স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা দিতে চায় এসএফআইএল

স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা দিতে চায় এসএফআইএল

স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে যাত্রা শুরু করে এক বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। ভালো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থেকে অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আস্থা অর্জন করেছে। এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউজবাংলা কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খানের সঙ্গে।

করোনাভাইরাস মহামারিতে স্থবির হয়েছে উৎপাদন; থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়েছে কর্মসংস্থান। তবে দম বন্ধ করা সময়কে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান। অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কেউ কেউ। তাদের মধ্যে অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (এসএফআইএল)।

করোনার মধ্যে যাত্রা শুরু করে দিন দিন বাড়ছে এটির পরিসর। ভালো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থেকে অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করায় তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা। অল্প কিছুদিনেই আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে; নিশ্চিত হয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

এসএফআইএলের এ অগ্রযাত্রার বিষয়ে জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খানের সঙ্গে।

নিউজবাংলা: করোনাকালে কার্যক্রম শুরু করেছে স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। মহামারির মধ্যে এক বছরের কাজ কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ইরতেজা আহমেদ খান: করোনাকালীন এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে যাত্রা শুরু করলেও আমাদের পরিচালনা পর্ষদ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। আপৎকালীন সময়ে সুন্দর একটা কোম্পানি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি সামাজিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিল। পর্ষদের দিকনির্দেশনা মোতাবেক ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ আমরা কাজ শুরু করি। নিয়মতান্ত্রিক সব মেনে পথচলা শুরু। এরপর দীর্ঘ লকডাউনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হয়।

‘স্বচ্ছতার বন্ধন’ স্লোগান সামনে রেখে করোনার মধ্যে শুরু করে এক বছরের এই পথচলায় বেশ সাফল্য অর্জন করেছি। প্রথম চার মাসেই সব নিয়ম মেনে প্রফিট করেছে প্রতিষ্ঠান। এটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য বিষয়। খুব সীমিত আকারে আমানত সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন বাধার মধ্যে এ সফলতা অনুপ্রেরণামূলক।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমিত আকারে গ্রাহক ভালোভাবে যাচাই করেছি। করোনার কারণে পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী শিল্প, ভৌত অবকাঠামো, হোম লোন, গাড়ি লোনসহ বিভিন্ন কাজে অর্থায়ন করেছি।

১০০ কোটি টাকার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। পাওয়ার না থাকলে ইন্ডাস্ট্রি সেক্টর উন্নতি করতে পারবে না। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। এর পেছনে পাওয়ার সেক্টরের বড় অবদান রয়েছে।

এক বছরে আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেছি। আমাদের নিট লাভ ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিনিয়োগ ১০৬ কোটি টাকা। উৎপাদন, রপ্তানিমুখীসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ দেয়া হয়েছে ৬৭ কোটি টাকা। আমানতের পরিমাণ ৪১৯ কোটি টাকা। এর বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি প্রায় ৪০ জনের ওপরে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) আওতায় একটি বিদেশি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে একত্রিত হয়ে কাজ করছি।

স্বল্প সময়ের মধ্যে একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে সেবা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষমতা, আর্থিক সচ্ছলতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতার কারণে ক্রেডিট রেটিংয়ে ভালো অবস্থানে আছি। এটা নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সফলতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটা নিয়মকানুন মেনে আমরা কাজ করেছি। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতার ব্যাপারটায় আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। ‘স্বচ্ছতার বন্ধন’ স্লোগান মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

আমরা ইতোমধ্যে স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি খোলার অনুমতি পেয়েছি। খুব শিগগিরই পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউস হিসেবে সেবা দিতে পারব।

নিউজবাংলা: নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কি না?

ইরতেজা আহমেদ খান: আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে মনে হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের পরিচিতি আরও বাড়ানো দরকার। পরিচিত বাড়ালে গ্রাহক পর্যায়ে আমানত সংগ্রহের যে পরিকল্পনা, সেটা বেগবান করা যাবে। বিশেষ কয়েকটি কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অনেকের নেতিবাচক ধারণা আছে।

একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখতে হলে যে বিষয়গুলো দেখা উচিত, আমরা সেটা আগে তুলে ধরি। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট, বোর্ড কি প্রাতিষ্ঠানিক নাকি ব্যক্তিপর্যায়ে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেয়। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিপর্যায়ের বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সে ক্ষেত্রে সুশাসনে অনেক সমস্যা হয়।

আমাদের ৯৮ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার প্রাতিষ্ঠানিক। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কানাডা ও আমেরিকার সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) রয়েছে। আর বাকি ২ শতাংশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ফলে সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিধি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়। এটা আমাদের শক্তি। আমানতকারীদের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটা একটা ভালো উদাহরণ হতে পারে।

নিউজবাংলা: ইদানীং বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। এ জন্য ঋণ বিতরণে আপনাদের পলিসি বিষয়ে কিছু বলুন।

ইরতেজা আহমেদ খান: ঋণ বিতরণে আমরা অনেক সতর্ক। আমানত ৪১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও বিনিয়োগ ও অর্থায়ন করেছি ২০০ কোটি টাকা। এখনও হাতে ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আছে। আর্থিক ভিত মজবুত রাখার জন্য এ টাকা হাতে রাখা। বিনিয়োগ বা অর্থায়ন সেখানেই করব যেখানে আমার টাকা আটকাবে না।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমিত আকারে গ্রাহক ভালোভাবে যাচাই করে ঋণ দিয়েছি। করোনার কারণে পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী শিল্প, ভৌত অবকাঠামো, হোম লোন, গাড়ি লোনসহ বিভিন্ন কাজে অর্থায়ন করেছি।

আমাদের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) শূন্য। আমরা দেখেশুনে ফাইন্যান্স করছি। একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমানতকারীরা টাকা ফেরত চাইলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেটা দিতে পারি, এটাই আমাদের পরিকল্পনা। আমানত সুরক্ষা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

নিউজবাংলা: নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামনে আপনাদের কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা আছে?

ইরতেজা আহমেদ খান: সুন্দরভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলতে হলে মূলধন লাগবে। আমাদের মূলধন হলো আমানত, যেটা গ্রাহকের কাছ থেকে আসে। গ্রাহক ছাড়াও আমানতে বিভিন্ন উৎসের মধ্যে অন্যতম ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ভালো করতে হলে কস্ট অফ ফান্ড কমাতে হবে।

সামনে কস্ট অফ ফান্ড আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ আমানত সংগ্রহে বেশি খরচ হলে ঋণ বিতরণ করা যাবে না।

ব্যবসা বহুমুখী করার চিন্তা রয়েছে। শুধু আমানত সংগ্রহ করে সেটা নয়, স্বল্প সুদে বিদেশি ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা আছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে থেকে ঋণ নেয়ার চেষ্টা থাকবে। এতে কস্ট অব ফান্ড কমবে। বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

কস্ট অব ফান্ড বা পরিচালন ব্যয় কমানোর জন্য এসব পদক্ষেপ নেয়া হবে। এককেন্দ্রিক না হয়ে অর্থায়নের উৎসগুলো বহুবিধ করা।

স্বল্প সুদে বিভিন্ন প্রগতিশীল, উন্নয়নমুখী ও রপ্তানিমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থায়ন করতে পারব। আমরা এটা অর্জন করতে চাই।

টেকসই টেকনোলজি সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে চাই। আমাদের প্রক্রিয়াগুলো অটোমেটেড করতে চাই। গ্রাহক পর্যায়ে ব্রাঞ্চ নয়, মোবাইলের মাধ্যমে পৌঁছাতে চাই। প্রযুক্তিগত সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে।

মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

নিউজবাংলা: শাখা খোলার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

ইরতেজা আহমেদ খান: শাখার খোলার আগে আমরা বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার খুলব। ঢাকা শহরকে চারটি জোনে ভাগ করে এটা করা হবে। ঢাকা শহরে দুটি বিজনেস সেন্টার খোলা হবে। সেখানে সেলস স্টাফরা বসবে। সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে। তারপর গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার পর শাখা খুলব।

আগামী বছর দুটি শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে। তার আগে দুটি সেলস সেন্টার খোলা হবে।

নিউজবাংলা: আপনার গ্রাহকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

ইরতেজা আহমেদ খান: আমরা একটি প্রগতিশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান। আমরা সেবা নিয়ে গ্রাহকদের স্বচ্ছতার সাথে সেবা দিতে চাই। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতার প্রতিফলন রাখতে চাই। প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো বিনিয়োগে, আমানত সুরক্ষার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আমরা কাজ ও সেবা করতে চাই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা। ফাইল ছবি

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে এটিকে দ্বিগুন করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

দারিদ্র্যকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশকে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। এটা করতে হবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার রাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত ৪৬টি দেশ নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ- এলডিসি থেকে উত্তরণে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে বলেছে আঙ্কটাড।

সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নতুন করে অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। মহামারির বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশকে ওই অর্থ খরচের কথা বলেছে।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে এটিকে দ্বিগুন করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ খাতে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে আঙ্কটাড।

অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি হাতেগোনা কিছু খাত ও পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যতা না আনতে পারলে বাংলাদেশকে এক সময় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

তাই সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খাতে আগামী ১০ বছরে ১১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে, যা মোট জিডিপির ৩১ শতাংশ।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৪৬টি। অন্যদিকে, ছয়টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। দেশগুলো হলো: বতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া, ভানুয়াতু ও ইকোয়েটরিয়াল গিনি।

বাংলাদেশ, ভুটান, সাও টোমে প্রিনসিপে, অ্যাঙ্গোলা, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও টুভালু দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি) সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অম্ভ্যন্তরীণ সম্পদ তথা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ করা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করা।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করে আঙ্কটাড।

শেয়ার করুন

ই-কমার্স আইন ও কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় কমিটি গঠন

ই-কমার্স আইন ও কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় কমিটি গঠন

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়, গঠিত কমিটির কার্যপরিধি হবে চারটি। কমিটি ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

ই-কমার্স আইন প্রণয়ন এবং পৃথক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় আইনি দিক পর্যালোচনা করতে ১৬ সদস্যের একটি আইনি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ডিজিটাল কমার্স সেল) মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত সোমবার এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দাপ্তরিক আদেশের একটি মঙ্গলবার নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

আদেশে জানানো হয়, গঠিত কমিটির কার্যপরিধি হবে চারটি। কমিটি ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

এ ছাড়া কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে ডিজিটাল কমার্স পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার কাঠামো এবং এর কার্যপ্রণালী প্রণয়ন করবে।

তবে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়, ই-কমার্সের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রমবিকাশ ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী আইন ও শক্তিশালী একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

দুটি বিষয়ে আইনি দিক পর্যালোচনা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৬ সদস্যের একটি আইনি কমিটি গঠন করেছে।

আদেশে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য) এ এইচ এম সফিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ডিজিটাল কমার্স সেল) মুহাম্মদ সাঈদ আলীকে।

কমিটিতে বাকিরা সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

শেয়ার করুন

হিসাবে স্বচ্ছতা এলে করের বোঝা কমবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

হিসাবে স্বচ্ছতা এলে করের বোঝা কমবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিবিএস সিস্টেম চালুর ফলে হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। ভুয়া অডিট ও জাল রিপোর্ট প্রতিরোধ হবে। এতে করে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি কমবে, অন্যদিকে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে।’

হিসাবে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হলে করের বোঝা কমবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও আইসিএবির সঙ্গে মঙ্গলবার ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিবিএস) সফটওয়ার বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিবিএস সিস্টেম চালুর ফলে হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ভুয়া অডিট ও জাল রিপোর্ট প্রতিরোধ হবে। এতে করে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি কমবে। অন্যদিকে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে।’

অনুষ্ঠানে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান খশরুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। আর এনবিআরের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সদস্য আলমগীর হোসেন, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মাসুদ সাদিক ও আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেকে।

আইসিএবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন মাহমুদুর রহমান খশরু। আর এনবিআরের পক্ষে সই করেন সদস্য (ভ্যাট নীতি) মাসুদ সাদিক।

আরও আসছে…

শেয়ার করুন

চাল আমদানি: এলসি খোলার সময় বাড়ল

চাল আমদানি: এলসি খোলার সময় বাড়ল

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতী সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার সময়সীমা পত্র জারির তারিখ থেকে ৭ দিন বাড়ানো হলো।

দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে সরকার।

সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের (সচিবালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখা) সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতী সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার সময়সীমা পত্র জারির তারিখ থেকে সাত দিন বাড়ানো হলো।

এলসি সম্পর্কিত তথ্য (পোর্ট অব এন্ট্রিসহ) তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে ([email protected]) জানাতে বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে যেসব প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তাদের এলসি খোলার সময়সীমাও বাড়িয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।
চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্কও কমানো হয়েছে।

চাল আমদানির অনুমতি দেয়া শুরু হয় গত ১৭ আগস্ট থেকে। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়ানোসহ শর্ত শিথিল করে মোট ১৪টি আদেশ জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

প্রথম আদেশে বলা হয়েছিল বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খুলতে হবে এবং আমদানিকারকদের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।

প্রথম দুই দফায় ছয় লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হলেও পরবর্তী আদেশগুলোতে নতুন আমদানিকারকদের অনুকূলে বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ ও সরবরাহ অনুবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারিভাবে প্রায় ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৯৮ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এ সময়ে সরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার টন।

সবমিলিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ লাখ ৯২ হাজার টন, গম ১ লাখ ৩৭ হাজার টন আর ধান ৪০ হাজার টন।

চাল আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ক কমিয়েছে সরকার। গত ১২ আগস্ট আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে এখন মোট শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

রোববার অপর এক আদেশে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করেছেন বা করবেন, তারা সেই চাল ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাজারজাত করতে পারবেন। আগে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি করা চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

শেয়ার করুন

টিকটক, রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব

টিকটক, রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব

বিএফআইইউ-এর চিঠিতে টিকটক, স্ট্রিমকার ছাড়াও আরও চারটি অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করা রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক, ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্ট্রিমকারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থাকলে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে রিং আইডি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এবং রিং আইডি বিডি লিমিটেডের নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে, তা জানাতে বলা হয়েছে। রিং আইডি ডিস্ট্রিবিউশনের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে গুলশানে নিকেতনের ৫৭ নম্বর বাড়ি। আর রিং আইডি বিডির ঠিকানা দেয়া হয়েছে রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ার।

বিএফআইইউর চিঠিতে টিকটক, স্ট্রিমকার ছাড়াও আরও চারটি অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এসব অ্যাপ হলো তিনপাত্তি, ট্রেজার হান্ট, লাকি পয়সা ও ক্রিকেট স্টারস।

অ্যাপভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব থাকলে সেসব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ফরম ও শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী পাঠাতে বলা হয়েছে।

অ্যাপভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের একটিরও অফিসের ঠিকানা পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া সংকল্প ট্রাস্টসহ আট প্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সাত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে বিএফআইইউ।

প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেসরকারি সংস্থা সংকল্প ট্রাস্ট, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ সিকিউরিটি ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ প্রভিডেন্ট ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ জেনারেল ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট এলনাহ প্রজেক্ট, টাফুন ট্রাস্ট এবং আমিরাবাদ হাফিজিয়া মাদ্রাসা এতিম খানা।

এসব প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, মনিরুজ্জামান হিরু, আব্দুর রহিম, মিসেস তাছলিমা ও সাইফুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়

বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়

বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়্যার হাউজ সুপার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রিতে অটোমেশন সুবিধার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রদান করা যাবে।’

দীর্ঘদিন পর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল অটোমেশন সেবার আওতায় এসেছে।

প্রায় দেড় বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় এসেছে স্থলবন্দরটি অটোমেশন চালু হওয়ায় ঘরে বসেই কম্পিউটার আর মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও গতি আসবে। নিশ্চিত হবে স্বচ্ছতা, কমবে হয়রানি। স্বস্তি পাবেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়। চলতি মাসে এসে পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় অটোমেশন সম্পন্ন হলো।

বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, রাজস্ব দপ্তর, এন্ট্রি শাখা, ওয়্যার হাউজ সবকছিু অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।

অটোমেশন হওয়ার ফলে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই তাদের পণ্যের তথ্য জানতে পারবেন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি হয়। তবে এই বন্দরটি এতদিন আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। আগে শুল্ক ফাঁকি থেকে শুরু করে একজনের পণ্য অন্যজন নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অটোমেশনের ফলে এখন আর সেই সুযোগ নেই। এতে করে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়্যার হাউজ সুপার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রিতে অটোমেশন সুবিধার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রদান করা যাবে।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, কাস্টমসের পাশাপাশি বন্দর অটোমেশন হওয়াতে বাণিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। আমদানিকারকেরা তথ্য চাইলে দ্রুত সরবরাহ করা যাবে। তারা ইচ্ছে করলে নিজেরাও আমদানির তথ্য মোবাইলে দেখতে পারবেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ‘চট্রগ্রামের পর প্রথম বেনাপোল বন্দর অটোমোশনে যুক্ত হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য নজরদারিতে থাকবে। এতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

শেয়ার করুন

‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানি বন্ধের দাবি

‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানি বন্ধের দাবি

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘এখনই গোখাদ্যের দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে খামার বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।’

খামারিদের স্বার্থে দ্রুত প্রাণীখাদ্যের উপকরণ সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, এটি বন্ধ না হলে দেশের পোল্ট্রি ও মৎসসহ প্রাণিসম্পদ খাতের খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে খামারিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়বে। তাই সয়াবিন মিল রপ্তানি দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধ করুন, ডেইরি পোল্ট্রি ও মৎস শিল্প রক্ষা করুন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সয়াবিন রপ্তানি দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাত ব্যাপক লোকসানে পড়বে। ইতিমধ্যে সয়াবিন মিল রপ্তানির খবরে স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন মিলের দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি করেছে। সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনই গোখাদ্যের দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে খামার বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি আলী আজম রহমান শিবলী, সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, অর্থ সম্পাদক জাফর আহমেদ পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিব উল্লাহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন