দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট

দুদকের কাজ শুধু টাকা উদ্ধার নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলছে, দুদকের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্ত করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা। তবেই কেবল দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। এতে অভিযুক্তরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

হাইকোর্ট বলছে, দুদকের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্ত করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা। তবেই কেবল দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

দুর্নীতি মামলা থেকে এক আসামির অব্যাহতির আদেশ বাতিল সংক্রান্ত এক রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম হাইকোর্ট বেঞ্চ চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আসামি মো. জহিরুল ইসলামের অব্যাহতির আদেশ বাতিল করে সংক্ষিপ্ত রায় দেয়।

মঙ্গলবার তার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।

৭২ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছে, দুদক আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

আদালত বলেছে, যদি দুদকের কোনো কাজ, আদেশ, কার্যপ্রণালী এবং তাদের নিষ্ক্রীয়তা আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে সেক্ষেত্রে দুদক যদি যথাযথ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নিরব থাকে, তাহলে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে।

রায়ের ৬৫ পৃষ্ঠায় আদালত বলেছে, ‘বর্তমানে আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, দুর্নীতির বড় বড় মামলাগুলোতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেয়ে দুদক আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে ব্যস্ত। এর ফলে সুবিধা নিচ্ছে আসামিপক্ষ।’

আদালতের ভাষ্য, শুধু টাকা উদ্ধারই দুদকের কাজ না। তাদেরকে শুধু এ কাজের জন্যই ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বরং টাকা পুনরুদ্ধারে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত অর্থ আত্মসাৎ বা পাচার করেছেন।

আদালত বলছে, তার মানে এটা বলা যায় যে, টাকা উদ্ধার হলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের পর অনেক সময় পার হলেও অনেক ক্ষেত্রে দুদক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিতে পারেনি, যা স্পষ্টত আইনের বিধানের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে আদালত।

রায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকে একটি রায় প্রকাশ হয়েছে। আদালত বলেছে, শুধুমাত্র টাকা উদ্ধারই দুদকের মুখ্য কাজ না। লিগ্যাল অ্যাকশনের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রায়ের পুরোটা আমি এখনও পড়িনি। এছাড়া আরও অনেক নির্দেশনা এবং পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মমিনুর রহমান ও সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদকের রংপুরের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দিনই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামি মো. জহিরুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ৬ মে আবেদন করেন। তার আবেদনের শুনানির পর ওই বছর ১২ জুন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়।

এ আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে দুদক হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন করে। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে জহিরুল ইসলামকে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে।

রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ে বিশেষ আদালতে বিচারাধীন মামলাটির বিচার কাজ এক বছরের মধ্যে অথবা দ্রুত সময়ে শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা করছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামে আঘাত হানবে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা খুবই কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামটি পাকিস্তানের দেয়া, যার ইংরেজি নাম রোজ; বাংলায় যার অর্থ গোলাপ ফুল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি রোববারও হবে জানিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, ‘‘ঢাকায় শনিবার ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি নিম্নচাপের প্রভাবেই হয়েছে। ‘গুলাবের’ কারণে এখনও ভারী বর্ষন হয়নি কোথাও। সমুদ্রবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে গতিবিধি অনুযায়ী পরে সংকেত দেয়া হতে পারে।’’

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে রোববার দক্ষিণ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া তেলেঙ্গনা, চত্তিশগড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ বেশি। মাছ ধরার ট্রলারকে সোমবার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে এবং আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

মাদারীপুরের রাজৈরে কুমার নদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।

উপজেলার আমগ্রাম ব্রিজসংলগ্ন নদ এলাকায় নৌকাবাইচকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-নির্বিশেষে মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। নদের পাড়ে বসে হরেক রকমের খেলনা ও মিষ্টির পসরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজৈরে কুমার নদের পাড়ের স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর নৌকাবাইচ। এ সময় কুমার নদের পাড় পরিণত হয় রাজৈরসহ আশপাশের শত শত মানুষের মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।

শুক্রবার বিকেলে শুরু হয়ে নৌকাবাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। উৎসবমুখর এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার দলপতির হাতে পুরস্কার তুলে দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা দেখতে আসা লোকজন ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।

আয়োজক কমিটির সদস্য রাজৈর পৌরসভা কাউন্সিলর উজির মিয়া বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। করোনা মহামারি ও লকডাউনের জন্য রাজৈরবাসী দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। তাদের বিনোদন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমরা ৯ কাউন্সিলর।’

আরেক কাউন্সিলর সুলাইমান বলেছেন, ‘গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এ কারণে আমরা এই নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নৌকাবাইচের আয়োজন করব।’

নৌকাবাইচ দেখতে এসে স্নিগ্ধা নামের একজন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। প্রথম দেখলাম। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।’

স্বর্ণা নামের একজন বলেন, ‘প্রতিযোগিতার কথা শুনে অনেক দূর থেকে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে নৌকাবাইচ।’

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘ বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে আমি এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘প্রতিবছর এ আয়োজন ধরে রাখতে সহযোগিতা করব। ঐহিত্য ধরে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সে হিসেবে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের আরও আয়োজন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে এক ওয়েবিনারে বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। 

দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবসমাজ। কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্গে মিলছে না মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব। এখনও শিক্ষা এবং কাজের ধরনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ফলে তরুণদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হচ্ছে চাকরির বাজার।

এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোতে নিয়ে আসা দরকার।

শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনার মূল প্রবন্ধে এমন তাগিদ উঠে আসে।

ওয়েবিনার তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও শ্রম উৎপাদনশীলতা, আয় এবং দারিদ্র্য সম্পর্কিত সমস্যা ও নীতি এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন কৌশল আলোচনা করা হয়।

বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। তাই সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত শারমীন।

সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত হোসাইনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। নীতি নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বাল্য বিয়ে বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। এসব ব্যাপারে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং এই খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।’

ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শুধু সরকার নয়, সুশীল সমাজ ও গবেষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণদের সামাজিক আন্দোলন এবং তরুণ নারীদের জন্য সমতা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।’

মূল প্রবন্ধে ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এমন সময় বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশংকার সম্মুখীন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও নির্মাণখাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বিমা প্রকল্প প্রণয়ন, বাল্য বিয়ে, শিশু শ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সাথে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে।

জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক এশা ফারুক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণে যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দেশে উদ্যোক্তা তৈরি হলেও তারা টিকে থাকতে পারছে না, কারণ তাদের দক্ষতা থাকলেও যথাযথ অংশীজনের সাথে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হচ্ছে না। ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। সে জন্য উন্নত মানের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা দরকার।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যুব অধিদপ্তরের জন্য বাজেট অত্যন্ত নগণ্য, যার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য যথেষ্ট কর্মসূচি হাতে নেয়া সম্ভব হয় না। প্রযুক্তিগত বিভাজন কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন।

ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণদের যে দাবি আছে, সেটা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অপারেশনস লিড সামাঞ্জার চৌধুরী বলেন, দেশে চাকরিপ্রার্থী তৈরি হলেও চাকরি তৈরি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা শ্রমবাজারের জন্য তৈরি নন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতার ম্যানেজার মরিয়ম নেসা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া যে স্বপ্নকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তরুণদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বিভিন্ন অংশকে চিহ্নিত করে সকলের চাহিদা পূরণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

সেরা পারফরমারদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক

সেরা পারফরমারদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক

সেরা পারফর্মারদের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু।

‘২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ভিন্নমাত্রার আধুনিক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর অনেক পন্থার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পারফরমারদের স্বীকৃতি এবং পুরস্কার।’

‘অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ক্যাম্পেইনে’ সফল ১০ কর্মীকে পুরস্কৃত করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড। অ্যাকাউন্ট ওপেনিংয়ের পাশাপাশি ডিপোজিট সংগ্রহে সেরাদেরও ক্রেস্টের সঙ্গে পুরস্কারের চেক তুলে দেয়া হয়।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে পদ্মা ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণাদায়ী এই পুরস্কার তুলে দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু।

এ সময় তিনি বলেন, ‘২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ভিন্নমাত্রার আধুনিক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর অনেক পন্থার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পারফরমারদের স্বীকৃতি এবং পুরস্কার। পাশাপাশি তাদের বিশেষ রিওয়ার্ড এবং পদোন্নতির পরিকল্পনাও রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে এহসান খসরু ব্যাংকের নতুন ‘মার্কেটিং এডভাইজার’ কনসেপ্টের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পদ্মা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার জাবেদ আমিন, হেড অফ আইসিসিডি এ টি এম মুজাহিদুল ইসলাম, এসইভিপি হেড অফ আরএএমডি অ্যান্ড ল ফিরোজ আলম, সিএফও মো. শরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

শনিবার জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

জি এম কাদের বলেন, ‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করবে, তারা কখনোই সফল হতে পারবে না।’

শনিবার বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সব ধর্মের অধিকার রক্ষায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে পল্লীবন্ধু বরাদ্দ রেখেছেন সব সময়।’

মতবিনিময় সভায় জাপা চেয়ারম্যানের হাতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা খসড়া আইন তুলে দেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, সিলেট শাখার সভাপতি দীপক রায়, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ মাছা, সিলেট জেলার সমন্বয়ক মলয় তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি অমর চক্রবর্তী এবং পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য শুভ্রদেব বড়াল।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

করোনায় বন্ধ ৩১১টি গার্মেন্টস

করোনায় বন্ধ ৩১১টি গার্মেন্টস

বিজিএমইএ সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ ৩৯৮টি। আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ১৯০টি। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় ২৮১টি ও চট্টগ্রামে ৩০টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।’

করোনা পরিস্থিতিতে ৩১১টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে শনিবার বেলা ২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ হাজার ৭৩৪টি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১ হাজার ৯৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি আমদানি-রপ্তানিতে নিয়োজিত।

‘চট্টগ্রামে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ ৩৯৮টি। আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ১৯০টি। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় ২৮১টি ও চট্টগ্রামে ৩০টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দর কাস্টমস পরিবহনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের ধর্মঘটের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী এটি করছে। আমদানি-রপ্তানির প্রবাহ ঠিক রাখতে এই অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।’

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং ছাড়া পোশাকশিল্পকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও আনোয়ারা ইকোনমিক জোনে পোশাকশিল্পের কারখানা স্থাপনে স্বল্পমূল্যে ভূমি বরাদ্দ, সহজ ও স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ দেয়া, চট্টগ্রামে কিছু ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন, চট্টগ্রামস্থ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, বস্ত্র অধিদপ্তর, ইপিবি, বিনিয়োগ বোর্ড, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতায়ন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

বিজিএমইএর পরিচালক এম এ সালাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দেয়ায় আমরা করোনায় শ্রমিকদের বেতন দিতে পেরেছি। ভিয়েতনাম, ভারতের চেয়ে আমাদের সরকার পোশাকশিল্প নিয়ে অনেক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল হলে তৈরি পোশাকশিল্পে বিপ্লব ঘটাবে।’

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি করতে চাই না। দুর্নীতির শিকারও হতে চাই না। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অটোমেশন চাই। পোশাকশিল্পে লুকানোর মতো কোনও জায়গা নেই। ইজি অব ডুয়িং বিজনেস চাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসিরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সাহাবুদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন

ধানক্ষেতে কিশোরের মরদেহ

ধানক্ষেতে কিশোরের মরদেহ

প্রতীকী ছবি।

কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় একটি ধানক্ষেত থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত কিশোরের নাম মো. শাকিল। তার বাড়ি উপজেলার শিকলবহা ইউনিয়নে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকালে ধানক্ষেতে ওই কিশোরের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি তদন্ত করছি।’

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাপানি শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
জাপানি নারীর দুই সন্তানকে হাইকোর্টে হাজিরের আবেদন
জাপানি মায়ের আবেদনে দুই শিশু উদ্ধার
শিক্ষার্থী আহনাফের মৃত্যু ‘বডি শেমিংয়ে’ কিনা জানতে চায় হাইকোর্ট
শিশুর কাঁধে ভাই হত্যার দায়: তদন্ত কর্মকর্তাকে দুষছে আদালত

শেয়ার করুন