আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশিদের আনা হবে চার্টার্ড বিমানে

আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশিদের আনা হবে চার্টার্ড বিমানে

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি। ফাইল ছবি

শনিবার রাতে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘১২ বাংলাদেশি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে আফগান নারী শিক্ষার্থীরাও আছেন। শিগগিরই তাদের চার্টার্ড বিমানে করে দেশে আনা হবে।’

আফগানিস্তানে নিরাপদে থাকা ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বলেছেন, চার্টার্ড বিমানে তাদের দেশে আনা হবে।

এসব বাংলাদেশির পাশাপাশি বাংলাদেশে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদেরও এই সেই ঘাঁটিতে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদেরও চার্টার্ড বিমানের করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

শনিবার রাতে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘১২ বাংলাদেশি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে আফগান নারী শিক্ষার্থীরাও আছেন। শিগগিরই তাদের চার্টার্ড বিমানে করে দেশে আনা হবে।’

শনিবার দুপুরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, কাবুল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ হলেও দেশটিতে অবস্থানরত ১৫ বাংলাদেশি নিরাপদে আছেন।

আফগানিস্তানে থাকা ১৫ বাংলাদেশিদের সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যিনি অ্যাম্বাসেডর ইন তাসখন্দ, উনি জানিয়েছেন যে ওরা সেইফ আছে। বাট ভয়ে এয়ারপোর্টে যাচ্ছেন না। সো উই ডোন্ট নো, সো আপনাদের যদি কোনো বুদ্ধি থাকে, আপনারা তো বেশি বুদ্ধিমান লোক, বলেন, কীভাবে আমরা ওদের রেসকিউ করতে পারি?’

আটকে পড়া বাংলাদেশিদের উদ্ধারে সরকার কোনো চার্টার্ড বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কি না, জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘ডিটেইল আমি বলতে পারব না। আই ক্যান্ট সে, আই ডোন্ট নো। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এয়ারপোর্টে কোনো কোনো বাংলাদেশি এসে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন, বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি নয়, তারা আফগান।

তিনি বলেন, ‘দেখেন, আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে প্রাইভেটলি যারা ওখানে, ওই দেশে আছেন তাদের বলেছিলাম, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা সেইফ জায়গায় চলে যান। অনেকেই এটা গ্রহণ করেছেন। কারণ আমাদের ধারণা ছিল যে, সমস্যা হতে পারে। যেহেতু আমাদের ওখানে অ্যাম্বাসি নাই, সুতরাং মোর ডিফিকাল্ট হবে।’

অনেকেই সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলে জানান মোমেন। বলেন, ‘কেউ কেউ শুনেছেন। আমরা তখন ব্র্যাককে অ্যাপ্রোচ করেছিলাম। তাদের লোকগুলোকে মোটামুটি সেইফলি নিয়ে এসেছে।’

এ সময় মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ১৬০ আফগান শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ফিরতে চান।

তিনি বলেন, ‘আফগানের ১৬০ জন ছাত্রছাত্রী আমাদের দেশে পড়ে, তারা শুনেছি যে আফগান লোকজন। তারা এখন আসতে চাচ্ছে, তাদের দেশে প্রবলেম বলে আসতে চাচ্ছে। আসতে চাইলে আমরা নেব, কিন্তু দে হ্যাভ টু মেক দেয়ার ওয়ে আউট। আমাদের তো ওখানে এমন কিছু নেই যে আমরা ওদের নিয়ে আসতে পারি। আমি শুনেছি, ওরা বাঙালি না। ওরা সবাই আফগান। সো আই ডোন্ট নো।’

রাতে এসে অবশ্য মন্ত্রী জানালেন, সবার জন্য চার্টার বিমানের ব্যবস্থা করার কথা।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে দুই দশক পর ফের আফগানিস্তানের সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তালেবান। আফগানিস্তান দখল করে কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটি বলছে, তারা ২০ বছর আগের অবস্থানে নেই।

অনেক সহনশীলতার কথা বলছে তালেবান। শত্রুদের সবাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তালেবান বলছে, সবাইকে নিয়ে এবার অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে তারা। নিশ্চিত করা হবে নারী অধিকার। নারীরা অবাধে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবে। চাকরিও করতে পারবে। তালেবানের এসব প্রতিশ্রুতিতে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং তারা বিরোধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে। কর্মজীবী নারীদের ঘরে থাকারও নির্দেশ দিয়েছে তালেবান।

তালেবান ক্ষমতায় আসলে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে এ বিষয়ে মন্তব্য এসেছে সরকার থেকেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছেন, জনগণের সরকার গঠন করলে তালেবানকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে বাংলাদেশ। তিনি এটাও জানান, যে সামর্থ্য থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ অনুযায়ী বিপদে পড়া আফগান নাগরিকদের গ্রহণ করতো ঢাকা

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

জাজিরা-শিমুলিয়া ফেরি চালুর দাবিতে গণঅনশন

ফেরি চালুর দাবিতে অনশন। ছবি: নিউজবাংলা

দীর্ঘ ২৩ দিনেও ঘাট চালু জাজিরা ফেরিঘাট; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালুর দাবিতে মঙ্গল মাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে চলছে গণ-অনশন।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটি নামের সংগঠন শনিবার সকাল ৯টা থেকে এই অনশন করছে। সংগঠনের বক্তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলবে।

পদ্মা সেতুতে বারবার আঘাতের কারণে গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এতে জরুরি যানবাহনের চলাচল নিয়ে বিপাকে পড়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এ পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুকে এড়িয়ে সেতুর ভাটিতে নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট জাজিরা প্রান্তে ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘাটে স্থাপন করা হয় নতুন পন্টুন।

দীর্ঘ ২৩ দিনেও সেই ঘাট চালু হয়নি; শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নৌপথ ব্যবহারকারীরা। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও জরুরি ছোট যানবাহন পারাপারে ফেরি চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছেন তারা।

পদ্মা সেতু রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জামাল মাদবর জানান, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। সেই সেতুকে ফেরির আঘাত থেকে রক্ষার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচল করবে। সেই জন্যই নির্মাণ করা হয় ঘাট।

‘তবে শুধু আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের ফেরি চলাচল শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আমরা এর আগে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান কর্মসূচি। দাবি মানা না পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির বিচারের দাবি

আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর মানবন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরে দুর্নীতি ও অনিয়মকারীদের বিচারের দাবিতে মানবন্দন হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ভুমিহীন আন্দোলন’-এর ব্যানারে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ তোলেন, এই প্রকল্পে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন। এ ছাড়া, ঘর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন অসহায় মানুষের এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম দেশের ভূমিহীনরা সহ্য করবে না। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় মৌলিক অধিকার যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীও

উপহারের ঘর নিয়ে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি নই। গরিবকে ঘর করে দেব, সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে?’

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে ভূমিহীনরা খুশি হয়েছিল। প্রয়োজনের তুলনায় ঘরের সংখ্যা অপ্রতুল হলেও কয়েক জেলায় এই ঘর ভূমিহীনদের মাঝে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর না পেয়ে প্রভাবশালীরা ঘর পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে তারা এখন সে ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। জীবন রক্ষার আশ্রয়স্থল এখন জীবননাশের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বরাদ্দের হিংসভাগ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন হাতুরি-শাবল দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ভেঙেছেন। আমরা দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্ত সকলের পরিচয় জাতির কাছে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়।

০১. প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।

০২. স্থানীয় সরকার নির্দলীয় হতে হবে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করতে হবে।

০৩. প্রত্যেক জেলার খাসজমি বণ্টন কমিটিতে ভূমিহীনদের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।

০৪. প্রত্যেক জেলায় কল-কারখানা গড়ে তুলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

০৫. জাতপাতের নামে শ্রেণি বৈষম্য দূর করে মেহনতি জনতাকে বিভক্তিকরণ নীতি বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল আমীন, কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুল রহমান লুৎফর, সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ভূঁইয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক খালেদুজ্জামান পারভেজ বুলবুলসহ বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায়। এই নিয়ে প্রায় সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে পৌঁছাল।

চীনের সিনোফার্ম উৎপাদিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির আরও ৫০ লাখ ডোজ দেশে পৌঁছেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আবু জাহের বিমানবন্দরে এসব টিকা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে এলো।

ঢাকায় চীনের দূতাবাস থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে টিকার এই বড় চালান। নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেশে পৌঁছায়। এর আগে ৫৪ লাখ ও ৫০ লাখ ডোজের আর দুটি টিকার বড় চালান বাংলাদেশে পাঠায় সিনোফার্ম।

বাংলাদেশে করোনারোধী চলমান টিকা কার্যক্রমে যেসব ব্র্যান্ডের টিকার প্রয়োগ চলছে তার বেশির ভাগই সিনোফার্মের।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বণ্টনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গড়া তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব টিকাই প্রতি সপ্তাহে ৫০ লাখ ডোজ করে পাঠাচ্ছে চীন।

বাংলাদেশ টিকা কার্যক্রমের শুরুটা করেছিল ভারতে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। এর ফলে গণটিকাদান কর্মসূচি কিছুদিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার।

সিরাম থেকে টিকা না পেয়ে টিকার বিকল্প উৎসেন সন্ধানে নামে বাংলাদেশ। এতে চীন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। দেশটি থেকে সিনোফার্মের মোটা দাগের টিকা কেনার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনেরও চুক্তি করে সরকার, যা পক্রিয়াধীন।

চীনের পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকেও দফায় দফায় টিকা পাচ্ছে সরকার। সংকট কেটে যাওয়ায় টিকা প্রদানের আওতাও বাড়ানো হয়েছে। বয়স সীমা দফায় দফায় কমানো হয়েছে। ১৮ বছর বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বাস। ছবি: মাহফুজ নান্টু/কুমিল্লা

মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস নাথের পেটুয়ামুখী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে চারজন নিহত ও একজন আহত হন।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে উপজেলার নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার খবর আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে শুরুতে বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক্টরের আংশিক সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের পরই বাসটি সামনে এগিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশের গর্তের দিকে টেনে নেয়। এরপর অটোরিকশাটির ওপর উঠে যায় বাস।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুল কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়েছেন। বাসের যাত্রীরা হতাহত হননি। অটোরিকশায় থাকা আহত আরোহীদের আশপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা গেছে ঘটনাস্থলেই।

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া জরুরি নোটিশ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের তৃতীয় দিন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের অফিসে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

নোটিশে ইভ্যালি বলেছে, ‘সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালি এমপ্লয়িগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

‘হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘দারুণ ভদ্রতার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া যেতে পারে। ইভ্যালি এই ঘোষণার সঙ্গে এটা শিখিয়ে দিলো। আপনারা সবাই বাসায় অফিস করেন। শুভ কামনা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আস্তা না রেখে কি পারি! ৭-৪৫ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবেন বলে অর্ডার নিয়ে ছয় মাস গেল কোনো খবর নাই। এখানেইতো আস্তা রাখার জায়গা। পুরা কপাল আমার কেন যে টাকাটা দিলাম!’

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। সঙ্গে রাখেন আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম এবং মধু রাখার বালতি। সংগ্রহ করেন মধু। আর এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এক মৌচাক ভাঙলে পাওয়া যায় ১৫-২০ কেজি মধু। শতভাগ খাঁটি ও বিশুদ্ধ মধু ক্রেতাকে পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দেন মামুন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের রতন বরিষ গ্রামে।

২০১৯ থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন মধু সংগ্রহের কাজ। তবে গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়ি চলে আসেন তিনি। পরে নিজের এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই আবার শুরু করেন মধু সংগ্রহ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

তবে মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাকের মধু সংগ্রহ করা গেলে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। অনলাইনে মধু বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

মামুন জানান, মূলত মৌমাছিরা নিজেদের খাদ্য হিসেবেই মধু ফুল থেকে আহরণ করে। ফুলের মধ্যে নেক্টার নামের এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে। প্রথমে ফুল থেকে এই নেক্টার কর্মী মৌমাছিরা পান করে তাদের দেহের মধু থলিতে সংরক্ষণ করে মৌচাকে নিয়ে যায়। পরে মৌচাকে থাকা মৌমাছির মুখে দিয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা। এরপর মৌচাকের মৌমাছিগুলো ফুলের রসের সঙ্গে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বেশ কয়েক ধরনের এনজাইম যোগ করে মৌচাকে সেগুলো জমা করে।

মধু শক্তি প্রদানকারী খাদ্যগুলোর মধ্যে একটি। দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। প্রাকৃতিক মধুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

মামুন বলেন, ‘মধু সংগ্রহের কাজে সহযোগী হিসেবে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন। আমরা সারা বছর গ্রামগঞ্জে সাইকেল চালিয়ে প্রাকৃতিক চাকের মধুর সন্ধান করি। কোথাও মধুর সন্ধান পেলে ছুটে যাই সেখানে। মধু সংগ্রহ করার সরঞ্জাম সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। এরপর চোখ খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে আমাদের একজন মৌচাক কাটি। সঙ্গে রাখা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা মধু সংগ্রহ করি।’

এই উদ্যোক্তা জানান, শীতকালে প্রকৃতিতে ফুল বেশি ফোটে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এই সময়েই মৌচাকগুলোতে মধুও বেশি পাওয়া যায়।

মধু চেনার সঠিক উপায়ও জানালেন মামুন। বলেন, ‘মানুষ মধু কিনতে গিয়ে ব্যাপক সংশয়ে পড়েন। মধু চেনার বেশ কিছু প্রচলিত উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। চুন দিয়ে পরীক্ষা, ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা, পিঁপড়া দিয়ে পরীক্ষা-এগুলো আসলে সঠিক উপায় না।

‘আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য মধুতে আগুনে জ্বেলে ও পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখান। এগুলো মধু চেনার সঠিক উপায় নয়। একমাত্র ল্যাবটেস্টই আসল মধু চেনা যায়। তবে আসল মধুর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে যেটি অনুধাবন করা যায়।’

আরও পড়ুন:
আফগান সংকট সমাধানে পাকিস্তানকে লাগবেই: যুক্তরাষ্ট্র
৯/১১ হামলায় লাদেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: তালেবান
তালেবানকে স্বীকৃতি এখনই নয়: যুক্তরাষ্ট্র
তালেবানের প্রধান নেতা আখুন্দজাদা কোথায়
আফগানিস্তানে নিরাপদে আছেন ১৫ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন