মানুষ কথা বলছে, মিছিল হবে, পালানোর পথ পাবেন না: মান্না

মানুষ কথা বলছে, মিছিল হবে, পালানোর পথ পাবেন না: মান্না

জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: নিউজবাংলা

‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনো ভোট হবে না। মানুষের কথা বলা শুরু হয়েছে, এটা মিছিলে পরিণত হবে। তখন পালানোর পথ পাবেন না। ভোট, ভাত ও কথা বলার অধিকার মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই ডাকাত সরকারের অবসান করতে হবে।’

সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা একজোট হয়ে যখন রাস্তায় নামবে, তখন সরকার পালানোর পথ পাবে না বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

‘ভাত, ভোট ও কথা বলার দাবি’তে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন মান্না। নাগরিক অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠন এর আয়োজন করে।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনো ভোট হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা বলা শুরু হয়েছে, এটা মিছিলে পরিণত হবে। তখন পালানোর পথ পাবেন না। ভোট, ভাত ও কথা বলার অধিকার মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই ডাকাত সরকারের অবসান করতে হবে।’

সরকার দেশকে লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করেছে অভিযোগ করে মান্না বলেন, ‘দেশ আজ রাহাজানির বিভীষিকায় আচ্ছন্ন। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লাখো কোটি টাকা দেশের বাইরে তারা পাচার করছে।

‘এক পদ্মা সেতুর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষ আজ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলেই মানুষ গুম, খুনের শিকার হচ্ছে।’

বিগত দেড় বছরে দুই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় অনেক স্কুলের অনেক প্রধান শিক্ষক আজ চায়ের দোকান নিয়ে বসেছে। দরবেশকে টিকার ব্যবসা করতে দেয়ায় মানুষ এখন টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

‘এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বিশ্বে এক নজিরবিহীন ঘটনা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের গত এক যুগে দেশে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করলেও মান্না তা বিশ্বাস করেন না। বলেন, ‘সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলেন, ঢাকা শহর ওপর থেকে দেখলে নাকি লস অ্যাঞ্জেলেস মনে করেন। কিন্তু আমি দেখি লস বাংলাদেশ।

‘এক মেয়র জনগণের টাকা চুরি করে নিজের ব্যাংকে রাখলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

মানববন্ধনে ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব এম জাহাঙ্গীর, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এম এ বাশারও বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

‘মঙ্গলগ্রহ থেকে কি নির্বাচন কমিশনার আনব’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উফলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

অল্প সময়ের মধ্যে আইন করে নির্বাচন কমিশন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী জানতে চান, ‘আইন করলেই কি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে, না হাওয়াই দ্বীপ থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে নিয়ে আসব?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ডা. রাজ্জাক বলেন, ‘আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন ৫২ জনের মত বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তারা পেশায় খুবই দক্ষ, বিবৃতি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করতে হবে। আমি স্বীকার করি, আমাদের সংবিধানে আইনটি রয়েছে।

‘কিন্তু আজ পর্য়ন্ত এই বিএনপি স্বৈরাচাররা, এরশাদ ২৭ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কোনো আইন করেনি। আমরাও করতে পারি নাই। তার জন্য নির্বাচন বসে থাকবে না।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই দাবি করেন ১৯৯১ সালে খুবই সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালে অনেক সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তখন কী কোন আইন ছিল?

‘আজকে যে বুদ্ধিজীবিরা বিবৃতি দিয়েছেন আপনারা মেধাবী, পেশায় দক্ষ; আমি আপনাদের সম্মান করি। সঙ্গে এটিও বলতে চাই, আপনারা যে নির্বাচন কমিশনের কথা বলছেন, আইন করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করা যাবে? আমরা কী মানুষ (নিরপেক্ষ) আবিষ্কার করব? আমাদের মাঝ থেকেই করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন তাকে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘এখানে পয়েন্ট হলো- নির্বাচন কমিশনে যখন যাবে, যে নির্বাচন কমিশনার সে শপথ নেবে, তার একটি কথাই থাকবে জাতিকে তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। যে শপথ করে তার তো দায়িত্ব সেটি পালন করার। নির্বাচনের সময় সকল ক্ষমতা থাকে তার হাতে। সরকারের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। কাজেই নির্বাচন কমিশন যদি ব্যর্থ হয় তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব?’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে যারা প্রধান বিচারপতি থাকেন তারা যেদিন শপথ নেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে, সেদিন থেকে তারা নিরপেক্ষ। এটি তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কাজেই নিরপেক্ষ যদি কেউ না থাকে সে দায়িত্ব আমরা নেব না।’

গণতান্ত্রিক দেশে কোথাও তত্বাবধায়ক সরকার হয় না বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারের সময়ে নির্বাচন হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’

আলোচনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সভাপতির বক্তব্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের আলোকবর্তিকা। মুকুট ধন্য হয় যে মণিতে শেখ হাসিনা সেই মণি।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজমসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দেশনায়ক

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দেশনায়ক

২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ১৩ জন প্রধানমন্ত্রীর আর কেউ এত দীর্ঘ সময় দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও আর কোনো রাজনীতিবিদের জীবনে এ সুযোগ আসেনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৭ বছর দেশ শাসন করেছেন। হিসেবের খাতা বলছে, প্রায় ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। 

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ৪৯ বছর। আর ২০১৯ সালে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার সময় তিনি ৭২ বছরের এক অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক।

বাংলাদেশের ১৩ জন প্রধানমন্ত্রীর আর কেউ এত দীর্ঘ সময় দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতেও আর কোনো রাজনীতিবিদের জীবনে এ সুযোগ আসেনি। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৭ বছর দেশ শাসন করেছেন। হিসেবের খাতা বলছে, প্রায় ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা।

বিশ্লেষকরা বলেন, দীর্ঘ সময় ও টানা নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, একটি ভিশন বা স্বপ্নের পথে দেশকে পরিচালিত করতে পারা। দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানব সম্পদের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা সারা বিশ্বে স্বীকৃত।

অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়নচিন্তক কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে যে চেতনায়, সেই চেতনাটা হচ্ছে, সবাইকে নিয়ে দেশটা এগিয়ে যাবে। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত চিন্তা। সেটি শেখ হাসিনা ধারণ করেন। সেটা ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র তৈরি করা হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র মানে সবাইকে নিয়ে।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যেও যে কটা দেশ এগিয়ে আছে, তার একটা বাংলাদেশ বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এসডিজির কিছু কিছু লক্ষ্য অর্জনেও আমরা সেরার মধ্যে আছি। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে এসডিজি সলিউশন নেটওয়ার্ক অগ্রগতি সম্মাননা দেয়া হয়েছে।’

কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে অর্থনীতির পাশাপাশি সামাজিক অনেক সূচকেও অগ্রগতি এসেছে।

করোনা শুরুর আগে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, প্রত্যাশিত যে জীবন একজন মানুষের, সেটার মান বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। করোনা শুরু হওয়ার আগের বছর আমরা ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব ক্ষেত্রে আমার সবার চেয়ে এগিয়ে আছি।’

২০১৬ থেকে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এর মূল কথাটা হচ্ছে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। তার মানে বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে, দুর্নীতি হবে না, বাস্তবায়ন স্বচ্ছ হবে।’

দুর্নীতি, বৈষম্য কিংবা বাস্তবায়নের গাফিলতি, গ্রামের উন্নয়ন-এই বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে চিহ্নিত করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন তিনি।

বলেন, ‘তার মানে হচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছি। তার সঙ্গে কিছু সমস্যা থাকবে এবং সেই সমস্যা নতুন করে আবার সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সাধারণত সরকারের লোকজন এসব স্বীকার করে না। এটা তার দূরদর্শী চিন্তার একটা দিক। যে সমস্যাগুলো আছে, যে সমস্যাগুলো আসতে পারে, সেগুলো ২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায়’ দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যে জাতিসংঘের স্বীকৃতি, সেটা আমরা পেয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিডিপির পরিমাণ বেড়েছে, আকার বেড়েছে। বাংলাদেশের ভেতরে যে উন্নয়ন, মেগাপ্রজেক্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে, বলা যায় বর্তমান যে বাংলাদেশ- এটির রূপকার বা এটি বাস্তবায়ন করা সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান।’

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দেশনায়ক

শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ভাবমূর্তি বদলে গেছে বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের যে পরিচয়টা ছিল, বিশেষ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি অথবা ক্ষুধা দারিদ্র্যপীড়িত একটি রাষ্ট্র মনে করা হতো, সেই ভাবমূর্তি উনি পুরোপুরি মুছে দিতে পেরেছেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এটাকে অনুসরণ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন এ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে বা স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বায়নের যে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, সেখানে একটি দেশকে শক্তিশালী করার জন্য যে ধরনের বিনিয়োগ, যে ধরনের বাণিজ্য, যে ধরনের রেমিট্যান্স অপরচুনিটি তৈরি করা দরকার ছিল, সেগুলো তিনি করেছেন। এবং তার নেতৃত্বেই এসব হয়েছে।’

বহির্বিশ্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’কেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র বলি বা মধ্য পর্যায়ের শক্তি, সব দেশের সঙ্গে একটা ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা যে দেশগুলো আছে, আমরা যদি পশ্চিমা দেশগুলোর কথা বলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্য এবং তাদের সঙ্গে ভীষণভাবে ঘনিষ্ঠ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ-এর সহযোগিতা নিয়ে একদিকে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।

‘অন্যদিকে, ভারত এবং চীনের সহায়তা নেয়া, বাংলাদেশের অনেকগুলো মেগা প্রজেক্টে চীন এবং ভারতের যুক্ততা আছে, সেটাও একটা সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে জাপান যুক্ত আছে। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক দাতা রাষ্ট্র। ফলে জাপানের ইনভলবমেন্ট এবং রাশার মতো একটা দেশকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে ইনভলব করা– এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক।’

সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেয়েছেন দেশকে এগিয়ে নেয়ার। আর এ কারণেই বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এখন বহির্বিশ্বে কাউন্ট করা হয়, হিসেব করা হয়। বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার, দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে বা উন্নয়নশীল বিশ্বে। শেখ হাসিনা অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। ভারতের সঙ্গে সমুদ্র জলসীমা বিরোধ তিনি নিষ্পত্তি করেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে জলসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা বিরোধ, সেটি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে তিনি শক্তিশালী করেছেন। উনি জলবায়ু কূটনীতিকে শক্তিশালী করেছেন।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের একটি বড় দিক বলে মনে করেন তিনি।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি তাদের শুধু আশ্রয়ই দেননি, তাদের প্রত্যাবাসনে কাজ করছেন। এ নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলছেন, এবারও জাতিসংঘের ভাষণে বিষয়টি তুলে ধরেছেন সংকট মোকাবিলায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাসনামলের ১৮ বছরে বড় ধরনের কোনো ক্ষোভ, জনরোষ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক সভা, সেমিনার, সরকারের সমালোচনা থাকলেও বড় কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দেশনায়ক
১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ কখন বিক্ষোভ করে, মানুষ কখন গণরোষে উদ্বুদ্ধ হয়? যখন আপনার চাহিদা পূরণ হবে না, যখন আপনি খেতে পাবেন না, যখন আপনার মাথার ওপর ছাদ থাকবে না, যখন আপনার সন্তানদের লেখাপড়া হবে না, যখন মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে, জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যাচ্ছে, তখনই মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনরেস্ট তৈরি করে।’

তিনি বলেন, মানুষের যখন মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, তখন সে আসলে কোনো প্রকার বিক্ষোভে যায় না।

বঙ্গবন্ধুর অধরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই তার কন্যা শেখ হাসিনা হাঁটছেন বলে মন্তব্য এই শিক্ষকের। তিনি বলেন, ‘টানা তিন দফায় ক্ষমতায় আছেন প্রধানমন্ত্রী, আমার মনে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর যে পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ক্ষুধাহীন, দারিদ্র্যহীন একটা রাষ্ট্র তৈরি করা, যেখানে সবাই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে – মূলত এটাই তিনি ধারণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে। আসলে তো তার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। সেটিকে তিনি ধারণ করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি’কে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার একটি বিশেষ দিক বলে মনে করেন গোবিন্দ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দুটো দেশ, ভারত ও চীন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের যে প্রভাব, এ প্রভাবের মধ্যেও ব্যালেন্সড কন্টেইনমেন্টের মধ্য দিয়ে তিনি উভয়পক্ষকে ডিল করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন।’

এ কারণেই শেখ হাসিনা দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে বিশ্বনেতা হয়ে উঠছেন বলেও মন্তব্য তার।

গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে তার যে দক্ষতা এবং তিনি যেভাবে এ জায়গাটা নিয়ন্ত্রণ করছেন বা সামাল দিচ্ছেন, আমার ধারণা এই কারণেই তিনি বৈশ্বিক পরিসরে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আর্বিভূত হতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এখন শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, সাউথ এশিয়ার দু-একজনের নাম যদি বলতে হয়, বিশ্বনেতৃত্বের মধ্যে যারা আছেন, শেখ হাসিনার নাম, কিন্তু কোনোভাবে পেছনে আসবে না।’

বিশ্বে দীর্ঘ সময় ধরে অনেকেই ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে কর্মপ্রয়াস সেটাই শেখ হাসিনাকে সবার চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তিনি।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন – এই যে কতগুলো জায়গা, এই জায়গাগুলো চিন্তাই করা যায় না। আমরা তো লম্বা সময় ধরে অনেককেই ক্ষমতায় দেখেছি, কিন্তু মানুষের উন্নয়ন চিন্তাকে কেন্দ্রে নিয়ে, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে, যে কথাটা তিনি বারবার বলেন, এটা তিনি শুধু বলেন না, আন্তরিকভাবে ধারণ করেন।’

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

‘ইতিহাসের প্রয়োজনেই শেখ হাসিনার জন্ম’

‘ইতিহাসের প্রয়োজনেই শেখ হাসিনার জন্ম’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ‘ইতিহাসের প্রয়োজনে শেখ হাসিনার জন্ম। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি উঠে এসেছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এখন নিজেই একটি ইতিহাস। দারিদ্র্য বিমোচক রোল মডেল শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা আজ একটি ব্র্যান্ডের নাম।’

ইতিহাসের প্রয়োজনেই শেখ হাসিনার জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজেই এখন ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতিহাসের প্রয়োজনে শেখ হাসিনার জন্ম। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি উঠে এসেছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এখন নিজেই একটি ইতিহাস। দারিদ্র্য বিমোচক রোল মডেল শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা আজ একটি ব্র্যান্ডের নাম।

‘দেশের সীমানা পেরিয়ে শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব নেতার কাতারে। শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব ও বক্তব্যের প্রশংসা করছে সবাই। শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা সাহসী নেতৃত্বের সোনালি আকাশ।’

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, হাছান মাহ্‌মুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, শফিকুল ইসলাম নাদেল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ আরও অনেকে।

‘জ্বালাও-পোড়াও করলে সমুচিত জবাব’

আলোচনা সভায় বিএনপি ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কড়া সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সময়মতোই হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের তৎপরতা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সময়মতো গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করবেন, জ্বালাও-পোড়াও করবেন। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার সমুচিত জবাব দেব।

‘পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ, আমরা সমুচিত জবাব দেব। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।’

দেশের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা ফখরুলকে পাল্টা প্রশ্ন রেখে কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনি জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে কেন সংসদে আসেননি। এটা কোন গণতন্ত্র।’

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে জানতে চাই, আগামী নির্বাচনে আপনাদের নেতা কে? আমি জোটের পক্ষে, আওয়ামী লীগের পক্ষে, জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শেখ হাসিনা। নির্বাচন হলে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে? যদি টেমস নদীর পার থেকে পলাতক আসামি নির্বাচনে প্রার্থী হয়, তাহলে জনগণ সেই দণ্ডিত আসামিকে কোনো দিন মেনে নেবে না।’

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল

পাঁচ মামলায় খালেদার জামিন এক বছর বাড়ল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

পাঁচ মামলার মধ্যে তিনটি মামলা ঢাকায়। আর নড়াইল ও কুমিল্লায় রয়েছে একটি করে মামলা। সব মামলাতেই জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছে হাইকোর্ট।

পৃথক পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর করে বাড়িয়েছে হাইকোর্ট।

পাঁচ মামলার মধ্যে ঢাকায় তিনটি মামলা; নড়াইল ও কুমিল্লায় রয়েছে একটি করে মামলা।

এর মধ্যে ঢাকার তিনটি এবং নড়াইলের একটি মামলায় বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ জামিনের মেয়াদ বাড়ায়।

আর কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগের মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান সূজা।

দুর্নীতির দুই মামলায় খালেদা জিয়া আগেই ১৭ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া। তবে করোনাভাইরাসের মহামারির পর এই দণ্ড স্থগিত রেখেছে সরকার। প্রথমে ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করা হলেও তা দফায় দফায় বাড়ানো হয়।

সবশেষ ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ায় সরকার।

তিন দফায় ছয় মাস করে ১৮ মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করে দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থায়ীভাবে মুক্ত করার এখতিয়ার আদালতের।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবেদনের বিষয়ে মতামত জানান। তাতে তিনি মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য মতামতসহ প্রস্তাব আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা ওনার (খালেদা জিয়া) দণ্ড আরও ছয় মাস স্থগিতের জন্য মতামত দিয়েছি।’

আগের তিন দফার মতো এবারও বিদেশে না যাওয়া এবং বাড়িতে চিকিৎসার শর্তে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সাজা বেড়ে হয় দ্বিগুণ।

উচ্চ আদালতের আদেশের পর দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় হয় বিচারিক আদালতে। এ মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পান বিএনপি নেত্রী। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর।

দুই মামলায় জামিন পেতে বিএনপির আইনজীবীদের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিএনপি নেত্রীর স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যান।

সরকারপ্রধানের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত হলে সাবেক সরকারপ্রধানকে দুই শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে বিএনপি নেত্রী ফেরেন তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়।

শর্ত দুটি হলো বিএনপি নেত্রী দেশেই চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি বিদেশে যাবেন না।

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

জামায়াত ছাড়তে প্রস্তুত তারেক, খালেদার মতের অপেক্ষা

জামায়াত ছাড়তে প্রস্তুত তারেক, খালেদার মতের অপেক্ষা

জামায়াতের মানবতাবিরোধী অপরাধী নেতা প্রয়াত গোলাম আযমের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের বয়স তো কম হয়নি। অনেক কিছু চাইলেও বলতে পারি না। দলের সেই স্পিরিট এখন নেই। তার একটা মূল কারণ মা-ছেলের দ্বন্দ্ব। জামায়াতকে ছাড়তে না পারার জন্যও এটাই মূল কারণ। …ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) জামায়াতকে ছাড়ার ব্যাপারে প্রস্তুত। তবে বেগম খালেদা জিয়ার থেকেই কোনো সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না।’

২২ বছরের জোটসঙ্গী জামায়াতকে ছাড়ার ব্যাপারে বিএনপি এক ধাপ আগালে আরেক ধাপ পেছায়। জোট আর রাখা হবে না, এ বিষয়ে জামায়াতকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আর আগায়নি বিএনপি।

তবে এবার বিষয়টি নিয়ে বিএনপিতে দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের কৌশল নির্ধারণে শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আবারও কথা হচ্ছে এ বিষয়ে। জোট থেকে স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে বের করে দিতে জোর দাবি তুলেছেন নেতারা।

ওই বৈঠকে উপস্থিত দলের একাধিক নেতা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, নেতারা দাবি তোলার পরে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেয়া তারেক রহমান কোনো যুক্তি খণ্ডন করেননি; বরং এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে সংকেত পাওয়া গেলেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন। তিনি এ বিষয়ে প্রস্তুত আছেন।

দলের কোনো পর্যায়েই জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি নেই, তার পরও কেন জোট- এমন প্রশ্নে দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিউজবাংলাকে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একক সিদ্ধান্তে আসতে না পারাই এর কারণ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি করি, আমাদের বয়স তো কম হয়নি। অনেক কিছু চাইলেও বলতে পারি না। দলের সেই স্পিরিট এখন নেই। তার একটা মূল কারণ মা-ছেলের দ্বন্দ্ব। জামায়াতকে ছাড়তে না পারার জন্যও এটাই মূল কারণ।‘

তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) জামায়াতকে ছাড়ার ব্যাপারে প্রস্তুত। তবে বেগম খালেদা জিয়ার থেকেই কোনো সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না।‘

এই নেতার বক্তব্যের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাইকমান্ডের সঙ্গে বসছি। বাতাসে খবর ওড়ে। উড়ো হোক আর সঠিক হোক, সময়মতো জানবেন।’

জামায়াত ত্যাগের তিন যুক্তি

বিএনপি নেতারা জানান, দলের শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকে জামায়াত ত্যাগের পেছনে তিনটি যুক্তি তুলে ধরেছেন নেতারা।

প্রথমত, তারা মনে করছেন, জামায়াতকে ছাড়তে পারলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি প্রধান প্রতিবেশী ভারতকেও আস্থায় নেয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত, বিএনপির সঙ্গে জামায়াত না থাকলে উদার ও বামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা যাবে; যাদের নিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি।

তৃতীয়ত, খালেদা-নিজামী বলে আওয়ামী লীগ নেতারা নেতিবাচক প্রচার চালায় তাও দূর করা যাবে।

দলটির নেতাদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৃষ্ট নতুন পরিস্থিতি থেকেও বিএনপির ফায়দা নেয়ার সুযোগ আছে।

ওই ঘটনার পর ইসলামপন্থি শক্তির উত্থানের আশঙ্কায় এ অঞ্চলের দেশগুলো নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছে বলে মনে করছেন তারা।

ফলে ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে অগ্রসর হতে চাইছে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলার কারণেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। তাই জামায়াতকে এখনই দূরে রেখে বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তারা।

জানতে চাইলে বিএনপির ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি’-এর সদস্য শামা ওবায়েদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট থাকা না থাকার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে। এটা নিয়ে নেতারা তাদের পারসেপশন জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাদেরও একটা দাবি বারবার আসছে। তবে সেটার সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি।’

জামায়াতকে ছাড়লে বিএনপি লাভবান হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘লাভ-লোকসান ঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে বৈশ্বিক রাজনীতির পাশাপাশি তালেবানের উত্থানের পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন রাজনীতির সঙ্গে অবশ্যই আমাদের সমন্বয় করতে হবে।’

জামায়াত ছাড়তে প্রস্তুত তারেক, খালেদার মতের অপেক্ষা

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেও অপেক্ষায় বিএনপি

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিএনপির বিষয়ে স্থায়ী কমিটির এক সভায় জামায়াত ছাড়ার প্রস্তাব রাখা হয়। সে সভায় ছিলেন তারেক রহমানও।

সেখানে জামায়াতকে জোটে রাখা নিয়ে বিএনপির লাভ-লোকসান নিয়ে রীতিমতো তর্ক-বিতর্কও হয়।

বৈঠকে তিন নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতকে বের করে দেয়ার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে তারেক রহমানের সমর্থন ছিল।

পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা সে সময় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে জানান, তারা জামায়াতকে ত্যাগ করবেন। আর এই সিদ্ধান্ত কেন, তার কারণ উল্লেখ করে চিঠিও প্রস্তুত হচ্ছে।

তিনি তখন বলেন, ‘বারবার স্থায়ী কমিটি থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের প্রস্তাব করা হচ্ছিল। সেটা নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছিল।… জামায়াতকে নিয়ে আমরা আর এগোচ্ছি না। তারা তো শুধু ব্যবসা বোঝে, মুনাফা খোঁজে।’

তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত আগের মতোই ঝুলিয়ে রাখে বিএনপি।

এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর শনিবার দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জামায়াতকে দূরে রাখার কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা ওঠে।

জামায়াত-বিএনপির রসায়ন

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি জোটের আলোচনা হয়েছিল ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই। জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ে উল্লেখ আছে, তারা সে সময় ১০০টি আসন চেয়েছিলেন বিএনপির কাছে, কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় জোট আর হয়নি। পরে অঘোষিতভাবে ৩৫টি আসনে জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিনিময়ে তারাও দেশের বাকি আসনগুলোতে বিএনপির হয়ে কাজ করেছে।

১৯৯৬ সালে বিএনপি ও জামায়াত পুরোপুরি আলাদা নির্বাচন করে। তখন ভরাডুবি হয় জামায়াতের। তারা জেতে মাত্র তিনটি আসনে। এরপর বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

তবে ২০০১ সালে এই জোট কার্যকর প্রমাণ হলেও পরে তা বিএনপির জন্য বোঝা হিসেবেই দেখা হয় নানা কারণে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় খুনি বাহিনী আলবদরের দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মন্ত্রিত্ব দিয়ে সমালোচিত হয় বিএনপি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি দেশে জোরালো হয়ে ওঠে আর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি ভোটের ময়দানে নেমে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ভোট শেষে ভরাডুবির পর কারণ অনুসন্ধানে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে ১০টি কমিটি গঠন করে। তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এর মধ্যে ৯টি কমিটি জামায়াত ত্যাগের সুপারিশ করে, কিন্তু ১২ বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ও সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে যে নজিরবিহীন সহিংসতা হয়, তার পেছনেও জামায়াতকে দায়ী করা হয়। সে সময় জামায়াতের সহিংস হয়ে ওঠার পেছনে আরও একটি কারণ ছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতার বিচার ঠেকাতেও মরিয়া ছিল দলটি। সেটি বিএনপির দাবি না থাকলেও সে সময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজামী, মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তিও চান।

তবে সে সময় তো বটেই, এখনও নানা ঘরোয়া আলোচনায় সুযোগ পেলেই বিএনপির প্রায় সব পর্যায়ের নেতারাই জামায়াতকে পরিত্যাগের দাবি তোলেন।

দশম সংসদ নির্বাচনের পর একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট কৌশলগত। সময় এলেই তিনি জামায়াতকে ত্যাগ করবেন।

এসব ঘটনায় আবার জামায়াত মনঃক্ষুণ্ন হয় বিএনপির প্রতি। যদিও তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য আসেনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়ে তোলার পরও জামায়াতের সঙ্গে জোট আর থাকবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হয়ে ওঠা ড. কামাল হোসেন প্রকাশ্যেই বলেন, জামায়াত আছে জানলে তারা জোটেই যেতেন না।

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার

বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার

প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ অনেকগুলো পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার হিসেবে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সার্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ দেয়।

এর আগে জাতিসংঘ ঘোষিত মিলেনিয়াম গোল (এমডিজি) অর্জনে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ অনেকগুলো পুরস্কার বা স্বীকৃতি পেয়েছে।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জনকে দেখছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। তারা বলছেন, এই অর্জন পুরো বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার হিসেবে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদকে গুরুত্ব দিয়েই মূলত বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মানুষের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নের উপর সরকারের সফলতা নির্ভর করছে। সামগ্রিকভাবে মানবসম্পদ বিকশিত না হলে কোনো উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্থায়িত্ব পায় না।’

তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের যে ধারণা, তা মূলত দেশের প্রতিটি পরিবারের বুনিয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়গুলো গত একযুগ ধরে পুরো বাংলাদেশকেই পাল্টে দিয়েছে। মানব উন্নয়ন খাতে দেয়া গুরুত্ব পাল্টে দিয়েছে উন্নয়নের অন্যান্য সূচকও। এরই সূফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।’

অন্য দিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছিলেন। যে কারণে শুরুতেই তিনি কৃষিতে অসামান্য সমর্থন দিয়ে গেছেন। ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এতে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান শতকরা হারের হিসেবে আগের তুলনায় কমলেও, এর গুরুত্ব কমেনি। সকলের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আজও কৃষি হলো মূল চালিকাশক্তি। পাশাপাশি দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কৃষিখাত সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

‘করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। করোনা পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভাল অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, সাহস, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায়। এ কারণেই তিনি বারবার এ ধরনের পুরস্কার পাচ্ছেন।’

লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অঙ্গীকার

অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজেই বিভিন্ন সময় দাবি করেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও এ দেশ অগ্রণী ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

‘আমরা অতি-দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। শহর এবং গ্রামীণ উভয় অঞ্চলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃসেবার মতো মৌলিক বিষয়ে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করেছি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত সাত বছর ধরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপর ছিল। গত এক দশকে রপ্তানি আয় তিন গুণের বেশি বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৮ গুণের কাছাকাছি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের মান অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমরা এখন ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জাতিসংঘের উচ্চাভিলাসী ২০৩০ এজেন্ডা গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশে এমডিজি বাস্তবায়নের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং এমডিজির সাফল্যের ওপর ভর করে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এ জন্য দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজন।

‘আমি মনে করি, ২০৩০ এজেন্ডা হচ্ছে একটি সম্মিলিত পথপরিক্রমা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সরকারি এবং বেসরকারি, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক – সব উৎস থেকে অধিক পরিমাণে সম্পদের সরবরাহ প্রয়োজন। সুতরাং, শুরু থেকেই বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসডিজির ১৭টি উদ্দেশ্য এবং ১৬৯টি লক্ষ্য পূরণই হবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পূর্বশর্ত।’

তিনি বলেন, ‘সরকার প্রথমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এ লক্ষ্য অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।’

তামাক ব্যবহারে অনীহা

এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে এক সময় তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, দেশে তামাকসেবীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়াদের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। দেশকে রোগমুক্ত করতে তামাকের ব্যবহার শূন্যে নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং শ্রীলংকায় তামাক গ্রহণকারীর মোট সংখ্যা প্রায় ৩৮৩ মিলিয়ন। এটা বিশ্বের মোট ১.১ বিলিয়ন তামাক গ্রহণকারীর সংখ্যার প্রায় ৩৪.৮% অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এসব দেশে তামাকজনিত আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু ভারত এবং বাংলাদেশে তামাক গ্রহণজনিত কারণে প্রতি বছর কমপক্ষে ১.১ মিলিয়ন (১১ লাখ) মানুষ মারা যায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৩ সালের তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং ২০১৫ সালের বিধি অনুসরণ করে আগামী মার্চ থেকে তামাকজাত পণ্যের মোড়কে ছবি সংবলিত সতর্কবার্তা সংযোজন করা হচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ড সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল গঠন করেছে।

২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে চায়।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক স্বতন্ত্র চরিত্র দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করেন অ্যাম্বাসেডর ওয়ালিউর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না – প্রধানমন্ত্রীর এই হুঙ্কার এ অঞ্চলের ভূরাজনীতির চিত্র পরিবর্তন করে দিয়েছে।

‘শেখ হাসিনার দর্শন হলো বর্তমান বিশ্ব একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এ জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’

অন্যদিকে মানবিক বিবেচনায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ‘চ্যানেল ফোর’ এ জন্য তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে আখ্যায়িত করে।

কেবল নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো নয়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি করে ইতিহাস রচনা করেন তিনি। এর জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

আবার ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০১০ সালে টাইম সাময়িকীর অনলাইন জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা ১০ ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানের অধিকারী ছিলেন।

২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ৫৯তম। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি ৩০টির বেশি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘মাদার তেরেসা’ পদক প্রদান করে। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইউনেসকো কর্তৃক তিনি ‘শান্তির বৃক্ষ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

রূপান্তরের কারিগর

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সে জন্যই জাতিসংঘের নানা সংগঠন থেকে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। তার সরকারের গত ১২ বছরের উন্নয়ন চিত্রে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের সাফল্য।

‘শিক্ষা খাতে জোট সরকারের আমলের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়নে নারীরা এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে জাতীয় বাজেটের আকার ও জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রিকশাচালক, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক বেতন বেড়েছে, সামরিক-বেসামরিক বেতন-ভাতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, মাথাপিছু আয়, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকে যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি সমুদ্র বিজয় ও ব্লু-ইকোনমি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

‘এ ছাড়া রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে এবং স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশের প্রবেশের সাফল্য। আরও রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী মজবুত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ। মূলত স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি খাত, যোগাযোগব্যবস্থা, আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থান ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন, শিল্প খাতে উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের এসডিজির সূচকগুলো অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছে।’

এসডিজিতে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) গ্রহণ করে। এটি ১৫ বছর মেয়াদি। এর উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে ১৭টি অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়। আর ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

জাতিসংঘ এর আগে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) গ্রহণ করেছিল। এরপরই এসডিজি আসে। এসডিজির লক্ষ্যগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত ও লিঙ্গবৈষম্য প্রতিরোধ অন্যতম।

বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার
এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

এসডিজির এবারের সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর এ স্কোর ছিল ৬৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে যখন এসডিজি গৃহীত হয়, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এর পরের চার দেশ হলো সুইডেন (৮৫.৬ শতাংশ), ডেনমার্ক (৮৪.৯ শতাংশ), জার্মানি (৮২.৫ শতাংশ) ও বেলজিয়াম (৮২.২ শতাংশ)। আর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের স্কোর ৩৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগে আছে দক্ষিণ সুদান ও চাদ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ৭০তম স্থানে আছে ভুটান। এরপর আছে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। এদের অবস্থান যথাক্রমে ৭৯, ৮৭ ও ৯৬তম।

সামাজিক বিভিন্ন অগ্রগতির সূচকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তার ভূমিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের করা মন্তব্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষাসুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা

চলতি জাতিসংঘ অধিবেশনে এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘এই বৈশ্বিক মহামারি থেকে টেকসই উত্তরণের ওপরই এসডিজির সাফল্য নির্ভর করছে। এখন বিশ্বের সব জায়গায় ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি এবং তা অতি জরুরি।’

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় তিনি বলেন, ‘২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমাদের সম্পদের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা অবশ্যই কমাতে হবে।’

তৃতীয় প্রস্তাবনায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিক মহামারির অভিঘাতের কারণে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বাড়ছে, তার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন।’

পরিস্থিতি উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনীর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের বিপর্যয় বা দুর্যোগ মোকাবিলায় জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণকে পূর্ণতা দেবে।’

পঞ্চম ও সবশেষ প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ জোরদার করা ও যান্ত্রিক সহায়তার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘের সমন্বয় বাড়ানো উচিত জানিয়ে জরুরি পরিস্থিতি ও বিপর্যয় মোকাবিলায় যথাযথ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনকে ‘একটি বৈশ্বিক চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার অন্তর্ভুক্তিতে টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি ব্লুপ্রিন্ট এটি। কোনো দেশ একা এই এজেন্ডা অর্জন করতে পারবে না। এই এজেন্ডা অর্জনে আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতি বাড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন

সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী

সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন: কৃষিমন্ত্রী

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ছিল। ফাইল ছবি

‘এদেশের মানুষকে দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। অন্য দেশ বা ভিন্ন গ্রহ থেকে মানুষকে ধরে আনা যাবে না। সার্চ কমিটির মাধ্যমে যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, আইনগতভাবে তারাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট।’

আগামী নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. কামরুজ্জামানের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রাজ্জাক বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি তাদেরকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। কমিশন তাদের শপথ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই, থাকবেও না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের মানুষকে দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। অন্য দেশ বা ভিন্ন গ্রহ থেকে মানুষকে ধরে আনা যাবে না। সার্চ কমিটির মাধ্যমে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, আইনগতভাবে তারাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে আছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন। তবে বিএনপির এই দাবি সুনির্দিষ্ট নয় বলে মনে করেন আবদুর রাজ্জাক।

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘যেভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠন হোক, বিএনপি নির্বাচনে হারলে বলবে কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেনি। তারা ১৯৯১ সালে ও ২০০১ সালে নির্বাচনে জিতেছিল, সেজন্য নির্বাচন দুটি তাদের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।’

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ধর্মান্ধ জামায়াত, হেফাজতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং তার ভাষায় তাদের মদতদাতা বিএনপি হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন রাজ্জাক। বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি পারভীন জামান ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুলতানও এতে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার রায় ৩১ আগস্ট
জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
পুলিশ অফিসাররা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দেন: মান্না
লকডাউন করোনা বাড়াচ্ছে, এ বি পার্টির ওয়েবিনারে মান্না
আওয়ামী লীগ সরকার ‘সিন্দাবাদের দৈত্য’

শেয়ার করুন