছাত্রকে তখনই স্কুল থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর কেউ বাড়ি ফিরে যায়, কেউ স্কুলের আশপাশে বসে থাকে।

মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। তিনি মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি, সু পরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। ইউএনও স্যার আসছেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।’

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক এই স্কুলে নতুন। যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছেমতো স্কুলের সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। করোনাকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের এসব কিছু অগ্রাহ্য করা উচিত, যা তিনি করেননি।

এ বিষয়ে ইউএনও কমলেশ বলেন, ‘অভিযোগ শুনে আমি ওই স্কুলে যাই। যা বলার প্রধান শিক্ষককে বলে এসেছি। এখন সমস্যা নাই।’

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

সংযোগ সড়ক না থাকায় এভাবেই পার হতে হচ্ছে লংগদু উপজেলার এ সেতুটি। ছবি: নিউজবাংলা

বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

নদীতে সেতু আছে। নির্মাণে খরচ হয়েছে পৌনে এক কোটি টাকা। এত টাকা খরচ করে যে সেতু সেটি মানুষের ভোগান্তি কমাতে কাজে আসেনি। বরং তা চলাচলকারীদের দীর্ঘশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

কখনও সাঁতারে কখনও নৌকায় নদী পার হয়ে তারপর মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে সেতুতে। ৮ বছর ধরে এমন কসরত করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে।

‘হতভাগ্য’ এই মানুষগুলো রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের। তাদের এই কষ্ট যেন অবর্ণনীয়। অথচ এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। যাদের হাত আছে তারা এখন বলছেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। আটারকছড়া ইউনিয়নে মিজান মুন্সীর বাড়ির সামনে মাইনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

সেতুটির সড়ক সংযোগ না থাকায় লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের ডানে আটরকছড়া ও ইয়ারিংছড়ি গ্রামের ৭০ পরিবারের ৮ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আটরকছড়ার খুশি চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার করল্যাছড়ি বাজারে করোনা টিকা নিতে গিয়েছিলেন তিনি। অনেক কষ্ট করে যেতে হয়েছে তাকে। সেতুর সংযোগ রাস্তা হলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।

ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

আটরকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জিয়াউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বারবার একই কথা বলছেন। দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাস দিলেও সেই কথার দৃশ্যমান কিছু নেই।’

লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে জেলা পরিষদ অপরিকল্পিত সেতুটি নির্মাণ করেছে। তারা যদি সবার সঙ্গে সমন্বয় করত তাহলে এমন হতো না।’

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণকাজের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যার কারণে সেতুটির বিষয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই। তবে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে সেতুটির সংযোগ সড়ক ও অসমাপ্ত কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

নিঃসঙ্গতা কাটাতে পথপশুদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন এই নারী। ছবি: নিউজবাংলঅ

ফরিদা বলেন, ‘আপন বলতে কেউ নেই। এই কুকুর-বিড়ালদের সঙ্গে নিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন হোটেলে কাজ করি। সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে চলে যাই বাজার করতে। বাজার করে বাসায় রান্না করি। আবার রাতে বের হয়ে কুকুরগুলোকে খাওয়াই। কিছু টাকা রাখি বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। এই পশুদের পেট ভরলেই মন ভরে আমার।’

স্বজন বলতে কেউ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর ছিল কেবল দুই ছেলে। তাদের একজন মারা যায়, আরেকজন যায় হারিয়ে। এরপর প্রায় ২০ বছর ধরে একেবারেই একা ফরিদা বেওয়া।

তবে একাকিত্বের কাছে হার মানেননি নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৫৮ বছর বয়সী এই নারী। হতাশা বা বিষণ্নতা তাকে কখনোই পেয়ে বসেনি; বরং একাকী জীবনকে তিনি উজাড় করে দিয়েছেন পথের বিড়াল-কুকুরের জন্য। এখন এই পথপশুরাই তার পরিবার। তাদের জন্যই যেন ফরিদার বেচে থাকা।

ফরিদার উপার্জন হয় দিনমজুরি করে। যে টাকা পান, তা দিয়ে নিজের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের খাবারে খরচ করেন তিনি। প্রতিদিন খাবার রান্না করে ২০ থেকে ৩০টি কুকুর-বিড়াল খাওয়ান তিনি।

ফরিদা থাকেন সৈয়দপুরের হাতিখানা মহল্লার রেললাইনের ধারে, জরাজীর্ণ একটি ঘরে। বিভিন্ন হোটেলে টুকটাক কাজ করেন। প্রতি রাতে শহরের ক্যান্টনমেন্ট সড়কে গিয়ে কুকুর-বিড়াল খাওয়ান তিনি।

সেই সড়কে গত শনিবার রাত ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, ফরিদাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে কয়েকটি কুকুর। দূর থেকে তার কণ্ঠ শুনেই ছুটে আসছে আরও কিছু।

