ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৩

ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৩

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তিনটি বাসে ৯৫ হাজার টাকার মতো লুট করার কথা জানিয়েছে। আমরা আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। সেই সঙ্গে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ঢাকাগামী তিনটি বাসে ডাকাতির মামলায় আরও তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন থেকে বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রেজাউল করিম, আনুরুল ইসলাম ওরফে আনুগুরু ও তাজেল আলী।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার (একটি গলার মালা, একজোড়া কানের দুল, একটি নাকের ফুল) ও ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তিনটি বাস থেকে ৯৫ হাজার টাকার মতো লুট করার কথা জানিয়েছে। আমরা আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। সেই সঙ্গে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

এদিকে ডাকাতির ঘটনায় র‌্যাবের অভিযানে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার রাতে ভোলাহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তিনটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উপজেলার ফলিমালি বিল এলাকার আঞ্চলিক সড়কে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে যাত্রীদের মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলা করেন সাথী ট্রাভেলসের সুপারভাইজার মো. রফিক।

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

বরগুনা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূল নকশা বদলে মূল ঘর ও বারান্দার একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও। নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় সরকারি নকশা পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুন্ন হয়েছে ঘরের গুণগতমান।

অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ইচ্ছামতো নির্মাণ করেছেন এইসব ঘর। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

তারা জানান, ভিন্ন নকশার কারণে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। আর নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে খসে পড়ছে প্লাস্টার, বালু উঠছে মেঝে থেকে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সবার জন্য ঘর নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে বরগুনাসহ সারা দেশে ৭০ হাজার ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বরগুনা সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩০টিসহ পর্যায়ক্রমে ২১৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নীতিমালা। দুর্নীতি ঠেকাতে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি। এ ছাড়া ঘরের জন্য দেয়া হয় আলাদা নকশা।

সারা দেশে সরকারি সেই নকশায় ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রম।

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ইট, বালু, কাঠসহ সব সামগ্রী নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। দেয়ালের পুরুত্বও ঠিক নেই বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) না থাকায় প্রকল্প-২-এ সেই দায়িত্ব দেয়া হয় বেতাগী উপজেলার পিআইও মো. ওয়ালিউল্লাহকে।

তবে ওয়ালিউল্লাহ দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকায় বরগুনা সদর উপজেলায় মূলত দেখাশোনা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী হওয়ায় হুমায়ুন কারও পরামর্শ না নিয়ে নকশা বদলে ইচ্ছেমতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার দক্ষিণ লাকুরতলা গ্রামে দেখা যায়, দুই শতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অন্য ঘরগুলোতে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে।

হস্তান্তর করা ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, মো. জহিরুলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নকশায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। এখন পর্যন্ত সব ঘর হস্তান্তর না হলেও খসে পড়া শুরু করেছে পলেস্তারা। মেঝে থেকেও বালু উঠছে। কয়েকজন নিজ উদ্যোগে মেঝে ঠিকও করে নিয়েছেন।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তার (প্রকৌশলী হুমায়ুন) সঙ্গে কোনো কথাই বলা যেত না। নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘর তৈরি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন। কার প্রভাবে কীভাবে হুমায়ুন এত ক্ষমতা পেল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ইউএনও সামিয়া শারমিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। আমি আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ঘর হস্তান্তর হয়নি। ঘর নির্মাণে অনিয়ম কিংবা নকশাবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রাসেল যেসব স্ট্র্যাটেজিতে ব্যবসা করেছেন তাতে ইভ্যালি কোনো লভ্যাংশ পায়নি। তিনি সব গ্রাহককে পণ্য দিতেন না। ১০০ জনের মধ্য ৫ থেকে ১০ জন পুরাতন গ্রাহককে পণ্য দিতেন। কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

বাহিনীটি জানিয়েছে, ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেলের পরিকল্পনাতেই বিভিন্ন লোভনীয় অফার চালু হয়েছিল। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির দেনা বেড়েছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন শুক্রবার দুপুরে কুর্মিটোলায় বাহিনীর সদরদপ্তরে এসব জানান।

তিনি বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।’

সাধারণ মানুষের লগ্নি করা টাকায় স্পন্সর করে রাসেল ইভ্যালিকে দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর কোম্পানি করতে চেয়েছিলেন বলে জানান খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘রাসেল যেসব স্ট্র্যাটেজিতে ব্যবসা করেছেন তাতে ইভ্যালি কোনো লভ্যাংশ পায়নি। তিনি সব গ্রাহককে পণ্য দিতেন না। ১০০ জনের মধ্যে ৫ থেকে ১০ জন পুরাতন গ্রাহককে পণ্য দিতেন। কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

‘রাসেলের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা। তিনি বিভিন্ন দেশে ই-কমার্সে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার গ্রাহক ৪৪ লাখ হলেও ৭০ লাখ পর্যন্ত বলতেন। এসব বলে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন।’

র‍্যাব জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইভ্যালি কাউকে পণ্য দিতে পারেনি। গ্রাহকরা যখন দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পাচ্ছিল না, তখন রাসেল টি১০, টি৭, টি৫ অফার চালু করেন। এই অফারগুলোর মাধ্যমে টুথপেস্ট, টুথব্রাশের মতো সাধারণ পণ্য দিচ্ছিলেন তিনি।

রাসেলের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, তার নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। অফিস, ওয়্যার হাউস সবই ভাড়া করা। নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাটও নেই।

র‌্যাবের ভাষ্য, দিন দিন যে পরিমাণ দেনা বেড়েছে তা পরিশোধের সক্ষমতা না থাকায় রাসেলের পরিকল্পনা ছিল বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেয়া। বিক্রি করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার লক্ষ্য ছিল তার।

তিনি অর্থপাচার করেছেন কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা সম্পদের মূল্য ৬৫ কোটি টাকা।

আরিফ বাকের নামের ইভ্যালির এক গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন তিনি।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশের উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

আদালতে ইভ্যালির রাসেল-শামীমা

আদালতে ইভ্যালির রাসেল-শামীমা

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমাকে বহনকারী গাড়িটি দুপুরে সিএমএম আদালত চত্বরে পৌঁছায়। ছবি: নিউজবাংলা

রাসেল ও শামীমাকে বেলা ৩টার দিকে মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে তোলা হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন।

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নেয়া হয়েছে।

গুলশান থানা থেকে বেলা দেড়টার দিকে এ দম্পতিকে নিয়ে সিএমএম আদালতের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। ২টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়ি আদালত চত্বরে পৌঁছায়।

রাসেল ও শামীমাকে বেলা ৩টার দিকে মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে তোলা হবে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন।

ইভ্যালির দুই কর্মকর্তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করবে পুলিশ।

এ ‍দুজনের নামে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে দুজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত দুটি স্যামসাং মোবাইল, একটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

রাসেল ও শামীমাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে দুজনকে গ্রেপ্তার নিয়ে কুর্মিটোলায় নিজেদের সদরদপ্তরে ব্রিফ করে র‌্যাব।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রাহকদের দেনা পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না ইভ্যালির। এ কারণে সিইও রাসেল চেষ্টা করছিলেন বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দিতে। বিক্রি করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল তার।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা সম্পদের মূল্য ৬৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব আরও জানায়, বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকের কাছ থেকে কোম্পানিটি নিয়েছিল ২১৪ কোটি টাকা। ইভ্যালির কাছে বিভিন্ন কোম্পানি ও গ্রাহকের পাওনা ১৯০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, দেনা পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না ইভ্যালির। এ কারণে সিইও রাসেল চেষ্টা করছিলেন বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দিতে। বিক্রি করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল তার।

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দেনা দিন দিন বাড়ছিল। এমন বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল একে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ইভ্যালির সিইও রাসেল, তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের পরের দিন কুর্মিটোলায় নিজেদের সদরদপ্তরে শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় র‌্যাব।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, দেনা পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না ইভ্যালির। এ কারণে সিইও রাসেল চেষ্টা করছিলেন বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দিতে। বিক্রি করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল তার।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা সম্পদের মূল্য ৬৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব জানায়, বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোম্পানিটি নিয়েছিল ২১৪ কোটি টাকা। ইভ্যালির কাছে বিভিন্ন কোম্পানি ও গ্রাহকের পাওনা ১৯০ কোটি টাকা।

অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে জন্য তাদের আজকে (বৃহস্পতিবার) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

রাসেল-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ইভ্যালির ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক গ্রাহক বিক্ষোভ করছিল।

ইভ্যালির সিইও রাসেলের বাসায় অভিযানের খবর পেয়ে এসব গ্রাহক বাসার সামনে জড়ো হয়। গ্রাহকদের কেউ কেউ বলেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আরও বেশি ক্ষতির শিকার হবেন।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পায়নি।

রেদোয়ান নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবে না।’

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

৪৯ মামলার আসামি কাঞ্চনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে তার মা কমরের নেহারসহ পরিবারের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে।

আলোচিত ৪৯ মামলার আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার মা কমরের নেহার।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

কমরের নেহার রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানের মুরিদ। সংবাদ সম্মেলনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় ছেলে আকতার ই কামাল, ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার, কাঞ্চনের মামাতো ভাই শাকেরুল কবির ও তার দুই বোন।

৮৪ বছর বয়সী কমরের নেহারের পক্ষে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মেয়ে ফাতেমা আক্তার।

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে। সম্পদের জন্য কাঞ্চন মায়ের বিরুদ্ধেই দুটি মামলা করে। এমনকি নিজের মায়ের নামের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরি করে। এ ঘটনা সামনে আসার পর কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

স্বামী ডা. আনোয়ার উল্লাহ ১৯৮৬ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হয়েছিলেন দাবি করে কমরের নেহার বলেন, ‘তিনি (স্বামী) জীবিত থাকার সময় আমি আমার বড় ছেলে ও মেয়ে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হই।’

কমরের নেহার তার স্বামীর সম্পদের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ছিলেন। তিনি অনেক জমিজমা ক্রয় করেন। তার ঢাকার শেওড়াপাড়া, শাহজাহানপুর থানার শান্তিবাগে বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবাইলে ফ্যাক্টরি, তক্কার মাঠে জমি, পিলকুনিতে ৪টি প্লট রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নোয়াখালীতে পৈতৃক সূত্রে অনেক জমিজমা লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর এই সম্পত্তিগুলো কাঞ্চনসহ সবার মধ্যে বণ্টন হয়, যা প্রত্যেকের সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট।

‘আমার স্বামী আমার জন্যও আলাদা কিছু সম্পত্তি কিনেছিলেন। আমার ও স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী, কিছু জমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার নিয়ত করেছিলাম। কিন্তু আমার দানের বিষয়টি অন্য সন্তানরা মেনে নিলেও কাঞ্চন মানতে পারেনি। সে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যেন আমি আমার ভাগের সম্পত্তিটুকু পুরোটাই তাকে লিখে দিই; কোনোভাবেই যেন মাদ্রাসায় জমি দান না করি। কাঞ্চন সম্পত্তির ওপর লোভ সামলাতে পারে না পেরে অন্য এক মহিলাকে মা বানিয়ে আমার জমির জাল দলিল তৈরি করে। ওই জাল হেবা দলিলের জন্য আমরা ২০০৯ সালে একটি মামলাও করেছিলাম যার নং ১৩৯২৬।’

কমরের নাহার বলেন, ‘…এক যুগ আগে কাঞ্চন আমাকে মৃত দেখিয়ে এবং তার একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তারকে বাদ দিয়ে সকল সম্পদের ওয়ারিশনামা তৈরি করে। কাঞ্চনের বানানো জাল দলিল বাতিল করতে এবং আমার মেয়ের ওয়ারিশসত্ব ফিরিয়ে আনতে আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। তখন কাঞ্চন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করে। আমি তার মা হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে দুটি, বড় ভাই আকতার ই কামালের বিরুদ্ধে সাতটি, বোনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং তার মামাতো ভাই শাকেরুল কবিরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে।’

২০১৪ সালে নিজের অংশ থেকে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার নামে ৭৬ শতাংশ জমি দান করেন বলে উল্লেখ করেন কমরের নেহার।

তিনি বলেন, ‘এটা কাঞ্চন মেনে নিতে পারেনি। সে ওই জমিসহ আমার অংশের সম্পদ তার নামে লিখে দিতে আমাকে চাপ দিতে থাকে। সেই সাথে দানের জমি ফিরিয়ে দিতে রাজারবাগ দরবার শরিফ ও মুহম্মদীয়া জামিয়া শরিফ মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট লোকজনের ওপর মামলা-হামলা করতে থাকে। অনেককে সে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠায়। এমনকি মাদ্রাসায় যাওয়া বোরকা পরিহিতা নারীদেরও সে উত্ত্যক্ত করত। এরপর সে রাজারবাগ পিরের সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বক্তব্য প্রচার করতে থাকে।

‘পির সাহেব নাকি আমাকে বাইয়াত করে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিচ্ছেন। আমি নাকি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করে পির সাহেবকে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছি। এমন মিথ্যা সে মিডিয়ায় প্রচার করতে থাকে। আমি কোনো সম্পত্তি পির সাহেবকে লিখে দিইনি। যতটুকু সম্পত্তি আমি দান করেছি, সেটা একটা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য; পির সাহেব বা দরবার শরিফের নামে নয়। আমি স্বেচ্ছায় ওই সম্পদ দান করেছি।’

পিরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাঞ্চন কুৎসা রটাচ্ছেন উল্লেখ করে কমরের নেহার বলেন, ‘সে প্রচার করে, আমি নাকি আমাদের শান্তিবাগের বাড়ি পির সাহেবকে লিখে দিয়েছি, পির সাহেবের মেয়ের বিয়েতে স্বর্ণের মুকুট দিয়েছি, জাপান থেকে তার পাঠানো একটা গাড়ি পির সাহেবকে দিয়ে দিয়েছি। এসবই ভিত্তিহীন, মিথ্যা কথা। কাঞ্চনের সাথে আমাদের পারিবারিক বিরোধ। সেটার সাথে পিরকে জড়িয়ে মাদ্রাসার জায়গাটা দখল করতে চায় সে।’

কাঞ্চনের মায়ের দাবি, জাপান থেকে ফিরে এসে তার ছেলে ১৯৯৫ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হন। এমনকি তার দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানও রাজারবাগ দরবার শরিফে হয়।

ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগ পাঠ করার পর কমরের নেহার ও তার পরিবারকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে চাইলে তারা জানান, কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেননি। তারা শুধু তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এরপরও কাঞ্চনের জাল হেবা দলিল সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল ছাড়েন।

পরিবারের সব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল আহসান কাঞ্চন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মা-ভাই-বোন পির সাহেব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পিরের কয়েকজন সহযোগী মাদ্রাসার দানের বাইরেও আমাদের আরও জায়গা হাতিয়ে নিবার পাঁয়তারা করছিল, এটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের কাছ থেকে গোপনে স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জের ১৭১ শতাংশ জায়গার হেবা দলিল তৈরি করি। আর তাতে উল্লেখ করা হয়, আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমার মায়ের অংশের ওই জমির মালিক হব আমি, আমার বড় ভাইয়ের দুই ছেলে ও আমার ছোট ভাই বাদল।

‘আমার মা, বড় ভাই ও বোন যেহেতু পিরের মুরিদ। আর তারা ওই সম্পদ পিরকে দিয়ে দিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই আমি এই কাজ করেছিলাম। আমার যদি সম্পদের প্রতি লোভ থাকত তাহলে তো সব আমার নিজ নামেই নিতাম। আমার ছোট ভাই আর ভাতিজাদের নাম রাখতাম না।’

কাঞ্চনের দাবি, ‘পিরের লোকেরা যে আমাদের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছিল তার প্রমাণও মিলে ওই হেবা দলিল করার কিছুদিন পর। আমার মায়ের কাছ থেকে ওই ১৭১ শতাংশ জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে নেয় পিরের লোকজন। তখন তারা সেই অংশের কিছু জমি একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

‘তখন আমার তৈরি করা হেবা দলিল সামনে আসলে তারা বিপদে পড়ে যায়। তখন মাকে দিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই ও দুই ভাতিজার নামে দুটি মামলা করানো হয়। একটি মামলায় জমি ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে মায়ের সাথে আমাদের আপস হয়। অন্যটি এখনও চলছে।’

মাকে মৃত দেখিয়ে বোনের অংশ বাদ দিয়ে ওয়ারিশনামা তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঞ্চন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যদি এমনটা হতো তাহলে তো আমার মা আমার বিরুদ্ধে মামলা করত। তাদের জিজ্ঞেস করেন মামলা কেন করল না।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শেষ দিকে কমরের নেহার বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক এই বিরোধে কাঞ্চন একটি পক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে পুরো পরিবার এক আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে কমরের নেহারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নে, ভাগ্নিরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন ছোট ছেলে কামরুল আহসান বাদল ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে বাদল ও তার পরিবারের সদস্যদের সেখানে যুক্ত থাকার দৃশ্য চোখে পড়েনি।

নিউজবাংলা যোগাযোগ করে বাদলের পরিবারের সঙ্গে। টেলিফোনে কথা হয় বাদলের স্ত্রী তসলিমার সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলাম না। আমাদের কাছে তো ভিডিও কল করার মতো কোনো ফোনই নাই।’

ভিডিও কলে যুক্ত থাকার কথা কেন বলা হলো, তা জানতে চাইলে তসলিমা বলেন, ‘তা বলতে পারব না। আমরা কাঞ্চন ভাই বা আমার শাশুড়ির বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাদের এসব থেকে দূরে রাখেন।’

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন, সেই শিশুকে এসপির সহায়তা

গৃহকর্ত্রীর নির্যাতন, সেই শিশুকে এসপির সহায়তা

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবার হাতে বৃহস্পতিবার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

৯ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে নির্যাতনের পর বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির বাবা। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।  

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নির্যাতনের শিকার সেই শিশু গৃহকর্মীকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) আহমার উজ্জামান। শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবার হাতে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে সহায়তা তুলে দেন এসপি।

নিউজবাংলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ।

১১ বছরের ওই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা।

মামলায় উপজেলার বাগতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আছমা আক্তার, তার বোন লিটু ও ভাই সোহাগকে আসামি করা হয়।

মামলায় বলা হয়, ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া নয়াপাড়া খালপাড় এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন আছমা আক্তার। গত মে মাসে আছমার ছোট বোন লিটু ও ভাই সোহাগ ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল পানের ভিটা গ্রাম থেকে মাসে এক হাজার টাকা বেতনে ওই শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে আছমার বাড়িতে নিয়ে আসে।

শুরু থেকেই কাজে সামান্য ভুল হলেই শিশুটিকে মারধর করা হতো। মাঝে মধ্যে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করা হয়। শিশুটিকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দেয়া হতো না।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের পর লিটু ও সোহাগ শিশুটিকে তার বাড়ির পাশে ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘আমি চায়ের দোহানদার (দোকানদার)। একবেলা খাইলে আরেকবার খাইবার পারিনা। ভাবছিলাম মাইয়্যাডারে (মেয়েকে) ভালা বাড়িতে কামে দিছি। অহন (এখন) বুঝবার পারছি আমি ভুল করছিলাম। সারা শরীর ব্লেড দিয়া কাইট্টাইলছে! আমি এর বিচার চাই।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, ‘মামলার পর আসামিরা পালিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোলাহাটে বাসে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৪
তিন বাসে ডাকাতি, আটক ৫
তিন বাসে ডাকাতি: টাকা-স্বর্ণালংকার লুট, আহত ৬
পাহারাদারসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে বাজা‌রে ডাকা‌তি
ডাকাতি করতে থামালেন গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি, গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন