বিনিয়োগসংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্য স্পর্শকাতর: রাসেল

বিনিয়োগসংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্য স্পর্শকাতর: রাসেল

যমুনা গ্রুপের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর এ বি এম শামসুল হাসান বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে বললে এভাবে বলা যায়, ইভ্যালিতে আমাদের বিনিয়োগ করার ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটাই বলার সময় এখন আসেনি। যখন আসবে, তখন আপনাদের জানাব।’

বিনিয়োগের বিষয়টিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে লিখিত বিবৃতি ছাড়া কোনো গণমাধ্যমকে এই ইস্যুতে সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আপনাদের কাছে সময় চেয়েছি যেন ইভ্যালিতে বিনিয়োগ এনে, সবার প্রতি কমিটমেন্টগুলো দ্রুত সময়ে রাখতে পারি। বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত থেকে যমুনা গ্রুপ সরে এসেছে, বেশ কিছু গণমাধ্যমে এমন খবর প্রচারের পর বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ফেসবুকে পোস্টে এ কথা বলেন মোহাম্মদ রাসেল।

যমুনা গ্রুপ নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, তারা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিষয়টি এমন নয়; বরং এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তারা আরও সময় নেবে।

মাসখানেক আগে বিতর্কিত অনলাইন মার্কেট ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল শিল্প গ্রুপটি। তবে এখন সেই বিনিয়োগ করবে কি না তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমার অনুরোধ এই রকম একটা সেনসিটিভ বিষয়ে লিখিত কোনো স্টেটমেন্ট ছাড়া কোনো মিডিয়া যেন নিউজ না করে।

‘আমরা সব সময়ই বলে আসছি, আমাদের কমিটমেন্ট সময়ের মাঝেই সব পুরাতন অর্ডার ডেলিভারি করব।’

যা বলছে যমুনা গ্রুপ

আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে যমুনা গ্রুপের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর এ বি এম শামসুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনও ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। তাদের সব কাগজপত্র আমরা নিয়ে এসেছি, যাচাই-বাছাই করছি। আমাদের অ্যাকাউন্টের লোকজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

‘এসব শেষে আমরা যদি দেখি, ইভ্যালির ভবিষ্যৎ ভালো। এখানে বিনিয়োগ করলে যমুনা গ্রুপ লাভবান হবে, তাহলেই বিনিয়োগ করা হবে। আর যদি দেখি, ভবিষ্যৎ ভালো না। তাহলে ইভ্যালিতে কোনও বিনিয়োগ করা হবে না।’

এর আগে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলামকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ইভ্যালিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যমুনা গ্রুপ।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে যমুনা গ্রুপের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর এ বি এম শামসুল হাসান বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে বললে এভাবে বলা যায়, ইভ্যালিতে আমাদের বিনিয়োগ করার ব্যাপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটাই বলার সময় এখনও আসেনি। যখন আসবে, তখন আপনাদের জানাব।’

সমস্যাকবলিত ইভ্যালির ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনার কথা ছিল যমুনা গ্রুপের। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো যমুনা গ্রুপও ইভ্যালির কাছ থেকে টাকা পাবে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ধাপে ধাপে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ছিল।

গত ২৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।

এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে ওই দিন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের সা‌র্বিক প‌রিচালনায় এ বিমার আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং‌য়ে করা যা‌বে। ত‌বে এ জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া বিমাসংক্রান্ত অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থের অভাবে কোমলম‌তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ পলিসির আওতায় প্রিমিয়াম মাসে ২৫ টাকা, বছরে ৩০০ টাকা, বিমার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ফের গতি

রেমিট্যান্সে ফের গতি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আবার গতি ফিরেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ দিনেই ১০৯ কোটি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গত তিন মাস ধরে রেমিট্যান্সের গতি নিম্মমুখি। ২ বিলিয়ন ডলারের কম এসেছে। জুনে এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার। পরের দুই মাস জুলাই ও আগাস্টে আসে যথাক্রমে ১৮৭ কোটি ও ১৮১ কোটি ডলার।

সেক্ষেত্রে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহের গতি আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসে ২১ তারিখ কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের পর ওই মাসের বাকি দিনগুলোতে খুবই কম রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। সে কারণে জুলাই মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের কম রেমিট্যান্স দেশে আসে। তার রেশ আগস্ট মাসেও থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে তার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।’

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সে ফের গতি

টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১২ মাসের সাত মাসই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬০ কোটি ডলার এসেছিল ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। যা এখন পর্যন্ত এক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

বেসরকারি ৪০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪০ লাখ ডলার।

মহামারির মধ্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ওই মাসে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাঠান প্রবাসীরা, যা এক মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসেই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার করে এসেছে।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে।

ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। এরপর আর রেমিট্যান্স কমেনি, প্রতি মাসেই বেড়ে চলেছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্সপ্রবাহে গতি ফেরায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি বাড়ার পরও গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অত্রিকম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

এডিপি বাস্তবায়নে শুরুতেই এগিয়ে আইসিটি খাত

এডিপি বাস্তবায়নে শুরুতেই এগিয়ে আইসিটি খাত

এডিবি বাস্তবায়নে অন্য সব মন্ত্রণালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে আইসিটি বিভাগ।

কেবল এবার নয়, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরেও সামগ্রিক হারের ‍তুলনায় আইসিটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেশি ছিল। ওই বছরে আইসিটি বিভাগ ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, যদিও সামগ্রিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের চেয়ে বেশি সফল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিভাগ।

দুই মাসে এই বিভাগে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশ, যা সামগ্রিক হারের প্রায় দেড় গুণ। এই দুই মাসে সামগ্রিকহারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

কেবল এবার নয়, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরেও সামগ্রিক হারের ‍তুলনায় আইসিটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেশি ছিল। ওই বছরে আইসিটি বিভাগ ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, যদিও সামগ্রিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ।

রোববার বিভাগটির এডিপি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সভায় অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের এই তথ্য জানানো হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরসহ বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থা প্রধান এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকরাও যুক্ত হন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুত প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি শতভাগ নিশ্চিত এবং যথাসময়ে কাজ শেষ করতে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

চলতি অর্থবছরে আইসিটি বিভাগের অধীন ২৩টি উন্নয়ন তিনটি কারিগরি ও একটি নিজস্ব প্রকল্পসহ মোট ২৭টি প্রকল্প রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপির বরাদ্দ এক হাজার ৪৫২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সভায় আইসিটি বিভাগের চলতি অর্থবছরে গৃহীত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, মাসভিত্তিক বাস্তব ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ এবং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংস্থা প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকরা নিজ নিজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সর্বশেষ অগ্রগতি সভায় তুলে ধরেন।

সভায় যেসব প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জেলা পর্যায়ে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্প, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প, দুর্গম এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প, অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (২য় সংশোধিত)।

‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক রাজশাহী (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কসহ অন্যান্য হাইটেক পার্ক উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন, বিজিডি ই-গভ সার্ট এর সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প, লিভারেজিং আইসিটি ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ অফ দ্য আইটি-আইটি ইএস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রকল্প।

‘জাপানিজ আইটি সেক্টরের উপযোগী করে আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, মোবাইল গেইম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্প, বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপদ ইমেইল ও ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন প্রকল্প, কানেক্টেড বাংলাদেশ শীর্ষক প্রকল্প, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

সোহেল রানাকে দেশে ফেরানোর আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সোহেল রানাকে দেশে ফেরানোর আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক ও বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

বনানী থানার সাময়িক বরখাস্ত পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক। পুলিশে চাকরির আড়ালে তিনি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

ভারতে আটক বনানী থানার সাময়িক বরখাস্ত পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সোহেল রানা আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক। পুলিশে চাকরির আড়ালে তিনি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সোহেল রানাকে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে রোববার আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, ‘তাকে (সোহেল রানা) দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে আনা হবে।’

সোহেল রানাকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে আটক করা হয় বলে জানায় ভারতের গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ভারত।

ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে। ৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন আসামি সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী।

সোনিয়া মেহজাবিন কাগজে-কলমে ই-অরেঞ্জের মালিক হলেও তার ভাই শেখ সোহেল রানা আড়ালে থেকে সব পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকার সময় ই-অরেঞ্জের সাবেক সিওও নাজমুল আলম রাসেল এমন তথ্য দিয়েছেন।

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষকে প্রতারিত করবে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করবে। তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। আমাদের কাছে যে খবরগুলো আসছে, সেগুলোর উপরে আমাদের তদন্ত দল কাজ করছে।’

জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ই-বিজনেস বলুন, আর যেটাই বলুন অনেকেই প্রতারণা করছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমরা দেখেছি তৈরি হয়েছে, যেমন- ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ। এরা মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কমিটমেন্ট পূরণ কীভাবে করবে, তা আমার জানা নেই।

‘তারা জনগণকে যে কমিটমেন্ট দিয়েছে তা যদি পূরণ না করে তাহলে আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। করতেই হবে। যারা এসব প্রতিষ্ঠানে লগ্নি বা ইনভেস্ট করেন, তারা বুঝে করবেন যেন প্রতারিত না হন। যে প্রলোভন তারা দেখাচ্ছে, সেটা বাস্তবসম্মত কি না সেটাও আপনারা ভেবে দেখবেন।’

ই-অরেঞ্জের হিসাব থেকে সোহেল রানার প্রায় আড়াই কোটি টাকা উত্তোলনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপর গত ২৮ আগস্ট ৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোহেল রানাসহ ই-অরেঞ্জের ১০ জন মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন টিটু নামের একজন গ্রাহক। আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে।

পরের দিন বনানী থানায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেননি সোহেল রানা। এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুপ্রেবেশের অভিযোগে দেশটির নেপাল সীমান্ত থেকে তাকে আটক করেছে বিএসএফ।

সোহেল রানাকে আটকের সময় তার কাছে পাসপোর্ট, কয়েকটি দেশের মুদ্রা, থাইল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পেয়েছে বিএসএফ। ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

র‍্যাংগস চেয়ারম্যান আক্তার হুসেইনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

র‍্যাংগস চেয়ারম্যান আক্তার হুসেইনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। ফাইল ছবি

একটি বিজ্ঞাপনে র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস কপিরাইট আইন অমান্য করে বাদীর কাজ নকল করেছে বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের দেননি আইনজীবী কামরুন নাহার লিজা।

প্রতারণার অভিযোগে র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আক্তার হুসেইনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালতে রোববার কামরুন নাহার লিজা নামে এক আইনজীবী মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের ম্যানেজার (মার্কেটিং) মোহাইমিনুল ইসহাক প্রতীক, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (মার্কেটিং) ওমর ফারুক ও শোরুম ইনচার্জ তানভীর হোসাইন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আইনজীবী কামরুন নাহার লিজা এই তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

একটি বিজ্ঞাপনে র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস কপিরাইট আইন অমান্য করে বাদীর কাজ নকল করেছে বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের দেননি আইনজীবী কামরুন নাহার লিজা।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন

ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।’ জবাবে আদালত বলে, ‘…গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অফারে লোভে পড়ে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়া ঠেকাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালাতে পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে রিট শুনানির একপর্যায়ে ই-কমার্স প্রসঙ্গও উঠে আসে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। একপর্যায়ে আদালত তার কাছে ই-কমার্স ব্যবসার বিষয়ে জানতে চায়।

তখন শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।’

তখন আদালত বলে, ‘হ্যাঁ, আমরা তো দেখি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। বিমানের টিকিট কিনলে হোটেল ফ্রি। এ জন্যই গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্সে টাকা কীভাবে লেনদেন হয়, আদালতের এমন প্রশ্নে শিশির মনির বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকাটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে যায়।’

দেশে ই-কমার্স নিয়ে একটা অস্থির সময় যাচ্ছে। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ ও ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন।

প্রেপ্তার করা হয়েছে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক সিওও নাজমুল আলম রাসেলকে।

মামলা হয়েছে ধামাকার মালিকদের বিরুদ্ধেও।

ই-কমার্স নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখেন পৃথিবীর সব দেশেই ই-কমার্সের ব্যবসা রয়েছে। এটা জনপ্রিয় একটা সাইট। আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসা নতুন। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি তাদের অসাধু কার্যকলাপের জন্য ই-কমার্সের ব্যবসা পেছনের দিকে নিয়ে গেল। নতুন একটা ব্যবসায় মানুষজন কাজ করতে পারত। সেটাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়ে ই-কমার্স ব্যবসাটাকে নষ্ট করে ফেলা হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানা মতে ই-কমার্স নিয়ে কোনো আইন হয়নি। এটাকে আইনের আওতাভুক্ত করতে হবে। আমি মনে করি, যারা এ ধরনের ব্যবসা করবে তাদের কাছ থেকে একটা সিকিউরিটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে তাদের লাইসেন্স দেবে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তাদেরকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মানি থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে।

‘আর কেউ প্রতারিত হলে সে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতে পারে। এ ছাড়া, ক্রেতাকে সাবধান হতে হবে। আমি সবাইকে একটা পরামর্শ দেবো, কোনো ধরনের বিনিয়োগ করার আগে, কোনো পণ্য অর্ডার করার আগে দয়া করে করে এর ভালো-মন্দ দিকটা ক্ষতিয়ে দেখে তারপর অর্ডার করবেন।’

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়।

আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচারিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিতে বিনিয়োগে সতর্ক যমুনা গ্রুপ
ইভ্যালির কাছে টাকা পান ২ লাখ গ্রাহক
ইভ্যালির লেনদেনের চেকের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সিরাজগঞ্জে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির মামলা 
ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাবে নিলে ইভ্যালির দেনা নেই

শেয়ার করুন