সেই দুই শিশুকে হোটেলে রাখতে হাইকোর্টে বাবা

সেই দুই শিশুকে হোটেলে রাখতে হাইকোর্টে বাবা

ছবি: সংগৃহীত

শিশু দুটির বাবার পক্ষে এই আবেদন করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকায় আদালতে তাদের জন্য হোটেলে রাখার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছি। হোটেলের খরচ প্রয়োজনে বাবা বহন করবেন বলেও আবেদনে বলা হয়েছে।’

তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা জাপানি মায়ের দুই শিশুকে ‘ভালো কোনো’ হোটেলে রাখতে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন শিশু দুটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বাবা ইমরান শরীফ।

বুধবার বাবার পক্ষে আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ আদালতে এ আবেদন করেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির জন্য সময় রেখেছে বেলা ৩টায়।

আবেদনকারী ফাওজিয়া বলেন, ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকায় আদালতে তাদের জন্য হোটেলে রাখার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছি। হোটেলের খরচ প্রয়োজনে বাবা বহন করবেন বলেও আবেদনে বলা হয়েছে।

‘আমরা আদালতে বলেছি, শিশু দুটিকে দ্রুত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ভালো কোনো পরিবেশে নেয়া দরকার। না হলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। পরে আদালত বেলা ৩টার সময় শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।’

গত ২৩ আগস্ট দুই শিশুকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখতে নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেখানে শিশুদের সঙ্গে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মা দেখা করতে পারবেন। আর বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা দেখা করতে পারবেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক স্বামী শরীফ ইমরানের কাছ থেকে নিজের দুই সন্তানকে ফিরে পেতে জাপানি নাগরিক ডা. নাকানো এরিকোর রিটের শুনানি শেষে দুই সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করতে গত ১৯ আগস্ট নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ পেয়ে গত রোববারই শিশু দুটিকে উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

জাপানি আইন ভঙ্গ করে দুই সন্তানকে নিয়ে আসা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানের নাগরিক এরিকো ও বাংলাদেশি আমেরিকান শরীফ ইমরান জাপানি আইন অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বাসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিন মেয়েসন্তানের জন্ম দেন এরিকো। তারা হলো জেসমিন মালিকা, লাইলা লিনা ও সানিয়া হেনা।

এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। মালিকা, লিনা ও হেনা টোকিওর চফো সিটিতে আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের (এএসআইজে) শিক্ষার্থী ছিল।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান বিবাহবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) আবেদন করেন। ২১ জানুয়ারি ইমরান এএসআইজে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এরিকোর সম্মতি না থাকায় তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে ইমরান তার মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

২৫ জানুয়ারি ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছে তার সন্তানদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন।

গত ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিওর পারিবারিক আদালতে তার সন্তানদের জিম্মার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শিশুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাক্ষাতের আদেশ দেয়। ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন।

এরিকোর অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট নেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার দুই মেয়ে জেসমিন ও লাইলাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

দুই মেয়ের বিবৃতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে টোকিওর পারিবারিক আদালত গত ৩১ মে এরিকোর অনুকূলে জেসমিন ও লাইলার জিম্মা হস্তান্তরের আদেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে এরিকো বাংলাদেশের একজন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেন, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেননি।

চলতি বছরের ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তবে ইমরান শ্রীলঙ্কা থেকে এরিকোকে ফিরে যেতে বলেন।

এরিকোর অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করান, যার ফল নেগেটিভ আসে। অথচ ইমরান রিপোর্টের ফল অবিশ্বাস করে তার সঙ্গে সন্তানদের সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও তা ছিল হৃদয়বিদারক।

গত ২৭ জুলাই এরিকোকে তার মোবাইল সংযোগ বন্ধ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়। একই অবস্থায় তাদের গাড়িতে তাকে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে দুই মেয়ের জিম্মা চেয়ে রিট করেন জাপানি নাগরিক এরিকো।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ৬ হাজার ইয়াবা

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ৬ হাজার ইয়াবা

বিমানবন্দরে ইয়াবার চালানসহ আটক যাত্রী কাজী নয়ন। ছবি: নিউজবাংলা

সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন কাজী নয়ন। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে আটক করে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় হাজার ৩৬ পিস ইয়াবাসহ কাজী নয়ন নামের এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইট বিজি-৪০৪৯ এর যাত্রী ছিলেন নয়ন। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে আটক করে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, যাত্রী নয়নের হোল্ড লাগেজ ছিল ডি নম্বর সারিতে। সেখানে স্ক্যানিং করার সময় ব্যাটেলিয়ান আনসার রনি মিয়া ও সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী সাহারা বানু সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান।

যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর পাওয়া যায় ছয় হাজার ৩৬ পিস ইয়াবা। নয়নের বাড়ি বগুড়া সদরে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

কলমিলতা বাজার: ডিএনসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চান নারী

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে কলমিলতা বাজারের জন্য ক্ষতিপূরণ চান নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।’

রাজধানীর বিজয় সরণির কলমিলতা বাজার দখলের অভিযোগ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন নুরতাজ আরা ঐশী নামের এক নারী।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের নাতনি পরিচয় দেয়া ঐশী বলেন, ‘বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অবৈধভাবে জবরদখল করে আছে। বিষয়টি সাবেক মেয়র আনিসুল হক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেটি থেমে যায়।

‘সে সময় সুপ্রিম কোর্ট ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আমাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দেন, কিন্তু বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম সেটি করছেন না। তিনি সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আমাদেরকে আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করছেন না। তিনি দীর্ঘ একটা সময় পার করছেন। মেয়র আতিকুল ইসলাম আদালতের রায় অমান্য করে চলেছেন। এই অবস্থায় আমরা নিজেরাও আর্থিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই ক্ষতিপূরণটি দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।’

ভাষানটেক প্রকল্প নিয়ে ঐশী বলেন, ‘ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পটি ২০০৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু করেন আমার বাবা। অন্যান্য যেকোনো প্রকল্প থেকে এই প্রকল্পটি এক্সেপশনাল (ব্যতিক্রম)। কেননা এখানে সরকারের একটা টাকা ইনভেস্ট করার প্রয়োজন নেই। প্রকল্পটির ভূমি সরকারি হলেও তার দখলদার ছিল সব বস্তিবাসী। এ সকল বস্তিবাসী নিয়ে সরকার নানাভাবে হিমশিম খাচ্ছিল। তখন আমার বাবা সপরিবারে প্রকল্প থেকে সকলকে কনভেন্স করলেন প্রজেক্টের ব্যাপারে। এরপর ২০১০ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পাদন করেছেন।

‘আমার দাদার রেখে যাওয়া পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে ও সাধারণ মানুষের দেয়া কিছু অর্থ সহযোগিতায় কাজ করা হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রকল্পবিরোধী চক্র আমাদের পরিবার ও আমাদের প্রতিষ্ঠান এনএসপিডিএলকে অবৈধভাবে প্রজেক্টছাড়া ও দেশছাড়া করে ২০১০ সালে।’

ঐশীর দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি করেন ঐশী। এর মধ্যে রয়েছে ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রের দায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এনএসপিডিএলের যাবতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, শহীদ পরিবার হিসেবে তাদের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা দেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐশীর বাবা ও এনএসপিডিএলের প্রধান আব্দুর রহিম।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্যের মালেকের ৩০ বছর কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্যের মালেকের ৩০ বছর কারাদণ্ড

অস্ত্র আইনে মামলার দুটি ধারায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে ১৫ বছর করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

অস্ত্র আইনের দুটি ধারার মধ্যে অস্ত্র রাখার জন্য ১৫ বছর এবং গুলি রাখার জন্য ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে দুটি সাজার মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

অস্ত্র আইনের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আব্দুল মালেককে পৃথক দুটি ধারায় ১৫ বছর করে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দুটি সাজাই চলবে একসঙ্গে। ফলে ১৫ বছরের সাজা খাটলেই চলবে তার।

ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক রবিউল আলম সোমবার দুপুর ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন। অস্ত্র আইনের দুটি ধারার মধ্যে অস্ত্র রাখার জন্য মালেককে ১৫ বছর এবং গুলি রাখার জন্য ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুটি সাজার মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

মালেককে সাজার পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেন বিচারক। মাত্র পাঁচ মিনিটেই রায় পড়া শেষ করা হয়।

রায় শোনানোর পর মালেক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমাকে মিথ্যাভাবে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে ধরা হয়েছে। আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। র‌্যাব যখন বাসায় আসে তখন আমার বাসায় কিছুই পাই নাই। পরে এসব অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে এলো?’

মালেকের রায় শুনে আদালতের সামনে সঙ্গা হারিয়ে ফেলেন তার স্ত্রী। আর মালেকের বোন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি আমার ভাইকে না নিয়ে বাসায় যাব না…।’

মালেকের ছেলে চিৎকার করে বলেন, ‘আমার বাপের এত টাকা, কোথায় গেল এসব টাকা? ১০০-২০০ কোটি টাকা আমার বাপের, কোথায় গেলো?

এরপর কর্তব্যরত পুলিশের হস্তক্ষেপে তাদেরকে মহানগর আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামিয়ে নেয়া হয়।

রায়ে আসামি মালেকের আরও বেশি সাজা প্রত্যাশা করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা রাষ্ট্র পক্ষ সক্ষম হয়েছি।’

তবে মালেকের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আসামি মালেকের কাছ থেকে অস্ত্র গুলি কিছুই উদ্ধার ছিল না। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আসামি কোনোভাবেই ন্যায় বিচার পায়নি।’

তার দাবি, এই মামলার অভিযোগপত্রের অন্তর্ভুক্ত ১৩ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য দিলেও সে সাক্ষ্য ১৩ রকমের হয়েছে। কোনো সাক্ষী গুছিয়ে কিছু বলতে পারেনি। জেরাতে সবাই বিতর্কিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এসব কারণে আমাদের জন্য খালাস পাওয়া সহজ ছিল, কিন্তু আদালত তাকে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড দিয়েছে। এই মামলায় সাজা হওয়ার মতো কোনো উপাদান ছিল না। এরপরও আসামি ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ২০ সেপ্টেম্বর রায়ের তারিখ ধার্য করে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান আব্দুল মালেক।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত।

ঢাকার এক নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার অবশিষ্ট অংশ বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়।

মালেকের বিরুদ্ধে গত ১১ মার্চ চার্জ গঠন করে আদালত। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন।

অবৈধ অস্ত্র, জাল নোট ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় র‌্যাব-১ এর পরিদর্শক (শহর ও যান) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে তুরাগ থানায় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

টঙ্গীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দিনমজুর নিহত

টঙ্গীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দিনমজুর নিহত

প্রতীকী ছবি।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, টঙ্গীর হায়দারাবাদে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নাসিমকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর টঙ্গীর হায়দারাবাদ এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. নাসিম। তার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার নীলকমল গ্রামে।

৩২ বছর বয়সী নাসিম টঙ্গীর শিমন এলাকায় থাকতেন। সাত ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। দুটি ছেলেসন্তান আছে তার।

নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, প্রতিদিনের মতোই কাজ শেষ করে বাসায় ফেরেন নাসিম। পরে হায়দারাবাদ এলাকায় ঘুরতে গেলে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় নাসিম। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে রোজিনার আবেদন খারিজ

পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে রোজিনার আবেদন খারিজ

রোজিনা ইসলাম

পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামকে জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হলে আগের সেই শর্ত ভঙ্গ হয়, বলেন বিচারক।

ব্যক্তিগত পাসপোর্ট, প্রেস এক্রিডিশন কার্ড ও দুটি মুঠোফোন ফেরত চেয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের আবেদন নাকচ করেছে আদালত। দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় এসব মাল জব্দ করেছিল পুলিশ।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বক্কর ছিদ্দিক আবেদনটি নাকচ করে দেন।

গত ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর পর গত ২৩ মে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল। এদিন আদালতে হাজির হয়ে জব্দকৃত মালামাল ফেরত চেয়ে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীর মাধ্যমে আবেদন করেন রোজিনা।

শুনানিতে সেদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন খানকে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ রোববার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হন।

রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী আদালতকে বলেন, ‘রোজিনা ইসলামের পাসপোর্টটি জব্দ করা হয়েছিল। তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। প্রেস এক্রিডিশন কার্ডটিও জব্দ রয়েছে। জব্দ রয়েছে তার দুটি মুঠোফোন। এসব জব্দ থাকার ফলে তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।’

এ সময় আদালতে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ খান আদালতকে বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা রোজিনা ইসলামের দুটি মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রিপোর্টও এসেছে।

‘তাই তার জিনিসপত্র এখনই ফেরত না দেয়ার জন্য বিনীত আবেদন করছি।’

এ সময় বিচারক রোজিনা ইসলামের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামকে জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হলে আগের সেই শর্ত ভঙ্গ হয়।’

তখন রোজিনার আইনজীবী বলেন, ‘আদালত রোজিনা ইসলামের পাসপোর্ট জমা নিয়েছে। কিন্তু রোজিনা ইসলাম কোথাও যেতে পারবেন না, এমন কোনো শর্ত আদেশে দেয়া হয় নাই।’

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রোজিনা ইসলামের করা আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

তবে সিএমএম আদালতের নাকচ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলায় আত্মপক্ষ শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

বাবরের অবৈধ সম্পদের মামলায় আত্মপক্ষ শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ফাইল ছবি

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের মামলায় আত্মপক্ষ শুনানির তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছে আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা বিএনপির সাবেক এ নেতাকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য শেষে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপনের মামলায় আত্মপক্ষ শুনানির তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলাম এ তারিখ ঠিক করেন।

এর আগে এদিন দুদকের পক্ষে মামলার বাদী সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম সাক্ষ্য দেন। তিনি এদিন আসামির পক্ষে জমা দেয়া সম্পদের বিবরণী আদালতে শনাক্ত করেন।

মামলাটিতে এর আগেও তিনি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় সম্পদ-বিবরণী শনাক্ত না করায় তা শনাক্তের জন্য এ সাক্ষীকে ফের তলব করা হয়। এদিন এ সাক্ষী সম্পদ-বিবরণী শনাক্ত শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম তাকে জেরা করেন। এরপর আদালত আত্মপক্ষ শুনানির তারিখ ঠিক করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা বিএনপির সাবেক এ নেতাকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য শেষে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন বাবর। পরের বছরের ১৩ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

একই বছরের ১৬ জুলাই বাবরকে অভিযুক্ত করে দুদকের উপসহকারী পরিচালক রূপক কুমার সাহা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে বাবরের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার সম্পদের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয়।

বাবর দুদকে ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩১২ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক এবং এইচএসবিসি ব্যাংক দুইটি এফডিআরে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণ বাবদ ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকা গোপন করার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়।

২০০৮ সালের ১২ আগস্ট বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় আদালতে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন

শোক দিবসে প্রজ্ঞাপন: মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে তলব

শোক দিবসে প্রজ্ঞাপন: মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে তলব

জাতীয় শোক দিবসে প্রজ্ঞাপন জারি করায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বোর্ডের রেজিস্টারকে তলব করেছে হাইকোর্ট।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদেরকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট মাদ্রাসার এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রেজিস্ট্রারকে তলব করেছে হাইকোর্ট।

আইনজীবী জানান, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল শালিখা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মনোনয়নসহ চার সদস্যের এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়ে সেদিন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের পক্ষে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে ওই দিন কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

সে ঘটনার পর গোহাইল শালিখা দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ওমর ফারুক প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

আরও পড়ুন:
এসপি তানভীরকে সতর্ক করে ক্ষমা
দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার

শেয়ার করুন