রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শুরু

রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শুরু

নতুন অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এই মাসে এ খাত থেকে ৭ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিল এনবিআর; আদায় হয়েছে ৪ হাজার ২৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছরের জুলাই মাসে আদায় হয়েছিল ৫ হাজার ৬২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে ভ্যাট থেকে সরকারের কোষাগারে ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্থ কম জমা পড়েছে।

গত বছরের মতো এবারও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হলো।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঠেকাতে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সারা দেশে ১৮ দিন ‘কঠোর লকডাউন’ চলে। ওই সময়ে বাংলাদেশ মূলত অচল ছিল। তারই প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে; তলানিতে ঠেকেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৩ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাসেই লক্ষ্যের চেয়ে ৭ হাজার ২২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।

গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সবমিলিয়ে ১৪ হাজার ৭৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

মহামারির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাসও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। লক্ষ্যের চেয়ে রাজস্ব আদায় কমছিল ৭ হাজার ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে অর্থবছর শেষ হয় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায়ের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এই মাসে এ খাত থেকে ৭ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিল এনবিআর; আদায় হয়েছে ৪ হাজার ২৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত বছরের জুলাই মাসে আদায় হয়েছিল ৫ হাজার ৬২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এ হিসাবে জুলাই মাসে গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ভ্যাট থেকে সরকারের কোষাগারে ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্থ কম জমা পড়েছে।

আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক বাবদ রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৮৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে আদায় হয়েছিল ৫ হাজার ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা।

তবে, এই সঙ্কটকালেও আয়কর আদায়ে বড় সাফল্য দেখিয়েছে এনিআর; আদায় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। জুলাইয়ে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৪ হাজার ৭৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। গত বছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাস তো প্রায় অচলই ছিল। অর্ধেকেরও বেশি সময় কঠোর লকডাউন ছিল। কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম চলেনি। দোকানপাট-হাটবাজার বন্ধ ছিল। পোশাক কারখানাও বন্ধ ছিল বেশ কয়েক দিন। সবমিলিয়ে ওই মাসে রাজস্ব কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। আয়কর খাতে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেটাই অবাক লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন তো মহামারির মধ্যেও সবকিছু চলছে। করোনার টিকাদান কার্যক্রম চলছে। মানুষের মধ্যে সাহস সঞ্চার হয়েছে। সবাই ধরে নিয়েছে, করোনার সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। তাই জীবন-জীবিকার তাগিদে সবাই যে যার মতো করে কাজ করছে। আমার ধারণা, আগামী মাসগুলোতে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটসহ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধিত হয়ে ভ্যাট দিতে শুরু করেছে। তার একটা ইতিবাচক প্রভাব সার্বিক রাজস্ব আদায়ে পড়বে।’

বড় ধরনের কোনো সংকট না আসলে গত অর্থবছরের মতো এবারও রাজস্ব আদায়ে মোটামুটি একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে বলে আশার কথা শোনান আহসান মনসুর।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ রাজস্ব আদায় বাড়াতে ব্যাপক সংস্কারের উপর জোর দিচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর এই কঠিন পরিস্থিতিতে যে সব খাত ভালো করছে, তাদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করতে হবে; আর যারা খারাপ করছে তাদের ছাড় দিতে হবে।’

২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ভ্যাট থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।

এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি এবং আমদানি ও রপ্তানি কর থেকে ৯৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম জানান, রোববার বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

প্রায় দুই দশক আগে সাতক্ষীরায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পলাতক আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনককে রোববার বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

তিনি জানান, বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনক। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কপথে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

ঘটনার ১৯ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার একটি আদালত ৫০ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দেয়।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে দেয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। একই সাজা পাওয়া বাকি দুজন হলেন মো. আরিফুর রহমান ওরফে রঞ্জু ও রিপন। এরা দুই জনই পলাতক।

পলাতক আসামি যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দেয়া হয়েছে ৯ বছরের কারাদণ্ড। বাকি ৪৬ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব

সেদিন ৩৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। তাদেরকে সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

