পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিম দেওয়ান বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা হতাশায় পড়েছেন। এত দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে খোলা যায় তার একটি যৌক্তিক রোডম্যাপ তৈরি করা।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দ্রুত ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই করোনা টিকার বুথ স্থাপন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফি কমানোসহ ছাত্রী হলে আসন বরাদ্দের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটরিয়ার সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিম দেওয়ান বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা হতাশায় পড়েছেন। এত দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে খোলা যায় তার একটি যৌক্তিক রোডম্যাপ তৈরি করা।

‘এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া আর পরীক্ষা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনেরই নেয়া উচিত। প্রশাসন চাইলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ক্যাম্পাসেই করোনা টিকার বুথ চালু করতে পারে।’

মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা মেঘলা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হলের বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন লুকোছাপা করছে ৷ দুইবার প্রভোস্ট বদল, উদ্বোধনের এতদিন পরেও হলের বরাদ্দ ও নীতিমালা ঠিক করতে না পারা প্রশাসনের দৈন্যতাকে সামনে এনেছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের নীতিমালা ও বরাদ্দ চাই, যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারেন।’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফি বৃদ্ধিরও প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাগরে ইঞ্জিন বিকল, ৩ দিন পর ১৫ জেলে উদ্ধার

সাগরে ইঞ্জিন বিকল, ৩ দিন পর ১৫ জেলে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে তিন দিন ধরে ভাসতে থাকা ১৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। ছবি: সংগৃহীত

নৌকা ভাসতে ভাসতে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোস্টগার্ড পূর্ব জোন তাদেরকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় পায়। কোস্টগার্ডের ভাসানচর স্টেশনের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে।

নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর থেকে আনুমানিক ১৬ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ভাসছিলেন তারা।

কোস্ট গার্ড সদস্যরা রোববার সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করেন।

কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা আমিরুল হক রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ১৫ জেলে এফভি সুরমা নামের নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরের সাংগু গ্যাস ফিল্ড এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে সাংগু গ্যাস ফিল্ড থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে আনুমানিক ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা সাগরে ভাসতে থাকেন।

নৌকা ভাসতে ভাসতে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কোস্টগার্ড পূর্ব জোন তাদেরকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় পায়। এসময় স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) এর নির্দেশে কোস্টগার্ডের ভাসানচর স্টেশনের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা আমিরুল জানান, জেলেদের কোস্টগার্ডের ভাসানচর স্টেশানে এনে খাবার ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলোচনার পর পণ্য পরিবহনে কর্মবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় শুক্রবার রাতে বৈঠক শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম। ১০ দফা দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার এ কর্মবিরতি পালনের কথা ছিল।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। শ্রমিকদের গাড়ি চালাতে নির্দেশ দিয়েছি।’

দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সার্ভিস চার্জ উনারাই নির্ধারণ করেছেন। যেটা নির্ধারিত জায়গায় আদায় করা হবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ফাঁকা জায়গায় গাড়িগুলো রাখবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।’

সড়ক দুর্ঘটনায় চালক-সহকারীদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ইচ্ছে কারও উপরে যদি গাড়ি চালিয়ে দেয়, তাহলে অবশ্যই ৩০২ ধারায় যাবে। তাদের দাবি ছিল, পুলিশ যেন সঠিকভাবে ইনকয়ারি করে কনভার্ট করে।’

এর আগে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির পর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে পণ্য পরিবহনে মালিক শ্রমিকদের সংগঠনটি। দাবি মানতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেয় তারা।

বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ১০ দফা দাবি হলো:

০১ (ক). ট্রাকচালক লিটন ও আবু তালেব প্রামাণিকসহ সকল সড়ক পরিবহন শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ). সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তদন্ত না করে ৩০২ ধারায় মামলা করা যাবে না।

০২. ড্রাইভিং লাইসেন্সের জটিলতা নিরসন করে লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

০৩. পণ্য পরিবহনের সময় মালামাল চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

০৪. বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার করে জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে।

০৫. সড়ক-মহসড়কে কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি বা মাসিক মাসোহারা বন্ধ করতে হবে।

০৬. মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা ব্যয় বা সার্ভিস চার্জ আদায় করার সুযোগ দিতে হবে।

০৭. বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার উদ্যোগ বাতিল করতে হবে।

০৮ (ক). সড়ক-মহাসড়কের পাশে এবং প্রত্যেক জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ট্রাক ও বাস টার্মিনাল নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে হবে।

(খ). চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক গত ৩০ মে ও ২৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের সময় ড্রাইভারদের ডাটাবেজ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

০৯. স্থানীয় সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টার্মিনাল ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ চাঁদা ও টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।

১০. দেশে সড়ক মহাসড়কগুলো শুধুমাত্র হাইওয়ে পুলিশের অধীনে তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কাগজপত্র চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওসমান আলী বলেন, ‘তারা আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আমাদের আগেই ধর্মঘট ডেকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পাতানো ধর্মঘট করেছে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সকল মালিক-শ্রমিকদের তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান, সদস্যসচিব মো. তাজুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

রোববার গাজীপুরে জাহাঙ্গীর বিরোধী বিক্ষোভে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

মেয়র জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে জাহাঙ্গীরের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিনও জাহাঙ্গীরের বিচার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করেন তারা। অবরোধের কারণে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

রোববার বিকেল ৪টায় টঙ্গীর শিলমুন ও টিএন্ডটি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, মহানগর তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আমান, ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর, ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় টিএন্ডটি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘন্টা টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

একই সময়ে ৫৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলী আফজাল খান দুলুর নেতৃত্বে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুজ্জামান জামান, এনতাজ মোড়ল, হাজী কাশেম সরকার, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম স্বপন, যুবলীগ নেতা সেতু সরকার, রুমি সরকার, রাসেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পিংকু প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের
বিক্ষোভকারীদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় সড়কে যান চলাচল

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ জনসভা করবে। ওই জনসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ওই জনসভায় মেয়র বিরোধীরা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ জন্যই রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়মীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মেয়রের সমালোচনায় সরব হন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন তারা।

সভায় মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি শাহ আলম জাহাঙ্গীরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিয়ে সমালোচনা করে মেয়র জাহাঙ্গীর লাই পেয়েছে। লাই পাওয়ার কারণে সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করার সাহস পেয়েছে। তার জিহ্বা লম্বা হয়ে গেছে, সেই জিহ্বা এখনই কেটে দিতে হবে। জামাত-বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে করতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিপক্ষে বলে ফেলে।’

টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বা মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আক্রোশ নেই। আমরা সবাই মুজিব আদর্শের সন্তান। জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ন্যাক্করজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য অবশ্যই তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সহিংস কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হোসেন মেয়র জাহাঙ্গীরকে নাবালক উল্লেখ করে বলেন, ‘নাবালক একটি ছেলে এসে মাত্র সোয়া তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সেই নৌকাটি সংস্কার করবে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা যেন সবাই মিলে একটি নৌকায় উঠে আমাদের গন্তব্যে যেতে পারি।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার ও মেয়র পদ থেকে পদত্যাগেরও দাবি জানান সেলিম।

সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কটুক্তি করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, চেতনার প্রতি সে কটুক্তি করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৬৪টি জেলায় ৪৫ হাজার করে লোক মারা গেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তিনি এই গাণিতিক হিসেবটি দিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। এই হিসেবটি তার একটি প্রমাণ। খালেদা জিয়া বলেছেন, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা যায় নাই, আর সে একটা গাণিতিক হিসেব দিয়ে দেখিয়ে দিল ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার লোক মারা গেছে। সুতরাং এটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আওয়াজের প্রতিধ্বনি।’

আজমত বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আমি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি কটাক্ষ যিনি করবেন তার সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক তো নয়ই, কোন সামাজিক সম্পর্কও রাখা যাবেনা।’

তিনি জানান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার নির্বাচনী এলাকায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার কোন মিছিল মিটিংয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যাবেনা।

আজমত বলেন, ‘আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কথা বিএনপি জামাত বলতে পারে নাই, এই ধরণের বক্তব্য জাহাঙ্গীর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

আজমত উল্লাহ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মনে যে দুঃখ, সেই দুঃখের বহিঃপ্রকাশ একদিন করে, দুইদিন করে বন্ধ রাখলে চলবে না। এটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’

২৮ তারিখের জনসভায় তাই গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ওসমান আলী খান, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ জাহিদ আল মামুন, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লা, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান বিকম, ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম জানান, রোববার বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

প্রায় দুই দশক আগে সাতক্ষীরায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পলাতক আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনককে রোববার বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

তিনি জানান, বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনক। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কপথে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

ঘটনার ১৯ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার একটি আদালত ৫০ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দেয়।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে দেয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। একই সাজা পাওয়া বাকি দুজন হলেন মো. আরিফুর রহমান ওরফে রঞ্জু ও রিপন। এরা দুই জনই পলাতক।

পলাতক আসামি যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দেয়া হয়েছে ৯ বছরের কারাদণ্ড। বাকি ৪৬ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব

সেদিন ৩৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। তাদেরকে সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

বাকি ১৬ জনের মধ্যে আছেন আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু মিয়া, নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কনক, মাহাফুজুর রহমান।

মামলার বিচারে চক্কর

হামলার পর এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে যান। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি আটকে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

এই মামলাটির শুনানি থামাতে হাইকোর্টে একের পর এক আবেদন করেছেন আসামিরা।

একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর সে রুলের শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করে হাইকোর্ট।

গত ৮ অক্টোবর মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

সবশেষ আবেদন হয় আসামি রাকিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন দাবি করে এই মামলায় বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে গত ২৪ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ হলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের খুব বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতিবাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সেরকম। কয়েকদিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েকদিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েকদিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে। যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহমুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

ব্লুটুথ চপ্পলে চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

দেখতে সাধারণ চপ্পল মনে হলেও তার ভিতরে সেট করা হয়েছে স্মার্টফোন। একটি ব্লুটুথ ডিভাইস দিয়ে সংযোগ করে তা কানের ভেতর রাখা হয়েছে। খুব ধীরে কথা বললেও তা স্পষ্ট শোনা যায় অপর প্রান্ত থেকে।

চাকরির এক পরীক্ষায় এমন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যে। রাজ্যে ৩১ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগ করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল এটি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এমন অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ যে পরীক্ষার্থীর কাছে চপ্পলটি পাওয়া গেছে তাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রথম ব্যক্তিকে আজমির থেকে গ্রেপ্তারের পর অন্যদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, এর আগে একই ধরেনর চপ্পল পাওয়া গেছে বিকানেয়ার ও সিকারে।

রাজস্থান পুলিশের কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, ‘চপ্পলের ভেতর ফোন এবং সেটি ব্লুটুথ ডিভাইসে যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ব্লুটুথ ডিভাইসটি কানের ভেতর রাখেন। চাকরির পরীক্ষায় সহায়তা করতে বাইর থেকে আরেক ব্যক্তি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছিলেন।’

ছোট ছোট আকারে এমন জালিয়াতির জন্য অনেকেই ডিভাইসের আকার পরিবর্তন করছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছে এমন ডিভাইস জালিয়াতির জন্য কিনতে পরীক্ষার্থীর খরচ হয়েছে দুই লাখ রুপি।

আজমীর পুলিশের কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর একেবারে অল্প কিছু সময় আগে তারা বিষয়টি টের পাই। পরে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রথম ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হই।’

শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ঘিরে রোববার রাজস্থানে ইন্টারনেট ও এসএমএস আদান-প্রদানে কড়াকড়ি আনে রাজ্য সরকার।

৩১ হাজার পদের বিপরীতে রোববার পরীক্ষা দিয়েছে দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর এক যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

চুয়াডাঙ্গায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার কুলচারা গ্রাম থেকে রোববার বিকেলে আহত অবস্থায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর ওই যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে বিকেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় আটক করে সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ওই যুবকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোমবার তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই যুবককেও সোমবার আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির প্রাথমিক ধাপের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
টেকনিক্যাল জটিলতায় আটকে গেল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাছাই ফল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ফল রোববার
দাখিল পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ

শেয়ার করুন