‘করোনায় বিভিন্ন দেশের অবস্থা বেহাল, বাংলাদেশে শান্তি’

‘করোনায় বিভিন্ন দেশের অবস্থা বেহাল, বাংলাদেশে শান্তি’

জাতীয় শোক দিবসের একটি আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে থাইল্যান্ডের সরকারের পতন হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের অবস্থা বেহাল, অনেকে দেশের অর্থনীতি এখন হুমকির মুখে।…করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই দেশের অর্থনীতি ভালো রয়েছে। সামাজিক অবস্থা ভালো আছে। দেশে শান্তি বিরাজ করছে।’

করোনাভাইরাসের সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও বাংলাদেশ সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শান্তি বিরাজ করছে দেশে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে রোববার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

করোনার ধাক্কায় অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে মালয়েশিয়া। অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকাতে না পারার দায় নিয়ে সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে হয় মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকে।

করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ডও। এতে অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রাউত চান-ওচার গদি।

এসব প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে থাইল্যান্ডের সরকারের পতন হয়েছে (প্রকৃত পক্ষে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে)। মালয়েশিয়া সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের অবস্থা বেহাল, অনেকে দেশের অর্থনীতি এখন হুমকির মুখে।

‘তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা এখন নিয়ন্ত্রণে আসছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই দেশের অর্থনীতি ভালো রয়েছে। সামাজিক অবস্থা ভালো আছে। দেশে শান্তি বিরাজ করছে এবং আগামীতে দেশ এগিয়ে যাবে। করোনা মধ্যেই আমাদের ৬ শতাংশ গ্রোথ রয়েছে।’

স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আপানাদের সহযোগিতায় করোনা মহামারি মোকাবিলা করে যাচ্ছি। যে দুর্যোগ ১০০ বছরেও একবারও আসে না। এই দুর্যোগ কীভাবে মোবাবেলা করতে হয়, এটা মানুষের জানা ছিল না। এই মহামারিতে কী করা লাগবে জানা ছিলো না। তবে সবকিছু আপনাদের সহযোগিতা নিয়েই করে যাচ্ছি। এ কারণে বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় সফল হয়েছে।

‘করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক দেশে প্রশংসা পেয়েছি; বিশ্ব সংস্থা সংস্থার প্রশংসা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। এসব সম্ভব হয়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য। তারা এই কাজগুলোতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে কাজ করে যাচ্ছে। কাজেই তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন ল্যাবে হাজার হাজার টেস্ট করানো হচ্ছে। টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক দেশ এখনও টিকা পায়নি।

তিনি বলেন, ‘করোনা সেবা নিতে গিয়ে চিকিৎসকসহ আমরা ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা আমরা কাজ করি যাচ্ছি। একটি ল্যাব থেকে এখন সাড়ে ৭০০টি ল্যাব হয়েছে। করোনা সেবা দেয়ার জন্য ১৭ হাজার শয্যা করা হয়েছে। হাসপাতালে সাধারণ শয্যাও একই রয়েছে। হাসপাতালে এখন তিন ধরনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। করোনা, নন করোনা চিকিৎসা, ডেঙ্গু চিকিৎসা।’

ভার্চুয়াল আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, দেশে এখন টিকার অভাব নেই। প্রতি মাসেই টিকা আসছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।

‘হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৮৭ জন্য নার্স ও ১ হাজার ৪০১ জন অ্যানেসথেসিস্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আট হাজার ডাক্তার নিয়োগ হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বশির আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম শিপনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যারা করোনাভাইরাসের টিকাকেন্দ্র হিসেবে হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্বাচন করেছেন তারা টিকা পেতে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে মঙ্গলবার থেকে টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তারা টিকা নিতে পারবেন।

প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা টিকার জন্য হাটহাজারী কেন্দ্র নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে।

টিকার জন্য সবাইকে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দুই কপি নিয়ে যেতে হবে। তারা চীনের তৈরি সিনোফার্ম টিকা পাবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতে ৪৮ হাজার টিকা চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিকা নিতে পারেন সেই উদ্যোগও নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫৫০। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া জরিপের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণের জন্য সার্বিক তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

এর মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৭। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ১৩৪ জন। নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষারত ৪ হাজার ৪০০ জন। এনআইডি না থাকায় টিকা নিতে পারেননি এমন শিক্ষার্থী ২ হাজার ২৬৭ জন।

পরীক্ষার কারণে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসায় অনেক শিক্ষার্থী টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। তাদের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘তাদের বিষয়টাও আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউজিসিতে জানিয়েছি। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুসফুস প্রতিস্থাপনের দুই দিন পর মারা গেছেন সেই গ্রহীতা। শরীরে রক্তক্ষরণ আর একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক করোনামুক্ত রোগী ১০৬ দিন একমো সাপোর্টে ছিলেন। ৪৬ বছরের ওই ব্যক্তির ফুসফুস খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

পরিবারের চেষ্টায় গুজরাটের সুরাটে এক ব্যক্তির মরণোত্তর দানের ফুসফুস পাওয়া যায়। কলকাতা ও সুরাটের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সুরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রিন করিডর অর্থাৎ রাস্তার সব সিগন্যাল সবুজ করে ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

প্রায় ছয় ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগীর দেহে ফুসফুসটি বসান পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। এদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক কুনাল সরকার।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৮৫ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৩৫৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৬ হাজার ২৫৩ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮১৪ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

এর আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

২৬ মের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার

২৬ মের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আরও কমল শনাক্তের হার

গত একদিনে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮০ জনের দেহে। কমেছে শনাক্তের হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৫১ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪১৪ জনের।

একদিনে এর আগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত ২৬ মে। সেদিন ১৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ২২১টি। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আর বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ছিল ৪ দশমিক ৬১ এবং শক্রবার ছিল ৪ দশমিক ৫৬।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, নারী ১৪ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৭ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ১, রাজশাহী ২, সিলেটে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৩১২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৪৭৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

আরও বেশি মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে ফের বড় পরিসরে টিকা ক্যাম্পেইনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ক্যাম্পেইনে এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

এই টিকা ক্যাম্পেইন আগামী মঙ্গলবার হবে বলে রোববার বিকেলে দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শেষ হয়। আগের ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী ও বয়স্কদের। সে ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গতবারের মতো আবার আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান টিকাদান কর্মসূচি বজায় থাকবে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে যেতে চায় সরকার। বিশেষ করে যেখানে দারিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যারা সব সময়ে টিকা নিতে আসতে পারেন না এবং বয়স্ক তাদের টিকা দেয়ার উদ্দেশ নিয়ে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৮ তারিখ আমাদের লক্ষ্য ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া। গতবার টিকা ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ৮০ লাখ টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সক্ষমতা আমরা বৃদ্ধি করতে চাই। আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই কারণে আমার এই দিন ফের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করছি।

ক্যাম্পেইনে নিবন্ধনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পেইনে নিবন্ধন করে যারা টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ২৫ বছরের ওপরে সবাইকে টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইনের শুরুতে প্রথম দুই ঘণ্টা ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক নারী, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে টিকা নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসলেও টিকা দেয়া হবে। এবারের ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেয়া হবে না। ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হবে।

এক মাস পর ফের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সারাদেশে একযোগ এই টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। যে পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে দুই শিফটে টিকা দেয়া হবে। টিকা দেয়া শেষ হলেও গেলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওই কেন্দ্রে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

যেসব কেন্দ্রে টিকার ক্যাম্পেইন

সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এবং এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা ৪৪৩টি ওয়ার্ডে এই টিকা দেয়া হবে। এবং ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী এই ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। এর মধ্যে সেচ্ছাসেবক ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন। তারা সবাই মিলে এই বিরাট কর্মকণ্ড পরিচালনা করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার লোক এই কাজ করবেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে ৩টি করে বুথ এবং পৌরসভায় ১টি বুথ রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

গত ৩১ মে দেশে পৌঁছায় ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভাবিত ফাইজারের টিকার অন্তত ২৫ লাখ ডোজের একটি চালান দেশে আসছে সোমবার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।

টিকার এই চালান গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের টিকা দেশে আসে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় দেশে মোট টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে মোট ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে; দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে।

চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি মাস থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যু ছাড়াল ২৬ হাজার, শনাক্ত ৩৯৪৮
টিকার অপচয় কমাবে যান্ত্রিক হাত
করোনা উপসর্গে মৃত্যু ৫ হাজারের বেশি
লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি
শতের নিচে নামল মৃত্যু

শেয়ার করুন