বলাৎকারের অভিযোগে ২ মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা

বলাৎকারের অভিযোগে ২ মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা

কিশোরগঞ্জে এই মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের মামলা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ওই ছাত্রের মামা বলেন, ‘বলাৎকারের খবর এত দিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখে আসছি। আর আজ নিজ পরিবারের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। আলেম হয়ে এ ধরনের নগণ্য কাজ ওনারা করেন কিভাবে? ছাত্ররা তো তার কাছে সন্তান সমতুল্য।’

কিশোরগঞ্জে ছাত্রকে বলাৎকার এবং তাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের নামে মামলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় রোববার রাত দেড়টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন ওই ছাত্রের বাবা।

আসামি হলেন জামিয়াতুস সুন্নাহ কিশোরগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা বেলাল হোসেন ও অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি হোসাইন মোহাম্মদ নাঈম।

এর মধ্যে বেলালের বিরুদ্ধে বলাৎকারের এবং অধ্যক্ষ হোসাইনের বিরুদ্ধে বেলালকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ করা হয় এজাহারে।

বেলালের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া পাচাশি এলাকায় এবং হোসাইনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কান্দাইল এলাকায়।

মামলার বাদী জানান, তিনি ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্ত্রী একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাদের একমাত্র ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানানোর জন্য ভর্তি করা হয় জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসায়। ১০ বছর বয়সী ছেলেটি নাজেরা বিভাগ থেকে পাস করে হেফজখানায় ভর্তি হয়। মাদ্রাসাতেই থাকত সে।

সাপ্তাহিক ছুটিতে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যান তিনি। সেখান থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যান শ্বশুরবাড়ি। সেদিন বিকেলে শিক্ষক বেলাল তাকে ফোন করে জানান, ছেলে দ্রুত মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দিতে হবে, না হলে পড়াশোনার ক্ষতি হবে।

ওই ছাত্রের বাবা আরও জানান, মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা শুনে তার ছেলে কান্নাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে সে জানায়, গত ১৫ আগস্ট সকালে মাদ্রাসার তিনতলায় একটি টয়লেটে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করেন শিক্ষক বেলাল।

একইভাবে গত শুক্রবার সকালেও তাকে নির্যাতন করা হয়। সেদিনই মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে বেলালকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেলাল তা স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান।

ওই ছাত্রের বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেলালকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের জিম্মায় রেখে বাসায় চলে আসি। স্বজনদের পরামর্শে আবার মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের খোঁজ করে জানতে পারি তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হোসাইন মোহাম্মদ নাঈম।’

ওই ছাত্রের মামা বলেন, ‘বলাৎকারের খবর এত দিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখে আসছি। আর আজ নিজ পরিবারের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

‘আলেম হয়ে এ ধরনের নগণ্য কাজ ওনারা করেন কিভাবে? ছাত্ররা তো তার কাছে সন্তান সমতুল্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমিও গিয়েছিলাম মাদ্রাসায়। সেখানে যাওয়ার পর হুজুরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু তাকে কোরআন ছুঁয়ে বলতে বলা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।’

ওই ছাত্র জানায়, বেলাল আরও কয়েক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও সে। তবে ভয় ও লজ্জায় সবাই চুপ থাকে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন জানান, ১৭০ জন ছাত্র পড়াশুনা করে তার মাদ্রাসায়। এর মধ্যে ৩০ জন আবাসিক ছাত্র।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরই বেলালকে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শরীরের বাইরে হৃদপিণ্ড, টাকার অভাবে ফেরাল হাসপাতাল

শরীরের বাইরে হৃদপিণ্ড, টাকার অভাবে ফেরাল হাসপাতাল

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শরীরের বাইরে হৃদপিণ্ড নিয়ে জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক।

স্থানীয় একটি ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদপিণ্ড শিশুর শরীরের ভেতরে স্থাপন করা সম্ভব। তবে এ চিকিৎসা ব্যয়বহুল। প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

অর্থের অভাবে এই চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি রমেন-অপু দম্পতি। সন্তানকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

শিশুটির বাবা-মা জানান, জন্মের পরই দেখতে পান নবজাতক কন্যার হৃদপিণ্ড শরীরের বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। শিশু হাসপাতাল থেকে তাদের পাঠানো হয় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে।

বারডেমের চিকিৎসকরা জানিয়েছে, শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তিসহ অপারেশনের জন্য খরচ হবে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

চিকিৎসার জন্য এত টাকা না থাকায় পুনরায় শিশুটিকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ক্লিনিকের পরিচালক হিরণ্ময় হালদার জানান, দেশে কিংবা দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির হৃদপিণ্ড শরীরের ভেতরে স্থাপন করা সম্ভব। তবে চিকিৎসাটি ব্যয়বহুল।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার ১ দিন পর

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, মরদেহ উদ্ধার ১ দিন পর

রত্না নদীতে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে নিখোঁজ হন মোশারফ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

বানিয়াচং থানার ওসি প্রজিত কুমার দাশ জানান, রোববার সকালে রত্না নদীতে একাই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান মোশারফ চৌধুরী। মাছ ধরার এক পর্যায়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে তলিয়ে যান। পরে সোমবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রত্না নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজের ২৮ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নদীর সুনামপুর এলাকা থেকে সোমবার বেলা ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) প্রজিত কুমার দাশ।

উদ্ধার হওয়া মোশারফ চৌধুরীর বাড়ি উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে।