বাকি ১৬ জনের মধ্যে আছেন আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু মিয়া, নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কনক, মাহাফুজুর রহমান।

মামলার বিচারে চক্কর

হামলার পর এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে যান। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি আটকে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

এই মামলাটির শুনানি থামাতে হাইকোর্টে একের পর এক আবেদন করেছেন আসামিরা।

একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর সে রুলের শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করে হাইকোর্ট।

গত ৮ অক্টোবর মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

সবশেষ আবেদন হয় আসামি রাকিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন দাবি করে এই মামলায় বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে গত ২৪ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ হলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতিবাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েকদিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে। যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহমুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

দেখতে সাধারণ চপ্পল মনে হলেও তার ভিতরে সেট করা হয়েছে স্মার্টফোন। একটি ব্লুটুথ ডিভাইস দিয়ে সংযোগ করে তা কানের ভেতর রাখা হয়েছে। খুব ধীরে কথা বললেও তা স্পষ্ট শোনা যায় অপর প্রান্ত থেকে।

চাকরির এক পরীক্ষায় এমন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে। রাজ্যে ৩১ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল এটি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এমন অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ যে পরীক্ষার্থীর কাছে চপ্পলটি পাওয়া গেছে তাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রথম ব্যক্তিকে আজমির থেকে গ্রেপ্তারের পর অন্যদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এর আগে একই ধরেনর চপ্পল পাওয়া গেছে বিকানেয়ার ও সিকারে।

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

ছোট ছোট আকারে এমন জালিয়াতির জন্য অনেকেই ডিভাইসের আকার পরিবর্তন করছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছে এমন ডিভাইস জালিয়াতির জন্য কিনতে পরীক্ষার্থীর খরচ হয়েছে দুই লাখ রুপি।

আজমীর পুলিশের কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর একেবারে অল্প কিছু সময় আগে তারা বিষয়টি টের পাই। পরে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হই।’

শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ঘিরে রোববার রাজস্থানে ইন্টারনেট ও এসএমএস আদান-প্রদানে কড়াকড়ি আনে রাজ্য সরকার।

৩১ হাজার পদের বিপরীতে রোববার পরীক্ষা দিয়েছে দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর এক যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

চুয়াডাঙ্গায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার কুলচারা গ্রাম থেকে রোববার বিকেলে আহত অবস্থায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর ওই যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে বিকেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় আটক করে সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ওই যুবকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোমবার তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই যুবককেও সোমবার আদালতে তোলা হবে।

শেয়ার করুন

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

ঈগল পরিবহনে টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

এক অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় উদঘাটনে নেমে পিবিআই যেখানে সফল হয়েছে, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল?

গাবতলীতে বাসে এক পরিত্যক্ত ট্রাংকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ। তার পরিচয় বের করাই তদন্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চার বছর ধরে তদন্ত চালিয়েও থানা পুলিশ ও সিআইডি বের করতে পারেনি তরুণীর পরিচয়।

পুলিশের আরেকটি বিভাগ পিবিআই দায়িত্ব পেয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুধু তরুণীর পরিচয়ই উদঘাটন করেনি, হত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে।

প্রশ্ন হলো, এটি কি পুলিশের সাফল্যের নাকি ব্যর্থতার কাহিনি? পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) যেখানে সফল হলো, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে কি গাফিলতি ছিল?

সিআইডি বলছে, অজ্ঞাত তরুণীর ট্রাঙ্কবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় উদঘাটনে যে যে স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া অনুসরণীয়, তার সবকটি ধাপই তারা অনুসরণ করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে পিবিআই।

থানা পুলিশ বলছে, তারাও চেষ্টা করেছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা ও অন্যান্য কিছু কারণে তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। পরিচয় না পাওয়ায় আসামিকেও বের করা সম্ভব হয়নি।

ছয় বছর আগে যা ঘটেছিল

২০১৫ সালের ৩ মে বিকেলে ঈগল পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারে একটি ট্রাংক থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ। বাসটি এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। ট্রাংকটিও সেখান থেকে আসা।

