টঙ্গীতে পুলিশের ‘ব্লক রেইড’, মাদক অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১৯

টঙ্গীতে পুলিশের ‘ব্লক রেইড’, মাদক অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১৯

টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা, তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক ও ১১ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ আইনে মামলা হয়েছে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন ১৫০ পুলিশ সদস্য। এই অভিযানকে ‘ব্লক রেইড’ বলছে বাহিনীটি।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, সন্ত্রাস, মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় ‘ব্লক রেইড’ পরিচালিত হয়। এ সময় ৫০০ গ্রাম গাঁজা, চব্বিশ পিস ইয়াবা, তিনটি সুইচ গিয়ার ও দুটি চাপাতিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া নিয়মিত মামলার আসামিসহ আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা, তিনজনের বিরুদ্ধে মাদক এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ আইনে মামলা করা হয়েছে।

অভিযানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশের নেতৃত্বে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (গাছা জোন) আহসানুল হক, সহকারী পুলিশ কমিশনার (টঙ্গী জোন) পিযুষ কুমার দেসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ বলেন, পুরো এরশাদনগর এলাকা ঘিরে ফেলে ‘ব্লক রেইড’ পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ওই এলাকায় প্রবেশ ও বাহিরের সময় সন্দেহভাজন প্রত্যেককে তল্লাশি করা হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা কারাগারে

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা কারাগারে

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস বলেন, কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার দেখায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। তখন বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা হোসেন আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

হোসেন আলী জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক ইমাম হাসান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি বলেন, কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার দেখায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। তখন বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার রাত ১২টার দিকে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এ

ঘটনায় কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীসহ তার তৃতীয় স্ত্রী তামান্না বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলার বরাত দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন,

নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় হোসেন আলীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশে ভাড়া থাকত কিশোরীর পরিবার। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে হোসেন প্রায়ই কিশোরীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এ সময় কিশোরীর সঙ্গে তার কথাবার্তা হতো। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সকালে হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী তামান্না বেগম কিশোরীকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। পরিকল্পিতভাবে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ সেবন করান। পরে তাকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে টানা পাঁচ মাস ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি কিশোরী তার মাকে জানালে মান-সম্মানের ভয়ে তারা ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। কিন্তু হোসেন আলী সেখানেও সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া দেন। পরে কিশোরীকে অপহরণ করে হত‍্যার হুমকি দেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, গ্রেপ্তার হোসেন আলীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হলেও মামলার অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা দুজন পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্ত থেকে বিএসএফের ফেরত পাঠানো দুই রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ।

পাটগ্রাম থানা পুলিশ সোমবার দুপুর একটার দিকে তাদের ফেরত পাঠায়।

ওই দুই নারী হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুন্সিপাড়া ২২ নম্বর ক্যাম্পের সেতুফা বেগম ও একই ক্যাম্পের মো. আনাস।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার কক্সবাজার থেকে ওই দুই রোহিঙ্গা বাসে করে পাটগ্রাম আসেন। দালালের মাধ্যমে তারা বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়ে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে বিএসএফ তাদের আটক করে শনিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তবে তারা বিজিবিকে বিষয়টি জানায়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পাটগ্রাম রেলস্টেশনে তাদের দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পৌর মেয়র রাশেদুল ইসলাম সুইটের কাছে। সেখান থেকে রোববার ভোররাতে তাদের থানায় নেয়া হয়।

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

ওসি ওমর ফারুক জানান, তারা নেপালে যাওয়ার উদ্দেশেই ভারতে গেছিলেন। সেখান থেকে বিএসএফ তাদের ফেরত পাঠায়। দুজনকেই আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

হবিগঞ্জ-ইকরাম মাত্র ১৮ কিলোমিটারের একটি সড়কের জন্য ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

সংস্কারের অভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে আঞ্চলিক সড়কটিতে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। আরসিসি অংশের ঢালাইও উঠে গেছে; সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে পানি। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

তবু ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কারে নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। এতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং আর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আর ঝুঁকিকে সঙ্গী করেই চলাচল করতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি অংশ সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তবে হবিগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের দাবিতে আমরা পদযাত্রা করেছি। বিভিন্ন বাজার ও পয়েন্টে পথসভা করেছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাতই করছে না।’

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৮ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাতেই বড় বড় খানাখন্দে ভরা। আরসিসি অংশে ঢালাই উঠে গিয়ে রড় বের হয়ে গেছে।

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি হলে সড়কটির অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠে। গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকার দুর্ঘটনার শিকার হয় যানবাহন। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

সাঙ্গ এলাকার বাসিন্দা আয়ুব আলী বলেন, ‘এই সড়কটি মক্রমপুর, সুজাতপুর, পৈলারকান্দি, নোয়া পাথারিয়া, হিয়ালা, বাল্লা মধুপুর, বিথঙ্গল, পাহারপুর, কাকিয়ারআব্দা, টুপিয়াজুড়ি, সাঙ্গর, সুজাতপুর, রহমতপুর, গানপুর, মাখনিয়া, রায়পুর, আগুয়া, বিয়জপুর, মন্দরী, মুরাদপুর, বাগতলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি গ্রামসহ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। তবে সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। অথচ সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।’

ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী সুবিনয় দাস বলেন, “ভাঙা সড়ক দিয়েই ব্যবসার জন্য পণ্য আনতে হয়। অনেক সময় মালবাহী ছোট ছোট গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে মালামাল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আমাদের। এ ছাড়া গাড়ির ঝাকুনির কারণে বিভিন্ন পণ্য ভেঙে যায়। এ সড়কের কারণে ‘গুড়ের লাভ পিঁপড়ায় খাইলায়’।”

বাল্লা মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা সজল দাস বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে জেলা শহরসহ ঢাকা-সিলেট যেতে হয়। প্রসূতি নারীদের নিয়মিত হবিগঞ্জ শহরে ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়, কিন্তু এই সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।’

এই সড়কের সিএনজি অটোরিকশাচালক তারেক মিয়া বলেন, ‘এই মাসেও আমার টমটম তিনবার উল্টাই গেছে। ভাঙা জায়গাত পানি জইম্মা থাকে, যে কারণে ইখান দিয়ে চাক্কা (চাকা) গেলেই গাড়ি উইল্টা যায়গা। এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন পার্টসও দুই দিন পর পর ভাইঙ্গা যায়।’

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ কিলোমিটার সড়কের ৭ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ৩ কোটি টাকার দরপত্র তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাসেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করা যায়, দুই মাসের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

বাকি ১১ কিলোমিটারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই স্থানটিও সংস্কারের জন্য খুব শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এ বছরই এটি একনেকে পাস হবে।’

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

পাবনার ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির।

নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামের ওয়াছেদ আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র সরকারের ছেলে মাধব চন্দ্র সরকার।

হতাহতরা ‘টেস্ট রোসেম’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করতেন।

রূপপুর প্রকল্পে সোমবার দুপুর ১টার দিকে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এ সময় শিফাত নামে আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট অফিস কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে।’

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, ৭ বছর জেল বিএনপি নেতার

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, ৭ বছর জেল বিএনপি নেতার

দণ্ডিত আক্তার হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাণীনগর শেরকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শেরকোল ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার অপরাধে নাটোরের এক বিএনপি নেতাকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জিয়াউর রহমান সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আক্তার হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাণীনগর শেরকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শেরকোল ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন। অনাদায়ে আরও তিন মাস জেল খাটতে হবে তাকে।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আক্তার হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এতে তিনি আপত্তিকর কথাবার্তা লেখেন।

এ ঘটনায় পরদিন শেরকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সিংড়া থানায় ২০০৬ সালের তথ্য-প্রযুক্তি আইনের (সংশোধন-২০১৩) ৫৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৮ মার্চ সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত দাস আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

প্রশাসনের অভিযানে ৩০০ মিটার চায়না জাল ধ্বংস

প্রশাসনের অভিযানে ৩০০ মিটার চায়না জাল ধ্বংস

৩০০ মিটার চায়না জাল জব্দ করে পুড়িয়েছে প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

বাসাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে জানান, নিষিদ্ধ এসব চায়না জালের যত্রতত্র ব্যবহার রুখতে ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ২০ মিটারের ১৫টি জাল আটক করে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নিষিদ্ধ চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস।

কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নে সোমবার বেলা ২টার দিকে অবৈধ চায়না জালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাসাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এর নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ঢুকেছে। আর নতুন পানি দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় সহজেই সব ধরনের মাছ ধরতে জেলে থেকে মৌসুমি মৎস্য শিকারিরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পাশাপাশি চায়না জাল ব্যবহার করছেন।

এতে ডিম থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ সহজেই চায়না জালে ধরা পড়ছে। আর হুমকিতে পড়েছে দেশি সব ধরনের মাছ।

মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, নিষিদ্ধ এসব চায়না জালের যত্রতত্র ব্যবহার রুখতে ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ২০ মিটারের ১৫টি জাল আটক করে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ভোট শেষে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরভাটা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে গণনা। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও তিনটি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে। সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট হয়।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচন। ভোট শেষে চলছে গণনা।

কেন্দ্রগুলোতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

কক্সবাজার

জেলার মহেশখালী ও চকরিয়া পৌরসভা এবং মহেশখালী, টেকনাফ ও কুতুবদিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ করা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যালট ছিনতাইচেষ্টার সময় দুর্বৃত্তদের ওপর গুলি ছোড়ে পুলিশ। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আব্দুল হালিম। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে ভোট হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

বাগেরহাট

জেলার ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।


ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। কয়েক জায়গায় হাতাহাতিও হয়।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কচুয়ার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা। তাই ভোট হয়েছে ৬৫টি ইউনিয়নে।

সাতক্ষীরা

জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার দেখা গেছে প্রায় সব কেন্দ্রেই।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলারোয়ার কয়লা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোট বর্জন করেন।

অনিয়ম হওয়ায় কেড়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন।

তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর মক্তব কেন্দ্রে ককটেল ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

আটক ব্যক্তির নাম আজহার হোসেন। তিনি নৌকা প্রতীকের কর্মী বলে জানা গেছে।

এর আগে সকালে শ্রীমন্তকাটি কেন্দ্রের পাশে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল কবির জানান, ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে ইভিএমে ভোট হয়েছে।

নোয়াখালী

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলসহ নানা অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পর নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

তারা হলেন বুড়িরচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ, সোনাদিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরাজ উদ্দিন।

এ উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীরা ভোট বর্জন করায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিতই।

হাতিয়ার পাশাপাশি ইউপি নির্বাচনের ভোট হয় সুবর্ণচরেও। সেখানে ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট দেন ভোটাররা। ভোটার উপস্থিতি হাতিয়ার চেয়ে সুবর্ণচরেই বেশি দেখা যায়।

কবিরহাট পৌরসভাতেও হয়েছে ভোট। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সেখানে কাউন্সিল পদের জন্য ভোট হয়েছে।

ফেনী

জেলার সোনাগাজী পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভোট।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু নাসের অভিযোগ করেন, বাইরে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বহিরাগত সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে। একই অভিযোগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইমাম উদ্দিন ভূঁইয়ার।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেন, তিনি সকালে ২ নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে সরকারদলীয় সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

প্রাণহানি-সংঘর্ষে শেষ হলো ইউপি-পৌর নির্বাচনের ভোট

এ ছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনি কেন্দ্রের ভেতর পরিবেশ ভালো থাকলেও বাইরে সরকারদলীয় সমর্থকরা তার সমর্থকদের ঢুকতে দেয়নি।

এসব অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাদের কোনো ভোটার নেই তারা এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ৪৯টি বুথে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কক্সবাজারের সাকিবুর রহমান, বাগেরহাটের মামুন আহমেদ, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসিলাম শাওন, নোয়াখালীর মোহাম্মদ সোহেল, ফেনীর আরিফুর রহমান ও কুমিল্লার মাহফুজ নান্টু।

আরও পড়ুন:
‘মাদকসহ আটক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শিগগিরই’
মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ নারী
বনানী-উত্তরা থেকে আইস মাদক উদ্ধার
ঘরে স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী পলাতক
হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

শেয়ার করুন