করোনায় আরও ১১৭ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৭৯ দিনে সর্বনিম্ন

করোনায় আরও ১১৭ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৭৯ দিনে সর্বনিম্ন

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে করোনা আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে এসেছেন এই নারী। ছবি: সাইফুল ইসলাম।

শুক্রবার বিকেলে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫২৫ জনের দেহে। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৮ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৭৮। এর আগে সর্বনিম্ন শনাক্তের হার ছিল গত ৯ জুন, ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারালেন মোট ২৫ হাজার ৮৪৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যাটি আগের দিনের চেয়ে বেশি হলেও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে অন্য একটি তথ্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টায় সারা দেশে যত মানুষ নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন, তাদের মধ্যে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এই হার গত ৯ জুনের পর সর্বনিম্ন। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

আগের দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল, যা দুই মাসে ছিল সর্বনিম্ন।

শুক্রবার বিকেলে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫২৫ জনের দেহে। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭৮ জনের।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৫৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৪৮৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৪ হাজার ৩৭০ জন। সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫৬ জন ও নারী ৬১ জন। এর মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। বাকিদের বয়স বিশোর্ধ্ব ৩, ত্রিশোর্ধ্ব ৯, চল্লিশোর্ধ্ব ১৬, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৯ ও ষাটোর্ধ্ব ৩৮ জন। সত্তরোর্ধ্ব ১৬, আশির্ধ্ব ১১, নব্বোর্ধ্ব রয়েছেন ৩।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে খুলনা বিভাগ, ৩৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩২ জন, রাজশাহীতে ১১, বরিশালে ৬, সিলেটে ১০, রংপুরে ৫ ও ময়মনসিংহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর সম্প্রতি পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

গত এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ ছাড়িয়ে এক পর্যায়ে ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। এই অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ।

গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে। শাটডাউন চলাকালে নিয়মিতভাবে ২৪ ঘণ্টায় আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এ ছাড়া করোনা উপসর্গে মারা গেছে আরও বহুজন।

ওই সময়ে প্রথমে রাজশাহী বিভাগ ও পরে খুলনা বিভাগে মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালগুলোতে রোগীর জায়গা দেয়া যাচ্ছিল না, দেখা দেয় অক্সিজেন সংকট।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে ঢাকায় অতটা না ছড়ালেও জুনের শেষ দিকে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়াতে থাকে। হাসপাতালে তৈরি হয় ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ অবস্থা। বিশেষ করে আইসিইউ সংকটে রোগীদের স্বজনরা পড়েন দুর্ভোগে।

তবে এখন করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ করা হাসপাতালের শয্যার বেশিরভাগ অংশই ফাঁকা পড়ে আছে। আইসিউই ইউনিটগুলোও এখন চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

এক রিটের ওপর শুনানির একপর্যায়ে ই-ভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা নিয়ে বিচারক বলেন, ‘সরকারতো ব্যবস্থা নিচ্ছেন, কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়।’

ই-ভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর সরকারের পদক্ষেপ দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

দেশের গ্রাম পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা প্রণয়নে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির সময় বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এসব কথা বলে।

এ আবেদনের শুনানি অংশ নেন রিটকারি আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন।

এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি কেন অরক্ষিত। আমার বাড়ি মানে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ দরজা জানালা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাবে, কিন্তু আমার ঘর কেন অরক্ষিত। মানুষের টাকা কেন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এগুলো বন্ধ করা কাদের দায়িত্ব? এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা এটা পরীক্ষা করতে চাই।’

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, ‘মাই লর্ড, সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা কিন্তু নয়। এহসান গ্রুপের তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছ; ই-ভ্যালির তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তখন বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘সরকারতো ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়। আমার টাকাটা নিয়ে গেল আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছি। সে থানায় যাবে, জেলে যাবে যাক, কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেল সেটা কোথায়। আমরা মামলার করার পর চোর ধরা পড়ছে। চুরিতো ঠেকানো যাচ্ছে না।’

এই বিচারক আরও বলেন, ‘সরকারের কাজ কি? এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, তাদের আইনের শাসন সমস্ত কিছু…। সেখানে সরকার ঠিক মত কাজ করছে কি না আমরা দেখব।’

এই রিটের ওপর আরও শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন রাখে বেঞ্চ।

গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সুদ কারবারিদের তালিকা করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

রিটে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিবাদী করা হয়। ওই রিটের শুনানিতে আদালত এসব কথা বলে।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ভোট শেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরভাটা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে গণনা। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে। সবকটি পৌরসভাতে ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুই প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচন। সেখানে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

কেন্দ্রগুলোতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

সবকটি পৌরসভাতে ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

কক্সবাজার

জেলার মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভায় এবং মহেশখালী, টেকনাফ ও কুতুবদিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ করা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার সময় দুর্বৃত্তদের ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুল হালিম। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

এছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোট হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

বাগেরহাট

এই জেলার ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।


ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে। কয়েক জায়গায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার মোট ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কচুয়ার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। তাই ভোট হয়েছে ৬৫টি ইউনিয়নে।

সাতক্ষীরা

এই জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রেই।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন।

অনিয়ম হওয়ায় কেড়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রে ককটেল ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

আটক ব্যক্তির নাম আজহার হোসেন; তিনি নৌকা প্রতীকের কর্মী বলে জানা গেছে।

এর আগে সকালে শ্রীমন্তকাটি কেন্দ্রের পাশে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট হয়েছে।

নোয়াখালী

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলসহ নানা অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

ভোট শুরু ঘণ্টাখানেক পর নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

তারা হলেন ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, ১০ নম্বর জাহাজমারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, ৫ নম্বর চরইশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ, ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া এবং ১১ নম্বর নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরাজ উদ্দিন।

এই উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীরা ভোট বর্জন করায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিতই।

হাতিয়ার পাশাপাশি ইউপি নির্বাচনের ভোট হয়েছে সুবর্ণচরেও। সেখানে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটার উপস্থিতি হাতিয়ার চেয়ে সুবর্ণচরেই বেশি দেখা গেছে।

এছাড়া কবিরহাট পৌরসভাতেও হয়েছে ভোট। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় সেখানে কাউন্সিল পদের জন্য ভোট হয়েছে।

ফেনী

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু নাসের অভিযোগ করেন, বাইরে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বহিরাগত সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। একই অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইমাম উদ্দিন ভূঁইয়ার।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সরকারদলীয় সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

প্রাণহানি-সংঘর্ষের মধ্যে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেন নির্বাচনী কেন্দ্রের ভেতর পরিবেশ ভালো থাকলেও বাইরে সরকারদলীয় সমর্থকরা তার সমর্থকদের ঢুকতে দেয়নি।

এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে সোনাগাজী পৌরসভার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাদের কোনো ভোটার নেই তারা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ৪৯টি বুথে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কক্সবাজারের সাকিবুর রহমান, বাগেরহাটের মামুন আহমেদ, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসিলাম শাওন, নোয়াখালীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেনীর আরিফুর রহমান ও কুমিল্লার মাহফুজ নান্টু।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি

শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি

শিশুটির বাবা-মা জানান, জন্মের পরই দেখতে পান নবজাতক কন্যার হৃৎপিণ্ড শরীরের বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় ঢাকায়। তবে চিকিৎসাব্যয় শুনে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনেন বরিশালে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুকে বাঁচানো গেল না।

স্থানীয় নিউ ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এই ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশুটির। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানান, হৃৎপিণ্ড শিশুর শরীরের ভেতরে স্থাপন করা সম্ভব। তবে এ চিকিৎসা ব্যয়বহুল। প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

অর্থের অভাবে এই চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি রমেন-অপু দম্পতি। সন্তানকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন তারা।

শিশুটির বাবা-মা জানান, জন্মের পরই দেখতে পান নবজাতক কন্যার হৃৎপিণ্ড শরীরের বাইরে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। শিশু হাসপাতাল থেকে তাদের পাঠানো হয় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে।

বারডেমের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে আইসিইউতে ভর্তিসহ অপারেশনের জন্য খরচ হবে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

চিকিৎসার জন্য এত টাকা না থাকায় পুনরায় শিশুটিকে রোববার ঢাকা থেকে বাড়িতে এনে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

ডিনস কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো সেমিস্টার পরীক্ষা হবে না।

সোমবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

তিনি জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় চলতি বছরের ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরীক্ষা ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন বিভাগ সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে রুটিনও প্রকাশ করতে থাকে।

এতে দেখা যায় পূজার ছুটিতেও কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য নিয়ে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আমলে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

নির্যাতনের অভিযোগ আসামির, ওসির দাবি ‘হয়রানির শিকার’

নির্যাতনের অভিযোগ আসামির, ওসির দাবি ‘হয়রানির শিকার’

শফিকের অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ সম্মেলন করার পর থেকে তার বাসায় প্রতিদিন পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তিনি ‍এখন ‍প্রাণনাশের ভয়ে ‍এলাকা ছাড়া। ‍‍তাকে মাদক ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর পায়তারা করছে ওসি। তবে ওসির দাবি, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শফিককে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি।

ওসির দাবি, অভিযোগকারীই তার পিছু লেগে আছেন। কেউ তাকে ব্যবহার করছে।

বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে সোমবার বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ আগস্ট শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবে ও ২৯ আগস্ট মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আমি ওসি নুরুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে হয়রানি ও এলাকার জেলেদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করি। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ পাঠাই।

‘এরপর থেকে ‍আমার বাসায় প্রতিদিন পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। আমি ‍এখন ‍প্রাণনাশের ভয়ে ‍এলাকা ছাড়া। ‍‍আমাকে মাদক ও ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর পাঁয়তারা করছে ওসি।’

শফিকুল আরও বলেন, ‘আমি ওই ওসির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ পুলিশের ‍আইজপি, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের পর পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ‍আমাকে ডেকে পাঠালে ‍আমি তার কার্য‍ালয়ে যাই। সেখানে ‍আমার লিখিত জবানবন্দি রাখা হয়।

‘এরপর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজিও আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

তবে ওসি বাদল বলছেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শফিককে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক একটি মামলার নিয়মিত আসামি। তখন থেকে তাকে চিনি। তিনি মারামারি করে একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। বাদীপক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করতে রাজি না হয়ে মামলা করে। শফিক ওই মামলায় জামিনে আছেন।

‘এরপর থেকেই তিনি আমার পিছু লেগে আছেন। আমি এই থানার ওসি, এখানে অনেক রাজনৈতিক বিরোধ আছে। কেউ হয়তো তাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।’

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

রাজধানীর রামপুরা থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল বারী বাবু মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৯ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করেছে আদালত।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৪৫ জন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রামপুরার ডিআইটি রোডের ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কর্তব্যেও বাধা দেন।

এ ঘটনায় রামপুরা থানার এসআই বাবুল শরীফ ওইদিনই মামলাটি করেন। মামলা তদন্ত করে খিলগাঁও জোনাল টিমের এসআই আশরাফুল আলম ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি আলাদা অভিযোগপত্র দেন।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে কলমিলতা বাজারের জন্য ক্ষতিপূরণ চান নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।’

রাজধানীর বিজয় সরণির কলমিলতা বাজার দখলের অভিযোগ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের নাতনি পরিচয় দেয়া ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।

‘সে সময় সুপ্রিম কোর্ট ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আমাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেন, কিন্তু বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম সেটি করছেন না। তিনি সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আমাদেরকে আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করছেন না। তিনি দীর্ঘ একটা সময় পার করছেন। মেয়র আতিকুল ইসলাম আদালতের রায় অমান্য করে চলেছেন। এই অবস্থায় আমরা নিজেরাও আর্থিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই ক্ষতিপূরণটি দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।’

ভাষানটেক প্রকল্প নিয়ে ঐশী বলেন, ‘ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পটি ২০০৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু করেন আমার বাবা। অন্যান্য যেকোনো প্রকল্প থেকে এই প্রকল্পটি এক্সেপশনাল (ব্যতিক্রম)। কেননা এখানে সরকারের একটা টাকা ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই। প্রকল্পটির ভূমি সরকারি হলেও তার দখলদার ছিল সব বস্তিবাসী। এ সকল বস্তিবাসী নিয়ে সরকার নানাভাবে হিমশিম খাচ্ছিল। তখন আমার বাবা সপরিবারে প্রকল্প থেকে সকলকে কনভেন্স করলেন প্রজেক্টের ব্যাপারে। এরপর ২০১০ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পাদন করেছেন।

‘আমার দাদার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে ও সাধারণ মানুষের দেয়া কিছু অর্থ সহযোগিতায় কাজ করা হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রকল্পবিরোধী চক্র আমাদের পরিবার ও আমাদের প্রতিষ্ঠান এনএসপিডিএলকে অবৈধভাবে প্রজেক্টছাড়া ও দেশছাড়া করে ২০১০ সালে।’

ঐশীর দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি করেন ঐশী। এর মধ্যে রয়েছে ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রের দায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এনএসপিডিএলের যাবতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, শহীদ পরিবার হিসেবে তাদের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐশীর বাবা ও এনএসপিডিএলের প্রধান আব্দুর রহিম।

আরও পড়ুন:
স্থায়ী রূপ নিচ্ছে করোনা!
কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮ 
আড়াই মাস পর রাজশাহী মেডিক্যালে মৃত্যু কমে ৪
করোনা ও উপসর্গে ময়মনসিংহে এক দিনে মৃত্যু ৬

শেয়ার করুন