দাফনের ১৭ ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ কবরের উপর

দাফনের ১৭ ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ কবরের উপর

ইউপি সদস্য অসীম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্নি মারা যায়। দুপুরে নিদয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়। শুক্রবার সকালে খোঁড়া কবরের পাশে পাওয়া যায় মুন্নির মরদেহ৷ কাফনের কাপড়ও অনেকটা ছেঁড়া ছিল।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নের নিদয়া গ্রামে দাফনের ১৭ ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ পাওয়া গেছে কবরের উপর। কাফনের কাপড়ও অনেকটা ছেঁড়া ছিল। পরে মরদেহ ফের দাফন করা হয়।

কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অসীম কুমার জানান, নিদয়া গ্রামের খোরশেদ সরদার ও সফুরা দম্পত্তির ১৪ বছরের মেয়ে তানজিলা খাতুন মুন্নি। চার বছর আগে সফুরা খাতুনের দ্বিতীয় বিয়ে হয় একই গ্রামের আনজাম হোসেনের সঙ্গে। মুন্নি তার মায়ের সঙ্গে আনজামের বাড়িতে থাকত।

তিন বছর আগে মুন্নির স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। ছয় মাস আগে অসুস্থতা বেড়ে গেলে মাকে নিয়ে তার বাবা খোরশেদ সরদারের কাছে চলে যায় সে। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্নি মারা যায়। দুপুরে নিদয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়। শুক্রবার সকালে খোঁড়া কবরের পাশে পাওয়া যায় মুন্নির মরদেহ ৷ কাফনের কাপড়ও অনেকটা ছেঁড়া ছিল। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ফের একই জায়গায় তার দাফন করা হয়।

মুন্নির মা সফুরা মরদেহ তোলার বিষয়ে প্রকাশ্যে আনজাম হোসেনকে দায়ী করেছেন বলে জানান এ ইউপি সদস্য। তবে কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে সফুরা তার আগের স্বামী খোরশেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আনজামকে সফুরা কথা দিয়েছিলেন, মুন্নি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে নিয়ে তিনি ফিরে আবার সংসার করবেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্যামনগর থানার এসআই খবিরউদ্দীন জানান, খোরশেদ ও আনজাম হোসেনের মধ্যে স্ত্রী সফুরাকে নিয়ে বিবাদ চলছে। তবে সেই বিবাদের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ তোলার কী সম্পর্ক তা পরিষ্কার নয়।

এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান এসআই খবির।

শেয়ার করুন

ভারত যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ভারত যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক দালাল ও শিশুসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদবপুর বিওপির আওতাধীন কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, একজন নারী ও দুইজন শিশু।

এদের বাড়ি নড়াইল, ফেনী, খুলনা, কুষ্টিয়া ও গোপালঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

গ্রেপ্তার দালালের নাম আসাদুল ইসলাম। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

মহেশপুর থানায় বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলেও জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর ২টা ৪০ মিনিটে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রেলওয়ের উদ্ধারকারী ক্রেন।

টঙ্গী জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, টঙ্গীর তিস্তারগেট এলাকায় পুবাইল হোমলাইনের ৪ নম্বর সিগন্যালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বগি ও লাইনের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল।

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ১ নম্বর লাইন দিয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

শেয়ার করুন

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রেলওয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ছাত্রীর ভাই সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকে আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর পলাতক।

মাহমুদুল রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা। তিনি রেলও‌য়ের প্র‌কৌশল বিভা‌গে মাস্টাররোলে চাকরি করেন।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে কিছু বেলুন নিয়ে তাদের বাসায় আসেন সাগর। তার এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে রুম সাজাতে হবে বলে বাসা থেকে নিয়ে যান তার বোনকে।

বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মেয়েটিকে খুঁজতে বের হন পরিবারের সদস্যরা। সে সময় সাগরের মোবাইল বন্ধ পেয়ে আরও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তারা বুঝতে পারেন মেয়েটিকে স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি রেস্টহাউসের একটি কক্ষে নেয়া হয়েছে।

সেখানে গিয়ে একটি দরজা ভেতরে থেকে বন্ধ দেখে কক্ষের পাশে যেতেই মেয়েটির চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে দরজা অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পরে উপায় না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

‌কি‌শোরগঞ্জ রেলও‌য়ে স্টেশ‌নের সহকা‌রী স্টেশনমাস্টার জয়নাল বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তা ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সাগরের সম্পৃক্তার সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়া বিষয়‌টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ‌কে জানিয়েছি।’

শেয়ার করুন

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরদেহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ দেয়া হবে।’

মাদারীপুরের শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহটির পরিচয় মিলেছে।

পুলিশ বলছে, মরদেহটি বগুড়া সদর উপজেলার রেজাউল করিমের বলে তারা জেনেছেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে স্বজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরজানাজাত কালাই হাজিরকান্দি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসাইন জানান, জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক থেকে খানিকটা দূরে গাছ ও ঝোপ-ঝাড়ের পাশে কয়েক মাস আগে তৈরি করা হয় মোশারফ চৌদিকারের চৌচালা টিনের ঘর। সোমবার রাতে সেখান থেকে তীব্র গন্ধ পান কয়েকজন যুবক।

পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, মরদেহের মুখ আগুন বা পেট্রোল জাতীয় দ্রব্য দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৭ থেকে ৮ দিন আগে কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে রেখে গেছে।

মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। কেউ হত্যা করে রেখে গেছেন, এটা বোঝা যাচ্ছে।

‘আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মামলা সূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুমিকে মারধর করে শরীরের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুমির বাবা খতিবর রহমান মামলা করেন।

নীলফামারীর ডিমলায় স্ত্রীকে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান। এই মামলায় অন্য ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত। তারা মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আলমগীর হোসেনের বাবা-মা, বোন, চাচা ও ফুপু।

দণ্ডিত আলমগীর হোসেন ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

মামলা সূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুমিকে মারধর করে শরীরের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় সুমির বাবা খতিবর রহমান মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে হত্যা মামলায় আলমগীরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রামেন্দ্র বর্ধন বাপ্পী। তিনি বলেন, রায়ে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।

শেয়ার করুন

যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫

যুবলীগের সংঘর্ষে আহত ১৫

মেঘনা রোড এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহউদ্দিন টিপুর সমর্থকরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে স্লোগান দেন। এ সময় সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ নুরুল আজিম বাবরের সমর্থকরা একই এলাকায় মিছিল শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সভাপতিসহ ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহরের মেঘনা রোড এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতাদের অংশ নেয়ার কথা ছিল।

তাদের স্বাগত ও নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন যুবলীগের বিভিন্ন গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

মেঘনা রোড এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহউদ্দিন টিপুর সমর্থকরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে স্লোগান দেন। এ সময় সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দ নুরুল আজিম বাবরের সমর্থকরা একই এলাকায় মিছিল শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু, সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর, আবুল কাশেম, তারেক হোসেন, জামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলম, সৌরভ হোসেন, মামুনুর রশিদ ও মো. সবুজসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত সবাইকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ হামলার জন্য জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহউদ্দিন টিপুকে দায়ী করেছেন সৈয়দ নুরুল আজিম বাবর। তবে সালাহউদ্দিন টিপু বলেন, ‘জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে বিঘ্নিত করতে আমার ও নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে। এ সময় আমার ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুরসহ ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বাবরের নেতৃত্বে বহিরাগতরা এ হামলার চালায়।’

সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেয়ার করুন