বিমান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নতুন চিন্তা

বিমান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নতুন চিন্তা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিকে আরও বেগবান করতে সব বিমানবন্দর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন । শুধু পশ্চিমামুখী না হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন নতুন রুট তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা জানান তিনি।

জনসেবার মান বাড়াতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে রেলকে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা মানুষ কমলাপুর থেকে সরাসরি ট্রেনে করে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে রোববার গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রানওয়ের সমুদ্র সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বিমান ও বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন নিয়ে একগুচ্ছ ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা আন্ডারপাস করে সংযোগটা আমরা করতে চাচ্ছি। মেট্রোরেলের কাজ অনেকাংশে এগিয়ে গেছে। মেট্রোরেলের যে লাইন বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত, সেটা কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রাসরণের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানটাকে সামনে রেখেই সব কিছু ভাবা হচ্ছে। আমাদের দেশটাকে সারাবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের একটা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। যাতে আর্থিকভাবে আমাদের দেশ অনেক লাভবান হবে।’

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিকে আরও বেগবান করতে সব বিমানবন্দর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতেও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ; নতুন রাডার স্থাপন; জেট ফুয়েল যেন পাইপলাইনের মাধ্যমে চলে আসে, সেই পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।’

রংপুরের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকেও উন্নত করে আঞ্চলিক বিমানবন্দরে রূপ দিতে চান সরকারপ্রধান। বলেন, ‘নেপাল, ভুটান, ভারতের কয়েকটি রাজ্য যেন এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে চাই।’

সিলেটের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলেও সেটি নিয়ে আছে সরকারের পরিকল্পনা। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানেও আসাম, মেঘালয়সহ ভারতের অনেক রাজ্য যেন আমাদের এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে, তার পরিকল্পনা আছে। চট্টগ্রামেরটাও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানে ত্রিপুরা থেকে শুরু করে ভারতের অনেক প্রদেশ আমাদের এটা ব্যবহার করতে পারে।’

আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটা হাব তৈরির স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার চিন্তা আমাদের আছে। সেভাবেই আমরা এসব বিমানবন্দরকে অত্যাধুনিক করতে চাই।’

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এয়ারপোর্টটা সম্প্রসারণ হলে আমি মনে করি যে পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য বা প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে যত প্লেন যাবে, তাদের রিফুয়েলিংয়ের জন্য সব থেকে বেশি সুবিধাজনক জায়গা হবে এই কক্সবাজার।’

হংকং, সিঙ্গাপুর, দুবাইয়ের পর কক্সবাজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘খুব স্বল্পসময়ে (বিমান) এখানে এসে তারা নামতে পারবে। রিফুয়েলিং করতে পারবে, যেতে পারবে।

‘কক্সবাজারে সুপরিসর বিমান যেন নামতে পারে, আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে থাকা সব বিমান যেন নামতে পারে, সেভাবে কক্সবাজার এয়ারপোর্টকে আমরা উন্নত করব। এটাকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর করব।’

বাড়ছে আন্তর্জাতিক রুট

বিমানের আরও রুট বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু পশ্চিমামুখী না হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন নতুন রুট তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা সামনে তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা রয়ে গেছে, আন্তর্জাতিক রুটে আরও কয়েকটি দেশে যাওয়ার। যেমন- নিউ ইয়র্ক, টরেন্টো, সিডনি। এই দূরত্ব চলার মতো আমাদের ড্রিমলাইনার আছে।

‘দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগটা বাড়াতে হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। আমরা শুধু পশ্চিমাদের দিকে মুখ করে থাকব না। পাশাপাশি অন্য যে দেশগুলো আছে আমাদের বন্ধুপ্রতিম, সেখানেও আমাদের বিমান যাতে যায় ভবিষ্যতে, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

এ সময় বিমান পরিচালনায় যারা যুক্ত আছেন, তাদের সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যারা বিমানে কাজ করেন, তাদের আমি অনুরোধ করব সততার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে এটা পরিচালনা করবেন। সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা থেকে শুরু করে, যেন এটা আন্তর্জাতিক মানের হয় সেটা আপনারা দেখবেন।’

বিমানের আধুনিকায়ন

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বিমানের দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আকাশপথে যেতে যেতে পানি পড়ত। এন্টারটেইনমেন্টের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ঝুরঝুরে প্লেনের পাইলটদের আমি বলতাম যে, তাদের স্পেশাল পুরস্কার দেয়া উচিত। এ ধরনের প্লেন যারা চালাতে পারে, তারা কতটা দক্ষ।

‘অনেক সময় অনুমতি নিয়ে ককপিটে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করতাম, কথাও বলতাম, তাদের সমস্যা কী? প্রবাসে আমাদের এক কোটি মানুষ থাকে। তারা কিন্তু আমাদের নিজস্ব প্লেন পেলে সেটাতেই চড়তে চায়, তাদের যত কষ্টই হোক। সেই বিমানে চড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার আছে। সব কিছুর পরও মনে হতো নিজের দেশের জাহাজে যাচ্ছি।’

সেই দুঃখ দূর করতেই ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বোয়িং থেকে ড্রিমলাইনারসহ ১৬টি অত্যাধুনিক বিমান যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘সব থেকে দুর্ভাগ্য যে, আমরা ১৬টি বিমান নতুন নিলাম, কিন্তু চালাতে পারছি না। করোনার কারণে সমস্ত যাতায়াত বন্ধ। এটা আমাদের জন্য সত্যিই খুব দুঃখের একটা বিষয়। যখনই আমরা প্রস্তুতি নিলাম, তখনই করোনা এসে সব কিছু স্থবির করে দিল।’

তবে এখান থেকে মুক্তি ঘটবে বলে বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর। আর তাই দেশের সবাইকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেন চলার আহ্বান জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাতে ক্যাটাগরি-১ এ উন্নীত হতে পারে, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামীলীগের

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামীলীগের

রোববার গাজীপুরে জাহাঙ্গীর বিরোধী বিক্ষোভে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

মেয়র জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে জাহাঙ্গীরের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিনও জাহাঙ্গীরের বিচার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করেন তারা। অবরোধের কারণে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

রোববার বিকেল ৪টায় টঙ্গীর শিলমুন ও টিএন্ডটি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, মহানগর তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আমান, ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর, ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় টিএন্ডটি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘন্টা টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

একই সময়ে ৫৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলী আফজাল খান দুলুর নেতৃত্বে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুজ্জামান জামান, এনতাজ মোড়ল, হাজী কাশেম সরকার, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম স্বপন, যুবলীগ নেতা সেতু সরকার, রুমি সরকার, রাসেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পিংকু প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ জনসভা করবে। ওই জনসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ওই জনসভায় মেয়র বিরোধীরা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ জন্যই রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়মীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মেয়রের সমালোচনায় সরব হন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন তারা।

সভায় মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি শাহ আলম জাহাঙ্গীরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিয়ে সমালোচনা করে মেয়র জাহাঙ্গীর লাই পেয়েছে। লাই পাওয়ার কারণে সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করার সাহস পেয়েছে। তার জিহ্বা লম্বা হয়ে গেছে, সেই জিহ্বা এখনই কেটে দিতে হবে। জামাত-বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে করতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিপক্ষে বলে ফেলে।’

টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বা মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আক্রোশ নেই। আমরা সবাই মুজিব আদর্শের সন্তান। জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ন্যাক্করজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য অবশ্যই তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সহিংস কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হোসেন মেয়র জাহাঙ্গীরকে নাবালক উল্লেখ করে বলেন, ‘নাবালক একটি ছেলে এসে মাত্র সোয়া তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সেই নৌকাটি সংস্কার করবে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা যেন সবাই মিলে একটি নৌকায় উঠে আমাদের গন্তব্যে যেতে পারি।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার ও মেয়র পদ থেকে পদত্যাগেরও দাবি জানান সেলিম।

সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কটুক্তি করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, চেতনার প্রতি সে কটুক্তি করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৬৪টি জেলায় ৪৫ হাজার করে লোক মারা গেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তিনি এই গাণিতিক হিসেবটি দিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। এই হিসেবটি তার একটি প্রমাণ। খালেদা জিয়া বলেছেন, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা যায় নাই, আর সে একটা গাণিতিক হিসেব দিয়ে দেখিয়ে দিল ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার লোক মারা গেছে। সুতরাং এটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আওয়াজের প্রতিধ্বনি।’

আজমত বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আমি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি কটাক্ষ যিনি করবেন তার সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক তো নয়ই, কোন সামাজিক সম্পর্কও রাখা যাবেনা।’

তিনি জানান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার নির্বাচনী এলাকায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার কোন মিছিল মিটিংয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যাবেনা।

আজমত বলেন, ‘আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কথা বিএনপি জামাত বলতে পারে নাই, এই ধরণের বক্তব্য জাহাঙ্গীর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

আজমত উল্লাহ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মনে যে দুঃখ, সেই দুঃখের বহিঃপ্রকাশ একদিন করে, দুইদিন করে বন্ধ রাখলে চলবে না। এটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’

২৮ তারিখের জনসভায় তাই গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ওসমান আলী খান, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ জাহিদ আল মামুন, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লা, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান বিকম, ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম জানান, রোববার বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

প্রায় দুই দশক আগে সাতক্ষীরায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পলাতক আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনককে রোববার বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

তিনি জানান, বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনক। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কপথে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

ঘটনার ১৯ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার একটি আদালত ৫০ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দেয়।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে দেয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। একই সাজা পাওয়া বাকি দুজন হলেন মো. আরিফুর রহমান ওরফে রঞ্জু ও রিপন। এরা দুই জনই পলাতক।

পলাতক আসামি যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দেয়া হয়েছে ৯ বছরের কারাদণ্ড। বাকি ৪৬ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব

সেদিন ৩৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। তাদেরকে সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

বাকি ১৬ জনের মধ্যে আছেন আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু মিয়া, নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কনক, মাহাফুজুর রহমান।

মামলার বিচারে চক্কর

হামলার পর এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে যান। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি আটকে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

এই মামলাটির শুনানি থামাতে হাইকোর্টে একের পর এক আবেদন করেছেন আসামিরা।

একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর সে রুলের শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করে হাইকোর্ট।

গত ৮ অক্টোবর মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

সবশেষ আবেদন হয় আসামি রাকিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন দাবি করে এই মামলায় বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে গত ২৪ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ হলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতিবাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েকদিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে। যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহমুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

দেখতে সাধারণ চপ্পল মনে হলেও তার ভিতরে সেট করা হয়েছে স্মার্টফোন। একটি ব্লুটুথ ডিভাইস দিয়ে সংযোগ করে তা কানের ভেতর রাখা হয়েছে। খুব ধীরে কথা বললেও তা স্পষ্ট শোনা যায় অপর প্রান্ত থেকে।

চাকরির এক পরীক্ষায় এমন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে। রাজ্যে ৩১ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল এটি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এমন অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ যে পরীক্ষার্থীর কাছে চপ্পলটি পাওয়া গেছে তাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রথম ব্যক্তিকে আজমির থেকে গ্রেপ্তারের পর অন্যদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এর আগে একই ধরেনর চপ্পল পাওয়া গেছে বিকানেয়ার ও সিকারে।

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

ছোট ছোট আকারে এমন জালিয়াতির জন্য অনেকেই ডিভাইসের আকার পরিবর্তন করছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছে এমন ডিভাইস জালিয়াতির জন্য কিনতে পরীক্ষার্থীর খরচ হয়েছে দুই লাখ রুপি।

আজমীর পুলিশের কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর একেবারে অল্প কিছু সময় আগে তারা বিষয়টি টের পাই। পরে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হই।’

শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ঘিরে রোববার রাজস্থানে ইন্টারনেট ও এসএমএস আদান-প্রদানে কড়াকড়ি আনে রাজ্য সরকার।

৩১ হাজার পদের বিপরীতে রোববার পরীক্ষা দিয়েছে দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর এক যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

চুয়াডাঙ্গায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার কুলচারা গ্রাম থেকে রোববার বিকেলে আহত অবস্থায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর ওই যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে বিকেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় আটক করে সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ওই যুবকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোমবার তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই যুবককেও সোমবার আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

ঈগল পরিবহনে টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

এক অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় উদঘাটনে নেমে পিবিআই যেখানে সফল হয়েছে, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল?

গাবতলীতে বাসে এক পরিত্যক্ত ট্রাংকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ। তার পরিচয় বের করাই তদন্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চার বছর ধরে তদন্ত চালিয়েও থানা পুলিশ ও সিআইডি বের করতে পারেনি তরুণীর পরিচয়।

পুলিশের আরেকটি বিভাগ পিবিআই দায়িত্ব পেয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুধু তরুণীর পরিচয়ই উদঘাটন করেনি, হত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে।

প্রশ্ন হলো, এটি কি পুলিশের সাফল্যের নাকি ব্যর্থতার কাহিনি? পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) যেখানে সফল হলো, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে কি গাফিলতি ছিল?

সিআইডি বলছে, অজ্ঞাত তরুণীর ট্রাঙ্কবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় উদঘাটনে যে যে স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া অনুসরণীয়, তার সবকটি ধাপই তারা অনুসরণ করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে পিবিআই।

থানা পুলিশ বলছে, তারাও চেষ্টা করেছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা ও অন্যান্য কিছু কারণে তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। পরিচয় না পাওয়ায় আসামিকেও বের করা সম্ভব হয়নি।

ছয় বছর আগে যা ঘটেছিল

২০১৫ সালের ৩ মে বিকেলে ঈগল পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারে একটি ট্রাংক থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ। বাসটি এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। ট্রাংকটিও সেখান থেকে আসা।

ট্রাংকটি ওইদিন সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে এক ব্যক্তি তুলে দিয়েছিলেন ওই বাসে। ওই ব্যক্তি একটি টিকিট কেটে বলেছিলেন, পরবর্তী স্টপজে এক নারী যাত্রী উঠবেন। ওই নারী যাত্রী এই ট্রাংকসহ ঢাকা যাবেন। কিন্তু পরের স্টপেজে কোনো যাত্রী ওঠেনি। মালিকবিহীন অবস্থায় ট্রাংকটি এসে পৌঁছায় গাবতলীতে।

ট্রাংকটি অনেক ভারি হওয়ায় সন্দেহ হয় হেলপার ও অন্যদের। তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে তরুণীর মরদেহ পায়। তাৎক্ষণিক ওই মরদেহের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে।

দারুসসালাম থানার এসআই জাহানুর আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা থানা পুলিশই তদন্ত করে। তদন্তে করতে গিয়ে তারা কী কী করেছিল, কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা এখনকার দারুস সালাম থানা জানাতে পারেনি।

তারা বলছে, অনেক আগের ঘটনা। তখনকার দায়িত্বশীলরা এখন অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।

এ মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি ঢাকা মেট্রোর পশ্চিম বিভাগ। তারা চার বছর ধরে তদন্ত করে।

সিআইডি অপরাধ তদন্তে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বিভাগ। তারা অজ্ঞাত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক টিমের সহায়তায় ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের যে এলাকা থেকে ট্রাংকটি বাসে উঠিয়ে দেয়া হয়, সেই এলাকার বিভিন্ন থানায় ওই সময়ে দায়ের হওয়া নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিগুলোর খোঁজ করেছে সিআইডি। সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। নিহত তরুণীর ছবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের দেখানো হয়। কেউ ছবি দেখে তরুণীকে চিনতে পারেনি।

তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে সিআইডির নিজস্ব সাময়িকীতে ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতি দুটোই প্রয়োগ করে তরুণীর পরিচয় এবং তার হত্যাকারীকে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে সিআইডির পক্ষ থেকে নিউজবাংলাকে জানানো হয়। দীর্ঘ সময়েও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা।

সিআইডি পারেনি, পিবিআই পেরেছে – এমনটা মানতে নারাজ সিআইডি ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেটা অন্য সংস্থা পারেনি, কিন্তু সিআইডি উদঘাটন করেছে। পরিচয় শনাক্তে আমরা ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতেই চেষ্টা করেছি, সিআইডি সেটা করে থাকে।’

যেভাবে সফল হলো পিবিআই

আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এটির শীর্ষ কর্মকর্তা ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় মামলাটি তদারকি করেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। আর মামলাটি তদন্ত করেন পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান।

চার বছরের বেশি সময় আগের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, তা নিয়ে রোববার কথা হয় বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে। তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং জড়িত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে তাদের নানা কৌশল অবলম্বনের কথা জানিয়েছেন।

সিআইডি যে পথে হেঁটে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে, সেই একই পথে পিবিআইও হেঁটেছে। তবে ‘সময় ও ধৈর্য্য’ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান চালানোয় সফলতা এসেছে বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জিডিতেই আটকে ছিল জট

ঢাকায় অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয় ২০১৫ সালের ৩ মে। সাধারণত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে যে এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, সেই এলাকার থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। আর এই নিখোঁজ ডায়েরিটা নিখোঁজ হওয়ার পর কাছাকাছি সময়েই হয়ে থাকে। কিন্তু এই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে ১০ জুলাই পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়।

এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই বাধে বিপত্তি। থানা পুলিশ ও সিআইডি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি খুঁজেছে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী এক মাসের বেশি সময়ের ব্যাপ্তিতে। তাতে কিছু পাওয়া যায়নি।

কিন্তু পিবিআই এক মাসের ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা আরও বড় সময়ের ব্যাপ্তির সব নিখোঁজ জিডি সংগ্রহ করেছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে সময় নিয়ে জিডিগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে গিয়ে ৭ দিন সেখানে অবস্থান করে আশপাশের ১৪টি থানার জিডি সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ শুরু করি। বাকি থানাগুলো জিডি পরবর্তী সময়ে সংগ্রহের টার্গেট ছিল। ১৪ থানার জিডিগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিখোঁজের ডায়েরি পাওয়া যায়।’

আশরাফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই সময়ে যেগুলো মিসিং ডায়েরি পেয়েছিলাম, সেখান থেকে প্রথম দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, যাদের নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি হয়েছিল, তাদের পাওয়া গেছে। তৃতীয় জিডিটির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, তরুণীটি এখনও নিখোঁজই রয়েছে। গাবতলীতে ‍উদ্ধার হওয়া তরুণীর সঙ্গে নিখোঁজ তরুণীর বর্ণনা মিলে যায়।

‘তখনই আমরা জানতে পারি, উদ্ধার হওয়ার তরুণীর নাম শম্পা বেগম। এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যায় জড়িত কে বা কারা তা তদন্ত করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করি।’

মামলাটির তদারকি কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শম্পা নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর। শম্পার পরিবারকে আসামী স্বপন জানান যে, শম্পা খুলনা যাওয়ার জন্য বাসে রওনা হয়েছে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও শম্পা আর পৌঁছায়নি। খুলনায় না যাওয়ায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন ও নানান জায়গায় খোঁজার পর শম্পার ভগ্নিপতি চট্টগ্রামে এসে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাধারণত অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যে হওয়া জিডিগুলো খুঁজে দেখা হয়। আমরা কাছাকাছি সময়ের জিডিগুলো বের করার পাশাপাশি এক মাসের বেশি সময় পর কোনো মিসিং জিডি হয়েছে কিনা তাও খুঁজে দেখেছি। আমরা বিস্তৃত সময় ধরে হওয়া জিডিগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে সফল হয়েছি।’

শম্পার পরিচয় শনাক্তের পর আসামি গ্রেপ্তারেও যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আসামি স্বপনকে শম্পার পরিবার মেয়ের স্বামী হিসেবে জানত। শম্পা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু মূলত তারা বিয়ে করেননি। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপনের ঠিকানা চাইলে শম্পার পরিবার তা যথাযথভাবে দিতে পারেনি। কারণ তাদের কাছে তা ছিল না। আমরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আসামির স্থায়ী ঠিকানা পাই। কিন্তু ওই ঠিকানায় আসামি স্বপন থাকতেন না। থাকতেন কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায়। সেখান থেকে তাকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা। স্বপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।’

কেন শম্পাকে হত্যা

স্বপনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শম্পাকে চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর গ্রিনভিউ এলাকার একটি বাসায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২ মে গভীর রাতে তাকে হত্যা করেন স্বপন।

২০১৩ সালে খুলনা নৌঘাঁটিতে ল্যান্স করপোরাল (মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বপন। শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। শম্পার মা চিকিৎসা করাতে গেলে স্বপনের সঙ্গে শম্পার পরিচয় হয়।

পিবিআই জানায়, এই পরিচয়ের সূত্রে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক সময় স্বপনে বিয়ের জন্য চাপ দেন শম্পা। স্বপন আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং তার সংসারে এক সন্তান ছিল, যা তিনি শম্পার কাছে গোপন করেন। বিয়ের চাপ দেয়ায় স্বপন খুলনা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন।

এরপর শম্পাও চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রামে এক ফুফুর বাসায় কিছু দিন থাকেন শম্পা। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করেন তিনি। পরবর্তীতে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে এক সঙ্গে থাকা শুরু করেন দুজন। তখন শম্পা তার পরিবারকে জানান স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন, যদিও তারা বিয়ে করেননি।

এভাবে তারা ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২ মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করছিলেন। এক সময় শম্পা বিয়ের জন্য রেজাউল করিম স্বপনকে চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বপন। মরদেহ গোপন করার জন্য শম্পার মরদেহ একটি ট্রাংকে ঢুকিয়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন তিনি এবং কৌশলে শম্পার বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে শম্পা তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১০ জুন পাহাড়তলী থানায় জিডি করা করেন।

এদিকে জিডি করার পাশাপাশি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান চেয়ে স্বপনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম নৌ বাহিনীর অফিস এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ করেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই দফা অভিযোগ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। তবে দ্বিতীয়বার অভিযোগের পর স্বপনের পদের অবনতি করা হয়। কিন্তু আমার মেয়েকে আর পাইনি। ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে আমার মেয়ের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ। পিবিআই ২২ সেপ্টেম্বর আমার বাড়িতে গেলে আমার মেয়ের বিষয়ে প্রথম কোনো খবর পাই।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ফাহমিনা ও মানিক নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যার ছয় বছর পর মামলার রায়ে তার স্ত্রী ফাহমিনা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

হত্যায় জড়িত আরও এক ব্যক্তিকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

দিনাজপুর জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমদ ভূঞা রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রবিউল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন হযরত আলী বেলাল।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ফাহমিনা বেগম ও একই উপজেলার নিয়ামতপুর নতুনবাজার এলাকার মানিক রবিদাস ওরফে আর্ট মানিক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে ফাহমিনা স্বেচ্ছায় বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালতে বিচারকের কাছে ফাহমিনা জানান, ছালাম তাকে ও মানিককে নিয়ে সন্দেহ করত। তিনি ফাহমিনার নামে জমি লিখে দিতে চেয়েও পরে আর দেননি। এই ক্ষোভে ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে ফাহমিনা মানিককে ডেকে পাঠান। পরে দুই জনে মিলে নাইলনের দড়ি ছালামের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। পরে ছালামের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন তারা।

ফাহমিনার দেয়া তথ্যমতে, মানিককে গ্রেপ্তার করে মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার দুই মাস পর ফাহমিনা ও মানিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

এ মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে রোববার রায় ঘোষণা করে আদালত।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধনের অপেক্ষা
সমুদ্র ছুঁয়ে উড়বে বিমান

শেয়ার করুন