ট্রাংকটি ওইদিন সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে এক ব্যক্তি তুলে দিয়েছিলেন ওই বাসে। ওই ব্যক্তি একটি টিকিট কেটে বলেছিলেন, পরবর্তী স্টপজে এক নারী যাত্রী উঠবেন। ওই নারী যাত্রী এই ট্রাংকসহ ঢাকা যাবেন। কিন্তু পরের স্টপেজে কোনো যাত্রী ওঠেনি। মালিকবিহীন অবস্থায় ট্রাংকটি এসে পৌঁছায় গাবতলীতে।

ট্রাংকটি অনেক ভারি হওয়ায় সন্দেহ হয় হেলপার ও অন্যদের। তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে তরুণীর মরদেহ পায়। তাৎক্ষণিক ওই মরদেহের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে।

দারুসসালাম থানার এসআই জাহানুর আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা থানা পুলিশই তদন্ত করে। তদন্তে করতে গিয়ে তারা কী কী করেছিল, কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা এখনকার দারুস সালাম থানা জানাতে পারেনি।

তারা বলছে, অনেক আগের ঘটনা। তখনকার দায়িত্বশীলরা এখন অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।

এ মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি ঢাকা মেট্রোর পশ্চিম বিভাগ। তারা চার বছর ধরে তদন্ত করে।

সিআইডি অপরাধ তদন্তে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বিভাগ। তারা অজ্ঞাত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক টিমের সহায়তায় ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের যে এলাকা থেকে ট্রাংকটি বাসে উঠিয়ে দেয়া হয়, সেই এলাকার বিভিন্ন থানায় ওই সময়ে দায়ের হওয়া নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিগুলোর খোঁজ করেছে সিআইডি। সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। নিহত তরুণীর ছবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের দেখানো হয়। কেউ ছবি দেখে তরুণীকে চিনতে পারেনি।

তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে সিআইডির নিজস্ব সাময়িকীতে ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতি দুটোই প্রয়োগ করে তরুণীর পরিচয় এবং তার হত্যাকারীকে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে সিআইডির পক্ষ থেকে নিউজবাংলাকে জানানো হয়। দীর্ঘ সময়েও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা।

সিআইডি পারেনি, পিবিআই পেরেছে – এমনটা মানতে নারাজ সিআইডি ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেটা অন্য সংস্থা পারেনি, কিন্তু সিআইডি উদঘাটন করেছে। পরিচয় শনাক্তে আমরা ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতেই চেষ্টা করেছি, সিআইডি সেটা করে থাকে।’

যেভাবে সফল হলো পিবিআই

আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এটির শীর্ষ কর্মকর্তা ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় মামলাটি তদারকি করেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। আর মামলাটি তদন্ত করেন পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান।

চার বছরের বেশি সময় আগের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, তা নিয়ে রোববার কথা হয় বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে। তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং জড়িত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে তাদের নানা কৌশল অবলম্বনের কথা জানিয়েছেন।

সিআইডি যে পথে হেঁটে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে, সেই একই পথে পিবিআইও হেঁটেছে। তবে ‘সময় ও ধৈর্য্য’ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান চালানোয় সফলতা এসেছে বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জিডিতেই আটকে ছিল জট

ঢাকায় অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয় ২০১৫ সালের ৩ মে। সাধারণত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে যে এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, সেই এলাকার থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। আর এই নিখোঁজ ডায়েরিটা নিখোঁজ হওয়ার পর কাছাকাছি সময়েই হয়ে থাকে। কিন্তু এই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে ১০ জুলাই পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়।

এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই বাধে বিপত্তি। থানা পুলিশ ও সিআইডি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি খুঁজেছে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী এক মাসের বেশি সময়ের ব্যাপ্তিতে। তাতে কিছু পাওয়া যায়নি।