ওসি জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশের রত্না নদীতে একাই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান মোশারফ। মাছ ধরার এক পর্যায়ে তিনি নৌকা থেকে পড়ে তলিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। রোববার তাকে না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

ওসি প্রজিত আরও জানান, সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়া স্থানের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নদীর সুনামপুর এলাকায় যুবকের মরদেহ ভেসে উঠে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: লোগো ব্যবহারে হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: লোগো ব্যবহারে হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের

চত্তগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে এ ধরনের সংবাদ বা তথ্যাদি প্রচার আইনত দণ্ডনীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো যেখানে-সেখানে ব্যবহারের ওপর সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য, সংবাদ প্রচারিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়।

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার রাতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে নানাবিধ ভিত্তিহীন তথ্য ও সংবাদ অপপ্রচার করে যাচ্ছে। এসব তথ্য ও সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে এ ধরনে সংবাদ বা তথ্যাদি প্রচার আইনত দণ্ডনীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ব্যাপারগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শাটারবিহীন এ দোকানের মধ্যে থেকে নাছির মিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান জানান, ধনুমিয়া মার্কেটের শাটারবিহীন একটি দোকানে মানসিক ভারসাম্যহীন নাছির মিয়ার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

কুমিল্লার মুরাদনগরে শাটারবিহীন দোকান থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের বাখর নগর এলাকার ধনুমিয়া মার্কেটে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাছির মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ী এলাকায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান।

তিনি জানান, ধনুমিয়া মার্কেটের শাটারবিহীন একটি দোকানে মানসিক ভারসাম্যহীন নাছির মিয়ার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ওসি সাদেকুর আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে গলাকেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল আউয়াল থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হত্যার কারণ উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

নারীকে ছুরিকাঘাত, সাবেক স্বামী আটক

নারীকে ছুরিকাঘাত, সাবেক স্বামী আটক

হাসপাতালে আহত ফাহমিদাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, ফাহমিদার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে সাবেক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পৌর এলাকার শেখপাড়ায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।

আহত ফাহমিদা ফাইম শেখপাড়ার আবু কাউসার মধুর মেয়ে। আটক জসিম উদ্দিনের বাড়ি সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে।

ফাহমিদার বাবা আবু কাউসার মধু জানান, বেশ কয়েক বছর আগে জসিমের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ বাড়তে থাকে।

সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ১ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু এর পরও জসিম তার মেয়েকে নানাভাবে উত্যক্ত করত।

তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ জসিম আমার বাড়িতে আসে। হঠাৎ মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। জসিমকে আটক করেন তারা। মেয়েকে ভর্তি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।’

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, ফাহমিদার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত জসিমকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

পরিমাণে কম, লাখ টাকা জরিমানা

পরিমাণে কম, লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জে ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযানের সময় তেল কম দেয়ার প্রমাণ মেলে। তখন স্টেশনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করে তেল বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।

লিটারপ্রতি তেল কম দেয়ায় মানিকগঞ্জে এক ফিলিং স্টেশন মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদরের নারাঙ্গাই এলাকায় ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজা মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় তেল বিক্রিও।

অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের লিটারপ্রতি তেল কম দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় তেল কম দেয়ার প্রমাণ মেলে। তখন স্টেশনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করে তেল বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।

যদি তারা এই নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে ওই স্টেশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন

সিনহা হত্যা: তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে

সিনহা হত্যা: তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে

সিনহা হত্যা মামলায় তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামিদের আদালতে আনা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান, তৃতীয় ধাপে চার সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত (অব.) মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সাক্ষ্য গ্রহণ।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্ধারিত সাক্ষীরা হাজির হন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তৃতীয় ধাপে চার সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তারা হলেন, মো. আবদুল হামিদ, ফিরোজ মাহমুদ, শওকত আলী ও সার্জেন্ট মো. আয়ুব আলী। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নির্ধারিত প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে সাত দিনে ছয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।

পরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ ঘোষণা করেন বলে জানান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফরিদুল আলম।

এর আগে দুই ধাপে ধার্য তারিখে সাক্ষ্য দেয়া ছয়জন হলেন, সিনহা হত্যা মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম সিফাত, টেকনাফের মিনা বাজার এলাকার মোহাম্মদ আলী, সিএনজি চালক কামল হোসেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের মসজিদের হাফেজ মুহাম্মদ আমিন ও শামলাপুর চেকপোস্টসংলগ্ন বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলাম।

সাক্ষ্য গ্রহণের পরপরই ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্তসহ ১৫ আসামির পক্ষে ১২ জন আইনজীবী তাদের জেরা সম্পন্ন করেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে মেজর সিনহা পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসী।

২৭ জুন মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামি কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) সন্তোষ বড়ুয়া জানান, চলতি বছরের ২৭ জুন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল মামলাটির অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এরপর করোনায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পিছিয়ে যায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ। পরে ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। সমন জারি করা ১৫ জনের মধ্যে সব সাক্ষীই আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এ মামলায় ৮৩ জন চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ছাত্র বলাৎকার মামলায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
শিশুকে ‘বলাৎকার চেষ্টা’, মাদ্রাসার ২ শিক্ষক কারাগারে
ভাগনেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা
বলাৎকারের মামলায় কারাগারে শ্রীলঙ্কান নাগরিক
শিশুকে বলাৎকার, পলাতক মাদ্রাসাশিক্ষক

শেয়ার করুন