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

কয়েক ব্যাগভর্তি খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন ফরিদা। কুকুরগুলোর সামনে কাগজ বিছিয়ে তাতে সে খাবার পরিবেশন করছেন। কুকুরগুলোও যেন পরম তৃপ্তি নিয়ে চেটেপুটে সেগুলো সাবাড় করছে। ২০ বছর ধরে এভাবেই তিনি এই পথপশুদের খাদ্যের জোগানদাতা।

নিউজবাংলাকে ফরিদা বলেন, ‘আপন বলতে কেউ নেই। এই কুকুর-বিড়াল সঙ্গে নিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন হোটেলে কাজ করি। সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে চলে যাই বাজার করতে। বাজার করে বাসায় রান্না করি। আবার রাতে বের হয়ে কুকুরগুলোকে খাওয়াই। কিছু টাকা রাখি বাড়ি ভাড়া দিতে হয়।

‘এই পশুদের পেট ভরলেই মন ভরে আমার।’

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

ফরিদা বেওয়ার সঙ্গে হোটেলে কাজ করেন মো. শাহিন। নিউজবাংলাকে ফরিদার একটি ঘটনা জানান তিনি।

‘কয়েক মাস আগে প্রতিদিনের মতো একদিন রান্না করে খাবার নিয়ে রাতে বের হয়েছিলেন ফরিদা। বাস টার্মিনালে দলবেঁধে থাকা কুকুরগুলোকে খাওয়াচ্ছিলেন তিনি। তখন সাতটা কুকুরের মধ্যে উপস্থিত ছিল ছয়টা। পরের দিন আবার গেলেন খাবার নিয়ে, কিন্তু সেই একটি কুকুর আবারও অনুপস্থিত। সেটিকে খুঁজতে থাকেন ফরিদা।

‘আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারলেন যে, চলন্ত ট্রাকের নিচে পড়ে সেটি মারা গেছে। তখন তিনি সেখানেই কান্নাকাটি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। থানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন সেই ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।’

ফরিদা যেসব হোটেলে কাজ করেন, এর একটি মালিক মো. আশরাফের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

তিনি বলেন, ‘বহু বছর থেকে তিনি আমার হোটেলে কাজ করেন। সবজি কাটা, ডাল বাটাসহ অন্যান্য কাজ করে দেন। প্রতিদিন তাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দেয়া হয়। প্রতিদিনই তিনি সেই টাকা দিয়ে রাতে মাছ, তরকারি, চাল কিনে বাসায় রান্না করে রাতে বেরিয়ে যান পথকুকুরগুলোকে খাওয়াতে।

‘তিনি কোনো টাকা জমা রাখেন না। সব এই পথকুকুর খাওয়াতেই ব্যয় করে দেন। ওনার ঝুপড়িতেও চার থেকে পাঁচটি বিড়াল সব সময় থাকে। তার নিজের কোনো বাড়ি নেই। কোনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পান না তিনি। এই মজুরির টাকা দিয়েই তিনি এই বিড়াল-কুকুরগুলোকে আগলে রেখেছেন।’

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

বণ্য প্রাণী, পাখি ও পরিবেশের সুরক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফরিদা বেওয়ার কাজটি আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয়। আমরা আমাদের সংগঠন থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

রাস্তার পাশে গলাকাটা দেহটি কার

রাস্তার পাশে গলাকাটা দেহটি কার

প্রতীকী ছবি

ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, মৃতের পরনে নীল গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল। মরদেহটি কার তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ইউনিয়নের ছোটখোচাবাড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, সকালে স্থানীয় মন্টু আলী ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মরদেহটি ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

ওসি তানভিরুল আরও জানান, মৃতের পরনে নীল গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল। মরদেহটি কার তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কে বা কারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় কারাগারে আসামি

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় কারাগারে আসামি

প্রতীকী ছবি

মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার সময় এক ব্যক্তি মেয়েটির মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর ছাত্রী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

১ নম্বর মানিকছড়ি এয়াতলং পাড়ার হোসেন আলী নামের ওই ব্যক্তিকে সোমবার সকালে আটক করে পুলিশ। তাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ধর্ষণের ঘটনাটি শনিবার দুপুরের বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বাবা জানান, উপজেলার কর্নেল বাগান এলাকায় নিয়ে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও এরপর হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার বরাতে মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহনূর আলম জানান, ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে কর্নেল বাগান এলাকায় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর ছাত্রী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

ওই ছাত্রী মানিকছড়ি কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মংসুইপ্রু মারমা জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাতে শিক্ষার্থীরা থানার সামনে গিয়ে সোমবার বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যায়।

আরও পড়ুন:
‘চাইলেই টিকা পাওয়া যায় না’
টিকার এসএমএসে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
জাপানি টিকার শেষ চালান পৌঁছেছে
এবার গ্রামের মানুষকে আগে টিকা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন