লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি

লকডাউনে কাজে ফেরা শ্রমিকদের ভাতা দেয়ার দাবি

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে করোনার সময়ে পোশাক শিল্প ও শ্রমিকদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা। ছবি: নিউজবাংলা

আইবিসির সাবেক মহাসচিব তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শ্রমিকদের নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই। ওরা মজদুর, খেটে যাওয়ার জন্য যাদের জন্ম, তাদের আবার দুঃখ কিসের। ভ্যাকসিন দেবার বর্তমান সিদ্ধান্ত গত বছর নিলে শ্রমিককে ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে হত না। তবে এখনও পর্যন্ত পোশাক শিল্পের শ্রমিকদেরকে কারখানা পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেয়ার গতি সন্তোষজনক নয়।’

লকডাউনে কাজে ফেরা পোশাক শ্রমিকদের জন্য তিন হাজার টাকা ভাতা দেয়াসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে করোনার সময়ে পোশাক শিল্প ও শ্রমিকদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়।

সভায় আইবিসির সাবেক মহাসচিব তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘সরকার প্রণোদনার অর্থ মালিকদের দিয়েছে। সরকার করোনার সময় শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদনে থাকা শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সাশ্রয় করার অংশ হিসাবে ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্য তেলসহ শিশু খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বা প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহারের অংশ হিসেবে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিতে পারতেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শ্রমিকদের নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই। ওরা মজদুর, খেটে যাওয়ার জন্য যাদের জন্ম, তাদের আবার দুঃখ কিসের। ভ্যাকসিন দেবার বর্তমান সিদ্ধান্ত গত বছর নিলে শ্রমিককে ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে হত না। তবে এখনও পর্যন্ত পোশাক শিল্পের শ্রমিকদেরকে কারখানা পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেয়ার গতি সন্তোষজনক নয়।’

সভায় আইবিসির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা শুরু না হওয়াটা দুঃখজনক। শ্রমিকের সংগঠিত হয়ে কথা বলার অধিকার, জীবনমান উন্নয়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবনযাপন উপযোগী মজুরি প্রদানের নিশ্চয়তাই দিতে পারে কর্মক্ষম শ্রমিক, যারা আগামী দিনের করোনামুক্ত বিশ্বে পোশাক শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রাখবে।’

বর্তমানে করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছু সুপারিশও করেছে আইবিসি:

১। দ্রুততার সঙ্গে সব শ্রমিককে টিকা দিতে হবে।

২। লকডাউনের সময়ে আকস্মিক কর্মস্থলে আসা শ্রমিকদের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ভাতা দিতে হবে।

৩। টিকা দেয়ার আগে পর্যন্ত সকল শ্রমিককে ২৫ শতাংশ ঝুঁকি ভাতা এবং সরকার ঘোষিত কোনো লকডাউনে কাজ করলে ৫০ শতাংশ ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।

৪। সব ধরনের ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। আগে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

৫। লকডাউনের সময় সমন্বয়ের নামে জেনারেল ডিউটি বন্ধ এবং আগের করানোর সময়ে ডিউটির ওভারটাইম দিতে হবে। কোনো কারখানার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৬। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে শিল্পাঞ্চলে ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি এবং শিশুখাদ্য বিক্রির ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে ব্যবসার নৈতিকতা বজায় রেখে দেশীয় মালিকদের সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে। শিল্পটি যেহেতু বৈশ্বিক তাই শ্রমিকদের বা শিল্পের কোনো সংকটে কার্যাদেশ স্থগিত, বাতিল বা মূল্য হ্রাসের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮। করোনার সময়ে কোনো কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই বা অসন্তোষ দেখা দিলে আলোচনার টেবিলে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোনোভাবেই শ্রমিক বা নেতাদের আসামি করে ফৌজদারি মামলার মাধ্যমে উত্তেজনা উসকে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৯। শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ এবং সরকার কে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সংলাপের মাধ্যমে প্রণিত সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

১০। শ্রমিকদের নিজস্ব কণ্ঠ সোচ্চারে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং যৌথ দর-কষাকষির সুযোগ দেয়ার পরিবেশ সরকার এবং মালিকদেরকে নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর’

‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর’

স্কলাস্টিকা স্কুলের শিক্ষক ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবিতে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক ইমতিয়াজ ফারুক বলেন, ‘ইভানার মৃত্যুর ঘটনার পেছনে কারা জড়িত সেটি সামনে আসুক। সেটাই আমরা চাই। এভাবে যেন আর কোনো ইভানাকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। সেজন্য তার মৃত্যুর পেছনে জড়িত কেউ থাকলে তাকে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠি ও সহকর্মীরা।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভায় এ দাবি করেন তারা। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর। আমরা শুধু বিচার চাই।’

ইভানার মৃত্যুর পূর্বে ও পরের ঘটনাগুলোর তদন্তের দাবি তোলা হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।

সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সম্পাদক ইমতিয়াজ ফারুক বক্তব্যে বলেন, ‘ইভানার মৃত্যুর ঘটনার পেছনে কারা জড়িত সেটি সামনে আসুক। সেটাই আমরা চাই। এভাবে যেন আর কোনো ইভানাকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। সেজন্য তার মৃত্যুর পেছনে জড়িত কেউ থাকলে তাকে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

আইনজীবী জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘ইভানাকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো, কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন আমরা এ প্রশ্নের জবাব চাই।’

আইনজীবী তামান্না ফেরদৌস বলেন, ‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর। আমরা শুধু ইভানার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই। ইভানার আত্মহত্যার পেছনে কারা জড়িত সেটা প্রকাশ করুন।’

প্রতিবাদ সমাবেশে ইভানার সহপাঠি, সহকর্মীরা আইনজীবীরাও অংশ নেন। এ প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে উদিচি শিল্পী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পরিবাগ থেকে স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সেলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুটি ভবনের মাঝখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী (৩২) স্কলাস্টিকা স্কুলের উত্তরা ও মিরপুর শাখার ইউনিভার্সিটি প্লেসমেন্ট সার্ভিসের প্রধান ছিলেন।

ইভানার মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় ইভানার পরিবারের পক্ষ থেকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে ল্যাব বসলেও শুরু হয়নি পরীক্ষা 

বিমানবন্দরে ল্যাব বসলেও শুরু হয়নি পরীক্ষা 

বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করা হলেও পরীক্ষা শুরু হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রী আইনজীবী মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সব কাজ এগিয়ে নিয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসওপি দিলেই আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু করতে পারব ৷’

প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা শনাক্তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে আরটি-পিসিআর ল্যাব।

ল্যাবগুলোতে মঙ্গলবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু করার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আইনজীবী মাহবুব আলী।

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসওপি না পাওয়ার কারণে নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না।’

তবে কবে শুরু হতে পারে সেটি জানাতে পারেননি তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সব কাজ এগিয়ে নিয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসওপি দিলেই পরীক্ষা শুরু করতে পারব৷’

তবে একাধিক ল্যাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দিতেই মূলত এই সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা চাইব না, আমাদের কোনো কাজের জন্য দেশের মানুষের ক্ষতি হোক, প্রবাসীরা দিনের পর দিন দেশে আটকে থাকুক।’

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে বাংলাদেশের যাত্রীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে তারা। তবে ভ্রমণের ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে- এমন শর্ত জুড়ে দেয় দেশটি।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও ছয়দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ি চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অ্যাপভিত্তিক চালকরা বলেন, ‘গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।’

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার তারা মানববন্ধন করেন।

সেখানে বক্তারা বলেন, আধুনিক অ্যাপনির্ভর ‘রাইড শেয়ার’ পরিষেবা দিন দিন ব্যাপক হারে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করছে। রাইড শেয়ারিং পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল গ্রহণ করলেও চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কমিশন কেটে নেয়।

তারা অভিযোগ করেন, গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। তার ওপর বিনা কারণে কিছু কোম্পানি অ্যাপ বন্ধ করে তাদের কর্মহীন করছে।

তারা আরও বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।

‘এদিকে মাস শেষে ধার-দেনা করে গাড়ি মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে, আর বছর শেষে তুলতে হচ্ছে লোন। এর মধ্যেই সরকার রাইড-শেয়ারিং এনালিস্টকৃত যানবাহনগুলোর ওপর অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) চাপিয়ে দিয়েছে।’

তাদের দাবিগুলো হলো-

. অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কর্ম সময়ের মূল্য দিতে হবে।

. সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

. মিথ্যে অজুহাতে তাদের কর্মহীন করা যাবে না।

. রাইড শেয়ারিংয়ের আওতাভুক্ত যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থা করতে হবে।

. পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

. রাইড শেয়ারকারী যানবাহনকে অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স মুক্ত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

ডিবির হাতে আটক মুফতি ইব্রাহীম

ডিবির হাতে আটক মুফতি ইব্রাহীম

মুফতি কাজী ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ছিল। তিনি ফেসবুক, ইউটিউব ও ওয়াজে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। তার এসব কথার জন্য মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যায়। ওই সব অভিযোগ যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছি, তিনি এসব কেন করেন।’

আলোচিত-সমালোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার পর ডিবির একটি বিশেষ দল তাকে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুফতি ইব্রাহীমকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ‘মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ছিল। তিনি ফেসবুক, ইউটিউব ও ওয়াজে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। তার এসব কথার জন্য মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যায়। ওই সব অভিযোগ যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছি, তিনি এসব কেন করেন।’

মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না সেটা আমরা জানার চেষ্টা করছি। আর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি উল্টা-পাল্টা কথা কেন বলেন, সেটার উত্তর জানতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার উত্তরের ওপর ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ভর করছে।’

সোমবার রাত ১টার পর মুফতি ইব্রাহীম তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। প্রায় ২০ মিনিটের লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডে তার বাসায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। তিনি আশপাশের সবাইকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

লাইভে ইব্রাহীম জানান, দেশের সরকার ও জনগণের কল্যাণে, দেশের স্বাধীনতার জন্য গত দুই জুমার নামাজে খুতবা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে হিন্দুস্তানি রাজাকার ও তাদের এজেন্টরা তার পেছনে লেগেছে। মাঝরাতে বাসায় হামলা করেছে।

সেই লাইভে মুফতি ইব্রাহীম বঙ্গবন্ধুর মতো স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম দেশকে স্বাধীন করার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম দেশকে হিন্দুস্তানি রাজাকার মুক্ত করার সংগ্রাম।’

‘দেশের পক্ষে কথা বললেই রাজাকাররা আমাদের ওপর হামলা করে, মামলা দিয়ে হয়রানি করে। দুই সপ্তাহ দেশের পক্ষে কথা বলেছি, আর সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তারা বলে হুজুর আপনার নামে মামলা আছে। এরা সকলেই হিন্দুস্তানি দালাল। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

মুফতি ইব্রাহীমের ফেসবুক লাইভ শেষে রাত ২টার কিছু পর থেকে তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, ডিবি হেফাজতে আছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে নারীর মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে নারীর মৃত্যু

সবুজবাগ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানায়, ওই নারী মায়াকানন মসজিদ এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলা থেকে একটি ইট তার মাথার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।’

রাজধানীর সবুজবাগের মায়াকানন মসজিদ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে মাথার ওপর ইট পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম ফুলি বেগম। তার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার পশ্চিম নয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে সবুজবাগের মায়াকানন এলাকাতে ভাড়া থাকতেন তিনি। স্থানীয় বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সবুজবাগ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম আলী।

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানায়, ওই নারী মায়াকানন মসজিদ এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলা থেকে একটি ইট তার মাথার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।’

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী

‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান মঞ্চে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর পর্দা নামল বর্ণাঢ্য সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে সোমবার রাত ৮টার দিকে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত ৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, আবদুল মোনেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন মোনেম, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর অনুরাগের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় অর্জনগুলোর পেছনে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে ১২ বছর আগে বাংলাদেশ ছিল স্বল্পোন্নত দেশ, মাথাপিছু আয় ছিল বিশ্বের মধ্যে অনেক কম, বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্র্যের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল।

‘আর এখন চাষযোগ্য জমি অনেক কমলেও বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। এত জনঘনত্ব ও কম কৃষিজমির পরেও কীভাবে বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হতে পেরেছে তা নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় বিস্মিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো জাদু নয়, বরং শেখ হাসিনার জাদুকরি নেত্বত্বের কারণেই বাংলাদেশ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে এগিয়ে রয়েছে। করোনা মহামারির সময়েও বাংলাদেশের জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি সেটি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। আগামীতেও ড. নাফিজ সরাফাত এ ধরনের আয়োজন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল

জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট এমন একজনের নামে আয়োজিত হয়েছে যিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার রোল মডেল।

‘মিয়ানমারের নিপীড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের সামনে রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।’

ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘সর্বকালের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ নেতাদের একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, “একজন নেতাকে সব সময় মানুষ তার সাফল্যের গল্পের কারণে অনুসরণ করে না। মানুষ নেতার উদাহরণ ও আদর্শকে অনুসরণ করে।

“মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির শরণার্থীদের আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়ার অনুমতি দেন। তিনি জানেন অন্ধকার দিয়ে অন্ধকারকে দূর করা সম্ভব নয়, আলো দিয়েই তা কেবল করা সম্ভব। পুরো বিশ্ব যখন ‘সবার উপরে মানবতা’ ধারণা সম্পর্কে নতুন করে ভাবছিল, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকে দেখিয়েছেন এর প্রকৃত অর্থ কী এবং সেটি করতে গিয়ে তিনি ‘মানবতার জননী’ হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছেন।”

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই এবং মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি। তার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম, তার জয় আমাদের জয়।’

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ অভিধা পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

পরে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সংকল্প গুপ্তসহ অন্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এ প্রতিযোগিতার। তবে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা শুরু হয় এক দিন আগেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। ওই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সে ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে এবারের টুর্নামেন্ট।

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় মোট নগদ ১৫ হাজার আমেরিকান ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল পুরস্কার ছিল ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন ৪০০০, রানার-আপ ২৫০০, তৃতীয় ১৫০০, চতুর্থ ১০০০, পঞ্চম ১০০০, ষষ্ঠ ১০০০, সপ্তম ১০০০, অষ্টম ১০০০ ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার আমেরিকান ডলার (প্রথম ৭০০, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০ এবং পঞ্চমকে ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন

মামলা দেয়ায় নিজের বাইকে আগুন দেন এক বাইকার।

‘আমি এইখান দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি বাইকের আগুন জাকির ভাই নিভাচ্ছেন। এখানে এসে শুনলাম সামনের কাটা রাস্তা দিয়ে বাইক ঘুরাচ্ছিলেন ওই বাইকার। ঘোরার সময় সার্জেন্ট গাড়ি চাপাইছে। চাপানোর পর মামলা দিতে চাইছেন। বাইকের ড্রাইভার অনেক অনুরোধ করছেন। কিন্তু সার্জেন্ট মামলা দিতে গেলে উনি নিজের বাইকে নিজে আগুন দেন। আগুন দেয়ার সাথে সাথে সার্জেন্ট দূরে সরে গেছেন।’

পুলিশ মামলা করতে উদ্যত হওয়ায় অ্যাপে চালানো একটি মোটরসাইকেলে বাইকারের আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড়।

সেখানে কী হয়েছিল, বলছে না পুলিশ, বাইকারের খোঁজও মিলছে না।

তবে ঘটনাস্থল গুলশান-বাড্ডায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজনকে পাওয়া গেল, যাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড দিয়ে গুলশানের পথে যাত্রা করে সেই বাইকার সড়ক বিভাজকের একটি ফাঁক দিয়ে উল্টো দিকের সড়কে চলে আসতে চান। সেই ফাঁক দিয়ে মূলত হেঁটে চলে মানুষ।

এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করা একজন সার্জেন্ট সেই বাইকারকে আটকে দিয়ে কাগজপত্র চান। তখন তিনি মামলা না দিতে আকুতি-মিনতি করেন। বলেন, বাইকে যাত্রী টেনে সংসার চালান। কিছুদিন আগেও একটি মামলা হয়েছে। টাকার অভাবে ভাঙাতে পারেননি। এখন আবার মামলা দিলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

কিন্তু সেই সার্জেন্ট তার অনুরোধে গা করেননি। তিনি মামলা করতে কোমরে থাকা পজ মেশিন বের করেন। সে সময় সেই বাইকার হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বাইক থেকে তেল বের করে আগুন ধরিয়ে দেন।

এরপর আর মামলা করেননি সার্জেন্ট। তবে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
বাইকের আগুন নেভানোর চেষ্টা করা ভাই ভাই জেনারেল স্টোরের মালিক জাকির হোসেন বলছিলেন ঘটনার বর্ণনা। ছবি: নিউজবাংলা

সেই বাইকারের নাম শওকত আলম সোহেল। তিনি কেরানীগঞ্জে থাকেন। স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। করোনার সময় ব্যবসায় লোকসান দেয়ার পর বাইকে যাত্রী টেনে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যে এলাকাটিতে শওকত তার বাইকে আগুন দিয়েছেন, তার পাশেই মুদি দোকান ‘ভাই ভাই জেনারেল স্টোর’। এর মালিক মালিক জাকির হোসেন তখন দোকানে বসা। ছুটে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দোকান থেইকা বাইর হইয়া দেহি, বাইকে আগুন জ্বলতেছে। সবাই দেখি ভিডিও করে, কেউ আগুন নিভায় না। পরে আমি ড্রাম থেইকা পানি দিছি। দেহি নিভে না। ওই লোক (শওকত) আমার গায়ে পর্যন্ত হাত উঠাইছে। পরে আমি জনতা ইনস্যুরেন্স থেইকা পাইপ টাইনা আইনা আগুন নিভাইছি।’

মিরাদুল মুনিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর সেটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকে আগুন দিয়ে শওকত উদভ্রান্তের মতো চিৎকার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একজন পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তখন তিনি এসে তাকেই বাধা দেন। বলেন, ‘কেউ যাবেন না, আপনারা কেউ যাবেন না।’

অন্য একজন শওকতকে বলেন, ‘ভাই মাথা ঠান্ডা করেন।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘আগুন নিভাইতে গেলে ওই লোক আমারে দুইবার বাধা দিছে। একবার গালি দিছে, গায়ে ধরছে। পরে আমার লগে শক্তিতে পারে নাই। চাপাইয়া দিছি। আগুল লাগলে আমার দোকান পুড়ত। জনতা ইনস্যুরেন্স পুড়ত। পেছনে আছে কাপড়ের দোকান।’

কেন নিজের বাইকে আগুন দিলেন সেই ব্যক্তি?

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
এই স্থানেই বাইকটিতে আগুন দেয় রাইডার শওকত। ছবি: নিউজবাংলা

জাকির বলেন, ‘সার্জেন্ট মামলা দেয়ার আগেই বাইকে আগুন দিছে। সার্জেন্ট মামলা দিতেই পারে। তার মানে আগুন লাগাইয়া দিবে? আপনি সার্জেন্টের সাথে কথা কন। এইখানে সকাল থেইকা সন্ধ্যা পর্যন্ত এক হাজার হোন্ডা থাহে।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জহির মিয়া বলেন, ‘আমি এইখান দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি বাইকের আগুন জাকির ভাই নিভাচ্ছেন। এখানে এসে শুনলাম সামনের কাটা রাস্তা দিয়ে বাইক ঘুরাচ্ছিলেন ওই বাইকার। ঘোরার সময় সার্জেন্ট গাড়ি চাপাইছে। চাপানোর পর মামলা দিতে চাইছেন।

‘বাইকের ড্রাইভার অনেক অনুরোধ করছেন। কিন্তু সার্জেন্ট মামলা দিতে গেলে উনি নিজের বাইকে নিজে আগুন দেন। আগুন দেয়ার সাথে সাথে সার্জেন্ট দূরে সরে গেছেন।’

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেই বাইকে আগুন
এক প্রত্যক্ষদর্শী বাইক পোড়ানোর বর্ণনা দিচ্ছেন জহির মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি আরও বলেন, “জাকির ভাই আগুন নিভাতে গেলে জাকির ভাইকে ওই বাইকার বলছিলেন, ‘এই মিয়া আমার বাইক নেয়ানো লাগবে না আপনার’। বকাঝকা করছেন। বাইক তো অকটেন, পেট্রলে চলে। হঠাৎ করে আগুন লেগে ব্লাস্ট হলে পাশের দোকান ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে আগুন লাগলে তো ক্ষতি হয়ে যেত।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার সুবীর রঞ্জন দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানির বিল্ডিংয়ের সামনে মোটরসাইকেল, বাস দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যানজট হয়। আজকে একটা মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে ছিল, সার্জেন্ট গিয়ে কাগজ চাইলে, ওই ভদ্রলোক কাগজ দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরিয়ে দেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দিয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘উনি ভেবেছিলেন মামলা হবে। মামলা হওয়ার আগেই আগুন দেন। উনি হতাশায় ছিলেন। যা থেকে উনি এমনটা করেছেন। আমি উনার সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যাররা নেবেন।’

আরও পড়ুন:
গলিত অ্যালুমিনিয়াম পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ, ৪ দিন পর ডোবায় করোনা রোগীর মরদেহ
খুলছে না লালনের আখড়া, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেই মায়ের ছেলেটি আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে
দেশে নাকে নেয়া টিকার ট্রায়ালের পরিকল্পনা সেপ্টেম্বরে

শেয়ার করুন