করোনার বছরে আয় কমেছে আওয়ামী লীগের

করোনার বছরে আয় কমেছে আওয়ামী লীগের

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়। ফাইল ছবি

২০২০ সালে দলটির আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। এই আয় ২০১৯ সালের চেয়ে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা কম। যা শতকরা হিসেবে ৫১ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাস মহামারির বছরে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের আয় কমে গেছে।

নির্বাচন কমিশনে রোববার দুপুরে জমা দেয়া নিরীক্ষা হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছে টানা দুই যুগের বেশি ক্ষমতায় থাকা দলটি। একটি স্বনামধন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এই হিসাব তৈরি করেছে বলে জানায় আওয়ামী লীগ।

ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের জানান, ২০২০ সালে দলটির আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। ২০১৯ সালে দলটি আয় করেছিল ২১ কোটি ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৩০ টাকা। এই আয় ২০১৯ সালের চেয়ে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা কম। যা শতকরা হিসেবে ৫১ শতাংশ কম।

আয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ২০২০ সালে মনোনয়ন ফরম বিক্রি বাবদ আয় আগের বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে আয়ের একটি প্রধান কারণ ছিল দলটির ত্রি-বার্ষিকী কাউন্সিল।

নিরীক্ষায় আয়ের প্রধান খাত হিসেবে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের দেয়া চাঁদা, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া অনুদান।

আবদুস সোবহান গোলাপ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের হিসাব উল্লেখ করে জানান, ২০২০ সালে করোনার বছরে আওয়ামী লীগের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩১ টাকা। এই ব্যয় ২০১৯ সালের চেয়ে বেড়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৬ টাকা। এই ব্যয় ২০১৯ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীদের দেয়া অনুদান, পত্রিকা-প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সংগঠন পরিচালনা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির এই নেতা।

২০২০ সাল শেষে আওয়ামী লীগের জমার পরিমাণ ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার ৬০১ টাকা। আগের বছরে এই স্থিতি ছিল ৫০ কোটি ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৯৩ টাকা।

সেই স্থিতি ২০২০ সালে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৪ টাকা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছর ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছিল ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা। আর ব্যয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তত্ত্বাবধায়ক নয়, সরকার পতনের আন্দোলন চান গয়েশ্বর

তত্ত্বাবধায়ক নয়, সরকার পতনের আন্দোলন চান গয়েশ্বর

প্রজন্ম দলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘কয়েক জন ফেরেশতা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়, আর সরকার যদি একজন শয়তান থাকে; তাহলে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কে হবে, না হবে- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তার দরকার নাই। আমাদের দরকার সরকার পতন।’

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দল। সেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক নয় বরং সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নামা উচিত নেতা-কর্মীদের।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে সকল সমস্যার মূল আখ্যায়িত করেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের এই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা বা আন্দোলনের দরকার নেই। শেখ হাসিনার সরকার পতনের দাবিতেই একমাত্র আন্দোলন হওয়া উচিত। কারণ সকল সমস্যার মূল হোতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার।

‘আমাদের সকল চিন্তা, চেতনা, সামর্থ্য, শক্তি একত্রিত করে এই আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘কয়েক জন ফেরেশতা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়, আর সরকার যদি একজন শয়তান থাকে; তাহলে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কে হবে, না হবে- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। আমাদের দরকার সরকার পতন।

‘আমাদের প্রত্যেকের মামলা, মোকদ্দমা, হয়রানি, নির্যাতন, কারাবাস সবকিছুর উত্তর এক জায়গায়, যার বিরুদ্ধে লড়ছি তাকে সরাতে হবে। আর যার জন্য লড়ছি সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তিনি ঘরে বসেছিলেন গত দুই বছর। বিশ্ব এখনও করোনা মুক্ত নয়। ১৮৬ জন এর বিশাল বহর নিয়ে সফরে গেলেন, কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা পরের কথা। আমার প্রশ্ন, তাদের কতজন কত টাকা সঙ্গে নিয়ে গেছেন বিদেশে রেখে আসার জন্য? সেটা আমার জানার বিষয়। কারণ স্পেশাল ফ্লাইট যেটায় প্রধানমন্ত্রী যান, সেটার জন্য সব দরজা খোলা থাকে। ঢাকা এয়ারপোর্ট কিছু জিজ্ঞেস করেনা। এ জন্য বিদেশে টাকা রেখে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাওয়া। তাই ইতিমধ্যেই যদি কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়, তাহলে সেটা করেছে প্রধানমন্ত্রীর লোক জনই, প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় করেছে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমার জানা মতে, প্রজন্ম দলের মতো প্রায় অর্ধশত সংগঠন আছে, প্রত্যেকে বিএনপিকে ভালোবাসে। তাহলে এই ছোট ছোট দ্বীপ করে ফেললেন কেন। এখন সময় হয়েছে এসব ছোট ছোট দ্বীপ মিলে একটা দ্বীপপুঞ্জ গঠন করার। প্রত্যেক সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের ছোট ছোট চিন্তা একসঙ্গে এক দিকে প্রবাহিত করতে হবে।’

