স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা

স্কুল নদীগর্ভে, কোথায় পড়বে শিশুরা

নদীতে হারিয়েছে কুড়িগ্রামের অন্তত ৭টি স্কুল। ছবি: নিউজবাংলা

কুড়িগ্রামের চার উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তলিয়েছে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদ-নদীতে। যদিও শিক্ষা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বিলীন হওয়া স্কুলের সংখ্যা পাঁচটি।

স্কুল গেছে নদীর পেটে। স্কুলের মালপত্র পড়ে আছে খোলা জায়গায়। আশপাশে আর কোনো স্কুলও নেই, যেখানে পড়ালেখা করবে স্থানীয় শিশুরা।

এই চিত্র শুধু একটি স্কুলের না। কুড়িগ্রামের চার উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অবস্থা।

স্কুলগুলো হলো উলিপুর উপজেলার পশ্চিম বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেরাগের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগুলা কুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাগেশ্বরী উপজেলার আকবর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারহাট উপজেলার গতিয়াশাম বগুড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌমারী উপজেলার ফলুয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘুঘুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এগুলো তলিয়েছে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদ-নদীর পানিতে।

যদিও শিক্ষা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বিলীন হওয়া স্কুলের সংখ্যা পাঁচটি।

কুড়িগ্রাম জেলায় ১৬টি নদ-নদী আছে। বর্ষা মৌসুমে এ বছর এই জেলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নদীভাঙনে বিপাকে পড়েছে এলাকার মানুষ। স্থানীয় লোকজনের ঘরবাড়ি আর ফসলি জমির পাশাপাশি নদীগর্ভে হারাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। এতে শিশু-কিশোরদের পড়ালেখা নিয়ে দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।

জেলার সাতটি উপজেলার আরও ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে আছে ভূরুঙ্গামারীর ১১টি, রাজিবপুরের ৩টি, উলিপুরের ২টি, সদর, নাগেশ্বরী, রাজারহাটের একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; উলিপুরের ১টি মাদ্রাসা ও ১টি উচ্চ বিদ্যালয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে হলেও এগুলো ভাঙন থেকে বাঁচানো যাচ্ছে না।

ভূরুঙ্গামারী ২ নম্বর পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুধকুমার নদীর দূরত্ব এখন ২০ ফুট।

ওই এলাকার জলিল মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই স্কুল ভাইঙ্গা গেলে হামার সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার যদি দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়, তাইলে গ্রামও ডুবব।’

বুলবুলি আক্তার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, হামার স্কুল আর গ্রাম রক্ষার জন্য বোল্ডার দিয়া একটা বাঁধ করে দিক সরকার।’

নাগেশ্বরী উপজেলার রঘুরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বয়স ১১৮ বছর। প্রাচীন এই স্কুল থেকে গঙ্গাধর নদ এখন ৫০ মিটার দূরে।

এই স্কুলের সাবেক ছাত্র মজিবর রহমান বলেন, ’৫০ বছর আগে এই স্কুল থেকে ক্লাস ফাইভ পাস করেছি। আমার সন্তান এখন এখানে পড়ে। আশপাশে আর কোনো স্কুল নেই। এটা নদীতে তলিয়ে গেলে আমার ছেলে পড়বে কোথায়?’

রাজহারহাটের গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েক দিন আগে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। আসবাবগুলো আগেই সরিয়ে রাখা হয়েছে কিছুদূরের খোলা জায়গায়।

এই এলাকার রেশমা আক্তার বলেন, ‘স্কুল ভাঙ্গি গেইল। এলা ছোয়াপোয়ার কী হবে? হামার তাও এটি-ওটি এদন করি চলবে, কিন্তু আর ছোয়ার পড়ালেখার কী হবে?’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লস্কর আলী জানান, নতুন করে স্কুল নির্মাণের জায়গা পাওয়া না গেলে অনেক শিশু পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়বে।

নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, করোনা মহামারিতে এমনিতেই শিশুরা বহুদিন ধরে পড়ালেখা থেকে দূরে। এখন স্কুলের এই অবস্থা হলে তাদের আর পড়ালেখা হবে না। অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী পাঁচটি স্কুল বিলীন হয়েছে, হুমকিতে আছে ১৬টি। বিলীন হওয়া স্কুলগুলো পুননির্মাণের জন্য স্থানীয়ভাবে জায়গা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ভাঙনের আশঙ্কায় থাকা স্কুলগুলো রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, ‘চলতি বন্যায় এখন পর্যন্ত কোনো মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বিলীন হয়নি। এগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতেও নেই।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে সন্তু লারমার জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বাড়িতে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।

৫৬ বছর বয়সী নিহত নেথোয়াই মারমা ১১ নভেম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক নেথোয়াইয়ের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ে জেএসএসের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমি জেলার আওয়ামী লীগের সব পদপ্রার্থীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।’

ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মরদেহ আনতে পুলিশের টিম রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

প্রতীকী ছবি।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।

শ্রীপুর-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়নারায়ণপুর এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শ্রীপুরের মালিপাড়া গ্রামের ৩০ বছরের কাজল সরদার ও ভিটিপাড়া গ্রামের ৪০ বছরের আবুল কালাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেলচালক কাজল। হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরোহী কালামের।

নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

ওসি কাওসার আলী জানান, শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন তার প্রেমিক মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু পলাশ। একপর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে আসেন মাহবুব ও তার বন্ধু।

গাইবান্ধায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাঘাটা উপজেলার ভাঙামোড় এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন সাঘাটা উপজেলার ২১ বছরের মাহবুব ও ২০ বছরের পলাশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সদরের এক তরুণীর সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার মাহবুব নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন মাহবুব। সঙ্গে ছিল তার বন্ধু পলাশ।

একপর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে যান মাহবুব ও তার বন্ধু।

সেখানে প্রেমিক মাহবুব তাকে ধর্ষণ করেন। পরে এতে যুক্ত হন পলাশও। ধর্ষণ শেষে তরুণীকে ফেলে পালিয়ে যান দুজন। পরে স্থানীয়রা তরুণীকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখলেও শনিবার সন্ধ্যায় তরুণীর পরিবার সব জানতে পারে। তরুণীর মা রাতেই ফুলছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর কিছু সময় পর গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে।

ওসি কাওসার আলী আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুজনকে আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটির নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরিদল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর আতিফ আফনান নামের পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের শাহিন কোলস্টোর ঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেল ৫টায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সকাল ৯টার দিকে নদীর তীরে থাকা একটি বাল্কহেড থেকে অন্যটিতে লাফ দিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

লক্ষ্মীপুর জেলার দোলাকান্দী মাওলানা বাড়ির শাহাদাত হোসেনের ছেলে আতিফ আফনানের বয়স ১২ বছর। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফতুল্লার হরিহরপাড়া আমতলা এলাকায় বসবাস করেন এবং ধর্মগঞ্জ ইসলামিয়া আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরিদল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, সন্ধ্যার দিকে শিশুটির মরদেহ তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

আফনানের বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সকালে জানতে পারি আফনান নদীতে পড়ে গেছে। আমরা নদীর তীরে গিয়ে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, কিন্তু পাইনি। আফনান সাঁতার জানে না। পরে জানতে পারি আফনান সকাল ৯টার দিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীদের সঙ্গে নদীর তীরে ঘুরতে গেছে।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি

মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদীর ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের প্রতিমা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনায় যে বাড়িতে হামলা হয়েছে সেই বাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বৈদ্য বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের নামে মামলা করেছেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও অভিযান অব্যহত রয়েছে।

ওসি বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে। সেই মামলায় মহানন্দ বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগ আছে, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলিমের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কিন্তু ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের প্রতিমা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

বাসের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা। ছবি: নিউজবাংলা

বুড়িচংয়ের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, সিলেটগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়ার পর গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে রুমির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় সাইদকে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লায় বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আদর্শ সদর উপজেলার রত্নবতী গ্রামের আবু সাইদ ও রুমি আক্তার। তারা স্বামী-স্ত্রী।

বুড়িচংয়ের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জহিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, সিলেটগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাকে চাপা দেয়ার পর গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

এতে ঘটনাস্থলে রুমির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় সাইদকে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাস ও অটোরিকশার অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাসচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন

কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আসফাত রাসেল বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মাদারীপুরে কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন, সাদ্দাম, রশিদ, মোস্তফা ও রবিউল। তারা সবাই কালকিনি উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে কালকিনি পৌর এলাকার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে শুক্রবার আসর নামাজ শেষে তৌহিদী জনতার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক শ্লোগান দেয়া ওই মিছিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ।

মিছিল বন্ধ না করায় একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় মিছিলকারীরা। এতে কালকিনি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিরউদ্দিনসহ আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আসফাত রাসেল বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

আরও পড়ুন:
‘স্কুল নদীতে চলে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?’
ভাঙন থামছে না আড়িয়াল খাঁর
বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে যমুনার পানি
মেঘনার ৪০০ মিটার বিলীন ১০ দিনে
পদ্মা-গড়াইয়ে কমেছে পানি, বেড়েছে ভাঙন

শেয়ার করুন