নওশাদকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসেনি: বিমানের এমডি

নওশাদকে নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসেনি: বিমানের এমডি

ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম। ছবি: সংগৃহীত

নওশাদ আর নেই, বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বিমানের এমডির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘আমরা (বোর্ডের) ডিসিশন এখনও পাইনি। মেডিক্যাল বোর্ডের ডিসিশনটা পেলে জানাতে পারব।’

ভারতের নাগপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউমের সবশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক চলছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। বলেছেন, বোর্ড থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

নওশাদ আর নেই, বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বিমানের এমডির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘আমরা (বোর্ডের) ডিসিশন এখনও পাইনি। মেডিক্যাল বোর্ডের ডিসিশনটা পেলে জানাতে পারব।’

নওশাদের মৃত্যুর খবরের বিষয়টি নজরে আনা হলে আবু সালেহ বলেন, ‘ওদের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আমার কথা হচ্ছে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অফিশিয়ালি আসলে আমি জানাতে পারব।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। নওশাদের দুই বোন এখন নাগপুরে আছেন। নওশাদ এখনও ভ্যান্টিলেশনে আছেন। দুপুরের পর স্থানীয় চিকিৎসকরা বোর্ড মিটিং করে তার সবশেষ পরিস্থিতি জানাবেন। নওশাদের মৃত্যুর একটি খবর বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি সঠিক নয়। পুরোপুরি গুজব।’

পাইলট নওশাদের অবস্থা জানতে নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। সেখান থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়।

গত শুক্রবার সকালে ওমানের মাসকাট থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করে ঢাকায় ফেরার পথে মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়েন নওশাদ। এ সময় তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিজি-০২২ ফ্লাইটটি ভারতের নাগপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়। ওই ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ১২৪ জন। পরে জানা যায়, নওশাদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।

বিমানটি শুক্রবার রাতেই বিকল্প পাইলট ও ক্রু দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয় ঢাকায়। আর নওশাদকে ভর্তি করানো হয় নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে।

ক্যাপ্টেন নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, নওশাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেয়া হবে।

নওশাদের হঠাৎ অসুস্থতায় সবাই উদ্বিগ্ন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার চিকিৎসার বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলকে প্রার্থনা করার অনুরোধ করছি।’

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।’

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘লুট’, আঘাতে দুজনকে ‘হত্যা’। রাতে দূরের যাত্রায় নতুন নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হলো কি?

এই ঘটনায় পুলিশ যে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে যাত্রীদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

যাত্রীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ অতিক্রম করার পর ডাকাত দল লুটপাট শুরু করে। তারা কামরায় ওঠেনি, উঠেছে ছাদে। নির্বিঘ্নে লুটপাট করেছে তারা। এরপর নেমে গেছে। কেউ বাধাও দিতে পারেনি।

কেন বাধা দেয়া যায়নি, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।

‘আর ট্রেন যখন চলে তখন অনেক শব্দ হয়। তাই ছাদে কী হচ্ছে বোঝা যায় না। আর ট্রেনটি যখন জামালপুর আসে তখন ছাদে শুধু আহতরাই ছিলেন। যদি ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠেন তাহলে অন্য স্টেশনে উঠেছেন। এই জায়গায় আমাদের করার কিছু নেই।’

ট্রেনের ছাদে ওঠা স্পষ্টত আইনবিরুদ্ধ। আর করোনাকালে আসনের বাইরে কোনো যাত্রী তোলাও নিষেধ। অথচ ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল উপচে পড়া, কামরার পাশাপাশি ছাদেও চড়েছেন শত শত মানুষ। অথচ কোনো স্টেশনে তাদের সেখানে উঠতে বাধাও দেয়া হয়নি। এখানে রেলের কর্মীদের দায়িত্বহীনতার প্রসঙ্গটিও সামনে আসে।

এই বিষয়ে এক প্রশ্নে জামালপুর রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা তো নতুন কোনো ঘটনা নয়।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ শহর অতিক্রম করার সময় ছাদে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রী রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থাইক্যা বিকাল ৪টায় কমিউটার ট্রেনে উঠি। টিকিট পাই নাই। আর অনেক ভিড় আছিল। তাই ছাদে উঠি। ছাদে অনেক লোক আছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন গফরগাঁওয়ে আসলাম, তখন ছাদে বেশ কয়েকজন উঠল। গফরগাঁও থাইকে ট্রেন ছাড়ার পর কমপক্ষে সাতজন ট্রেনের সামনে থাইকে ডাকাতি করা শুরু করে। আমি মাঝখানে আছিলাম।

‘পরে আমার এইখানে আইসেও ছুরির ভয় দেখায়ে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ সব নিয়ে যায়। অন্ধকার আছিল। তাই ওরা মাস্ক না পরলেও চেহারা দেখা যায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনে প্রচুর ভিড় থাকায় আমরা অনেকে ছাদে উঠি। গফরগাঁও থেকে ডাকাতেরা ছাদে ওঠে। যার যা কিছু ছিলে সব নিয়ে গেছে।

‘পরে আমরা কয়েকজন মিল হয়ে কিছু মাল ফেরত চাইতে গেলে আমাদের অনেক মারধর করে। ওই জায়গায় অনেকজন ছিল, কিন্তু কেউ বাধা দেয় নাই। ওদের মাইরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমার আর কিছু মনে নাই।’

মো. ফারুক নামে আরেকজন বলেন, ‘টঙ্গী থেকে ট্রেনের ছাদে উঠি। গফরগাঁওয়ে আসার পর আমাদের ২০-২৫ জনের সব মাল নিয়ে নেয় সাতজন। ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই আমি সব দিয়ে দিছি।

“ময়মনসিংহ আসার পর নাহিদ ভাই (আরেক যাত্রী) আমাদের ডাক দিয়ে বলে, ‘ভাই, চলো যায়ে বলি, টাকাগুলো নিয়ে নেন। মালগুলো দিয়ে দেন। পরে আমি যাই নাই। ওরা গেছে। ওরা যাওয়ার পরেই কারেন্ট চলে গেছে। এমন সময় অন্ধকারে দেহি মারামারি হইতাছে।

“পরে আমি চিৎকার মারলেও ট্রেনের শব্দে কেউ কিছু শুনে নাই। পরে একটা ব্রিজ আইছিল। তহন আমরা শুয়ে পড়ছিলাম। এরপরে উইঠে দেহি ডাকাতরা আর নাই। পরে জামালপুর আসলে আমরা নিচে নাইমে সবাইরে খবর দেই।“

এত যাত্রী মিলে কেন প্রতিহত করা গেল না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রেনের ছাদে অনেকজন ছিলাম। কিন্তু ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই কেউ আগায় নাই।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত

গত রাতে জামালপুরে মৃত অবস্থায় যে দুজনকে পাওয়া যায়, তার একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে সকালে।

তারা হলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহিদের ছেলে নাহিদ ও জামালপুর শহরের বাগেড়হাটা বটতলা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর।

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পুলা ওর বড় বোনকে ঢাকা রাখতে গেছিলে। আমরা জানতাম না যে এই ঘটনা ঘটছে। রাতে বাড়িতে আয় নাই। সারা রাত আমরা পুলারে খুঁজছি।

‘সকালে একজনের মুখে শুইনে আইসে দেখি আমার পুলার লাশ পইড়ে আছে। আমরা এডের বিচার চাই। আমার পুলার দুইডে সন্তান আছে। এহন ওদের কে দেখব।’

ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’

এসব বিষয়ে ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কিছু দুষ্কৃতকারীর আক্রমণের আঘাতেই দুজন মারা যায়। আমরা এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

ঝুমনের মুক্তি কবে

ঝুমনের মুক্তি কবে

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে।’

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপন জামিন পেলেও কারাগার থেকে এখনও মুক্ত হননি।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবক এখনও আছেন জেলা কারাগারে।

ঝুমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা বাড়ছে ঝুমনের পরিবারের।

আইনজীবীদের ধারণা, রোববার ঝুমনের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে পারে।

শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল আলম শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঝুমন দাসের জামিনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনও কোনো আদেশ পাইনি।

‘হাইকোর্টের জামিন আদেশ প্রথমে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে এসে পৌঁছবে। সেখান থেকে বেইল অর্ডার আসলে আমরা তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা আদালতে ঝুমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমনের জামিনের আদেশ দেয়।

ঝুমনকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে আরও আছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি যেতে পারবেন না সুনামগঞ্জের বাইরেও।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে পাঁচ দফা চার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল।

এর মধ্যে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস, পেলেন জামিন।

ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাস বলেন, ‘তার জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

নগরীর বোর্ডবাজারের দুটি এলাকায় বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, রাস্তায় নেমেছে জলকামান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে তার বিরোধীরা আর মেয়রের পক্ষের কর্মীরা একই এলাকায় সমাবেশ ডাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

নগরীর বোর্ডবাজারে বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাস্তায় নামানো হয়েছে জলকামান।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের। তবে এখনও নেতাদের কেউ সেখানে আসেননি।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

টানটান উত্তেজনার মধ্যে দুপুরের আগে থেকেই ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশপাশের ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার লুৎফুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন, উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলমসহ বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে আছেন পরিস্থিতি সামলাতে।

সব মিলিয়ে পুলিশের ৪ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অবস্থান নিয়ে আছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘সমাবেশস্থলের আশপাশে জিএমপি কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে ৪০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জলকামানসহ সাদাপোশাকে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে যেন যানচলাচল বন্ধ না হয় সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।’

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, শুনতেছি পরকীয়া করে’

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, শুনতেছি পরকীয়া করে’

স্ত্রীকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা। ছবি: নিউজবাংলা।

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, কিন্তু সে তো ভালা না। শুনতেছি হুজুর পরকিয়া করে। বউ পিটায়। ভাবতেই পারছি না। তারে বাসা থাইক্যা তাড়াই দিছি।'

‘হুজুর দেইখ্যা কম টাকায় বাসা ভাড়া দিছি। হেই হুজুর নাকি; বউরে কেরোসিন ঢাইলা পুইড়া মারতে চাইছিল। হুজুর সাব বউয়ের গায়ে আগুন দিয়া ঘরে তালা মারছে। পরে পালাই গেছে।'

কথাগুলো বলছিলেন গভীর রাতে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে ওয়াজ বাজিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে যে বাড়িতে, সেই বাড়ির মালিক রেজাউল হক।

তিনি জানান, শনিবার রাত ৩টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নতুনবাজারের আনছার রোড এলাকার বয়রাসালায় তার ভাড়াটিয়া মাওলানা শরিফ মাহমুদ তার স্ত্রী খুশি আকতারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। পরে অন্য ভাড়াটিয়ারা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন।

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, শুনতেছি পরকীয়া করে’


তিনি বলেন, 'স্থানীয় মাতাব্বর নিজাম উদ্দিনের কথায় হুজুরকে বাসা ভাড়া দিছি। হুজুর দুই মাস হলো এখানে থাকে; তার এক মাসের ভাড়া বাকি এখনও।'

ইমামের যে চরিত্র দেখেছেন, তাতে অবাক হয়েছেন রেজাউল হক। বলেন, ‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, কিন্তু সে তো ভালা না। শুনতেছি হুজুর পরকীয়া করে। বউ পিটায়। ভাবতেই পারছি না। তারে বাসা থাইক্যা তাড়াই দিছি।'

রেজাউলের বাসায় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া গার্মেন্টসকর্মী কল্পনা রানী সরকার বলেন, ‘রাতে আগুন আগুন চিৎকার হুইনা গেছি। যাইয়া দেহি পানি ঢালতাছে খুশির গায়। তহন হুজুর সাব দরজায় দাঁড়ায় আছিল। এরপর দেহি হুজুর ভাগছে।'

গত ১৮ সেপ্টেম্বর যৌতুক না পেয়ে গভীর রাতে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে ওয়াজ বাজিয়ে নির্যাতনের পর খুশি আকতার নামে ওই গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মাওলানা শরিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে শ্রীপুর থানায় মেয়েটির বাবা হাসেন আলী লিখিত অভিযোগ করেন।

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, শুনতেছি পরকীয়া করে’

নির্যাতনের শিকার খুশি আকতারের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বদলাগাড়ি গ্রামে।

খুশির পরিবার জানায়, পারিবারিকভাবে ২০১৯ সালের ১২ জুন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় এলাকায় মাওলানা শরিফ মাহমুদের সাথে বিয়ে হয় খুশির। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীপুরে যান শরিফ। সেখানে স্থানীয় ইয়াকুব আলী জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করেন তিনি।

খুশির স্বজনদের অভিযোগ, আর্থিক দৈন্যদশা ও বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে শরিফ কিছুদিন ধরে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। গত শনিবার রাতে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শরিফ। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের কথা তোলায় মারপিট শুরু করেন শরিফ।

এরপর রাত ৩টার দিকে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে ওয়াজ বাজিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে খুশির চিৎকারে পাশের রুমের এক নারী এসে প্রতিবেশিদের সহায়তায় খুশিকে উদ্ধার করে।

ঘটনার রাতে মোবাইলে খবর পেয়ে গাইবান্ধা থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। মেয়েটি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছে, আগুনে খুশির শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তবে বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।

‘হুজুর সাবরে ভালা মানুষ ভাবছিলাম, শুনতেছি পরকীয়া করে’

মেয়েটির বাবা হাসেন আলীর অভিযোগ, যৌতুকের জন্য তার মেয়ে খুশিকে প্রায় মারধর করতেন শরিফ। সম্প্রতি শরিফ বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ালে নির্যাতন আরও বাড়ে। প্রায়ই খুশিকে মোমবাতির আগুনে হাত-পায়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো।

তিনি বলেন, 'যে মারডা মারছে ছোলটাক। বাপ হয়ে সহ্য করতি পারি না। আল্লায় বাঁচাইছে ছোলটাক। সারা গাওত ফোসকা পড়ছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।'

হাসপাতালের বেডে শুয়ে খুশি আকতার বলেন, 'এখনও সেই রাতে কথা মনে হলে কলজাটা ফাটি যাচ্ছে। ওটা (শরিফ) মানুষ নয়; পশু।'

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান এম এ হামিদ পলাশ জানান, খুশির নাভির নিচ থেকে পা পর্যন্ত ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। স্তনের কিছু অংশও পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, 'আজ রাতে রোগীর প্লাস্টার খোলা হবে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। সুস্থ হতে সময় লাগবে।'

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম হোসেন বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। মামলা রেকর্ড করাসহ আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।'

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়রের কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ এ অন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।’

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে গত দুই দিন ধরে অশান্ত গাজীপুর। সেই ভিডিওতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধিকার আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ, রেলে অগ্নিসংযোগ ও মেয়রের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুরের পর নগরীর বোর্ড বাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই সমাবেশকে ঘিরে তৃতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত গাজীপুর সিটি।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

একই দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি নিউজবাংলাকে জানান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়র বিতর্কিত মন্তব্য করায় গত দুই দিনের মতো শুক্রবারও বিক্ষোভ মিছিল চলবে।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীরা মেয়রের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য মেনে নিতে পারছে না। অপরদিকে আনন্দ মিছিলের আড়ালে মেয়রের অনুসারীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মাঠে নামছে বলে জেনেছি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার বিষয়ে আমি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আনন্দ মিছিলে যোগ দেব না।’

বিক্ষোভ মিছিলের অন্যতম সমন্বয়ক ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিস্কার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল হবে বোর্ডবাজারে। সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবে।

‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমাদের বিক্ষোভ পূর্বনির্ধারিত এবং চলমান। আনন্দ মিছিলের নামে মেয়রের লোকজন পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছে।’

মেয়রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মনিরুজ্জামান মনির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করবে। সহযোগী সংগঠন হিসেবে আমরা সে মিছিলে অংশ নেব। মিছিলে মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমও উপস্থিত থাকবেন।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়রের কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ এ অন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।’

বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মিছিলের অনুমতি চেয়েছে। তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টঙ্গী ও বোর্ডবাজারে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে উভয়পক্ষ তাদের কর্মসূচি শেষ করবে।’

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

যা আছে ভিডিওতে

একটি ঘরোয়া আয়োজনের ওই ভিডিও গত মঙ্গলবার সকালে ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওর শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।



স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভ টা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক অবরোধের পর এবার রেল লাইনে আগুন ধরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

মেয়র যা বলেছেন

ভিডিওটি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। সেটি ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় যারা এগুলো ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যারা এই অন্যায় কাজ করছে’, তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে, যারা বিজ্ঞ আইনজীবী… তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুকে মিথ্যা কথা ও গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের বলব, দয়া করে এগুলো ডিলিট করে দিন। মিথ্যা অপবাদ না দিয়ে আসুন সকলে মিলে কাজ করি।’

গত কয়েক দিন ধরে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। গত রাত ১২টায় তিনি দেশে ফিরে নিজ বাসায় ফিরেছেন।

তবে দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সত্যটা জানুন’।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
মেয়র জাহাঙ্গীরের ভিডিওর প্রতিবাদে টঙ্গীতে তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়

মেয়র বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুক ও ইউটিউবের প্রচারমাধ্যমে আমার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবং আমার নাম সেখানে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট কথা তারা ছেড়েছে।

‘আমার এবং আমাদের বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতি (গাজীপুর আওয়ামী লীগের) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাম ধারণ করে আমাকে কীভাবে ছোট করা যায় বা প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, সেই কৌশল হিসেবে আমার প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন কথা এডিট করে, নকল করে সেসব প্রচারমাধ্যম ইউটিউব এবং ফেসবুকে ছেড়েছে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ‘অস্তিত্ব এবং ভালোবাসা’- এমন কথা বলে মেয়র বলেন, ‘জাতির পিতা শহীদ হওয়ার পর আমার জন্ম। সে জন্য আমি আমার জাতির পিতাকে অনুসরণ করি। আমি ছাত্রজীবন থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে শুরু করে তারপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (গাজীপুর শাখা) তারপর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার জন্য দোয়া দিয়েছেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে এই শহরকে উন্নত করতে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিরোধীদলীয় উসকানির পাঁয়তারাতে পড়ে আমাদের শহর এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমার অস্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার করছে।’

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

আদালতে তোলা হচ্ছে আসামিদের। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংকের এটিএম বুথ লুটের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিপ্টন দেব জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন। ওসমানীনগরে ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করা হয়।

সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে তাদের রিমান্ডে পাঠান বিচারক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিপ্টন দেব নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, শামীম আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, আব্দুল হালিম ও সাফি উদ্দিন জাহির।

এর আগে সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিরকে।

তিনি জানান, এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে জাহির সরাসরি জড়িত এবং এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পশ্চিম বাজারের ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। চার মুখোশধারী বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চায়।

তদন্তের পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে শামীম ও তার সহযোগী হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন যে তারা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে লুটের এ পরিকল্পনা করেন।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ডাকাতদলের প্রধান শামীম আহম্মেদ। ওমান প্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে এসে তেমন কোনো কাজ-কর্ম করতেন না। প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতের মেগা সিরিয়াল সিআইডি দেখতেন। সেখান থেকেই বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় কালো রংয়ের স্প্রে করা, মুখে কাপড় পেচিয়ে শাবল দিয়ে বুথ ভাঙা সবই ভারতের সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।’

তিনি জানান, লুটের দশ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি টাকা দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছেন।

আরও পড়ুন:
ভেন্টিলেশনে পাইলট নওশাদ
পাইলট নওশাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল সরকার

শেয়ার করুন