বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ চৌধুরী প্রিন্স প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, হেল্প ক্যাম্প ও করোনা রোগীদের সহায়তা প্রদান, দেশব্যাপী পোস্টার প্রকাশ এবং ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি প্রকাশ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ চৌধুরী প্রিন্স এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, হেল্প ক্যাম্প ও করোনা রোগীদের সহায়তা প্রদান, দেশব্যাপী পোস্টার প্রকাশ এবং ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে অনুরূপভাবে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠন করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে নাখোশ ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

‘তিনি (খালেদা জিয়া) যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তখনও পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য একটা আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটা দেয়নি। এবারও সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বিদেশ যেতে পারবেন না বলে একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। মূল বিষয় হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা (সরকার) এত বেশি ভয় পান… এজন্য তাকে দেশের বাইরে যাওয়া অথবা মুক্ত করার বিষয়টা ভাবতেই পারেন না।’

বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস যে শর্তে বাড়ানোর আদেশ এসেছে, তাতে নাখোশ হয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি পাওয়া বিএনপি নেত্রীর সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চতুর্থবারের মতো।

রোববার সরকারি এই আদেশে শর্ত হিসেবে উল্লেখ আছে, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ যখন খালেদা জিয়ার দণ্ড প্রথমবারের মতো স্থগিত করা হয়, তখন শর্ত আরও একটি ছিল। বলা ছিল, তিনি বাসায় চিকিৎসা নেবেন। তবে গত এপ্রিলে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এই শর্ত আর থাকেনি। তিনি এখন তার ইচ্ছামতো যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

বিএনপি নেত্রীর এই সাময়িক মুক্তি হয়েছে তার স্বজনদের আবেদনে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাগারে যান। পরে উচ্চ আদালত এই সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে। পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড।

আদালতের লড়াইয়ে বিএনপি ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীর স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যান। আর তিনি মানবিক কারণে তার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করেন।

সরকারের আদেশ জারি হওয়ার পর বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তখনও পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য একটা আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটা দেয়নি। এবারও সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বিদেশ যেতে পারবেন না বলে একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

‘মূল বিষয় হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা (সরকার) এত বেশি ভয় পান… এজন্য তাকে দেশের বাইরে যাওয়া অথবা মুক্ত করার বিষয়টা ভাবতেই পারেন না। চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন বলছে বেগম জিয়ার উন্নত ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন তখন সরকারের অনুমতি দিচ্ছে না তাকে আটকে রেখেছে।’

শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার সমাধি সম্পর্কে মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

‘মূলত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে দৃষ্টির আড়ালে রাখার একটি ষড়যন্ত্র করছে সরকার। এভাবে ইতিহাস বিকৃত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিকৃত অপপ্রচার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ব্যতীত কিছু নয়।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

১১ আইনজীবীর আগাম জামিন হাইকোর্টে

১১ আইনজীবীর আগাম জামিন হাইকোর্টে

১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে বিএনপিপন্থি ১১ আইনজীবীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হকসহ ১১ আইনজীবীকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসাইন রাশেদ।

১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে বিএনপিপন্থি ১১ আইনজীবীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ।

মামলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হককে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন রেজাউল করিম চৌধুরী, ওসমান গনি মল্লিক মাখন, মাহবুবুর রশিদ তামান্না, আবুল কালাম আজাদ, আরিফুল ইসলাম সোহাগ, রাইসুল ইসলাম, তফাজ্জল হোসেন, আহসান উল্লাহ আনার, জহিরুল ইসলাম ও শামসুন্নাহার।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন অভিযুক্ত আইনজীবীরা। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে মানহানিকর ও উসকানিমূলক স্লোগান দেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ মামলায় হাইকোর্টে এসে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করলে হাইকোর্ট তাদের জামিন দেয়।

শেয়ার করুন

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

কর্নেল বেগের সেই চিঠি

মুক্তিযুদ্ধকালীন জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার মূলে রয়েছে একটি চিঠি। পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তার সে সময় লেখা চিঠির প্রসঙ্গটি জাতীয় সংসদেও উঠেছে এবং এ নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

‘তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।’—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় এভাবেই চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওই সময়ের কর্নেল আসলাম বেগ।

এ রকম একটি চিঠি সম্প্রতি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিঠিটি মুক্তিযুদ্ধে ‘বীর উত্তম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ছদ্মবেশে পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। আর দেশের স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুর দিকে।

এ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার লেখা একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সে (জিয়াউর রহমান) কী করেছে, আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল, সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ’৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ওই চিঠি তার কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘কথাটা উঠবে জানলে আমি চিঠিটা নিয়ে আসতাম। একসময় আমি নিয়ে আসব। এটা আমাদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা উচিত।’

সেই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ১৯৭১ সালের ২৯ মে মেজর জিয়াকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন কর্নেল বেগ।

যা লেখা ছিল মূল চিঠিতে

Dacca

Major Zia Ur Rahman, Pak Army

We all happy with your job. We must say, good job. You will get new job soon.

Don’t worry about your family. Your wife and kids are fine.

You have to be more careful about Major Jalil.

Col. Baig Pak Army

May 29. 1971

বাংলায় যা দাঁড়ায়:

ঢাকা

মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি

তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।

তোমার পরিবার নিয়ে চিন্তা কোরো না। তোমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে।

মেজর জলিল সম্পর্কে তোমাকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কর্নেল বেগ, পাক আর্মি

মে ২৯, ১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে দেয়া হয় ‘বীর উত্তম’ খেতাব। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্টর-১ এর দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জিয়া। ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর সেক্টরটির দায়িত্বভার বর্তায় ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাঁধে।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
জিয়াকে উদ্দেশ করে লেখা কর্নেল বেগের সেই কথিত চিঠি


তবে এ চিঠির বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-১ এর কমান্ডার এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনুন। আমি এসব নিয়ে এখন কোনো কথা বলব না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি।’

সেদিন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের কথার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জিয়া যেখানে দায়িত্বে ছিল, সেখানে নাকি বেশি মানুষ মারা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি সব থেকে বেশি। সে একটা সেন্টারে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়েছে।’

জিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া থেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’

গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভা থেকে জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সুপারিশ আনা হয়।

এ বছরের ৬ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় জড়িত এবং আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আত্মস্বীকৃত খুনির বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যারা খেতাব হারিয়েছেন তারা হলেন: লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক গেজেট নং ৩২৯)।

কর্নেল বেগের সেই চিঠি
আসলাম বেগ, যিনি পরবর্তীকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিলেন


তবে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

কে এই বেগ?

খোঁজখবর করে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীতে মির্জা আসলাম বেগ নামে একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ’৭১-এ পাকিস্তানের একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেন।

কিন্তু মির্জা আসলাম বেগ ইংরেজিতে নিজের নামের বানান লিখেছেন ‘Beg’। আর যিনি জিয়াউর রহমানকে চিঠি লিখেছেন, তার বানান ছিল ‘Baig’। এ দুজন একই ব্যক্তি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৭১ সালে আসলাম বেগ একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিলেও পরে তাকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে পাঠদান বিষয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ওই সময়টায় তিনি যুদ্ধবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক মারা গেলে পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফের দায়িত্ব পান মির্জা আসলাম বেগ। ১৯৯১ সালে অবসর জীবনে যান বেগ। তার আগ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চার তারকা জেনারেল।

শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ‘আরও বৈঠকের পরে’

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ‘আরও বৈঠকের পরে’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর এবার ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে বিএনপি। এরপর দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি।

দলের পক্ষ থেকে এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে মাঠপর্যায়ের সঙ্গেও তারা ধারাবাহিক বৈঠক করবে, যা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে, চলবে টানা তিন দিন।

শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেয়া এই সিদ্ধান্তের কথা রোববার বিকেলে জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধারাবাহিক সভায় মতবিনিময় হয়েছে। অবশিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে আগামী ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে গতকালকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই।

এই ভোটে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফলাফল করার পর বর্তমান সরকারের অধীনে বেশ কিছু উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে।

সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচন শেষে বিএনপির ঘোষণা আসে, এই সরকারের অধীনে আর কোনো ভোটে যাবে না তারা।

এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ চলে এসেছে। দুই বছরের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে বিএনপির পক্ষ থেকে আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দেয়া হয়েছে।

পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া হয় আলোচনার প্রস্তাব, যা নিয়ে বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর বিএনপি নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরিধি বাড়াতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে কি না- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই তিন দিনের সভায় তারাও থাকবেন। কারণ, জেলার সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তারা অবশ্যই আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘মতবিনিময় শেষ হলে কর্মপন্থা জানানো হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যখন ধারাবাহিক সভাগুলো শেষ হবে তখন আমরা সময়মতো আমাদের মতামতগুলো আপনারা জানতে পারবেন। আমাদের পরের কর্মপন্থাও জানতে পারবেন।

‘এসব মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় আলোচনা হয়েছে। পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বর্তমান পরিস্থিতি, একদলীয় শাসন প্রবর্তন করার যে একটা প্রচেষ্টা, বিরোধী দলের ওপরে যে নির্যাতন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া, মিথ্যা মামলা-গায়েবি মামলা ইত্যাদি বিষয় আলোচনা হয়েছে।’

কমিটি পুনর্গঠন হবে

বিএনপির মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান দলের মহাসচিব। বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ কমিটি তাদের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে, কাজ চলছে। অঙ্গসংগঠনগুলোরও কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে।

‘থানা পর্যায়ে, মাঠপর্যায়ে হয়ে গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে হয়েছে। এখন জেলা পর্যায়ে হয়ে যাবে, হতে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে সম্মেলনগুলো করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ জায়গায় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।’

‘ঠিক একইভাবে বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোয় নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারা ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে একেবারে মাঠপর্যায়ে এবং একেবারে জেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি জেলায় সম্মেলন অতি দ্রুত শেষ হবে।’

শেয়ার করুন

যশোরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান আ.লীগ প্রার্থী

যশোরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান আ.লীগ প্রার্থী

রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, নূরুল আমিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরীকে জয়ী ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় যশোর সদর উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব নূরুল আমিন রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় পদটিতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নূরুল আমিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরীকে জয়ী ঘোষণা করা হবে।

ফরিদ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালী নিউজবাংলাকে জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় নূরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ৩ জুন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর এখানে ভোট হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শুধু নূরুল আমিন ও মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৯ সেপ্টেম্বর।

শেয়ার করুন

ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ

ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চাইবে, কিন্তু ত্যাগী নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগের নৌকায় কাউকে প্রয়োজন নাই। যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেত্রীর পাশে, দলের পাশে ছিল, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।’

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের বেছে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে গাইবান্ধায় এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চাইবে, কিন্তু ত্যাগী নেতা ছাড়া আওয়ামী লীগের নৌকায় কাউকে প্রয়োজন নাই। যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেত্রীর পাশে, দলের পাশে ছিল, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।

‘অন্য দলের অতিথি পাখিরা এখানে ভোট চাইতে আসবে। যখন ভোট চাইতে আসবে, তখন বলতে হবে আপনারা অতিথি পাখির মতো এতদিন পরে কেন! যারা জনগণের মাঝে আছে এবং থাকবে, তাদেরই ভোট দিতে হবে এবং নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার নেত্রীকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।’

তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ বলে মন্তব্যও করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রাণ হচ্ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কারণে আওয়ামী লীগ আজকে গণমানুষের দল হিসেবে পরিণত হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অনেক নেতা দ্বিধান্বিত হয়েছেন, অনেক নেতা ভুল করেছেন, অনেক নেতা দলত্যাগ করে চলে গেছেন, কিন্তু কর্মীরা কখনো দ্বিধান্বিত হয়নি, কর্মীরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিল, কর্মীরাই দলকে টিকিয়ে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আমাদের দলে অনেক নেতা দ্বিধান্বিত ছিলেন, অনেক নেতা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।

‘অনেক নেতা আপস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বিধায় তাদের আন্দোলনে জননেত্রী মুক্তি লাভ করেছিলেন এবং সে কারণে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। ১৩ বছর আগের ভিডিও যদি মিলিয়ে দেখেন, তাহলে আজকের চেহারাগুলো অনেক সুন্দর। ১৩ বছর আগে ছেঁড়া কাপড় পরা, খালি পায়ে মানুষ দেখা যেত, এখন এমনটি পাওয়া যায় না। কুঁড়েঘরও খুঁজে পাওয়া যায় না।

‘এটি শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বের কারণেই হয়েছে। দেশে যদি এই উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন

আন্দোলনের নামে অরাজকতা নয়, বিএনপিকে ড. রাজ্জাক

আন্দোলনের নামে অরাজকতা নয়, বিএনপিকে ড. রাজ্জাক

কোনমতেই বিএনপিকে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, গাড়ি, ঘর-বাড়িতে আগুন ও জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিএনপিকে আন্দোলনের নামে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্ত পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। কোনমতেই বিএনপিকে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, গাড়িতে, ঘর-বাড়িতে আগুন ও জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন করেছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কঠোর হাতে তাদের মোকাবিলা করা হবে।’

আন্দোলনের নামে বিএনপিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা তৈরি করতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইসস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইজিএম) মিলনায়তনে এক প্রশিক্ষণ সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে আন্দোলনের নামে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্ত পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। কোনমতেই বিএনপিকে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, গাড়িতে, ঘর-বাড়িতে আগুন ও জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।

‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন করেছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কঠোর হাতে তাদের মোকাবিলা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সাফল্যে যে উচ্চতায় উঠেছে তা ধরে রাখতে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হলে যেকোন মূল্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।

আন্দোলনের নামে অরাজকতা নয়, বিএনপিকে ড. রাজ্জাক
কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি

‘উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে তথা এসডিজি বাস্তবায়নে যথোপযুক্ত পলিসি বা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সেজন্য, সঠিকভাবে পলিসি প্রণয়ন ও অধিকতর কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের কোর্সের মূল্যায়নে শীর্ষস্থান অধিকারী পাঁচ কর্মকর্তা তাদের পলিসি পেপার উপস্থাপন করেন।

শেয়ার করুন