মা-ছেলেকে সিআইডির ‘অপহরণ’: সেই লুৎফরকে উদ্ধারের দাবি পুলিশের

মা-ছেলেকে সিআইডির ‘অপহরণ’: সেই লুৎফরকে উদ্ধারের দাবি পুলিশের

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভয়ে আত্মগোপনে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নির্ভয় দিয়ে উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেই হিসেবেই তাকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

দিনাজপুরে স্ত্রী ও ছেলেকে সিআইডির ‘অপহরণের’ ঘটনায় আলোচনায় আসা সেই লুৎফরকে উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ বলছে, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। রোববার দুপুরে স্বজনরা তাকে বুঝে পেয়েছেন।

ওসি মোস্তাফিজুর বলেন, ‘স্ত্রী ও পুত্রকে অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে লুৎফর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে চিরিরবন্দর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে দিলে আদালতের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হন্তান্তর করেছি।’

অপহরণের ঘটনায় মঙ্গলবার করা মামলায় রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বহনকারী গাড়ির চালক মো. হাবিব ও মো. পলাশ নামের আরেকজনকে।

তাদের গত বুধবার দিনাজপুরের আমলি আদালত-৪-এ তোলা হলে সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি পলাশ। এরপর উদ্ধার হওয়া মা-ছেলের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়।

আদালতের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, পলাশ জবানবন্দিতে বলেছেন, চিরিরবন্দরের লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে তার কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেটি আদায় করতে তিনি লুৎফরের বিরুদ্ধে রংপুর সিআইডিতে গিয়ে অভিযোগ করেন।

পলাশ বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে লুৎফরের চিরিরবন্দরের বাড়িতে অভিযান চালায় সিআইডির ওই তিন পুলিশ। সে সময় তিনিও তাদের সঙ্গে ছিলেন। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

অপহরণের মামলার বাদী হলেন লুৎফরের ভাই খলিলুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় তার ভাই লুৎফর স্থানীয় বাজারে যান। সে সময় বাড়িতে ছিলেন লুৎফরের স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ।

বাদীর অভিযোগ, সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি দল রাত সাড়ে ৯টায় ওই বাড়িতে যায়। তারা লুৎফরকে আটক করতে এসেছে বলে জানায়। লুৎফরকে না পেয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারও তারা লুট করে। এরপর লুৎফরের স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে মো. জাহাঙ্গীরকে মারধর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।

লুৎফরের ভাগনে শামসুল আলম মানিক নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার পর থেকে লুৎফরকেও কোথাও পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে তাদের মোবাইল নম্বরে দফায় দফায় ফোন করে বলা হয়, জহুরা ও জাহাঙ্গীরকে মুক্তির বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

বিষয়টি চিরিরবন্দর থানায় জানান মানিক ও খলিলুর। এরপর থানার পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে মুক্তিপণের টাকা নিতে অপহরণকারীদের মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার বাঁশেরহাটে আসতে বলা হয়।

অপহরণকারীরা মঙ্গলবার বাঁশেরহাট এলে চিরিরবন্দর থানার পুলিশ তাদের আটক করে। উদ্ধার করা হয় জহুরা ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরকেও। তবে হদিস মিলছিল না লুৎফরের।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভয়ে আত্মগোপনে থাকা কোনো ব্যক্তিকে নির্ভয় দিয়ে উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেই হিসেবেই তাকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

মামলায় গ্রেপ্তার রংপুর সিআইডির এসএসআই ও কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক।

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

এর আগে ৪ মিনিটের ভিডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের তোপের মুখে আছেন মেয়র। তিনি সে ভিডিওটিকে কারসাজি বলেছেন। তবে এবার ৫০ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, তাতে তার এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।

৪ মিনিটের একটি ঘরোয়া আলোচনার ভিডিও ফাঁসের পর বেকায়দায় পড়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এবার ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৪ মিনিটের ভিডিওটি এই ৫০ মিনিটের ভিডিও থেকেই কেটে ফেসবুকে ছাড়া হয়। তাতে মুক্তিযুদ্ধের শহিদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য থাকার অভিযোগ তুলে মেয়রের শাস্তির দাবিতে গত বুধবার থেকে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওতে গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে।

সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। বুধবার রাতে দেশে ফিরে এক ভিডিওবার্তায় তিনি ভিডিওটিকে বানোয়াট বলে দাবি করেন। পরে শুক্রবার এক সমাবেশে তিনি ‘চক্রান্তকারীদের’ মুখোশ উন্মোচনের ঘোষণা দেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিরোধীরা সমাবেশ ডাকলে নিজের শক্তি দেখান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

তবে মেয়রবিরোধী বিক্ষোভ থামছে না আর এর অংশ হিসেবে শনিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ৫০ মিনিটের পুরো রেকর্ডটি। এই রেকর্ডে আগের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন কিছু কথা মেয়রবিরোধী সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

মেয়র জাহাঙ্গীর এই ভিডিওটিকেও বানোয়াট বলে চাপ এড়াতে চাইছেন।

যা আছে ৫০ মিনিটের নতুন ভিডিওতে

ভিডিওটির ২৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন মেয়র। ২৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের দিকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায় জাহাঙ্গীরকে।

২৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সেই ব্যক্তি মেয়রকে বলেন, ‘আপনি আগুনকে (আজমত উল্লাহ খান) পানি বানাইয়া ফেলছেন। কীভাবে করলেন?

তখন মেয়র আজমত উল্লাহ খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

৩২ মিনিটের সময় মেয়র বলেন, তিনি ৭০০ কিলোমিটার সড়ক করেছেন, ড্রেন ও এলইডি লাইট লাগিয়েছেন।

ভিডিওর ৩৩ মিনিটে মেয়র সেদিনকার তারিখ ও সময় বলেন। ভিডিওটি যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ধারণ করা হয় সেটি এখানে স্পষ্ট বোঝা যায়।

৩৩ মিনিটের দিকে প্রতিমন্ত্রী রাসেলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর।

৩৪ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলর মামুন মন্ডলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। মামুন পৃথিবিতে সবচেয়ে অসুখি মানুষ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সে যে কোনো সময় মানুষের দ্বারা বা দুর্ঘটনায় মারা যাবে।’

মামুন মণ্ডল নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়রবিরোধী সাম্প্রতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘তার কাউন্সিলর পদ আমি ৫ মিনিটে ডইলা দিতে পারি। এমনকি ভিডিওর ১৭ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলরের জন্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলম যার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি নাম প্রকাশ করবেন না।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
মেয়রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

তার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর কার্যত তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বলেন, ‘আমাকে প্রত্যেকদিন মাইরা ফেলানো উচিত, আমাকে মাইরা ফেলা দরকার, অথবা আমাকে অন্য মানুষ মাইরা ফালাইব। আমি মারা যাব। হেয় কি ভাড়াটিয়া খুনি নিয়োগ করছে কি না যে খুনিরা আমারে মারব সে নিশ্চিত জানে। আল্লাহতাআলা ভবিষ্যৎ জানে। সে তো জানার কথা না। তিনি কি ভবিষ্যৎ জানার জন্য আবার নতুন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করছে কি না?’

মামুন বলেন, ‘কথা পরিষ্কার, আমার কিছু হলে দায়ভার তার নিতে হবে। আমি বহু আগেই তার (মেয়র) বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় জিডি করে রাখছি।’

জাহাঙ্গীর যা বলছেন

৫০ মিনিটের এই ভিডিওটির ব্যাপারে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন ভিডিওটি শুনিনাই। এগুলা কারা করতেছে, কী করতেছে আমি তো জানি না৷

‘অনেকের মেয়র হওয়ার খায়েশ, তারা এগুলো করতেছে হয়ত। তবে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের বলেছি জিনিসটা বাহির করুক।’

ভিডিওতে কণ্ঠে পুরোপুরি মিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘অনেকে দেখা যায় কণ্ঠ মিলাইয়া ফেলে। হুবহু শব্দ দেখা যায় মিলায়। এগুলো যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা এটা যাচাই-বাছাই করুক।’

ভিডিওটিতে মেয়র যার সঙ্গে কথা বলছেন, তিনি গাছা এলাকার এক তাঁতী লীগ নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘আমি কনফার্ম না হয়ে কিছু বলতে পারছি না। আমি আরেকজনের যে বলব তার কিনা সেটাও জানি না। আমার নির্বাচনকে ধরে আমার পার্টির সেক্রেটারি ও মেয়র হওয়া নিয়ে তারা এটা সবসময় করে। আজকে এটা নতুন না।‘

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার ঢাকা-গাজীপুর রেল চলাচল বন্ধ ছিল বেশ কিছু সময়। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমার জানা মতে তিনি ৩০-৩৫টি মামলার আসামি। আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মীর হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। তার সঙ্গে আমার তেমন একটা কথা হয় না।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অনুসারীরাও বিক্ষোভ করেছেন, এই বিষয়টি তুলে ধরলে মেয়র বলেন, ‘উনি সবাইকে ফোন করে আসতে বলছেন বলে আমি জেনেছি। বাকিটা উনারাই জানে, আমি সঠিকটা জানি না।’

বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানাবেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। দলের সভাপতিও (শেখ হাসিনা) দেশের বাহিরে। এখন বিষয়টি কেন্দ্রে জানানোর জন্য প্রস্তুত আছি। সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাব।’

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন সাগরের মা নিলুফা। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।’

কমিউটার ট্রেনের ছাদে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত জামালপুরের সাগরের বাড়িতে গত তিন দিন ধরে রান্না হয়নি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা।

বৃহস্পতিবার সাগরের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের দেয়া খাবার খাচ্ছেন তার মা, বাবা, ভাই, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

ওই ঘটনায় নিহত জামালপুরের নাহিদের পরিবারকে শনিবার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দিলেও সাগরের পরিবার এখনও কোনো সহায়তা পায়নি।

রোববার বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা শয্যাশায়ী মা হনুফা বেগম। সাগরের ছবি দেখে মাঝে মাঝেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি। ছেলের আচার বিক্রির সরঞ্জাম গুছিয়ে দিন কাটছে তার।

স্বামীকে হারিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিমার কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। দুই মেয়ে আর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় যেন রাজ্যের মেঘ জমেছে তার মুখে।

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের মৃত্যুতে দুই মেয়ে ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যের চিন্তা এখন মুসলিমার। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।

‘পাড়ার লোকেরা যা দিতাছে তাই খাইয়ে বাঁইচে আছি। এহন সরকার যদি সাহায্য না করে তাইলে আঙ্গর মরণ লাগব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবারে যারা মারছে তাগোর সবার ফাঁসি চাই। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয়। আমার বাবারে হারায়ে আমি যেমন পাগল হয়ে গেছি। আর কেউ যাতে এমন পাগল না হয়।’

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। দুই মেয়েরে বিয়ে দিয়ে দিছি। বড় ছেলে সাগর কামাই কইরে সংসার চালাইত।

‘বুধবার আমার বড় মেয়ে হাসি আক্তারকে ঢাকায় রেখে বৃহস্পতিবার সাগর জামালপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাতে না আসলে পরে আমরা খবর নিয়ে দেখি হাসপাতালে লাশ পইড়ে আছে। আমি আমার বাবারে সারা জীবনের জন্য হারায় ফালাইছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন দিন ধইরে প্রতিবেশীরা যা দিতাছে তাই খাইতাছি। প্রতিবেশীরা আর কত দিন এইভাবে খাওয়াব। আমার পক্ষেও রোজগার করা সম্ভব না। এহন সরকার যদি আঙ্গরে সাহায্য না করে, তাহলে আঙ্গর সবার মরা ছাড়া উপায় নাই।’

সাগরের স্ত্রী মুসলিমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আগে থেকেই এতিম। আমার বাবা-মা কেউ নাই। এহন আমার দুইটা মেয়েবাচ্চাও এতিম হয়ে গেল। আমার গর্ভের সন্তানটা ওর বাবার মুখ দেখবার পাইল না। এই দুঃখ আমি কই রাখমু। আমার এত বড় ক্ষতি যে করল তাগোর ফাঁসি চাই।’

পরিবারটির প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘সাগর মরার পরে আমরাই এই পরিবারকে খাওয়া দিতাছি, কিন্তু এইভাবে আর কতদিন দিব। আমরাও তো গরিব মানুষ। এহন সরকারের উচিত এই পরিবারটারে সাহায্য করা।’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের ছবি হাতে মা হনুফা

জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় দেখি স্থানীয় প্রশাসন খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করে। ঘটনার পরদিন দেওয়ানগঞ্জের নাহিদের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে জামালপুরে সাগরের পরিবারকে এখনও কোনো সহায়তা করা হয়নি। আমরা অতি দ্রুত সাগরের পরিবারকে সহায়তার দাবি জানাই।’

জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত সাগরের পরিবারকে আমরা আর্থিক সহায়তা দেব। আগামীকাল সদরের এমপি মোজাফফর স্যারের উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি চাল সাগরের পরিবারকে দেয়া হবে। এমপি স্যার একটু ব্যস্ত থাকায় আজ দেয়া সম্ভব হয়নি।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি রাতে ময়মনসিংহে পৌঁছালে ট্রেনের ছাদে থাকা দুর্বৃত্তদের আঘাতে প্রাণ হারান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের নাহিদ ও শহরের বাগেরহাটা এলাকার সাগর।

ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাগরের মা হনুফা ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশ দুজনকে এবং র‌্যাব পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, দেশে এখন টিকার অভাব নেই। প্রতি মাসেই টিকা আসছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।

‘হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৮৭ জন্য নার্স ও ১ হাজার ৪০১ জন অ্যানেসথেসিস্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আট হাজার ডাক্তার নিয়োগ হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বশির আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম শিপনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

নদীতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

নদীতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

রাণীনগরে নদীতে নিখোঁজের সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর মেহেদী হাসান নামের এক পরীক্ষার্থির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ৩টার দিকে মেহেদী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কাশিমপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে নেমে নিখোঁজ হয় মেহেদী। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্র মেহেদী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়ির পাশে নদী থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বেলা ৩টার দিকে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় ওই কিশোর।

১৬ বছর বয়সী মেহেদী হাসান উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় সায়েম উদ্দীন মেমোরিয়াল একাডেমির এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ৩টার দিকে মেহেদী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কাশিমপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে নেমে নিখোঁজ হয় মেহেদী। এ সময় সঙ্গীরা স্থানীয় লোকজনকে খবর দেয়।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওসি বলেন, ‘মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। যেহেতু কয়েকজন বন্ধু মিলে একসঙ্গে গোসল করার সময় এ ঘটনা ঘটে, এ মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নিয়ে আলোচনায় অবিবাহিত মাসুম

‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নিয়ে আলোচনায় অবিবাহিত মাসুম

পেছনে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লেখা একটি ইজিবাইক। ছবি: নিউজবাংলা

মাসুম বলেন, “ইজিবাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে চেয়েছি, পরে দেখছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। আসলে প্রতিটি ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নাম রেখেছি।”

মায়ের দোয়া, বাবার দোয়া, বাবা-মায়ের দোয়া- এমন নামের পরিবহনের সঙ্গে পরিচিত সবাই। তবে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ এ দেশে বিস্ময়করই বটে।

ব্যতিক্রমী কাজটি করেছেন চুয়াডাঙ্গার মাসুম মিয়া। নিজের মালিকানায় থাকা ইজিবাইকগুলোর পেছনে লিখেছেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’। মজার বিষয় হলো, মাসুম এখনও বিয়েই করেননি। বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে চুয়াডাঙ্গা শহরে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদপাড়ার শেখ সুলতানের ছেলে মাসুম। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ১২ বছর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় সঞ্চয় করা টাকা দিয়ে কিনেছেন ১১টি ইজিবাইক।

মাসুম মিয়া জানান, তার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নামে চুয়াডাঙ্গা শহরে চলাচল করছে। তিনি নিজে একটি চালান। বাকিগুলো ভাড়া দিয়েছেন।

অবিবাহিত হয়েও ইজিবাইকের পেছনে কেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লিখেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইজিবাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে চেয়েছি, পরে দেখছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। আসলে প্রতিটি ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নাম রেখেছি।”

বিদেশে থাকায় বয়স হওয়ার পরও বিয়ে করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রীকে খুব শিগগির বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করব। বিদেশ যাওয়ার আর কোনো ইচ্ছা নেই। বিয়ে করে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বাকি জীবন দেশে কাটিয়ে দিতে চাই।’

মা-বাবার পর বউ হলো সবচেয়ে আপন ও ভালোবাসার মানুষ। বিয়ের পর সংসারের ভালোমন্দ বউই দেখাশোনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিন্ন নামের পরিবহনটি চুয়াডাঙ্গা শহরে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে জানিয়ে মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে আমার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক থেকে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে খুব ভালোমতো চলে সংসার। বাড়তি টাকা সঞ্চয়ও করি।’

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

পটুয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। ছবি:সংগৃহীত

বাদীপক্ষের আইনজীবী কমল দত্ত জানান, রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেয়। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ আসামির নাম বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বাদীর নারাজি পিটিশনের শুনানি শেষে রোববার পটুয়াখালীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল আমিন এজাহারভুক্ত সব আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের শুনানিতে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট কমল দত্ত জানান, যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলার তদন্ত করে ২৮ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মতিন খান ২০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দেন।

রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন।

কমল দত্ত আরও জানান, শুনানির পর বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। তবে অনুপস্থিত আসামিরা যদি হাইকোর্টে আবেদন করে থাকেন, আর যদি সে আবেদন পেন্ডিং থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু হবে না।

তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল আজ নারাজি শুনানিতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন। তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।’

এ ব্যাপারে মেয়র জিয়াউলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস জানান, ২০২০ সালের ২৪ মে বাউফল থানার সামনে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা তাপস ছুরিকাহত হন। রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাপস মারা যান।

পরদিন বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় মামলা করেন তাপসের ভাই পঙ্কজ দাস।

পঙ্কজ দাস বলেন, ‘আজ আদালতের নির্দেশ শুনে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে ন্যায়বিচার পাব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যারা করোনাভাইরাসের টিকাকেন্দ্র হিসেবে হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্বাচন করেছেন তারা টিকা পেতে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে মঙ্গলবার থেকে টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তারা টিকা নিতে পারবেন।

প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা টিকার জন্য হাটহাজারী কেন্দ্র নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে।

টিকার জন্য সবাইকে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দুই কপি নিয়ে যেতে হবে। তারা চীনের তৈরি সিনোফার্ম টিকা পাবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতে ৪৮ হাজার টিকা চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিকা নিতে পারেন সেই উদ্যোগও নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫৫০। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া জরিপের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণের জন্য সার্বিক তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

এর মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৭। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ১৩৪ জন। নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষারত ৪ হাজার ৪০০ জন। এনআইডি না থাকায় টিকা নিতে পারেননি এমন শিক্ষার্থী ২ হাজার ২৬৭ জন।

পরীক্ষার কারণে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসায় অনেক শিক্ষার্থী টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। তাদের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘তাদের বিষয়টাও আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউজিসিতে জানিয়েছি। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
মা-ছেলে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসআইসহ ২ জন বরখাস্ত
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: মামলার তদন্ত ডিবিতে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ ৩ জন জেলে
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’: সিআইডির এএসপিসহ গ্রেপ্তার ৩
মা-ছেলেকে ‘অপহরণ’, সিআইডির এএসপিসহ ৩ সদস্য আটক

শেয়ার করুন