চোরাকারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির ২ সদস্য আহত

চোরাকারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির ২ সদস্য আহত

বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু পারাপারের চেষ্টা করছিল একদল চোরাকারবারি। তাদের বাধা দিলে প্রায় ৫০ জনের একটি দল বিজিবির সদস্যদের ঘিরে ফেলে দফায় দফায় ইটপাটকেল ছোড়ে। আত্মরক্ষায় সাতটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন বিজিবির সদস্যরা।

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল দলের সঙ্গে একদল চোরাকারবারির সংঘর্ষে দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চরের গ্রামের রোমারী সীমান্তের ১০৫৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জামালপুর-৩৫ বিজিবির দাঁতভাঙ্গা কোম্পানির কমান্ডার জয়েন উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘বুধবার রাত ১টার দিকে শৌলমারী ইউনিয়নের চরের গ্রামে সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু পারাপারের চেষ্টা করছিল একদল চোরাকারবারি। টের পেয়ে গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের ছয় সদস্যের একটি টহল দল তাদের বাধা দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে প্রায় ৫০ জনের একটি দল বিজিবি সদস্যদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা দফায় দফায় ইটপাটকেল ছোড়ে। আত্মরক্ষায় এ সময় সাতটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন বিজিবি সদস্যরা।’

বিজিবির দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি।’

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

মংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

নির্ধারিত জুতো না পরায় বাগেরহাটের মোংলার একটি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

মোংলার সেন্ট পলস স্কুল নামের ওই বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্লাস শুরুর সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে।

এর আগে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, স্কুলের পোশাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত চাপ দেয়া যাবে না, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এ কথা বলেন। তারপরও সেন্ট পলস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী এমনকি ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও।

শিক্ষার্থীরা নিউজবাংলাকে জানায়, সকালে বিভিন্ন ক্লাসরুম পরিদর্শনে আসেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ঠিক আছে কিনা তা দেখতে তিনি ক্লাস শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। সে সময় দেখা যায়, কয়েক ছাত্রের পোশাক ঠিক থাকলেও জুতা ছিল ভিন্ন।

এমন শতাধিক ছাত্রকে তখনই স্কুল থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর কেউ বাড়ি ফিরে যায়, কেউ স্কুলের আশপাশে বসে থাকে।

মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। তিনি মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি, সু পরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। ইউএনও স্যার আসছেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।’

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক এই স্কুলে নতুন। যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছেমতো স্কুলের সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। করোনাকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের এসব কিছু অগ্রাহ্য করা উচিত, যা তিনি করেননি।

এ বিষয়ে ইউএনও কমলেশ বলেন, ‘অভিযোগ শুনে আমি ওই স্কুলে যাই। যা বলার প্রধান শিক্ষককে বলে এসেছি। এখন সমস্যা নাই।’

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

সংযোগ সড়ক না থাকায় এভাবেই পার হতে হচ্ছে লংগদু উপজেলার এ সেতুটি। ছবি: নিউজবাংলা

বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

নদীতে সেতু আছে। নির্মাণে খরচ হয়েছে পৌনে এক কোটি টাকা। এত টাকা খরচ করে যে সেতু সেটি মানুষের ভোগান্তি কমাতে কাজে আসেনি। বরং তা চলাচলকারীদের দীর্ঘশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

কখনও সাঁতারে কখনও নৌকায় নদী পার হয়ে তারপর মই বেয়ে উঠতে হচ্ছে সেতুতে। ৮ বছর ধরে এমন কসরত করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে।

‘হতভাগ্য’ এই মানুষগুলো রাঙামাটির লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের। তাদের এই কষ্ট যেন অবর্ণনীয়। অথচ এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। যাদের হাত আছে তারা এখন বলছেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। আটারকছড়া ইউনিয়নে মিজান মুন্সীর বাড়ির সামনে মাইনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

সেতুটির সড়ক সংযোগ না থাকায় লংগদু উপজেলার আটরকছড়া ইউনিয়নের ডানে আটরকছড়া ও ইয়ারিংছড়ি গ্রামের ৭০ পরিবারের ৮ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আটরকছড়ার খুশি চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার করল্যাছড়ি বাজারে করোনা টিকা নিতে গিয়েছিলেন তিনি। অনেক কষ্ট করে যেতে হয়েছে তাকে। সেতুর সংযোগ রাস্তা হলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।

ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা বৈশাখী চাকমা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রামে উৎপাদিত কাঁচামাল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে সেতুটি।

পৌনে এক কোটি টাকার সেতু ‘অকেজো’

আটরকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জিয়াউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বারবার একই কথা বলছেন। দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাস দিলেও সেই কথার দৃশ্যমান কিছু নেই।’

লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে জেলা পরিষদ অপরিকল্পিত সেতুটি নির্মাণ করেছে। তারা যদি সবার সঙ্গে সমন্বয় করত তাহলে এমন হতো না।’

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণকাজের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। যার কারণে সেতুটির বিষয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই। তবে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে সেতুটির সংযোগ সড়ক ও অসমাপ্ত কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

নিঃসঙ্গতা কাটাতে পথপশুদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন এই নারী। ছবি: নিউজবাংলঅ

ফরিদা বলেন, ‘আপন বলতে কেউ নেই। এই কুকুর-বিড়ালদের সঙ্গে নিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন হোটেলে কাজ করি। সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে চলে যাই বাজার করতে। বাজার করে বাসায় রান্না করি। আবার রাতে বের হয়ে কুকুরগুলোকে খাওয়াই। কিছু টাকা রাখি বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। এই পশুদের পেট ভরলেই মন ভরে আমার।’

স্বজন বলতে কেউ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর ছিল কেবল দুই ছেলে। তাদের একজন মারা যায়, আরেকজন যায় হারিয়ে। এরপর প্রায় ২০ বছর ধরে একেবারেই একা ফরিদা বেওয়া।

তবে একাকিত্বের কাছে হার মানেননি নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৫৮ বছর বয়সী এই নারী। হতাশা বা বিষণ্নতা তাকে কখনোই পেয়ে বসেনি; বরং একাকী জীবনকে তিনি উজাড় করে দিয়েছেন পথের বিড়াল-কুকুরের জন্য। এখন এই পথপশুরাই তার পরিবার। তাদের জন্যই যেন ফরিদার বেচে থাকা।

ফরিদার উপার্জন হয় দিনমজুরি করে। যে টাকা পান, তা দিয়ে নিজের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের খাবারে খরচ করেন তিনি। প্রতিদিন খাবার রান্না করে ২০ থেকে ৩০টি কুকুর-বিড়াল খাওয়ান তিনি।

ফরিদা থাকেন সৈয়দপুরের হাতিখানা মহল্লার রেললাইনের ধারে, জরাজীর্ণ একটি ঘরে। বিভিন্ন হোটেলে টুকটাক কাজ করেন। প্রতি রাতে শহরের ক্যান্টনমেন্ট সড়কে গিয়ে কুকুর-বিড়াল খাওয়ান তিনি।

সেই সড়কে গত শনিবার রাত ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, ফরিদাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে কয়েকটি কুকুর। দূর থেকে তার কণ্ঠ শুনেই ছুটে আসছে আরও কিছু।

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

কয়েক ব্যাগভর্তি খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন ফরিদা। কুকুরগুলোর সামনে কাগজ বিছিয়ে তাতে সে খাবার পরিবেশন করছেন। কুকুরগুলোও যেন পরম তৃপ্তি নিয়ে চেটেপুটে সেগুলো সাবাড় করছে। ২০ বছর ধরে এভাবেই তিনি এই পথপশুদের খাদ্যের জোগানদাতা।

নিউজবাংলাকে ফরিদা বলেন, ‘আপন বলতে কেউ নেই। এই কুকুর-বিড়াল সঙ্গে নিয়েই দিন কেটে যাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন হোটেলে কাজ করি। সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে চলে যাই বাজার করতে। বাজার করে বাসায় রান্না করি। আবার রাতে বের হয়ে কুকুরগুলোকে খাওয়াই। কিছু টাকা রাখি বাড়ি ভাড়া দিতে হয়।

‘এই পশুদের পেট ভরলেই মন ভরে আমার।’

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

ফরিদা বেওয়ার সঙ্গে হোটেলে কাজ করেন মো. শাহিন। নিউজবাংলাকে ফরিদার একটি ঘটনা জানান তিনি।

‘কয়েক মাস আগে প্রতিদিনের মতো একদিন রান্না করে খাবার নিয়ে রাতে বের হয়েছিলেন ফরিদা। বাস টার্মিনালে দলবেঁধে থাকা কুকুরগুলোকে খাওয়াচ্ছিলেন তিনি। তখন সাতটা কুকুরের মধ্যে উপস্থিত ছিল ছয়টা। পরের দিন আবার গেলেন খাবার নিয়ে, কিন্তু সেই একটি কুকুর আবারও অনুপস্থিত। সেটিকে খুঁজতে থাকেন ফরিদা।

‘আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারলেন যে, চলন্ত ট্রাকের নিচে পড়ে সেটি মারা গেছে। তখন তিনি সেখানেই কান্নাকাটি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। থানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন সেই ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।’

ফরিদা যেসব হোটেলে কাজ করেন, এর একটি মালিক মো. আশরাফের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

তিনি বলেন, ‘বহু বছর থেকে তিনি আমার হোটেলে কাজ করেন। সবজি কাটা, ডাল বাটাসহ অন্যান্য কাজ করে দেন। প্রতিদিন তাকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দেয়া হয়। প্রতিদিনই তিনি সেই টাকা দিয়ে রাতে মাছ, তরকারি, চাল কিনে বাসায় রান্না করে রাতে বেরিয়ে যান পথকুকুরগুলোকে খাওয়াতে।

‘তিনি কোনো টাকা জমা রাখেন না। সব এই পথকুকুর খাওয়াতেই ব্যয় করে দেন। ওনার ঝুপড়িতেও চার থেকে পাঁচটি বিড়াল সব সময় থাকে। তার নিজের কোনো বাড়ি নেই। কোনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পান না তিনি। এই মজুরির টাকা দিয়েই তিনি এই বিড়াল-কুকুরগুলোকে আগলে রেখেছেন।’

২০ বছরের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী রাস্তার কুকুর-বিড়াল

বণ্য প্রাণী, পাখি ও পরিবেশের সুরক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফরিদা বেওয়ার কাজটি আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয়। আমরা আমাদের সংগঠন থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

রাস্তার পাশে গলাকাটা দেহটি কার

রাস্তার পাশে গলাকাটা দেহটি কার

প্রতীকী ছবি

ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, মৃতের পরনে নীল গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল। মরদেহটি কার তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ইউনিয়নের ছোটখোচাবাড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, সকালে স্থানীয় মন্টু আলী ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মরদেহটি ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

ওসি তানভিরুল আরও জানান, মৃতের পরনে নীল গেঞ্জি ও জিন্সের প্যান্ট ছিল। মরদেহটি কার তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কে বা কারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় কারাগারে আসামি

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টায় কারাগারে আসামি

প্রতীকী ছবি

মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার সময় এক ব্যক্তি মেয়েটির মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর ছাত্রী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

১ নম্বর মানিকছড়ি এয়াতলং পাড়ার হোসেন আলী নামের ওই ব্যক্তিকে সোমবার সকালে আটক করে পুলিশ। তাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ধর্ষণের ঘটনাটি শনিবার দুপুরের বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বাবা জানান, উপজেলার কর্নেল বাগান এলাকায় নিয়ে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও এরপর হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার বরাতে মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহনূর আলম জানান, ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে কর্নেল বাগান এলাকায় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর ছাত্রী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

ওই ছাত্রী মানিকছড়ি কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মংসুইপ্রু মারমা জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাতে শিক্ষার্থীরা থানার সামনে গিয়ে সোমবার বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যায়।

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

জাল জামিনে মুক্তি, ১৭ বছর পর জেল সুপার বরখাস্ত

জাল জামিনে মুক্তি, ১৭ বছর পর জেল সুপার বরখাস্ত

উপসচিব তাহনিয়া রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যশোর জেলা কারাগার থেকে জাল জামিন ব্যবহার করে তিনজন আসামি বের হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে জাকের হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

জাল জামিনের কাগজে আসামিকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল প্রায় ১৭ বছর আগে। সেই ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার জাকের হোসেনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত দেয়া হয়েছে।

এই অব্যাহতির সময় তিনি আর্থিক বিধিবিধান মোতাবেক শুধুমাত্র ‘খোরাকি ভাতা’ পাবেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন ভূঞা।

তিনি জানান, ২০০৪ সালে জাকের হোসেন যশোর কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় মাগুরা থেকে তিন আসামির জামিনের একটি কপি ডাকযোগে যশোর কারাগারে গিয়েছিল। যে কাগজটি ভুয়া ছিল। কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাল কাগজের বিষয়টি বুঝতে না পেরে আসামিদের মুক্তি দিয়ে দেন। এ ঘটনায় জাকের হোসেনসহ যশোর কারাগারের তিন কর্মকর্তা অভিযুক্ত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেল সুপার জাকের হোসেনকে অব্যাহতি দেয়ার একটি চিঠি আসে।

উপসচিব তাহনিয়া রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যশোর জেলা কারাগার থেকে জাল জামিন ব্যবহার করে তিনজন আসামি বের হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে জাকের হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

গত বছরের ২৬ জুলাই হবিগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন জাকের হোসেন।

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পণ্যবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রামে পণ্যবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে পণ্যবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, ট্রেনটি ডাউনলাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে পণ্যবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, পণ্যবাহী ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে মালামাল নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ফৌজদারহাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

তিনি আরও জানান, ট্রেনটি ডাউনলাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ডাবল লাইন থাকায় অন্য লাইনে ট্রেন চলছে। খুব দ্রুত ট্রেনটি সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি লাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
‘চোরাকারবারির’ খপ্পরে বিজিবি, উদ্ধার করল বিএসএফ
বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
বিজিবি এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
পুলিশ সেনাবাহিনীর পর বিজিবি

শেয়ার করুন