ট্রাকচালক হত্যা

৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের

৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ জানিয়েছে, ১০ দফা দাবি বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূরণ না হলে শুক্রবার থেকে পণ্য পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

ট্রাকচালক লিটন হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

এসব দাবি বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূরণ না হলে শুক্রবার থেকে পণ্য পরিবহনে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি ও ঘোষণা দেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের জটিলতা নিরসন করে সহজ শর্তে লাইসেন্স প্রদান, পণ্য পরিবহনের সময় মালামাল চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ড্রাইভার, মালিক বা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিসহ সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার করে করোনাকালে আগের মতো জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দেয়া, সড়ক-মহাসড়কে কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি, মাসিক মাসোহারা বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, সদস্যসচিব তাজুল ইসলামসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।’

রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার একটি অফিস কক্ষ থেকে নুরনবী ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালের দিকে তার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাড্ডা থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার নুরুল টাওয়ারের একটি একটি বাসার ৯ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।

‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।’

তিনি জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে না কি এটি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।

‘সৌদির সঙ্গে কমিশনে ব্যবসা করতেন, আমাদের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হন। ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান অফিসে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরে খবর পাই অফিসের মধ্যে চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয়ার। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’

৫৫ বছর বয়সী নূরনবী ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সোনাইমুড়ী থানার আবির পাড়ায়।

তিনি বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

ট্রেনের ধাক্কায় কুড়িলে নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ট্রেনের ধাক্কায় কুড়িলে নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাকলাইন জানান, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বারেক। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আব্দুল বারেক নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাকলাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বারেক। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার দুর্গাপুর থানার পাইকপাড়া গ্রামে।

তিনি গুলশান টেকপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গুলশান এলাকার একটি বাসায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন তিনি।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৮৯ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৮৯ রোগী

ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তির পর সেবা করছেন মা। ফাইল ছবি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

দেশে ডেঙ্গু নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৮৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৯৪ জনে। মারা গেছে ৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানায়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৬৪ রোগী। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ৮৯৪ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৭ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮২৭ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৫৩৮ জন।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন, যার হার ২০ বছরে সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো দিক থেকে আসা বাইকের ধাক্কায় নিহতের ছেলের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।  

রাজধানীর দনিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে হঠাৎ আসা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নারী পথচারী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মহিফুল বেগম। তার বয়স ৬৫।

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনায় মোটরসাইকেল জব্দ ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।’

মিলন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার কালা মোল্লা গ্রামে। তারা ধনিয়ার বেলতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মা সঠিক রাস্তাতেই ছিল। কিন্তু বাইক উল্টো দিক থেকে এসে ধাক্কা দিয়েছে। আমি মায়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

রাজধানীর কয়েকটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: অনির্বাণ বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইয়াবা কারবারিরাই মিয়ানমার থেকে নাফ নদী দিয়ে আইস নিয়ে আসছে দেশে। এ মাদকের কারবারে যুক্ত হচ্ছে বিত্তবানরা। তাদের কেউ কেউ বিবিএ করেছেন ইংল্যান্ডে, কেউ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

ইয়াবা কারবারিরা মিয়ানমার থেকে ভয়ানক মাদক আইস নিয়ে আসছে জানিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, এ কারবারে জড়িত আছে বিদেশফেরত উচ্চশিক্ষিতরা।

অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, রমনা ও ভাটারা থানা এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার কয়েক দফা অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অধিদপ্তর জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১ হাজার ২০০টি ইয়াবা বড়ি এবং দুইটি প্রাইভেটকার। তাদের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে জানাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, শুধু ঢাকা বিভাগেই মাদক কারবারির সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার।

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

তিনি জানান, ইয়াবা কারবারিরাই মিয়ানমার থেকে নাফ নদী দিয়ে আইস নিয়ে আসছে দেশে। এ মাদকের কারবারে যুক্ত হচ্ছে বিত্তবানরা। তাদের কেউ কেউ বিবিএ করেছেন ইংল্যান্ডে, কেউ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় করছেন মাদকের কারবার। তারা সেবনের পাশাপাশি আইস কারবারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলুর বলেন, ‘২১ আগস্ট প্রায় আধা কেজি আইসসহ বনানী-উত্তরাকেন্দ্রিক ১০ সদস্যের একটি নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গোয়েন্দা কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুলশান, ভাটারা, কুড়িল, রমনা এলাকায় আইসের আরও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই।’

তিনি বলেন, ‘রমনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জাকারিয়া আহমেদ অমনকে পাঁচ গ্রাম আইসসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জাকারিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারিধারার দূতাবাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তারেক আহম্মেদকে পাঁচ গ্রাম আইস ও ১০০টি ইয়াবা ও একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

‘জাকারিয়া ও তারেকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাদ্দাম হোসেনকে ৯০ গ্রাম আইস ও ৪০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তারের বিষয়ে ফজলুর আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শহীদুল ইসলাম খানকে একই এলাকা (কুড়িল বিশ্বরোড) থেকে ২০০ গ্রাম আইস ও ৫০০টি ইয়াবা, একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

‘আসামিদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জোয়ার সাহারা, ভাটারা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জসিম উদ্দিনকে ২৬০ গ্রাম আইস ও ২০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।’

সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারিকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলুর বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী ও প্রমাণ না থাকায় অনেককেই ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

‘তারা নিজেদের কাছে মাদক রেখে কারবার করেন না; দূর থেকে টাকা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছি।’

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত যুবক

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত যুবক

রাজধানীর আদাবরে বৃহস্পতিবার রাতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এক যুবক। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে স্বজনরা মিরাজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার।

রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে মো. মিরাজ খান (২০) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১টার দিকে স্বজনরা মিরাজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার।

বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকার ৭২৬/১১ নম্বর বাসায় থাকেন মিরাজ। তার বাবার নাম শাহ আলম খান।

আহতের চাচা রবি খান জানান, রাতের দিকে হাউজিং এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন মিরাজ। ওই সময় দুই যুবক এসে তার কাছ থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেয়ায় ছিনতাইকারীরা মিরাজের মাথা, হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে।

রবি আরও জানান, আহত মিরাজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ছিনতাইকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি থেকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় এক যুবকে নিয়ে আসা হয়েছে ঢামেকে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

বাচ্চু আরও জানান, যুবকের মাথা, হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন

এসবিএসি ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

এসবিএসি ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

দুর্নীতি দমন কমিশন। ফাইল ছবি

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে, দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলেছেন। তিনি এসবিএসি ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে ব্যাংকটির সাবেক এমডিসহ নয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সই করা তলবি নোটিশে তাদেরকে রোববার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক নোটিশ দিয়েছে এসবিএসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ মোল্লাকে।

এছাড়াও তলব করা হয়েছে ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউল লতিফ, ভিপি ও শাখা প্রধান এসএম ইকবাল মেহেদী, এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহা. মঞ্জুরুল আলম, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার মণ্ডল ও ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার তপু কুমার সাহাকে।

দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। আগস্টের মাঝামাঝি দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন আমজাদ হোসেন।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে, দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলেছেন। তিনি এসবিএসি ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমজাদ হোসেনের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

ওই চিঠিতে বলা হয়, আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের শেয়ারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। এসব অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করছেন, যা মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ।

গত বছরের জানুয়ারিতে এস এম আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ এবং মেয়ে তাজরিরের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।

খুলনা অঞ্চলের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের মালিক এস এম আমজাদ হোসেন। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সিফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, শম্পা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রুপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা এগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেড লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রা অটো ব্রিকস লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
৩ দিন পর কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চমেকে হামলা: চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি
কর্মবিরতির হুমকি দিলেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

শেয়ার করুন