কিন্তু পিবিআই এক মাসের ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা আরও বড় সময়ের ব্যাপ্তির সব নিখোঁজ জিডি সংগ্রহ করেছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে সময় নিয়ে জিডিগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে গিয়ে ৭ দিন সেখানে অবস্থান করে আশপাশের ১৪টি থানার জিডি সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ শুরু করি। বাকি থানাগুলো জিডি পরবর্তী সময়ে সংগ্রহের টার্গেট ছিল। ১৪ থানার জিডিগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিখোঁজের ডায়েরি পাওয়া যায়।’

আশরাফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই সময়ে যেগুলো মিসিং ডায়েরি পেয়েছিলাম, সেখান থেকে প্রথম দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, যাদের নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি হয়েছিল, তাদের পাওয়া গেছে। তৃতীয় জিডিটির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, তরুণীটি এখনও নিখোঁজই রয়েছে। গাবতলীতে ‍উদ্ধার হওয়া তরুণীর সঙ্গে নিখোঁজ তরুণীর বর্ণনা মিলে যায়।

‘তখনই আমরা জানতে পারি, উদ্ধার হওয়ার তরুণীর নাম শম্পা বেগম। এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যায় জড়িত কে বা কারা তা তদন্ত করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করি।’

মামলাটির তদারকি কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শম্পা নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর। শম্পার পরিবারকে আসামী স্বপন জানান যে, শম্পা খুলনা যাওয়ার জন্য বাসে রওনা হয়েছে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও শম্পা আর পৌঁছায়নি। খুলনায় না যাওয়ায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন ও নানান জায়গায় খোঁজার পর শম্পার ভগ্নিপতি চট্টগ্রামে এসে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাধারণত অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যে হওয়া জিডিগুলো খুঁজে দেখা হয়। আমরা কাছাকাছি সময়ের জিডিগুলো বের করার পাশাপাশি এক মাসের বেশি সময় পর কোনো মিসিং জিডি হয়েছে কিনা তাও খুঁজে দেখেছি। আমরা বিস্তৃত সময় ধরে হওয়া জিডিগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে সফল হয়েছি।’

শম্পার পরিচয় শনাক্তের পর আসামি গ্রেপ্তারেও যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আসামি স্বপনকে শম্পার পরিবার মেয়ের স্বামী হিসেবে জানত। শম্পা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু মূলত তারা বিয়ে করেননি। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপনের ঠিকানা চাইলে শম্পার পরিবার তা যথাযথভাবে দিতে পারেনি। কারণ তাদের কাছে তা ছিল না। আমরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আসামির স্থায়ী ঠিকানা পাই। কিন্তু ওই ঠিকানায় আসামি স্বপন থাকতেন না। থাকতেন কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায়। সেখান থেকে তাকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা। স্বপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।’

কেন শম্পাকে হত্যা

স্বপনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শম্পাকে চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর গ্রিনভিউ এলাকার একটি বাসায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২ মে গভীর রাতে তাকে হত্যা করেন স্বপন।

২০১৩ সালে খুলনা নৌঘাঁটিতে ল্যান্স করপোরাল (মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বপন। শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। শম্পার মা চিকিৎসা করাতে গেলে স্বপনের সঙ্গে শম্পার পরিচয় হয়।

পিবিআই জানায়, এই পরিচয়ের সূত্রে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক সময় স্বপনে বিয়ের জন্য চাপ দেন শম্পা। স্বপন আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং তার সংসারে এক সন্তান ছিল, যা তিনি শম্পার কাছে গোপন করেন। বিয়ের চাপ দেয়ায় স্বপন খুলনা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন।

এরপর শম্পাও চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রামে এক ফুফুর বাসায় কিছু দিন থাকেন শম্পা। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করেন তিনি। পরবর্তীতে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে এক সঙ্গে থাকা শুরু করেন দুজন। তখন শম্পা তার পরিবারকে জানান স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন, যদিও তারা বিয়ে করেননি।

