ফিরে এসেছে ৩১ প্রজাতির বিলুপ্ত মাছ

ফিরে এসেছে ৩১ প্রজাতির বিলুপ্ত মাছ

নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিলুপ্ত প্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি। সেটা আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি।’

বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশে বিলুপ্ত প্রায় ৩১ প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বলেছেন, এসব মাছ সারা দেশে চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১’ উপলক্ষে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন মন্ত্রী।

মৎস্য খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিলুপ্ত প্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি। সেটা আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি।’

ফিরিয়ে আনা এসব মাছের মধ্যে রয়েছে পাবদা, গুলশা, টেংরা, শিং, মাগুর, গুজি আইড়, চিতল, বৈরালী, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, বাটা, দেশি সরপুঁটি, কালিবাউশ, কই, গজার ও গনিয়া।

মন্ত্রী জানান, মাছ চাষে পরিবর্তনের প্রধান কারণ প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা।

তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। জাটকা নিধন বন্ধ করার সুফল আমাদের সামনে দৃশ্যমান। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে।’

‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’ প্রতিপাদ্যে ২৮ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হবে।

শ ম রেজাউল বলেন, ‘করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমাদের অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। স্বল্প আয়ের চাকরি বা ব্যবসা যারা করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট ৮৫ লাখ ৩ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়। বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ধীর গতিসম্পন্ন হলেও বিগত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা ৯.১ শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপদানকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থান।’

মন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে রোববার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। আর রাষ্ট্রপতি ৩১ আগস্ট বঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি, মো. তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

রাজৈর পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকায় বসানো ৫ শতাধিক সৌরবাতির অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। নিউজবাংলা

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে রাজৈর পৌরসভার সড়কে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি বসায় পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকে বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভায় ৫ শতাধিক সৌরবাতি বসানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। এগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। অনেক বাতির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সড়ক অন্ধকার থাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পৌর মেয়রের দাবি, জনবল সংকেটের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না সড়ক বাতিগুলো।

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রায় ৫১৭টি সৌরবাতি স্থাপন করে পল্লী-দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। খরচ হয় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকেই বাতিগুলো নষ্ট হতে থাকে। বেশ কিছু সড়কের বাতি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। সৌরবাতি ঠিকমত জ্বলছে কি-না মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও স্থাপনের পর কোনো খোঁজই রাখেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ রাজৈর পৌরসভা। ফলে সন্ধ্যা হলে সড়কে আঁধার নেমে আসে।

যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল, তা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই পৌরবাসীর।

পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কুন্ডুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইট-সুরকির রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি সৌরবাতির খুঁটি মাটিতে পড়ে আছে। খুঁটির সঙ্গে বাতি, তার ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য যন্ত্রাংশও পানি-কাদায় লেপ্টে আছে। কিছু খুঁটি দাড়িয়ে থাকলেও সেখানে বাতি অকেজো। কোনোটাতেই আলো জ্বলার ব্যবস্থা নেই।

এলাকাবাসী জানান, সৌরবাতি বসানোর কিছু দিন পর থেকেই আর বাতি জ্বলেনি। পৌরসভাকে বার বার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

৫ কোটি টাকার সড়কবাতি জ্বলে না

পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে একই চিত্র।

পৌরসভার মজুমদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা পলাশ ফরাজী বলেন, ‘কোথাও সৌরবাতির খুঁটি পড়ে আছে, কোথাও খুঁটি চুরি হয়ে গেছে। নির্মাণের পর আর এসব বাতি কখনই জ্বলে নাই। সাবেক মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সির আমলে কাজটি হয়েছে। এটা কীভাবে হলো আমরা বুঝি না।’

দীঘিরপাড় এলাকার রিপন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে সৌরবাতির খুঁটি পড়ে থাকতে দেখছি। কেউ কোনো দিন খোঁজ খবরও নেয় নাই কেন এসব এভাবে পড়ে আছে। এতো দামি জিনিসপত্র পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কাগজে-কলমে পৌরসভার মধ্যে ৫১৭টি সৌরবাতি লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু তার অর্ধেক বাতিও লাগানো হয়নি। তারপরেও যেসব সৌরবাতি লাগানো হয়েছে, তার অধিকাংশই নিন্মমানের। যে কারণে লাগানোর কিছু দিন পরেই সে সব বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সড়ক অন্ধকারই হয়ে আছে।’

নাঈম হোসেন নামে এক এলাকাবাসী বলেন, ‘অন্ধকারে রাস্তার মোড়গুলো দেখা যায় না, যার ফলে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। যদি মোড়ে মোড়ে বাতিগুলো ঠিক মতো থাকত, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা কম হত। এ ছাড়া চুরি-ডাকাতিও বেড়ে গেছে। আলো থাকলে এমন হত না।’

রাজৈর পৌরসভার সচিব মো. মাসুদ আলম জানান, ‘২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সব বাতি লাগানো হয়েছিল। তারপরের দুই বছর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মেরামতের দায়িত্ব ছিল। এরপর রাজৈর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। তবে ৬০ শতাংশ বাতি সচল আছে আর ৪০ শতাংশ বাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়ত নষ্ট হয়ে গেছে, যা মেরামতের চেষ্টা চলছে।’

অভিযোগের বিষয়ে রাজৈর পৌরসভার মেয়র নাজমা রশিদ বলেন, ‘বতমানে রাজৈর পৌরসভায় জনবলের অভাব রয়েছে। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মাধ্যমে বাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করেছিলাম। তাতেও তেমন কোনো ফল আসেনি।’

নাজমা রশিদ আরো বলেন, ‘যে কোম্পানি এই বাতিগুলো স্থাপন করেছিল, আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তাদের টেকনিশিয়ান দিয়ে নষ্ট বাতিগুলো ঠিক করা যায় কি না। তবে আমি নতুনভাবে সড়কবাতি স্থাপন করার জন্য আরো একটি প্রকল্প দিয়েছি। এটা কার্যকর হলে রক্ষণাবেক্ষণে আর সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উফলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

অল্প সময়ের মধ্যে আইন করে নির্বাচন কমিশন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী জানতে চান, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ডা. রাজ্জাক বলেন, ‘আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন ৫২ জনের মত বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তারা পেশায় খুবই দক্ষ, বিবৃতি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করতে হবে। আমি স্বীকার করি, আমাদের সংবিধানে আইনটি রয়েছে।

‘কিন্তু আজ পর্য়ন্ত এই বিএনপি স্বৈরাচাররা, এরশাদ ২৭ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কোনো আইন করেনি। আমরাও করতে পারি নাই। তার জন্য নির্বাচন বসে থাকবে না।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই দাবি করেন ১৯৯১ সালে খুবই সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালে অনেক সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তখন কী কোন আইন ছিল?

‘আজকে যে বুদ্ধিজীবিরা বিবৃতি দিয়েছেন আপনারা মেধাবী, পেশায় দক্ষ; আমি আপনাদের সম্মান করি। সঙ্গে এটিও বলতে চাই, আপনারা যে নির্বাচন কমিশনের কথা বলছেন, আইন করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কী মানুষ (নিরপেক্ষ) আবিষ্কার করব? আমাদের মাঝ থেকেই করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন তাকে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘এখানে পয়েন্ট হলো- নির্বাচন কমিশনে যখন যাবে, যে নির্বাচন কমিশনার সে শপথ নেবে, তার একটি কথাই থাকবে জাতিকে তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। যে শপথ করে তার তো দায়িত্ব সেটি পালন করার। নির্বাচনের সময় সকল ক্ষমতা থাকে তার হাতে। সরকারের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। কাজেই নির্বাচন কমিশন যদি ব্যর্থ হয় তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব?’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে যারা প্রধান বিচারপতি থাকেন তারা যেদিন শপথ নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে, সেদিন থেকে তারা নিরপেক্ষ। এটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কাজেই নিরপেক্ষ যদি কেউ না থাকে সে দায়িত্ব আমরা নেব না।’

গণতান্ত্রিক দেশে কোথাও তত্বাবধায়ক সরকার হয় না বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারের সময়ে নির্বাচন হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’

আলোচনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সভাপতির বক্তব্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের আলোকবর্তিকা। মুকুট ধন্য হয় যে মণিতে শেখ হাসিনা সেই মণি।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজমসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুতে চার সপ্তাহে ১৯ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে চার সপ্তাহে ১৯ মৃত্যু

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। এতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯০ জনে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের।

চলতি মাসের চার সপ্তাহে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে মোট ভর্তি হওয়া রোগী ৭ হাজার ৪৩৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯০ জনে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ১৬৭ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৭১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন ৯৫৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩৬ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। আগের সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি মাসের চার সপ্তাহে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় আসামির ৭২ বছর কারাদণ্ড

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধু মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় এক আসামিকে ৬০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুস্তুম আলী এ রায় দেন। রায়ে আসামিকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দণ্ডিত মোমিন আকন্দ সদর উপজেলার ধারকি বড়াইল পাড়ার মামুন আকন্দের ছেলে।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মোমিন ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় স্কুলগেটের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে মোমিন ও তার ৬ সহযোগী অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তিন মাস পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ শুধু মোমিনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রায় দেয়। রায়ে আসামি মোমিনকে অপহরণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ধর্ষণের দায়ে ৩০ বছর জেল ও ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

সরকারপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু আদালতের আইনজীবী ফিরোজা চৌধুরী। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেনা কবির।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ছবি: নিউজবাংলা

মিছিল শেষে ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ৭৫’ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া দেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।

আনন্দ মিছিলটি মঙ্গলবার সংসদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসে শেষ হয়।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।

এ সময় নেতা-কর্মীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
মিছিলে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন; ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি আল-নাহিয়ান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ৭৫’ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া দেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দেশপ্রেম, সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আজ বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু নিজেকেই নন, বিশ্ব দরবারে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
সভাপতি আল-নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বহু চড়াই-উতরাই, বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে দেশে এসেছিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

‘সেদিন তিনি এসেছিলেন বলেই আজ জাতির পিতার সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি জাতি। ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় তিনি বাংলার মানুষের প্রিয় এক ভগিনী, অতি আপনজন এবং একজন মমতাময়ী মা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নতিকে রাজনৈতিক ধ্যানে-জ্ঞানে রেখে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে তাঁর নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক শেখ হাসিনার জন্মদিনে সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ভোটার হয়ে টিকা নিলেন সন্তু লারমা

ভোটার হয়ে টিকা নিলেন সন্তু লারমা

জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। ফাইল ছবি

বলা হয়ে থাকে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এতোদিন ভোটার তালিকায় নাম লেখাননি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

বলা হয়ে থাকে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এতোদিন ভোটার তালিকায় নাম লেখাননি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

আর এই কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, হয়নি ভোটাধিকার প্রয়োগ।

করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান থেকে সড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ভাইরাসটির প্রতিষেধক নিতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ায় ৭৭ বছর বয়সে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ইতোমধ্যে নিয়েছেন করোনার টিকাও।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সন্তু লারমা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময়ে নির্বাচন থাকায় তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা যায়নি। পরে ২৯ আগস্ট রাঙামাটি জেলা নির্বাচন অফিসে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাননি। তবে ইতোমধ্যেই ভোটার হয়ে গেছেন।’

ভোটার হওয়ার পর সন্তু লারমা ইতোমধ্যে করোনা টিকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা।

এ বিষয়ে সন্তু লারমা ও তার সংগঠনের কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়। এর শর্ত অনুযায়ী ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে শান্তিবাহিনীর গেরিলা জীবনের অবসান ঘটে সন্তু লারমার।

পরবর্তীতে পার্বত্য চুক্তির শর্তে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সন্তু লারমাকে মনোনীত করে সরকার।

১৯৪৪ সালের রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলার মহাপুরম গ্রামে সন্তু লারমার জন্ম।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে

সোমবার রাতে নালায় পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়াস ফার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার মৃত্যুর জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অবহেলকে দায়ী করছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সাদিয়া যেখানে নালায় পড়ে যান সেই আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকা মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পরিদর্শন শেষে এই অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘অবহেলার জন্য, অসতর্কতার জন্য এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নালার পাশে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনি) থাকলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটত না। সিটি করপোরেশনের রেলিং ছিল নালার ওপরে। নালায় স্ল্যাবও ছিল, তবে সিডিএ কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা ঘটছে।’

সিটি মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘যে কোনো উন্নয়ন কাজ করতে গেলে মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। সিডিএর কাজের কারণে সব ময়লা গিয়ে নালায় পড়ছে। তাই নালায় ময়লা জমে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে সিডিএ। এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই। তাই কাজের সময় সবকিছু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।

‘যেসব সংস্থা উন্নয়ন কাজ করছে তাদের উচিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া। মানুষের জন্যই তো উন্নয়ন। মানুষকে রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন কীভাবে হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে স্ল্যাব বসানোর এখন কোনো সুযোগ নেই। এসব স্থানে সিটি করপোরেশনের স্ল্যাব ছিল। কিন্তু সিডিএ ফুটপাত কেটে ফেলেছে। ফুটপাত ছিল ছয়ফুটের মতো। কিন্তু কেটে সিডিএ দুই-আড়াই ফুট করে ফেলছে। এখানে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু নালায় কোনো ধরনের স্ল্যাবও দেয়নি।

‘দুদিন আগেও কথা সিডিএর সঙ্গে হয়েছে। তাদের বলেছি দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত মানুষ চলাচল করতে পারতেছে না। রাস্তাটা সংস্কার করে দেন। তারা ইটের সুরকি ফেলার কথা বলছে।’

মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে সিডিএর অথোরাইজড অফিসার মো. হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে প্রধান ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় ছিলাম, বিষয়টা সম্পূর্ণ জানি না। তাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না এখন। আগে তো পুরো বিষয়টা আমার জানতে হবে, তিনি (মেয়র) কী বললেন সেটাও জানতে হবে ডিটেইলস।’

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় সোমবার রাত ১০টার দিকে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়া।

সাদিয়া নগরীর বড়পোল এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ত।

ফায়ার সার্ভিস রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে ওই নালা থেকেই মরদেহটি উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক নিউটন দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন আমাদের ডুবুরিরা। সন্ধ্যা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ড্রেনে পানি জমে ছিল। তা ছাড়া ড্রেনটিতে ময়লার স্তূপ রয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সাদিয়ার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।’

নালায় পড়ে মৃত্যু: মেয়র দুষলেন সিডিএকে
সাদিয়াকে খুঁজতে নালায় নামে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সাদিয়ার চাচাতো ভাই মো. রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামা জাকির হোসেন আর নানার সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে বের হয় সে। ফেরার সময় আগ্রাবাদ মাজার গেটের পাশে ড্রেনে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মামা জাকির এবং নানাও লাফ দেন ড্রেনে। কিন্তু তারা উদ্ধার করতে পারেননি।’

মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মারধর করে মরদেহ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন নিউটন দাশ।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের সদস্যদের মারধর করে মরদেহটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেছেন। এ সময় আমাদের এক কর্মীর মোবাইল ফোনও হারিয়ে গেছে।’

ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদিয়ার চাচা বেলাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সাদিয়া পড়ে গেছে ১০টায়, আমি খবর পেয়েছি সাড়ে ১০টায়। আমরা আসার পরও দেখি ফায়ার সার্ভিস আসেনি। খোঁজাখুঁজি করছি নিজেরা, অনেকক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস আসে। এখানকার কাউন্সিলরের অফিস খুব একটা দূরে না, তিনি পর্যন্ত একটু খবর নেননি।’

অভিযোগ নাকচ করে নিউটন দাশ বলেন, ‘আমরা সোয়া ১০টায় খবর পেয়ে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। গণমাধ্যম কর্মীরা দেখেছেন, অনেকে লাইভেও ছিল। এখন বলেন, তারপরও কেউ যদি এভাবে বলে, আমাদের তো কিছুই করার নেই।’

এই ঘটনার আগে ২৫ আগস্ট নগরীর মুরাদপুর এলাকায় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সবজি ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ। এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি।

তার আগে ৩০ জুন নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা চশমা খালে পড়ে এক নারীসহ ২ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
কাকিলাও চাষ হবে পুকুরে
মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন