যমুনাপারে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ 

যমুনাপারে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ 

যমুনার ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলের ১৭টি ইউনিয়ন পুরোপুরি ও ৯টি ইউনিয়ন আংশিক তলিয়েছে।

সিরাজগঞ্জে টানা তিন দিন উজানের ঢলে যমুনার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

যমুনার পানি রোববার সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোর পানিও বেড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার পরিমাপক আব্দুল লতিফ নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলের ১৭টি ইউনিয়ন পুরোপুরি ও নয়টি ইউনিয়ন আংশিক তলিয়েছে।

এর মধ্যে রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পানি ঢুকেছে কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ২০টি গ্রামে।

তিনি বলেন, এসব গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত। বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।

জেলার চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরে ভাঙছে নদী। তাতে ঘর হারানোর আতঙ্কে আছেন শতাধিক পরিবার।

যমুনাপারে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। তবে পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বন্যার
তেমন কোনো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পানির খোঁজখবর রাখছি। পাঁচটি উপজেলায় ১২৫ টন চাল ও দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা সেটা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করবেন। এ ছাড়াও জেলায় ৫১ টন চাল ও দুই লাখ টাকা বন্যার্তদের জন্য মজুত রাখা হয়েছে।’

কোথায় কোথায় নতুন করে ত্রাণের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে তা নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন।

এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার আসিক আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার কানসাটে গোপালনগর মোড় এলাকায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রেনুয়ারা বেগম ও দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের হারুন আলী।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে ২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিদর্শক আরও জানান, হেলপার ট্রাকটি চালাচ্ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তার এক বছর বয়সী নাতি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলঢুপ পাতন গ্রামের ৭০ বছরের সফিক উদ্দিন ও তার নাতি আরিয়ান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সকালে ফাজিলপুর এলাকায় বিয়ানীবাজার থেকে যাওয়া প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কানাইঘাটমুখী পিকআপ ভ্যানের। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে হুছনা বেগম, ফাতেমা আক্তার পপি, তামান্না ও নাসির উদ্দিনকে। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহদুটিও সেখানে নেয়া হয়েছে।

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন পিকআপচালক।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

ফেরি চালুর দাবিতে অনশন। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘ ২৩ দিনেও ঘাট চালু জাজিরা ফেরিঘাট; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালুর দাবিতে মঙ্গল মাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে চলছে গণ-অনশন।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটি নামের সংগঠন শনিবার সকাল ৯টা থেকে এই অনশন করছে। সংগঠনের বক্তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।

পদ্মা সেতুতে বারবার আঘাতের কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে জরুরি যানবাহনের চলাচল নিয়ে বিপাকে পড়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুকে এড়িয়ে সেতুর ভাটিতে নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট জাজিরা প্রান্তে ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘাটে স্থাপন করা হয় নতুন পন্টুন।

দীর্ঘ ২৩ দিনেও সেই ঘাট চালু হয়নি; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জামাল মাদবর জানান, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। সেই সেতুকে ফেরির আঘাত থেকে রক্ষার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচল করবে। সেই জন্যই নির্মাণ করা হয় ঘাট।

‘তবে শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের ফেরি চলাচল শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আমরা এর আগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান কর্মসূচি। দাবি মানা না পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক মো. আশিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, নতুন চ্যানেলে প্রচুর পরিমাণে পলি পরে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে এই পথ দিয়ে এই মুহূর্তে ফেরি চলাচল করা সম্ভব না।

তিনি জানান, জরিপ করে খননকাজ সম্পন্ন করা গেলে ফেরি চালু করা সম্ভব। তবে এখন স্রোত কমে যাওয়ায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথেই ফেরি চলাচলের শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বাস। ছবি: মাহফুজ নান্টু/কুমিল্লা

মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস নাথের পেটুয়ামুখী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে চারজন নিহত ও একজন আহত হন।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে উপজেলার নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার খবর আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে শুরুতে বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক্টরের আংশিক সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের পরই বাসটি সামনে এগিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশের গর্তের দিকে টেনে নেয়। এরপর অটোরিকশাটির ওপর উঠে যায় বাস।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুল কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়েছেন। বাসের যাত্রীরা হতাহত হননি। অটোরিকশায় থাকা আহত আরোহীদের আশপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা গেছে ঘটনাস্থলেই।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

বাগেরহাটের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চাপ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যার মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত এক মাসে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ শিহান মাহমুদ বলেন, 'হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড আছে ২৪টি। গত কয়েক দিনে ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

‘প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চাপ এতটাই বেশি যে মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীর জায়গা দিতে পারছি না। এসব শিশুদের অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।’

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান জানান, ভাদ্র মাসের গুমোট গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

তিনি বলেন, ‘এক মাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালেই সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

বাগেরহাটে এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজার শিশু

তবে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন।

আরও পড়ুন:
স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
ফের বেড়েছে যমুনার পানি, ডুবছে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

শেয়ার করুন