এভাবে তারা ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২ মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করছিলেন। এক সময় শম্পা বিয়ের জন্য রেজাউল করিম স্বপনকে চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বপন। মরদেহ গোপন করার জন্য শম্পার মরদেহ একটি ট্রাংকে ঢুকিয়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন তিনি এবং কৌশলে শম্পার বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে শম্পা তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১০ জুন পাহাড়তলী থানায় জিডি করা করেন।

এদিকে জিডি করার পাশাপাশি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান চেয়ে স্বপনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম নৌ বাহিনীর অফিস এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ করেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই দফা অভিযোগ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। তবে দ্বিতীয়বার অভিযোগের পর স্বপনের পদের অবনতি করা হয়। কিন্তু আমার মেয়েকে আর পাইনি। ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে আমার মেয়ের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ। পিবিআই ২২ সেপ্টেম্বর আমার বাড়িতে গেলে আমার মেয়ের বিষয়ে প্রথম কোনো খবর পাই।’

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ফাহমিনা ও মানিক নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যার ছয় বছর পর মামলার রায়ে তার স্ত্রী ফাহমিনা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

হত্যায় জড়িত আরও এক ব্যক্তিকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

দিনাজপুর জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমদ ভূঞা রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রবিউল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন হযরত আলী বেলাল।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ফাহমিনা বেগম ও একই উপজেলার নিয়ামতপুর নতুনবাজার এলাকার মানিক রবিদাস ওরফে আর্ট মানিক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে ফাহমিনা স্বেচ্ছায় বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালতে বিচারকের কাছে ফাহমিনা জানান, ছালাম তাকে ও মানিককে নিয়ে সন্দেহ করত। তিনি ফাহমিনার নামে জমি লিখে দিতে চেয়েও পরে আর দেননি। এই ক্ষোভে ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে ফাহমিনা মানিককে ডেকে পাঠান। পরে দুই জনে মিলে নাইলনের দড়ি ছালামের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। পরে ছালামের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন তারা।

ফাহমিনার দেয়া তথ্যমতে, মানিককে গ্রেপ্তার করে মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার দুই মাস পর ফাহমিনা ও মানিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

এ মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে রোববার রায় ঘোষণা করে আদালত।

শেয়ার করুন

বাড়ি ভারতে, চাকরি সিলেটে

বাড়ি ভারতে, চাকরি সিলেটে

অভিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা

পরিচয় গোপন করা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা সিলেটে থাকলেও প্রায়ই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া-আসা করেন। তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার উচ্চ পদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে বিদেশি এক নাগরিকের বিরুদ্ধে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ।

অন্য একটি দেশের নাগরিক হয়েও বাংলাদেশ সরকারের একটি দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের অধীনে কীভাবে তিনি কাজ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, পরিচয় গোপন করা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা সিলেটে থাকলেও প্রায়ই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া-আসা করেন। তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল সংসদীয় কমিটি। সচিব আরেকজন যুগ্ম সচিবকে দিয়ে তদন্ত করেছেন। সেই তদন্তে তুষার কান্তি সাহাকে দোষীও করা হয়নি, আবার ছাড়ও দেয়া হয়নি।

দায়সারাভাবে তদন্ত হওয়ায় প্রতিবেদনটি আমলে নেয়নি সংসদীয় কমিটি। এ জন্য সচিবকে দিয়ে নতুন করে তদন্ত করাতে বলা হয়েছে। সচিব না পারলে অন্তত অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কাউকে দিয়ে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বলা যাবে। আমরা সঠিক তথ্য জানতেই আবারও তদন্তের কথা বলেছি।’

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এনামুল হক, মো. আবু জাহির, রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার, শেখ সালাহ উদ্দিন, সৈয়দ আবু হোসেন ও রাবেয়া আলীম অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য কমিটিতে প্রেরিত ‘মহাসড়ক বিল, ২০২১’ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের পর বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের জন্য সংশোধিত আকারে সংসদে রিপোর্ট প্রদানের জন্য সুপারিশ করে কমিটি।

এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কমিটির পক্ষ থেকে তাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানদ্বয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন