হঠাৎ পতন থেকে আরও বড় পতন

হঠাৎ পতন থেকে আরও বড় পতন

বুঝবার শেষ সোয়া ঘণ্টায় ৪২ পয়েন্টের বেশি সূচক হারানোর পরদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিএসইএক্স পড়ল আরও ২৭ পয়েন্ট।

বুধবার ৬ হাজার ৯০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে আরেকটি মাইলফলকের দিকে যখন ছুটে চলার অবস্থায়, তখন শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় বাজারের আচরণে বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরাতে পারে, সেটি বোঝা যাচ্ছিল। হয়েছেও তা-ই। বৃহস্পতিবার সূচক ধরে রাখতে পুঁজিবাজারে লড়াই চলছিল শুরু থেকেই। দুপুর ১টার পর থেকে ২টা ১০ পর্যন্ত টানা পড়েছে সূচক। শেষ ২০ মিনিটে ৬ পয়েন্ট ফিরে পেলেও গত ২৭ জুনের পর সবচেয়ে বড় পতন হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

ইঙ্গিতটা বুধবারই ছিল। উড়তে থাকা পুঁজিবাজারে শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় হঠাৎ করেই পড়তে শুরু করে। ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে থাকা সূচক এক ঘণ্টা ১১ মিনিটে ৪১ পয়েন্ট পড়ে লেনদেন শেষ করে ৫ পয়েন্ট হারিয়ে।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও বেশি পতনের চিত্রটি মোটামুটি একই রকম। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে করতে দুপুর ১টার কিছু আগ পর্যন্ত সূচক আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেশি ছিল। কিন্তু দুপুর ১টায় ক্রমেই পড়তে শুরু করে সূচক। দর হারাতে থাকে শেয়ারগুলাে।

জুলাই থেকে টানা প্রায় দুই মাস বাড়তে থাকা পুঁজিবাজার সংশোধনে যেতে পারে, এমন কথা বলাবলি হচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরেই। কারণ পুঁজিবাজারে চাঙাভাবের সময়ও মাসের পর মাস অসীম পরিমাণ বাড়তে পারে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে থামে, শেয়ারগুলো কিছুটা দর হারায়, এরপর আবার আগায়। এই দাম কমাটাই সাধারণভাবে সংশোধন হিসেবে পরিচিত।

তেমনি মন্দা বাজারে কেবল দাম পড়তে থাকে না। একটা পর্যায়ে কিছুদিন পরই ঘুরে দাঁড়ায়।

পুঁজিবাজার এখন দীর্ঘ মেয়াদে উত্থানেই আছে বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের ২ জুলাই শুরু হওয়া উত্থান-পর্বে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বেশ বড় সংশোধন আর ৩০ মে থেকে এক মাস একটি বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে পুঁজিবাজার।

জুলাইয়ের শুরু থেকে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার পয়েন্ট ছুঁই ছুঁই অবস্থানে চলে যাওয়ার দশা হয় বুধবার। ৬ হাজার ৯০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে আরেকটি মাইলফলকের দিকে যখন ছুটে চলা, তখন শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় বাজারের আচরণে বাড়তে থাকা আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চিড় ধরাতে পারে, সেটি বোঝা যাচ্ছিল।

হয়েছেও তা-ই। বৃহস্পতিবার সূচক ধরে রাখতে পুঁজিবাজারে লড়াই চলছিল শুরু থেকেই।

৬ হাজার ৭৮৭ পয়েন্ট দিয়ে দিন শুরু করা বাজার শুরুতেই ৬ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে উঠে যায়। কিন্তু ১০ মিনিটও টিকতে পারেনি। ১৫ মিনিট পরই তা আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে যায়। সেখান থেকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।

সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে সূচক আবার ৬ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে উঠে। কিন্তু সেখান থেকে এরপর টানা পড়ে দুপুর ১২টা ১২ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে সূচক কমে ৫২ পয়েন্ট।

এরপর দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে সূচক সেখান থেকে বাড়ে আবার ৪১ পয়েন্ট। সূচকের অবস্থান তখন ৬ হাজার ৮৮৭ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেশি।

তবে দুপুর ১টার পর কেবল পড়ছেই সূচক। প্রথম ২০ মিনিটে পড়ে ২০ পয়েন্ট। এরপর পতনের গতি কমে কিছুটা। পরের ১০ মিনিটে কমে আরও ৪ পয়েন্ট।

দুপুর ২টায় সূচকের অবস্থান হয় ৬ হাজার ৮৫৩ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট কম। দুপুর ২টার পর মিনিট দশেক সূচক আরও কমে ৯ পয়েন্ট। তবে শেষ ২০ মিনিটে শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দরের অল্প কিছু ফিরে পেলে সূচক ফিরে পায় ৬ পয়েন্ট।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয় ৬ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে।

গত ২৭ জুনের পর এটাই সবচেয়ে বড় পতন। সেদিন সূচক পড়েছিল ১০০ পয়েন্ট।

বাজার সংশোধনের দিকে কি না- এমন প্রশ্নের মধ্যে লেনদেনের গতিও গেছে কমে। চার কর্মদিবস পর সেটি নামল আড়াই হাজার কোটি টাকার নিচে। এক পর্যায়ে তা দুই হাজার কোটি টাকার নিচে চলে যায় কি না, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ ২০ মিনিটের ক্রয়াদেশে তা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন আর্থিক খাতে, আরও পড়ল ব্যাংকের দর

ব্যাংক খাতে লেনদেন বাড়লেও শেয়ার মূল্য কমেছে। এই খাত হাতবদল হয়েছে মোট ২০২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৭৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

তবে লেনদেন বাড়লেও দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি খাতটি। তালিকাভুক্ত ৩২টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল একটির দাম বেড়েছে সামন্য। দাম ধরে রাখতে পেরেছে সাতটি। কমেছে বাকি ২৫টি।

টানা নয় কর্মদিবস দিনের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হওয়া সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের শেয়ার প্রথমবারের মতো দাম হারাল। তবে লেনদেন হয়েছে ব্যাপক। দিনের পর দিন লেনদেনের শীর্ষস্থান ধরে রাখা বেক্সিমকো লিমিটেডকে হটিয়ে দিনের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে ব্যাংকটি।

হঠাৎ পতন থেকে আরও বড় পতন

আগের দিনের তুলনায় এই ব্যাংকটির শেয়ার দর ৩.৯১ শতাংশ কমেছে। লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দর কমায় বৃহস্পতিবার দর পতনের দিক দিয়ে এ খাতের প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ছিল সবচেয়ে বেশি।

দরপতন হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের, যার শেয়ার দর ১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩.৭৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা।

এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.৭৫ শতাংশ। ২৯ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮ টাকা ২০ পয়সা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.২৯ শতাংশ। ৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.২৫ শতাংশ।

নন ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারীরা অতটা হতাশ হয়নি। সমান সংখ্যক ১১টি করে কোম্পানির দাম কমেছে, বেড়েছে।

এ খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আজ কোনো খাতেই এত লেনদেন হয়নি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই খাতের রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৭ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির দ্বিতীয় স্থানে ছিল এটি।

শেয়ার বিক্রির চাপ বিমা বস্ত্রে

সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের যে মুনাফা হয়েছিল তা সপ্তাহের শেষে উত্তলনে চাপ ছিল দৃশ্যমান। ফলে লেনদেনে কমেছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।

বৃহস্পতিবার বিমা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ২২২ কোটি ৯১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৮৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে বিমা খাতের লেনদেন কমেছে ১৬৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এই খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৭টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ৪৩টির দর। অপরিবর্তিত ছিল একটির।

সমান তালে শেয়ার দর কমেছে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের। এদিন লেনদেনে ৫৮টি বস্ত্র কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১৩টির। দর কমেছে ৪৪টির। বাকি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ছিল অপরিবর্তিত।

লেনদেনে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও এদিন দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিটি ছিল বস্ত্র খাতের দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিল। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬২ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৯.৯৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা ৩০ পয়সা।

লেনদেনও কমেছে বস্ত্র খাতে। বৃহস্পতিবার এ খাতে মোট ২৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

হঠাৎ পতন থেকে আরও বড় পতন

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ২৪টির। বেড়েছে ১৭টির। লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেন হয়েছে ১৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭টির, কমেছে ১৬টি। হাতবদল হয়েছে ২০৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এ খাতের সিভিও পেট্টো কেমিক্যালের দর বেড়েছে ৯.২০ শতাংশ।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে দর পতন হয়েছে ১৯টির, পাল্টায়নি দুটির আর বেড়েছে ১০টির।

সব মিলিয়ে এখাতের হাতবদল হয়েছে ১৮৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৯টির। এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮০ কোটি টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে ৪টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৭টির। হাতবদল হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে টানা দুই দিন দাম অল্প পরিমাণ বেড়েছে। ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে ১৫টির দাম কমার বিপরীতে বেড়েছে ১৩টির দর। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৮টি।

লেনদেনও অনেকটাই বেড়েছে। আজ হাতবদল হয়েছে ১১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ১০টির, বেড়েছে তিনটির আর অপরিবর্তিত ছিল একটির। আজ হাতবদল হয়েছে ১০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এই খাতের বেক্সিমকো লিমিটেডের সর্বাধিক লেনদেনের তালিকায় চার নম্বরে নেমে আসাটা কিছুটা বিস্ময়করও বটে। এই কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের দিনও ছিল শত কোটির বেশি। কোনো কোনো দিন পৌনে ‍দুইশ কোটি টাকাও হয়েছে।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৫১ দশমিক ৩২ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৬ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৭ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে।

ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭২ কোটি টাকা।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২০ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৬ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশ চালু থাকবে।

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার টি-টোয়েন্টিফোর (আর-টেন) থেকে (আর-নাইনটিন) আপগ্রেডেশনের কারণে এটি হবে বলে রোববার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন বা কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশও চালু থাকবে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের ফলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তৃতীয় প্রজন্মের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেশব্যাপী ১৫০টি শাখা ও ১৯টি উপশাখা রয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি শাখায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকের ১৮৭টি এটিএম বুথ, ২০টি সিডিএম এবং ১২৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

সাউথ বাংলার নতুন চেয়ারম্যান কাদির মোল্লা

সাউথ বাংলার নতুন চেয়ারম্যান কাদির মোল্লা

আবদুল কাদির মোল্লা পোশাক ও বস্ত্র খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থার্মেক্স গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ফাইল ছবি

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের একটি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল কাদির মোল্লা ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অন্যতম। আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন টিএস ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তিনিও ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের একজন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন থার্মেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবদুল কাদির মোল্লা। এ ছাড়া নতুন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন।

রোববার ব্যাংকটির ১২৬তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের একটি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল কাদির মোল্লা ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অন্যতম। আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন টিএস ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তিনিও ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের একজন।

আবদুল কাদির মোল্লা পোশাক ও বস্ত্র খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থার্মেক্স গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শতভাগ রপ্তানিকারক এই বৃহৎ শিল্প গ্রুপে থার্মেক্স টেক্সটাইল মিলস্, থার্মেক্স স্পিনিং, থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন, থার্মেক্স ইয়ার্ন ডাইং, থার্মেক্স ওভেন ডাইং, আদুরী অ্যাপারেলস্, আদুরী নিট কোম্পোজিটসহ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ১৬টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকারের সিআইপি (রপ্তানি) মর্যাদা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘কর বাহাদুর’ পরিবারের সম্মাননা পেয়েছেন কাদির মোল্লা।

ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এই শিল্পপতি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের আওতায় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, এনকেএম হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস, আবদুল কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও পাঁচকান্দি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসবিএসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন এস এম আমজাদ হোসেন। তিনি লকপুর গ্রুপের কর্ণধার।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে অর্থ পাচার, এসবিএসি ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণ, রপ্তানি না করেও রপ্তানি দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা।

এ বছরের মার্চে আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ ও পালিত মেয়ে তাজরির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আগে এস এম আমজাদ হোসেনের দেশত্যাগ এবং সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৭ সেপ্টেম্বর পরিচালনা পর্ষদ বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন আমজাদ হোসেন।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার

সামিট পাওয়ারের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা। এর মধ্যে সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা। ২০১৯ সালে আয় ছিল ৪ টাকা ৭৮ পয়সা। তখনও লভ্যাংশ ৩৫ শতাংশই ছিল।

মহামারির বছরে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও লভ্যাংশ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার।

শেয়ার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা বা ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের দুই বছরও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সামিট পাওয়ারের কোম্পানি সচিব স্বপন কুমার পাল।

তিনি জানান গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা।

কেবল গত বছরের চেয়ে বেশি আয় নয়, সামিটের এই আয় গত চার বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ।

২০১৮ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ৪০ পয়সা আর ২০১৯ সালে ছিল ৪ টাকা ৭৮ পয়সা।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের চেয়ে কম আয় করেও শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার
সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

আয়ের পাশাপাশি সামিটের সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিলো ৩১ টাকা ৫০ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরে সম্পদমূল্য বেড়েছে ২ টাকা ৯৫ পয়সা বা ৯.৩৬ শতাংশ।

লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে তারা পাবেন লভ্যাংশ।

আগামী ৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে। করোনাকালে এই সভা হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যে সংশোধন শুরু হয়েছে, তা থামেনি আজও। একটি ব্রোকারেজ হাউজে হতাশা নিয়ে শেয়ার মূল্য দেখছেন বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট। ১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট। তবে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

টানা তৃতীয় রোববার পতন নিয়ে শুরু হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন।

জুলাই থেকে টানা এক হাজার দুইশ পয়েন্টে বেশি সূচক বাড়ার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সূচকের পতন না ঘটলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন ঘটছে।

দুই সপ্তাহ এভাবে চলার পর চলতি সপ্তাহ থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা, তা পূরণ হলো না।

তবে আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় সূচকের পতন হয়েছে কম। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট।

১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট।

আগের দুই পতনের মতোই এবারও সূচক বেড়ে গিয়ে শেষ বেলায় পড়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর সূচক এক পর্যায়ে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ৭৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ১২৪ পয়েন্ট পতন হয় বেলা শেষে।

১৯ সেপ্টেম্বর লেনদেনের শুরুতে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ২৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৬৫ পয়েন্ট পতনে শেষ হয় লেনদেন।

আর টানা তৃতীয় রোববার সূচক এক পর্যায়ে বেড়ে যায় ২৯ পয়েন্ট। সেখান থেকে পতন হয় ৩৬ পয়েন্ট।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

তবে সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে অনেকটাই। আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবারের ‍তুলনায় চারশ কোটি টাকা বেড়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আজই।

তলানিতে থাকা ব্যাংক খাত আরও দর হারিয়েছে, বিমা খাতের পতন ছিল আরও বেশি। জ্বালানি এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও গেছে বাজে দিন। প্রকৌশল খাতেও ভালো গেছে এমন নয়।

অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। আর সবচেয়ে ভালো দিন গেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে।

সব মিলিয়ে ১১৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৩০টির দর। আর দাম ধরে রাখতে পেরেছে ৩৩টি।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনেদীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

রোববার সূচকের উত্থান ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি কোম্পানি

ওষুধ রসায়নে আগ্রহ তুঙ্গে, এরপরই বস্ত্র

মোট লেনদেনের প্রায় ১৭ শতাংশই হয়েছে ওষুধও রসায়ন খাতে। গত কয়েকদিন ধরেই এই খাতটির শেয়ার কিনে চলেছেন বিনিয়োগকারীরা। এবার বিনিয়োগ বাড়ল আরও।

৩৬৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এই একটি খাতেই। বৃহস্পতিবার খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে থাকার দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

আগের দিনের তুলনায় ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন বেড়েছে ২২.৯০ শতাংশ।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর যে খুব বেশি বেড়েছে এমন নয়। ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত, বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১২টির। দুটির শেয়ার দর ছিল অপরিবর্তিত।

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সিলভা ও অরিয়ন ফার্মার দর। দুটির শেয়ারদরই বেড়েছে ৮.৭৬ শতাংশ করে।

এছাড়া অরিয়ন ইনফিউশনের দর ৪.৭৯ শতাংশ এবং ফার কেমিক্যালের দর বেড়েছে ২.৫০ শতাংশ।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪.৪৩ শতাংশ দর হারিয়েছে এএফসি এগ্রো। বড় মূলধনি বেক্সিমকো ফার্মা দর হারিয়েছে ৩.১৩ শতাংশ।

বস্ত্র, প্রকৌশলে মিশ্র প্রবণতা

বস্ত্র খাতের সমান সংখ্যাক কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ও কমেছে। এই খাতে লেনদেন হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছেও সম সংখ্যক, আর অপরিবর্তিত ছিল ৬টির দর।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
রোববার মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেক হয় চারটি খাতে

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন তালিকায় যেমন বেশ কিছু বস্ত্র খাতের কোম্পানি দেখা গেছে, তেমনি দরপতনের তালিকাতেও ছিল আরও বেশ কিছু কোম্পানি।

বস্ত্র খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের ৯.৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯.৬৩ শতাংশ বেড়েছে ইভেন্স টেক্সটাইলের দর।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯.৫২ শতাংশ বেড়েছে জাহিন টেক্সটাইলের আর চতুর্থ সর্বোচ্চ ৬.৬২ শতাংশ বেড়েছে নিউলাইন টেক্সটাইলের।

আবার সবচেয়ে বেশি দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই ছিল তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল। অস্বাভাবিকভাবে দর বৃদ্ধি পাওয়া এই কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৭.৪০ শতাংশ।

এছাড়া দেশ গার্মেন্টসের দর ৫.০৫ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৪.৪০ শতাংশ, মিথুন নিটিংয়ের দর ২.৮৫ শতাংশ কমেছে।

হঠাৎ আগ্রহের কেন্দ্র তথ্যপ্রযুক্তি খাত

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক লাফে তা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। দিন শেষে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই খাতে মোট কোম্পানি ১১টি। পতনের বাজারেও দাম কমেনি একটিরও, বেড়েছে ১০টির। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া আমরা নেটওয়ার্ক এই খাতেরই কোম্পানি। এর দর বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ।

এ ছাড়া আমরা টেকনোলজির দর ৫.৬৪ শতাংশ, ডেফোডিল কম্পিউটারের দর ৫.০৩ শতাংশ, বিডিকমের দাম ৪.১২ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিসের দর ৩.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংক-বিমা ধরাশায়ী

ব্যাংক খাত হতাশা আরও বাড়াল। যমুনা, আইসিবি ইসলামী, পূবালী ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে যৎসামান্য। দর ধরে রাখতে পেরেছে আটটি ব্যাংক। কমেছে বাড়ি ১৯টির দরই।

এসব শেয়ারের মধ্যে কেবল যমুনা ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৫০ পয়সা, বাকি চারটির দাম বেড়েছে ১০ পয়সা করে।

মোট লেনদেন চারশ কোটি টাকা বাড়লেও ব্যাংক খাতে বেড়েছে অল্পই। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৯০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, সেটি সামান্য বেড়ে ৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন সবচেয়ে কম হয়েছে

ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি কমেছে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের দর, ৩.২৫ শতাংশ। এনআরবিসি ব্যাংকের ২.৫০ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের দর কমেছে ১.৯৫ শতাংশ।

বিমা খাতেও ঢালাও পতন হয়েছে। এই খাতে কেবল ৫টির দর বেড়েছে ৫টির দর, দর ধরে রাখতে পেরেছে তিনটি, কমে গেছে বাকি ৪৩টির দর।

তবে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৯৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ২১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩.৭৬ শতাংশ। মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের দর ১.৬৮ শতাংশ, কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ৬৪ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ১৬ শতাংশ, আর ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে দশমিক ০৭ শতাংশ।

পতন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে আছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫.৭৮ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রগতি লাইফের দর ৪.৯৭ শতাংশ, ফারইস্ট লাইফের ৪.৩২ শতাংশ কমেছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দরপতন হলেও লেনদেন বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ১০৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সেটি এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দর কমেছে, ৬টির বেড়েছে আর দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

প্রকৌশল খাতেও লেনদেন বেড়েছে। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ২০৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ২২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, একটির দর পাল্টায়নি আর কমেছে ২৪টির দর।

আর্থিক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা, আগের কর্মদিবসে যা ছিল ১৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

এ খাতের আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে, বেড়েছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দর।

বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে চারটির দর বেড়েছে। নয়টির দর কমেছে, একটির দর ছিল অপরিবর্তিত

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২টির, কমেছে ১৬টির, দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইউনিটগুলোর মধ্যে ৩১টি ফান্ডের দর কমেছে। দুটির দর বেড়েছে। তিনটির দর আগের দিনের মতোই আছে।

হাতবদল হয়েছে কেবল ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এক দিনে লেনদেন বেড়েছে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১২৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।

৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ১৭২টির ও পাল্টায়নি ৩২টির।

লেনদেন হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দর সংশোধনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক কমেছিল ৮২১ পয়েন্ট। এর মধ্যে লকডাউন আতঙ্কে ৪ এপ্রিল হারানো ১৮২ পয়েন্ট বাদ দিলে সেটি হয় ৬৩৯ পয়েন্ট। গত ৩০ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সংশোধন পর্বে সূচকের পতন আর দেখা যায়নি। তখন থেকে খাতওয়ারি সংশোধনের প্রবণতা দেখা যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সংশোধন পর্বেও সূচকের পতন দেখা যাচ্ছে না। এই ১০ কর্মদিবসে পড়েছে কেবল ৮ পয়েন্ট। আগের আড়াই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া স্বল্প মূলধনি, দুর্বল, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হলেও বড় মূলধনি মৌলভিত্তির শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে অবস্থান ধরে রেখেছে পুঁজিবাজার।

গত মে ৩০ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছয় হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর টানা এক মাস একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে।

৩০ মে সূচক উঠে ৬ হাজার ৮ পয়েন্ট। এরপর কোনোদিন ছয় হাজারের নিচে, কোনোদিন আবার ছয় হাজারের ওপরে, এমন করতে করতে ২৯ জুন সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪২ পয়েন্টে।

এরপর আরেক দফা উত্থান শুরু হয়ে টানা চলে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩০ জুন থেকে ৪১ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে ১ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

এরপর দুই সপ্তাহ আবার দেখা যাচ্ছে সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত চিত্র। ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট উঠার পর আবার সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত এক মাসের মতো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এই দুই সপ্তাহে ১০ কর্মদিবসে সূচক পড়েছে ৮ পয়েন্ট। এর মধ্যে কমেছে ৪ দিন, বেড়েছে ৬দিন, কিন্তু বলতে গেলে কোনো দিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস ছিল না।

পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক নানা ফেসবুক পেজে শত শত মানুষ বলছেন, সূচক বাড়লেও তাদের শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে। আর যেদিন সূচক পড়ে যাচ্ছে, সেদিন আরও পড়ছে।

এর কারণ হচ্ছে, এই দুই সপ্তাহে সূচক বেড়েছে মূলত বড় মূলধনি বড় মূলধনি ও বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদরে উত্থানের কারণে। এসব শেয়ারে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সচরাচর কম থাকে।

পুঁজিবাজারে দর সংশোধনের মধ্যেও সূচকের একই বৃত্তে ঘুরপাক একেবারেই সাম্প্রতিক প্রবণতা। এই সময়ে কোনো একটি খাতে শেয়ারের পতন হলে অন্য খাতের বৃদ্ধিতে অবস্থান ধরে রাখে পুঁজিবাজার।

এবার আবার কোনো বিশেষ খাত বাড়ছে না, ব্যাংক ছাড়া মৌলভিত্তির বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিপরীতে কমছে এতদিন বেড়ে চলা স্বল্প মূলধনি, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দর। স্বল্প মূলধনির মধ্যে যেগুলো উচ্চ মুনাফা করতে পারছে, সেগুলোর দরপতন হচ্ছে না।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

চলতি বছর দুই দফা সংশোধনে যা হয়েছে, এবার যা হচ্ছে

গত বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া উত্থানে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা বাড়ার পর ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সূচক পড়েছিল প্রায় ৮০০ পয়েন্ট। ১৪ এপ্রিল সূচক ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে ওঠার পর থেকে ৪ এপ্রিল তা নেমে আসে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্ট।

এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সূচক ১৮২ পয়েন্ট পড়ে যায় পরদিন লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় কি না, এই আতঙ্কে। সেটি বাদ দিলেও ৬০০ পয়েন্টের বেশি সূচক পড়েছিল।

আবার জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংশোধনে লেনদেনের ব্যাপক পতনের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, সেটিও এবার দেখা যাচ্ছে না।

১৭ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অথচ ৫ এপ্রিল তা নেমে আসে ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

৩০ মে থেকে এক মাস যখন আবার সংশোধন পর্ব শুরু হয়, তখন অতটা না কমলেও লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

৩০ মে লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৪৯ কোটি ২১ লাখ টাকা আর ২৯ জুন এই সংশোধন শেষ হওয়ার দিন হাতবদল হয় ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এবার লেনদেন এতটা কমছে না। ৯ সেপ্টেম্বর লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এরপর ১০ কর্মদিবসে মোট তিন দিন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার কম, যার মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল ২০ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সতর্কতা গায়ে না মেখে এখন হতাশা

পতন এমন কিছু নয়, তবে আগের দুই দফা সংশোধনের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা যে ধরনের হতাশার কথা বলতেন, এবারও সূচকের এক বৃত্তে ঘুরপাকের মধ্যেও তার অন্যথা হচ্ছে না।

পুঁজিবাজারে তৃতীয় দফায় উত্থানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লোকসানি, বন্ধ ও স্বল্প মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। এগুলোর মধ্যে কয়েকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ইস্যু ছিল, কিন্তু এগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি সহসা মুনাফায় ফিরতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে। আবার বেশ কিছু লোকসানি কোম্পানির লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনাও একেবারেই ক্ষীণ।

এসব কোম্পানির কোনোটির শেয়ারদর দ্বিগুণ, কোনোটির তার চেয়ে বেশি বেড়েছে এই আড়াই মাসে। সঙ্গে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম, এ কারণে বেড়েছে আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বারবার এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক করেছেন, এমনকি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগের।

কিন্তু ক্রমেই বাড়তে থাকা দুর্বল কোম্পানিতে সে সময় বিনিয়োগ বাড়িয়েই চলেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কোনো সাবধানতা তারা কানে তোলেননি। বরং পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ফেসবুক পেজগুলোতে নানা পোস্ট আসতে থাকে যে, এগুলো আরও বাড়বে।

এসব কোম্পানির শেয়ারদর অনেক বাড়লেও সূচকে প্রভাব পড়ে না বললেই চলে। এর কারণ স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। আর লোকসানি জেড ক্যাটাগরির শেয়ার দরে উত্থান পতনে সূচকে কোনো হেরফের হয় না। ফলে এখন যখন এসব কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হচ্ছে, তখন সূচক আসলে সেভাবে পড়ছে না। আর এ কারণে এসব শেয়ারের মালিকরা প্রশ্ন তুলছেন, শেয়ারের দরপতন হচ্ছে, সূচক কীভাবে বাড়ছে বা এক জায়গায় থাকছে।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূচকের উত্থান পতন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু দেখছি না। আতঙ্কের ছিল যখন খারাপ কোম্পানির ক্রমাগত দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচক ও লেনদেন বাড়ছিল।

‘এর আগে যখন একইভাবে বিমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে তখনও স্বাভাবিক ছিল না পুঁজিবাজার। এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। পুঁজিবাজারে খারাপ কোম্পানির দাপট কমে এখন ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে। এতে সূচক ও লেনদেন যদি কিছুটা সংশোধনও হয় তাতে ক্ষতির কিছু নেই।’

বিনিয়োগকারীদের ক্রমে শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার পাশাপাশি মার্জিন ঋণেও নিরুৎসাহিত করেছেন আবু আহমেদ। বলেন, ‘মার্জিন ঋণে শেয়ার কেনা হলে তাদের সুদ প্রদানের একটি চাপ থাকে। ফলে তারা চাইলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘লোন নিয়ে যারা দর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে তারাই এখন লোকসানে আছে। কিন্ত ভালো কোম্পানিতে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের এ ধরনের পুঁজিবাজারে লোকসান হওয়ার কথা নয়।’

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন কমে আসায় আতঙ্কের কিছু দেখছি না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা যখন ডে ট্রেডিং যাবে তখন লেনদেন বাড়বে। কিন্ত ডে টেডিংয়ে বিনিয়োগকারীদের মুনাফাও কিন্তু কমে যায়। কারণ যতবার শেয়ার কেনা বেচা করবে ততবারই তাকে কমিশন দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দর সংশোধনে লেনদেন কমে আসা মানে এখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রেখেছেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।’

‘পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর যখন বাড়ছিল তখন অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে। এখন সেসব শেয়ারের দর কমে আসায় তারা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় না করে ধরে রেখেছে তাই লেনদেন আগের তুলনায় কমেছে। এটা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা। এটা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই’-এমনটিও বলেন এই বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন একজন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি

সামাজিক খাতের অনেক সূচকেই আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিশেষ করে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। কিছু সূচকে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আমরা ভারত থেকে অনেক কম এবং পাকিস্তান থেকেও কিছুটা পেছনে রয়েছি: ডিএসই চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরও অনেক দূর যাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ-ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। তিনি মনে করেন, গত এক যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, তাতে পুঁজিবাজার আরও ভালো অবস্থানে থাকা উচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার ডিএসইর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন। এ সময় তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রভাগে রয়েছে সামাজিক খাত। সামাজিক খাতের অনেক সূচকেই আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিশেষ করে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। কিছু সূচকে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আমরা ভারত থেকে অনেক কম এবং পাকিস্তান থেকেও কিছুটা পেছনে রয়েছি।

‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এখন ইমারজিং টাইগার। তারপরও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো নির্ণয় করে এগিয়ে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা ফিনান্সিয়াল সেক্টরে আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারিনি।

বৈঠকে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে ডিএসই ও আইডিআরও একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়। ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

সাক্ষাতে ডিএসইর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ডিএসই আগামীতে ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিমার ব্যবহার’ বিষয়ে একটি সেমিনার করবে।

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক

বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধরনের হওয়ায় অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দেশের পুঁজিবাজারে কীভাবে তা কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে তারিক আমিন কথা বলেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর নতুন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়য়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী একটি পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধরনের বিষয় হওয়ায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডিএসই’র এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমা সেক্টরসহ পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে উভয় পক্ষ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা যেমন উপকৃত হবে এবং পুঁজিবাজারের প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে।’

এ জন্য বিএসইসি, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, ডিএসই, সিএসই, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং সিডিবিএল-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য মইনুল ইসলাম, সাধারণ বিমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান এবং ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

টানা দুই সপ্তাহ পুঁজিবাজার অনেকটা গতিহীন। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও এমনটি দেখা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দুই সপ্তাহ ধরে ওঠানামা করতে থাকা পুঁজিবাজারে লেনদেনে দেখা গেছে খরা। সপ্তাহে পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিনই লেনদেন হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে। জুলাইয়ের পর এমনটি আর দেখা যায়নি।

সূচকের পতন দিয়ে সপ্তাহ শুরু করা পুঁজিবাজার সপ্তাহের শেষ দিন শেষ করল উত্থানে। এই সপ্তাহে দুই দিনে সূচক যতটা পড়েছে, তিন দিনে বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। কিন্তু গতি হারিয়েছে লেনদেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সপ্তাহটা শুরু হয়েছিল ৭ হাজার ২২৮ পয়েন্ট নিয়ে, শেষ করেছে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্ট। সূচকে যোগ হয়েছে ২২ পয়েন্ট। কিন্তু এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।

বরং সাড়ে ১০ বছরের মধ্যে সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠার পর গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে সূচকের উঠানামার মধ্যে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে যে হতাশা শুরু হয়, চলতি সপ্তাহে তা আরও গাঢ় হয়েছে।

সপ্তাহটা শুরু হয়েছিল সূচকের ৩৭ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে, পরের দিন তা বাড়ে ১৬ পয়েন্ট। এর পরদিন মঙ্গলবার সূচকে ৫২ পয়েন্ট যোগ হওয়ার মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে যে গতি বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছিল, তা শেষ পর্যন্ত আর পূরণ হয়নি। বুধবার আবার পতনে সূচক হারায় ১৬ পয়েন্ট। শেষ দিন বাড়ে আবার ৮ পয়েন্ট।

গতি হারানো পুঁজিবাজারে লেনদেনে দেখা গেছে ভাটা। সপ্তাহে ৫দিনের মধ্যে তিন দিনই লেনদেন হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে। আগস্টের পর এমনকি আর দেখা যায়নি।

সপ্তাহের শেষ দিন লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৮৫২ কোটি ৪২ লাখ টাকা যা আগের দিনের তুলনায় ২৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৫০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

প্রতিটি দিনই সূচক বেড়ে শেষ বেলায় কমেছে, যার ব্যতিক্রম হয়নি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার।

সকাল ১০ টায় লেনদেন শুরুর ১৬ মিনিটেই সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু বেলা পৌনে ১২টার দিকে আবার আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট কমে যায়।

গত সপ্তাহ থেকেই বেলা একটার পর থেকে সূচক কমতে শুরু করার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে সে সময় আবার পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার শেষ বেলায় সূচক বাড়তে শুরু করে।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

বেলা সোয়া দুইটায় সূচকের যে অবস্থান ছিল, সেখান থেকে পরের ১৫ মিনিটে বাড়ে ১৯ পয়েন্ট। তবে শেষ বেলায় সমন্বয়ের কারণে সেই অবস্থান থেকে ১৫ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্ট শেষ হয় দিনের লেনদেন।

টানা ১১ সপ্তাহ উত্থানের পর শেষে গত সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৩০ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহে সেখান থেকে ২২ পয়েন্ট ফিরে পেলেও বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে এই সপ্তাহেও।

আগের সপ্তাহে সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেছে বড় মূলধনি ও বহুজাতিক বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে। তবে চলতি সপ্তাহে গতি হারিয়েছে এসব শেয়ারও। একদিন কমলে একদিন বাড়ে, সূচকের এমন প্রবণতা দেখা গেছে বিভিন্ন শেয়ারের ক্ষেত্রেও।

খাত হিসেবে এই সপ্তাহেও হতাশ করেছে ব্যাংক। সপ্তাহের শুরুতে ঝলক দেখিয়ে পড়ে নিভে গেছে বিমা। বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, আর্থিক, খাদ্য, তথ্য প্রযুক্তি- কোনো খাতই ভালো যায়নি। তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

সপ্তাহের শেষ দিন সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ। ২.৪ শতাংশ দাম বাড়ায় কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ৯.৩৯ পয়েন্ট। এছাড়া ডেল্টালাইফ, বিএটিবিসি, শাহজিবাজার পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এনভয় টেক্সটাইল, জিপিএইচ ইস্পাত, সিটি ব্যাংক, অরিয়ন ফার্মা ও ইবিএলের শেয়ারদর বাড়ায় যোগ হয়েছে মোট ১৫.৮৪ পয়েন্ট।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটাগতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

বৃহস্পতিবার সূচক বৃদ্ধি ও পতনে ভূমিকা রেখেছে যে ১০টি করে কোম্পানি

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছে যে ১০টি কোম্পানি, সেগুলো হলো, গ্রামীণ ফোন, ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, রবি, বার্জার পেইন্টস, পাওয়ার গ্রিড, বিকন ফার্মা, সাবমেরিন কোম্পানি ও কেপিসিএল।

এই ১০টি কোম্পানির দরপতনে সূচক থেকে বাদ গেছে ৬.৬৯ পয়েন্ট।

লেনদেনের ৪২ শতাংশ ৩ খাতে

আগের দিনের চেয়ে প্রায় তিনশ কোটি টাকা লেনদেন কমে যাওয়ার দিন মোট লেনদেনের ৪২.২৭ শতাংশই হয়েছে ওষুধ রসায়ন, বস্ত্র এবং প্রকৌশল খাতে।

এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন খাত লেনদেনের শীর্ষে থাকলেও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। এই খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, আগের দিন যা হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ২৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩৬১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতে লেনদেন অবশ্য বেড়েছে। এই খাতে হাতবদল হয়েছে ২০৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৭৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ১৮টির দর, কমেছে ১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুইটির।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬.৯৯ শতাংশ বেড়েছে সালভো কেমিক্যালের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ৫.২০ শতাংশ বেড়েছে একটিভ ফাইনের দর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের দর বেড়েছে ৪.৩৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা গ্লোবাল গেভি কেমিক্যালের দর বেড়েছে ৩.৮১ শতাংশ।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
এই পাঁচটি খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি, যার মধ্যে প্রথম দিনটিতেই মোট লেনদেনের ৪২ শতাংশ হয়েছে

তবে বস্ত্র খাতে দরপতন হয়েছে। এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ২০টির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩০টির দর। অপরিবর্তিত ছিল বাকি আটটির দর।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা ইটিএলের দর বেড়েছে ৮.৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৬.৪৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা তজিমউদ্দিন টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৪.৪৭ শতাংশ।

লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া প্রকৌশল খাতে দর বৃদ্ধি ও কমেছে-এমন কোম্পানির সংখ্যা প্রায় সমান। ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২১টির, কমেছে ২০টির দর। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬.৯৯ শতাংশ বেড়েছে কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কেডিএস অ্যাকসেসোরিজের দর বেড়েছে ৪.৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এসএস স্টিলের দর ৪.০৪ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা আজিজ পাইপের দর বেড়েছে ৩.৩৪ শতাংশ।

লেনদেন আরও কমল ব্যাংকে, আর্থিক খাতেও গতি নেই

১০টি ব্যাংকের শেয়ার দর কমার বিপরীতে ১২টির বৃদ্ধি এবং বাকি ১০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দারুল লভ্যাংশের পরও সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের এই খাতটিতে বিনিয়োগকারীরা যে আকর্ষণ হারিয়েছে, তার নমুনা দেখা গেল আবার।

২ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন, এই অবস্থাতেও ৩২ ব্যাংক মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি বুধবার। হাতবদল হয়েছিল ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরদিন মোট লেনদেন ৩০০ কোটি টাকা কমে যাওয়ার পর এই খাতে লেনদেন আরও কমে হলো ৯০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

ব্যাংকের শেয়ারে বরাবর যে চিত্রটি দেখা যায়, তা আবারও দেখা গেল। দাম বৃদ্ধির হার যেমন নগণ্য, তেমনি নগন্য দর পতনের হার।

সবচেয়ে বেশি ১.৩৮ শতাংশ বেড়েছে সিটি ব্যাংকের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যমুনা ব্যাংকের দর বেড়েছে ১.২২ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাউথইস্ট ব্যাংকের দরও বেড়েছে সমপরিমাণ আর চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইউসিবির দর বেড়েছে ১.২১ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর কমা ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৫০ শতাংশ। তার পরেই আছে রূপালী ব্যাংক, যার দর কমেছে ১.০৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের দর কমেছে ১.০৩ শতাংশ।

বিমার ঢালাও পতন

৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৩৭টির দরপতনই বলে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য দিনটি ভালো যায়নি।

দর বেড়েছে ১২টির আর অপরিবর্তিত ছির বাকি দুটির দর।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৫ কোটি ৮ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
গতি হারানো ব্যাংক আর ঘুমিয়ে যাওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৬.১৪ শতাংশ বেড়েছে ডেল্টা লাইফের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.২১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফারইস্ট লাইফের দর ০.৮১ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা সোনালী লাইফের দর বেড়েছে ০.৬৬ শতাংশ।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৪৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ২.১৮ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থা থাকা পদ্মা লাইফের শেয়ার দর কমেছে ২ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই খাতের প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমার পর লেনদেনও কমে গেছে। শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা দর হারানোর পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর বেড়েছে। সাতটির দর কমেছে।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, কমেছে ৬টির। লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

লেনদেন কমেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতেও। আগের দিন এই খাতের ১১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছিল ৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আগের দিন ১১টি কোম্পানির সবগুলোর দরপতন হলেও আজ দুটির দর বেড়েছে। আরও কমেছে বাকি ৯টির দর।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে আগের দিন লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা চলতি বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ৩৬টি ফান্ডে হাতবদল হয়েছে কেবল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ফান্ডগুলোর মধ্যে ৬টির দর ১০ পয়সা করে এবং একটির ৩০ পয়সা বেড়েছে।

অন্যদিকে ১৩টি ফান্ড দর হারিয়েছে ১০ পয়সা করে আর একটির কমেছে সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৫৯ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

৩১৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৬৩টির ও পাল্টায়নি ৩৪টির।

লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
শেষ ঘণ্টায় পুঁজিবাজারে হঠাৎ পতন
পুঁজিবাজারের দুই কোম্পানির আধুনিকায়নের ঘোষণা
জেএমআই সিরিঞ্জে জাপানি কর্মকর্তা
হতাশ করল সি পার্ল, লভ্যাংশ দিতে চায় ১০ পয়সা করে
ব্যাংক-বস্ত্রের দারুণ দিন, ৭ হাজার পয়েন্টের দিকে সূচকের যাত্রা

শেয়ার করুন