প্রজন্ম দলের সভাপতি জনি হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

নগরীর বোর্ডবাজারের দুটি এলাকায় বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, রাস্তায় নেমেছে জলকামান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে তার বিরোধীরা আর মেয়রের পক্ষের কর্মীরা একই এলাকায় সমাবেশ ডাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

নগরীর বোর্ডবাজারে বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাস্তায় নামানো হয়েছে জলকামান।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের। তবে এখনও নেতাদের কেউ সেখানে আসেননি।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

টানটান উত্তেজনার মধ্যে দুপুরের আগে থেকেই ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশপাশের ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার লুৎফুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন, উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলমসহ বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে আছেন পরিস্থিতি সামলাতে।

সব মিলিয়ে পুলিশের ৪ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অবস্থান নিয়ে আছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘সমাবেশস্থলের আশপাশে জিএমপি কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে ৪০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জলকামানসহ সাদাপোশাকে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে যেন যানচলাচল বন্ধ না হয় সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।’

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়রের কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ এ অন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।’

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে গত দুই দিন ধরে অশান্ত গাজীপুর। সেই ভিডিওতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধিকার আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ, রেলে অগ্নিসংযোগ ও মেয়রের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুরের পর নগরীর বোর্ড বাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই সমাবেশকে ঘিরে তৃতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত গাজীপুর সিটি।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

একই দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি নিউজবাংলাকে জানান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়র বিতর্কিত মন্তব্য করায় গত দুই দিনের মতো শুক্রবারও বিক্ষোভ মিছিল চলবে।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীরা মেয়রের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য মেনে নিতে পারছে না। অপরদিকে আনন্দ মিছিলের আড়ালে মেয়রের অনুসারীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মাঠে নামছে বলে জেনেছি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার বিষয়ে আমি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আনন্দ মিছিলে যোগ দেব না।’

বিক্ষোভ মিছিলের অন্যতম সমন্বয়ক ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিস্কার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল হবে বোর্ডবাজারে। সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবে।

‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করার কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমাদের বিক্ষোভ পূর্বনির্ধারিত এবং চলমান। আনন্দ মিছিলের নামে মেয়রের লোকজন পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছে।’

মেয়রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মনিরুজ্জামান মনির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ আনন্দ মিছিল করবে। সহযোগী সংগঠন হিসেবে আমরা সে মিছিলে অংশ নেব। মিছিলে মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমও উপস্থিত থাকবেন।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়রের কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ এ অন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।’

বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মিছিলের অনুমতি চেয়েছে। তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টঙ্গী ও বোর্ডবাজারে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে উভয়পক্ষ তাদের কর্মসূচি শেষ করবে।’

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক

যা আছে ভিডিওতে

একটি ঘরোয়া আয়োজনের ওই ভিডিও গত মঙ্গলবার সকালে ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ভিডিওটির প্রথম দিকে মেয়র জাহাঙ্গীরকে নীল রঙের জামা পরে চেয়ারে বসে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। বাকি অংশে শুধু অডিও বক্তব্য শোনা যায়। কিছু কিছু অংশ ছিল অস্পষ্ট।

ভিডিওর শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।



স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে টেনে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি রাসেল সাহেবকে এইখানে নিয়া ফালাইছি। আমি চাইছি রাসেল সাহেব ভুল করুক। আমি ইচ্ছা করেই চাইছি হেও মিছিলটাতে এটেন্ড করুক।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজমত উল্লাহ আমারে জীবনে মারার লাইগা লোক কন্টাক্ট করছে, সব করছে। এখন সে আমার কর্মী হইছে। ...আমারে জিগায় কী করছ? আমারে কয়দিন জিগাইছে কী করো, কেমনে সম্ভব? হেও সব জানে না! আমি তো খেলা জিতছি।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি মন্ত্রীরে নিয়া মাথা ঘামাই না। জাহিদ আহসান রাসেল আছে না? তারে নিয়া আমি এক মিনিটও চিন্তা করি না। খালি জাস্ট শুইনা রাখো, বিশ্বাস করার দরকার নাই। আমি চিন্তা করলাম সে তো মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই। দরকারটা কী আমার এখানে, পরিবর্তনে কী হইব? এখানে পরিবর্তনের লাভ টা কার?’

গত তিন বছরেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও চলছে। এ বিষয়ে ভিডিওটিতে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, ‘প্যানেল মেয়র দেই না। দিলে কী হইব? আমারে কি কাউন্সিলররা মেয়র বানাইছে? আমার কি মেয়রগিরি যাইবগা? যেমন আমি এখানে প্যানেল মেয়র করি নাই। রাসেল এমপি অনেকরে মেয়র বানাইয়া দিতেছে, অনেকরে কাউন্সিলর বানাইয়া দিতেছে। প্রধানমন্ত্রী আরেকজনরে ভারপ্রাপ্ত দিব?’

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাতাসটা আমার কাছে বইলা যায়।’

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এমনকি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার কথাও বলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক অবরোধের পর এবার রেল লাইনে আগুন ধরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের সাথে চলি না? বিএনপির সাথে চলি না? অন্য পার্টি আছে না সবার সাথেই তো কথা বলি। এই যে আমার সাথে ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী (হেফাজতের প্রয়াত আমির) প্রায় ৪৭ মিনিট কথা বলছে। সে আসতে চায়। আমি কথা বলছি না?

‘ধীরাশ্রম, ঝাঝর, চান্দরা আছে ৮/১০ বিঘা, দিঘিরচালা আছে ১৬ বিঘা, তেলিপাড়াও আছে। আমার এখানে সাড়ে তিন শ বিঘা জমি আছে। এই নির্বাচনের সময়েও দশ হাজার কোটি টাকা আনছি।’

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

মেয়র যা বলেছেন

ভিডিওটি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। সেটি ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় যারা এগুলো ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যারা এই অন্যায় কাজ করছে’, তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে, যারা বিজ্ঞ আইনজীবী… তাদের পরামর্শে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুকে মিথ্যা কথা ও গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের বলব, দয়া করে এগুলো ডিলিট করে দিন। মিথ্যা অপবাদ না দিয়ে আসুন সকলে মিলে কাজ করি।’

গত কয়েক দিন ধরে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। গত রাত ১২টায় তিনি দেশে ফিরে নিজ বাসায় ফিরেছেন।

তবে দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সত্যটা জানুন’।

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক
মেয়র জাহাঙ্গীরের ভিডিওর প্রতিবাদে টঙ্গীতে তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়

মেয়র বলেন, ‘বিভিন্ন ফেসবুক ও ইউটিউবের প্রচারমাধ্যমে আমার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবং আমার নাম সেখানে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট কথা তারা ছেড়েছে।

‘আমার এবং আমাদের বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতি (গাজীপুর আওয়ামী লীগের) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাম ধারণ করে আমাকে কীভাবে ছোট করা যায় বা প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, সেই কৌশল হিসেবে আমার প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন কথা এডিট করে, নকল করে সেসব প্রচারমাধ্যম ইউটিউব এবং ফেসবুকে ছেড়েছে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ‘অস্তিত্ব এবং ভালোবাসা’- এমন কথা বলে মেয়র বলেন, ‘জাতির পিতা শহীদ হওয়ার পর আমার জন্ম। সে জন্য আমি আমার জাতির পিতাকে অনুসরণ করি। আমি ছাত্রজীবন থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে শুরু করে তারপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (গাজীপুর শাখা) তারপর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার জন্য দোয়া দিয়েছেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে এই শহরকে উন্নত করতে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিরোধীদলীয় উসকানির পাঁয়তারাতে পড়ে আমাদের শহর এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমার অস্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার করছে।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি

বৈঠকের আলোকে কর্মসূচি দেবে বিএনপি

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদের সবার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এরপর দলের নীতিনির্ধারণী সভায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপনারা পরে জানতে পারবেন, আমরা কী ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছি।’

রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও কর্মসূচি নির্ধারণে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। ছয় দিনের এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ৩ শতাধিক নেতা। এ বৈঠকের আলোকেই বিএনপি পরবর্তী কর্মসূচি দেবে।

বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দলের নির্বাহী কমিটির সভা শেষ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদের সবার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এরপর দলের নীতিনির্ধারণী সভায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা পরে জানতে পারবেন, আমরা কী ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছি।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে ও দলীয় নেতাদের মতামত জানতে নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন তারেক রহমান।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেষ দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর রাতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘সংগঠনের অবস্থা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য কী করা যেতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বাংলাদেশের মুক্তি নিয়েও কথা হয়েছে।’

বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। প্রথম দফায় তিন দিনের বৈঠকে অংশ নেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও ৯টি অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

এরপর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনদিন বৈঠকে অংশ নেন নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। ধারাবাহিক বৈঠকের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের নির্বাহী কমিটির ৮৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এদিন বৈঠকে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

দলীয় সূত্র জানায়, দুই দফায় ছয় দিনের এ বৈঠকে ৪৯১ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ ‘শ জন আলোচনায় অংশ নেন।

২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাথে তারেক রহমানের এটাই প্রথম বৈঠক। লন্ডন থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা এখন ৫০২ জন।

সর্বশেষ দলের নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই মামলায় কারাবন্দি হওয়ায় কয়েকদিন আগে তিনি নির্বাহী কমিটির জরুরী সভা ডাকেন।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরকে প্রমাণ দিতে হবে ভিডিও তার না: আজমত

জাহাঙ্গীরকে প্রমাণ দিতে হবে ভিডিও তার না: আজমত

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’  

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বানোয়াট বলে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম পার পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান।

ভিডিওটি অনুযায়ী, ঘরোয়া একটি আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন সব কথা বলেছেন, যা মেনে নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

মেয়র জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগে হঠাৎ আসা কোনো রাজনীতিক নন। তিনি ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে দীক্ষা নিয়েছেন, দিয়েছেন জয় বাংলা স্লোগান। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে, সে সময় রাজপথে থেকেছেন সক্রিয়। এমন নেতাই এখন এসে এই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন, এটা মেনে নিতে পারছেন না তাকে ভোটে জেতাতে জানপ্রাণ দিয়ে খাটা নেতা-কর্মীরা।

দুই দিন ধরে তারা মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় জাহাঙ্গীর ছিলেন দেশের বাইরে। গত রাতে দেশে ফিরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, এই ভিডিও বানোয়াট, কথা কেটে কেটে বসানো হয়েছে। ভিডিওগুলো ফেসবুক থেকে ডিলিট করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন, নইলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

তবে তার এই বক্তব্যে বিক্ষোভ থামছে না। দ্বিতীয় দিনের মতো নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। রেললাইনেও আগুন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছেন।

যারা বিক্ষোভে নেমেছেন, তাদের মধ্যে আজমত উল্লাহর অনুসারীই বেশি। তিনি নিজেও বলেছেন, যে ধরনের কথা জাহাঙ্গীর বলেছেন, সেটা আওয়ামী লীগের কারও পক্ষে মানা কঠিন।

মেয়র দেশে ফিরে যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় নিউজবাংলাকে আজমত বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে আজমত সভাপতি আর জাহাঙ্গীর সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, তার ডেপুটির বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা কী বলেছেন, এমন প্রশ্নে আজমত বলেন, বিষয়টি বলা তার উচিত হবে না। তবে নেতারা সবাই খুবই রাগান্বিত হয়েছেন বলে জানান।

আজমত বলেন, ‘আমি এ বিষয়টি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে জানিয়েছি। বিষয়টি শোনার পর তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তারা অনেক রিঅ্যাক্ট করেছেন।’

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক উনাকে কী বলেছেন সে বিষয় কোন কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয় বলে মনে করে জাতীয় পার্টি। দলটির নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করার পক্ষে।

বৃহস্পতিবার বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় প্রাক্তন সৈনিক পার্টির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দীর্ঘ মেয়াদী কোনো সমাধান নয়।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের রায়ে এই সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। পরে দুটি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়।

এর দুটির মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তারা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারে অধীনে করতে হবে এমন দাবি তুলেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

আলোচনা সভায় জি এম কাদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। আইন করে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে পারলে সকল নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ চলছে। এভাবে চলতে থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো হবে নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক শক্তি। নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরা টিকতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো অস্তিত্বশূন্য হয়ে পড়বে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে। তবে সরকার ও প্রশাসনের চাপে নির্বাচনে টিকতে না পেরে দলগুলো সমর্থকহীন হয়ে পড়ছে।

‘দেশের মানুষও ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। বিরাজনীতিকরণ দেশ ও মানুষের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্যারালালভাবে সরকার ক্ষমতা প্রয়োগ করলে নির্বাচন কমিশন কখনও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার বিকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের যে হুমকি সারা বিশ্বে, সে বিষয়ে সজাগ থেকে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই ভূমিকা রাখতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম একটা সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের উদ্যোগে ভাটারায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের যে হুমকি সারা বিশ্বে, সে বিষয়ে সজাগ থেকে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই ভূমিকা রাখতে চাই, যাতে নতুন প্রজন্ম একটা সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।’

যুব সমাজকে গাছের সঠিক পরিচর্যা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবসমাজ এই কর্মসূচির দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে। শুধু গাছ লাগালেই চলবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘বিএনপি-জামাত চক্র ক্ষমতায় আসার জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সততাই শক্তি, মানবতায় মুক্তি- রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এই মন্ত্রকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নেতারা বিএনপি-জামাতের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জাকির হোসেন বাবুল সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শামসুল আলম অনিক, উপ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকতসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতেই ‘সবচেয়ে দুর্বল’ আওয়ামী লীগ
২১ আগস্টের খিচুড়ি নিয়ে বিরোধ, আওয়ামী লীগ নেতা খুন
বিএনপির চরিত্র ইতিহাস বিকৃতি-মিথ্যাচার: সেলিম মাহমুদ 
মানুষের সংকটে বিএনপি নেই: নিখিল
কর্মীদের টাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়

শেয়ার করুন