খাস জমিতে প্রভাবশালীদের চা-বাগান

খাস জমিতে প্রভাবশালীদের চা-বাগান

তেঁতুলিয়ার কালিয়ামনি গ্রামে খাস জমির কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে যাওয়ার রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রভাবশালীরা। ছবি: নিউজবাংলা

তেঁতুলিয়ার ইউএনওকে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দেবনগর ইউনিয়নের কালিয়ামনি গ্রামে করতোয়া নদীর তীরে প্রায় ২৫ একর খাস জমি রয়েছে। ওই জমিতে মুসলমানদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান ও খ্রিষ্টানদের সমাধি। দেবনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা কিছু জমি লিজ নিয়ে পুরো সরকারি জমি দখল করে নিয়েছেন। তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দখল করা জমিতে করেছেন চা-বাগান।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় খাস জমি দখল করে চা-বাগান করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ একদল প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তারা ওইসব জমির কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের রাস্তা কেটে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে স্থানীয়রা লাশ দাফন ও সৎকার করতে পারছেন না। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় নদীতে যেতেও বাধার মুখে পড়ছেন গ্রামবাসী।

উপজেলার দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন উল হকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কালিয়ামনি গ্রামবাসী।

বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরও প্রতিকার না পেয়ে তারা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

তেঁতুলিয়ার ইউএনওকে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দেবনগর ইউনিয়নের কালিয়ামনি গ্রামে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ দুই হাজার পরিবারের বসবাস। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। নদী-তীরবর্তী প্রায় ২৫ একর খাস জমি রয়েছে। ওই জমিতে মুসলমানদের কবরস্থান, হিন্দুদের শ্মশান ও খ্রিষ্টানদের সমাধি রয়েছে। দেবনগর ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন উল হক ও তার পরিবারের সদস্য মির্জা, আবু সালেক, আবু তালেব, সালাম, এনামুল, জমিরুল, আনারুল, হামিদুলসহ একদল প্রভাবশালী কিছু খাস জমি লিজ নিয়ে পুরো সরকারি জমি দখল করে নিয়েছেন। তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দখল করা জমিতে করেছেন চা-বাগান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রভাবশালীদের বাধার কারণে কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও নদীতে যেতে পারছেন না এলাকাবাসী। ওই জমির রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে গ্রামবাসীদের নির্যাতনের পাশাপাশি হুমকিধমকি দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘খাস জমিগুলো দখল করে নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত একদল প্রভাবশালী। তারা বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু জমি লিজ নিয়ে পুরো খাস জমি দখলে নিয়ে তারা চা-বাগান করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ দখলদারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন।’

খাস জমিতে প্রভাবশালীদের চা-বাগান
তেঁতুলিয়ার কালিয়ামনিতে খাস জমির কবরস্থান ও শ্মশানঘাটে যাওয়ার রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী। ছবি: নিউজবাংলা



আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফরিদ বলেন, ‘সরকারের ২৫ একর খাস জমি দখলে নিয়েছেন দেবনগরের ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন উল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে পুরোনো রাস্তা বন্ধ হওয়ায় কালিয়ামনি গোরস্থান ও শ্মশানে লাশ নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক ও রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘কালিয়ামনি ও কোনপাড়া গ্রামের ৩ হাজার পরিবারের একমাত্র কবরস্থান এটি। সেখানে লাশ নিয়ে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দেড় বিঘা খাস জমির কবরস্থান কেটে কেটে ছোট করা হয়েছে।’

সাহাবউদ্দিন, সাকি লাল, সমারু, সিদ্দিক বলেন, ‘আমরাও সরকারি জমি লিজ নিয়েছি। দুই বছর আগে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে লিজ নেয়া জমিগুলো দখল করে নিয়েছে। কাগজ থাকলেও আমরা লিজ নেয়া জমিতে যেতে পারছি না। তাদের হুমকিধমকিতে আতঙ্কে আছি।’

কালিয়ামনি গ্রামের শান্তি রানী বলেন, ‘নদীতে আমাদের অনেক পূজা অর্চনা করতে হয়, রাস্তা বন্ধ করায় যেতে পারছি না। গরু-ছাগল নিয়ে নদীর পাড়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাদের হুমকিতে নদীতে গোসলে যাওয়ারও সাহস পাই না।’

পবন চন্দ্র বলেন, ‘শ্মশানে লাশ যেতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি। আমাদের শ্মশান নিয়ে একটা স্থায়ী সমাধান চাই।’

কালিয়ামনি গ্রামের দিনমজুর সমারু বলেন, ‘যে জমিগুলো ফাঁকা পড়ে ছিল গত কয়েক দিনে সেখানেও তারা চায়ের চারা লাগিয়ে দিয়েছেন।’

দেবনগর ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন উল হক জানান, শ্মশানে যাওয়ার জন্য পাঁচ ফুট রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি তার পরিবারের সদস্যদের বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘কে কতটুকু জমি লিজ নিয়েছেন, কে কতটুকু দখলে রেখেছেন তা মাপজোক করে দেখার জন্য ইউএনওকে অনুরোধ করেছি।’

তেঁতুলিয়ার ইউএনও সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘কালিয়ামনি এলাকার কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও খ্রিষ্টানদের সমাধিতে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি । সমস্যা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দখলদারদের নোটিশ দিয়েছি।’

বিনা বাধায় সব ধর্মের মানুষ যেন ওই রাস্তা ব্যবহার করতে পারেন এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর এই বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাত বছর আগের শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলার রায়ে ১০ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কে এম শহীদ আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামিরা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহিন গুলসান নাহার মুনমুন। এই রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আলা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বাদী মূল আসামিকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে রায় আসামিদের পক্ষে যায়।

মূল আসামি আবদুর রাজ্জাক বাদী আশেক আলী মাস্টারের ভাই। আর আশেক আলী হলেন নিহত শিশুর বাবা।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মীরগঞ্জ বালাপাড়ার আশেক আলী মাস্টারের পাঁচ বছরে ছেলে সাকিবুল ইসলাম শুভকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দুইদিন পর সন্দেহভাজন নয়জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যে ওই রাতেই গ্রামের ঈদগাঁ মাঠের কাছে একটি নালা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শুভর বাবা আশেক আলী মাস্টার পরদিন ৯ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তারের পর আসামি কবির মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ওই শিশুর চাচা আবদুর রাজ্জাক। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় রাজ্জাককেও।

তদন্ত কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জিন্নাত আলী সে বছরের ডিসেম্বরে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার সবাইকে খালাস দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, জেরার সময় আশেক আলী বলেছেন, তার ভাই রাজ্জাক এই হত্যার পরিকল্পনাকারী- এমনটা তিনি সন্দেহ করেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই রায় দিলেন কি না তা জানতে রায়ের কপি হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর ২টা ৪০ মিনিটে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রেলওয়ের উদ্ধারকারী ক্রেন।

টঙ্গী জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, টঙ্গীর তিস্তারগেট এলাকায় পুবাইল হোমলাইনের ৪ নম্বর সিগন্যালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বগি ও লাইনের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল।

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ১ নম্বর লাইন দিয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

রেস্টহাউসে ‘ধর্ষণ’, রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রেলওয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ছাত্রীর ভাই সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। ঘটনার পর থেকে আসামি মাহমুদুল হাসান সাগর পলাতক।

মাহমুদুল রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা। তিনি রেলও‌য়ের প্র‌কৌশল বিভা‌গে মাস্টাররোলে চাকরি করেন।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে কিছু বেলুন নিয়ে তাদের বাসায় আসেন সাগর। তার এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে রুম সাজাতে হবে বলে বাসা থেকে নিয়ে যান তার বোনকে।

বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মেয়েটিকে খুঁজতে বের হন পরিবারের সদস্যরা। সে সময় সাগরের মোবাইল বন্ধ পেয়ে আরও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তারা বুঝতে পারেন মেয়েটিকে স্টেশনের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি রেস্টহাউসের একটি কক্ষে নেয়া হয়েছে।

সেখানে গিয়ে একটি দরজা ভেতরে থেকে বন্ধ দেখে কক্ষের পাশে যেতেই মেয়েটির চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে দরজা অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পরে উপায় না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।

ওসি ইমদাদুল হক জানান, পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান সাগর।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

‌কি‌শোরগঞ্জ রেলও‌য়ে স্টেশ‌নের সহকা‌রী স্টেশনমাস্টার জয়নাল বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তা ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সাগরের সম্পৃক্তার সত্যতা পেয়েছি। এ ছাড়া বিষয়‌টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ‌কে জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’

শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরদেহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ দেয়া হবে।’

মাদারীপুরের শিবচরে উদ্ধার হওয়া হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহটির পরিচয় মিলেছে।

পুলিশ বলছে, মরদেহটি বগুড়া সদর উপজেলার রেজাউল করিমের বলে তারা জেনেছেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে স্বজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরজানাজাত কালাই হাজিরকান্দি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসাইন জানান, জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক থেকে খানিকটা দূরে গাছ ও ঝোপ-ঝাড়ের পাশে কয়েক মাস আগে তৈরি করা হয় মোশারফ চৌদিকারের চৌচালা টিনের ঘর। সোমবার রাতে সেখান থেকে তীব্র গন্ধ পান কয়েকজন যুবক।

পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, মরদেহের মুখ আগুন বা পেট্রোল জাতীয় দ্রব্য দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৭ থেকে ৮ দিন আগে কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে রেখে গেছে।

মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিবচর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, ‘মরহের পা ও শরীর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। কেউ হত্যা করে রেখে গেছেন, এটা বোঝা যাচ্ছে।

‘আমরা বিভিন্ন থানায় ও গণমাধ্যমে বিষয়টি জানালে বগুড়ার কিছু লোক তাদের স্বজন বলে দাবি করেন। পরে তাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্টে মিলে গেলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

ভারতে যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ভারতে যাওয়ার সময় দালালসহ গ্রেপ্তার ১৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক দালাল ও শিশুসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদবপুর বিওপির আওতাধীন কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, একজন নারী ও দুইজন শিশু।

এদের বাড়ি নড়াইল, ফেনী, খুলনা, কুষ্টিয়া ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

গ্রেপ্তার দালালের নাম আসাদুল ইসলাম। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী কানাইডাংগা গ্রামের একটি ব্রিজ থেকে সোমবার রাতে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

মহেশপুর থানায় বিজিবি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মামলা সূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুমিকে মারধর করে শরীরের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুমির বাবা খতিবর রহমান মামলা করেন।

নীলফামারীর ডিমলায় স্ত্রীকে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান। এই মামলায় অন্য ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত। তারা মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আলমগীর হোসেনের বাবা-মা, বোন, চাচা ও ফুপু।

দণ্ডিত আলমগীর হোসেন ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

মামলা সূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুমিকে মারধর করে শরীরের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় সুমির বাবা খতিবর রহমান মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে হত্যা মামলায় আলমগীরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রামেন্দ্র বর্ধন বাপ্পী। তিনি বলেন, রায়ে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জমি দখলে বাধা দেয়ায় মারধর, আহত ২
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

শেয়ার করুন