× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Twitter accounts of 5000 people including Rahul Gandhi are closed
hear-news
player
google_news print-icon

রাহুল গান্ধীসহ ৫০০০ জনের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ

রাহুল-গান্ধীসহ-৫০০০-জনের-টুইটার-অ্যাকাউন্ট-বন্ধ
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, টুইটার বেছে বেছে কংগ্রেসের নেতাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটটি ক্ষমতাসীন দলের মতো আচরণ করছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ দলটির অন্তত ৫ হাজার নেতা-কর্মীর টুইটার অ্যাকাউন্ট লক বা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুধু নেতা-কর্মীই নন, কংগ্রেসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টও ব্লক করে দিয়েছে টুইটার।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, টুইটার বেছে বেছে কংগ্রেসের নেতাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটটি ক্ষমতাসীন দলের মতো আচরণ করছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, রাজধানী দিল্লিতে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তার বাবা-মায়ের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন রাহুল। এরপর অ্যাকাউন্টটি লক করে দেয়া হয়।

কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, টুইটার ক্ষমতাসীন বিজেপির মতো আচরণ করছে।

অবশ্য টুইটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ছবিটি তাদের সুরক্ষা নীতিমালার লঙ্ঘন করেছে। টুইটার এটি ‘বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষভাবে’ প্রয়োগ করেছে।

রাহুল গান্ধীর টুইটারে দুই কোটির বেশি ফলোয়ার রয়েছে। শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে, টুইটার ভারতের রাজনীতির ওপর হস্তক্ষেপ শুরু করেছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শুধু এটি নয়, আপনি জানেন খুব সহজেই রাহুল গান্ধীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। আমার ১৯-২০ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। আপনি তাদের মতামত উপেক্ষা করতে পারেন না। সেটা আপনি করছেন।’

রাহুল গান্ধী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ৯ বছর বয়সী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান ৪ আগস্ট। সেখানে তিনি মেয়েটির পুরোহিত বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন, সেখানেই ছবিটি তোলেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের অনুমতি ছাড়াই জোর করে শিশুটির লাশ দাহ করতে নিয়ে যাচ্ছিল।

ভারতের শিশু অধিকার সংস্থা টুইটার থেকে ছবিটি সরিয়ে নিতে বলার পর টুইটার রাহুল গান্ধীর অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেয়। ভারতীয় আইনে ধর্ষণের শিকার কোনো নারীর পরিচয় প্রকাশ করা অপরাধ। ছবির মাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে বলে টুইটার অভিযোগ তোলে।

৬ আগস্ট টুইটার রাহুল গান্ধীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া কংগ্রেসের অনেক নেতাসহ রাহুল গান্ধীর ছবি রিটুইট করা ৫ হাজার টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেয়।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলে জানান, নরেন্দ্র মোদি সরকারের নিয়োগ করা জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন সেই পরিবার পরিদর্শন করে ২ আগস্ট। এরপর সেই কমিশনও একই ধরনের ছবি পোস্ট করেছে টুইটারে।

কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘বিজেপির একজন সাবেক এমপি, যিনি সেই কমিশনের সদস্য, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র একই কাজ করেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

সমালোচকরা অবশ্য দীর্ঘদিন থেকেই মোদি সরকার ও বিজেপিকে সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ চেষ্টার সমালোচনা করে আসছেন।

আরও পড়ুন:
টুইটারের ভারতীয় প্রধান আটক
টুইটারের ওয়েবসাইটে ‘ভুল’ মানচিত্র, বাদ কাশ্মীর ও লাদাখ
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘ব্লকড’
‘ভারতের আইন মানতে বাধ্য টুইটার’
‘মতপ্রকাশে বাধা ভারত নয়, টুইটার দেয়’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Social media is dead

সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে

সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে
এখন আমরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তি সব সময় আদর্শ কমিউনিটি তৈরির জন্য একে অপরের সঙ্গে একত্র হয় না। বরং এই নেটওয়ার্কগুলোর পক্ষে কোনো গণহত্যাকে উসকে দেয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট সৃষ্টি করা, মানুষকে উগ্রবাদী করা, কোনো দেশকে ব্ল্যাকআউট করা ও নির্দিষ্ট জনসংখ্যার ওপর নজরদারি করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

টুইটার অধিগ্রহণের পর ইলন মাস্কের ধ্বংসযজ্ঞ আর ফেসবুকের ১০ বছর মেয়াদি মেটাভার্স তৈরির পরিকল্পনার পর বিনিয়োগকারীদের অসন্তুষ্টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক সাইট ভাইস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকের জন্য।

অনেকেই শঙ্কায় ভুগছেন, মাস্ক হয়তো টুইটার ধ্বংস করে দেবেন। তবে এ নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এরই মধ্যে মরে গেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, গত এক দশক ধরে আমরা যে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ হিসেবে জানি, সেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের সঙ্গে টাম্বলার বা আরও পেছনে গেলে মাইস্পেস- এগুলোর অধিকাংশকেই নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম নতুন ধরনের অনলাইন যোগাযোগের মডেল দিয়ে পেছনে ফেলে দিচ্ছে।

বহু বছরের বিতর্কের কারণে ফেসবুক নিজস্ব চাপেই ধসে পড়েছে। ইনস্টাগ্রাম অনেকে এখনও ব্যবহার করেন, তবে বন্ধুর চেয়ে অগণিত বিজ্ঞাপনের কারণে এর প্রতি মানুষের অপছন্দ বাড়ছে। আর মাস্ক টুইটার দখল করে নেয়ার পর প্ল্যাটফর্মটি থেকে অনেকেই বের হওয়ার চেষ্টায় আছেন। ফাঁস হওয়া রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন দাবিও করা হয়েছে, টুইটার আদতে এখন এক ‘মৃত্যুপুরী’। কারণ এর ৯০ শতাংশ ট্রাফিক আসে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে, আর এসব ‘হেভি ইউজাররা’ এখন আর প্রতিদিন পোস্ট করছেন না।

মার্ক জাকারবার্গ চেয়েছিলেন ব্যবহারকারীরা এখন মেটাভার্স বা ওয়েব থ্রিতে চলে আসবেন, সেটাও হচ্ছে না। এ দুটোই বিকেন্দ্রীকৃত, টোকেন ও ক্রিপ্টোনির্ভর ইন্টারনেট। এটি নিয়ে বিনিয়োগকারী, ক্রিপ্টো মালিক ও পুঁজিপতিরা বেশ হইচই ও পিরামিড স্কিম তৈরি করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, এ থেকে তারা আরও ধনী হবেন।

তবে এর বদলে সবাই এখন ইউটিউব, টিকটক, টুইচ ও অসংখ্য নতুন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। তারা প্রচলিত বহুমুখী ও শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত আলোচনার স্ট্রাকচারসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মের বিকল্প হিসেবে একমুখী প্ল্যাটফর্ম বেছে নিচ্ছেন। তারা পছন্দ করছেন ‘সম্প্রচার’ মডেল, যেখানে পারস্পরিকতার চেয়ে একজন কন্টেন্ট নির্মাতা ও তার দর্শক রয়েছেন।

ইন্টারনেটে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বা দুই নম্বরে থাকা টিকটকই এখন ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’। যে কেউ টিকটক বানাতে পারেন, কিন্তু একে আদতে লঘু ব্যবহারের (passive consumption) জন্য তৈরি করা হয়েছে। টিকটকে ইনফ্লুয়েন্সার ও সেলিব্রিটি মডেল তৈরি হয়ে গেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রিয় নির্মাতাদের ফলো করেন বা পরোক্ষভাবে তাদের তৈরি কন্টেন্ট ব্যবহারকারীদের ফর ইউ পেজে প্রদর্শিত হয়। ইনস্টাগ্রামও এদিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যদিও ব্যবহারকারীরা একে অপছন্দ করেন।

আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদায়ে শোকাহত হতে পারি বা এই পরিবর্তন কেন হচ্ছে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। এর একটা কারণ হতে পারে, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোর অর্থ উপার্জন করা উচিত নয় এবং লাভের আশায় তারা নানা পথ অবলম্বন করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথবা এ-ও বলা যেতে পারে এখন সত্যিকার অর্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলে কিছু নেই, কখনও ছিল না।

আদতে যা আছে আর আমরা মাঝে মধ্যে যেটা উপভোগ করি সেটা হলো যোগাযোগের নেটওয়ার্কগুলোর একটি সিরিজ। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের আসলে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই’, আদতে এগুলো ভোগনির্ভর এবং অনুমোদনের মুখাপেক্ষী নয় এমন বন্ধন ও গ্রুপের নেটওয়ার্ক।

এটাকে এমনভাবেই দেখা যেতে পারে যে একক কোনো ইন্টারনেট নেই। যা রয়েছে তা হলো জোড়া দেয়া ডিজিটাল ভুবন ও নেটওয়ার্ক, যাদের প্রত্যেকের আলাদা ইতিহাস, ভূরাজনীতি, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও প্রণোদনা রয়েছে। এগুলোকে আমরা একসঙ্গে ইন্টারনেট বলি।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যেভাবে ব্যবহৃত হয় সেটার এক ধরনের সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন ব্রাউজ করা, কেনাকাটা করা, ভিডিও দেখা ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো সাম্প্রতিক উন্নয়ন যেগুলো আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার একেবারে ভিন্ন ধরনের অবকাঠামো, আইন, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সৃষ্টির সময়ে ধারণা করা হচ্ছিল, ইন্টারনেটের শক্তি, বৈশ্বিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও অন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা একটা জায়গা তৈরি করতে পারব, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৈরি হতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে।

এটি হবে এমন এক স্থান যেখানে আমরা পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারব, বন্ধুরা কী করছে জানতে পারব, নতুন বন্ধু বানাতে পারব, নতুন পরিচয় গ্রহণ করতে পারব ইত্যাদি ইত্যাদি। এটি আশ্চর্যজনক সরলমনা একটি চিত্র।

এখন আমরা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তি সব সময় আদর্শ কমিউনিটি তৈরির জন্য একে অপরের সঙ্গে একত্র হয় না। বরং এই নেটওয়ার্কগুলোর পক্ষে কোনো গণহত্যাকে উসকে দেয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসংকট সৃষ্টি করা, মানুষকে উগ্রবাদী করা, কোনো দেশকে ব্ল্যাকআউট করা ও নির্দিষ্ট জনসংখ্যার ওপর নজরদারি করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে অনেকটা সময় ধরে। বছরের পর বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের বেছে নেয়া বন্ধু ও যাদের অনুসরণ করছি তাদের পোস্টের অবাধ প্রবাহ ছিল আমাদের ফিডে। আর এখন আমরা সবচেয়ে বেশি যা দেখতে পাচ্ছি, তা অ্যালগরিদম নির্বাচন করে দেয় ও বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের পোস্টগুলোকে উৎসাহিত করতে বা প্রচার করতে অর্থ প্রদান করে। একে খুব কমই ‘সামাজিক’ বলা যেতে পারে- এখানে লক্ষ্য হলো ব্যস্ততা বাড়ানো ও পেজে ধরে রাখা।

এরপরেও আমরা প্রযুক্তির দিকে এভাবে তাকাই যেন এটি এমন এক হাতিয়ার যা দিয়ে শান্তিপূর্ণ, আদর্শ সমাধান সম্ভব। আমরা মনে করি সঠিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স–এআই) দেয়া নির্ভুল এলগরিদম কন্টেন্টের যথাযথতাকে নিশ্চিত করবে, বৈশিষ্ট্যকে যাচাই করবে ও নিখুঁতভাবে বাছাই করবে, ভুল তথ্যের প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে না ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে আমাদের মনোযোগ ফেরাতে সহায়তা করবে।

তার আগে আমাদের এ প্রশ্ন করতে হবে, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতে কী বুঝি? একে রক্ষা করতে যে হাতিয়ারগুলো দরকার সেগুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

গত ১০ বছর ধরে বড় বড় কোম্পানিগুলো যেভাবে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ নামটিকে ব্যবহার করেছে তা হলো এটা এমন কিছু প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির সংখ্যাকে বিজ্ঞাপনদাতার আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, নতুন পণ্য ও সার্ভিসের সঙ্গে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার রাজস্বের জন্য সুবিধা দেয়া হয় এবং এমন আরও অনেক কিছু।

এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে সমস্ত সংযোগ প্রক্রিয়ার ডেটা জমা রাখে। যা অন্য কোম্পানি কিনে নেয় যাতে তারা প্রাসঙ্গিক পণ্য ও সার্ভিস অফার করতে পারে।

এটাও আসলে প্রকৃত সত্য নয়। এ সমস্ত কিছুর পেছনে থাকা রাজনৈতিক অর্থনীতির দিকে তাকালে ভয়াবহ কিছু দৃশ্য চোখে পড়বে। সামাজিক মিডিয়ার প্রতিটি প্রধান বিষয় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ও পরিচালিত।

আমরা যে ডেটা তৈরি করি, যে ডেটা সেন্টারগুলো এটি জমা রাখে, যে অ্যালগরিদমগুলো একে বিশ্লেষণ করে, যে সার্ভারগুলো একে হোস্ট করে, অ্যানালিস্টদের যে দল একে চিহ্নিত, বাছাই ও তার সঙ্গে ইন্টরঅ্যাক্ট করে, যে তার দিয়ে তথ্য ভ্রমণ করে, যে প্ল্যাটফর্ম আমরা ব্যবহার করি, তাদের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কোনোটিই আমাদের নয়।

এমনকি বিকল্প পদ্ধতি বিকাশের জন্য আমরা যে ডেটা ব্যবহার করতে পারি সেগুলোও এমন কোম্পানি জমা রাখে যারা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক মডেলে কাজ করে এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে। সেই ডেটা নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য আমরা যে কম্পিউটেশনাল রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারি সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে টেক কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন। অথবা রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন, যারা ইন্টারনেট অবকাঠামোকে বাণিজ্যযোগ্য আর্থিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।

আমাদের যে প্ল্যাটফর্মগুলো রয়েছে, যেগুলো মৃতপ্রায় বা মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে সেগুলোকে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ বা ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কস’ বললে ভুল হবে। কারণ এ থেকে মনে হয়ে যে, এগুলো হয়ত সামাজিকতার ওপর নির্ভরশীল কোনো প্ল্যাটফর্ম। আদতে আমরা এমন কিছু তৈরি করেছি যা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত সিস্টেম এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাহিদা, আগ্রহের কারণে সামাজিক সম্পর্কের প্রতিরূপ অফার করে।

যে প্ল্যাটফর্মগুলো শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে তার বদলে সত্যিকার অর্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটাই যারা একমুখী সম্প্রচার মডেলকে সহজভাবে গ্রহণ করতে, আবিষ্কার করতে ও সেটি নিয়ে জরুরি কাজ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব দেশে অন্য অ্যাপগুলো জনপ্রিয় সেখান থেকে আমরা যেসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা যায় বা বাতিল করা যায় তার আভাস পেতে পারি। উদাহরণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের কথা বলা যায়। এটি ব্রাজিল বা ভারতের মতো দেশে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফেসবুক এখনও হোয়াসঅ্যাপের মালিক। হোয়্যাটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপনদাতাদের আয়কে (বা অতিরিক্ত রাজস্বের পথ তৈরির চেষ্টা) সফলভাবে নগদীকরণ করেনি ও পুনর্গঠিত হয়নি। তবে এটিও বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য ও জনতার সহিংসতা ছড়ানোর দোষে দুষ্ট।

বিকল্প অন্বেষণের অর্থ হতে পারে যে ম্যাস্টোডনের মতো কিছুর দিকে অগ্রসর হওয়া। মাস্কের টুইটার দখলের পর থেকে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি এখনও ত্রুটিমুক্ত হওয়া থেকে অনেক দূরে। একটি বাস্তব বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য মানবিক বিশৃঙ্খলা ও ছলচাতুরির ঝুঁকি ও ধাক্কা সামাল দিতে হবে। এমন নয় যে আমরা এখন তা করছি না।

আরও পড়ুন: টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় প্রভাবশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোর পেছনে থাকা সমস্ত জটিল সিস্টেম।

এত কিছুর পরেও এটা ঠিক, আমরা যে যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোকে বলি ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’, সেটা আজ আধিপত্য বিস্তার করছে। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে শীতল যুদ্ধের ভূরাজনীতি সিলিকন ভ্যালির জন্ম দিয়েছে।

আমরা যাকে ইন্টারনেট বলি তার পেছনেও রয়েছে সামরিক সহযোগিতা। এটি এমন এক বিশ্ব যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনীতি একটি নজরদারি ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে, যেন উৎপাদন ও ভোগ পুঁজিবাদের একটি স্বর্ণযুগ বজায় থাকে। আমাদের এই বিশ্ব এমন যেখানে একক নেতৃত্বের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুবিধা বা প্রাধান্য পায় মুনাফাখোর, একচেটিয়া ব্যবসায়ী ও সম্পদ ব্যবস্থাপকের স্বার্থ।

এগুলোর কারণে আমরা সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারব সে রকম একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হবে বিষয়টি তেমন নয়। সেটার বদলে আমরা অন্যদেরকে কী পরিমাণে দেখি ও আমাদেরকে দেখে আরও সক্রিয়ভাবে বৃহত্তর, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে লাভ করতে হয় তা খুঁজে বের করতে আগ্রহী (পাশাপাশি সরকারগুলো তাদের নাগরিকদের পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী)। মৌলিক কোনো পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সত্যিকার অর্থে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাব না।

আরও পড়ুন:
প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের
চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন টুইটার প্রতিষ্ঠাতা
টুইটারের সব কার্যালয় বন্ধ করলেন মাস্ক
ভারতীয়দের ছাঁটাই শুরু করেছে টুইটার
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টুইটারের কর্মী ছাঁটাই শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Satan gets the blue badge after Jesus on Twitter

টুইটারে যিশুর পর শয়তান পেল ব্লু ব্যাজ

টুইটারে যিশুর পর শয়তান পেল ব্লু ব্যাজ টাকায় ব্লু ব্যাজ কেনার সুযোগে টুইটার ভরে গেছে প্যারোডি অ্যাকাউন্টে। ছবি: সংগৃহীত
ব্লু ব্যাজ পাওয়া সহজ হয়ে যাওয়ায় টুইটার ভরে গেছে প্যারোডি অ্যাকাউন্টে। এমনকি যিশু খ্রিষ্টের নামেও ব্লু ব্যাজওয়ালা অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্লু ব্যাজ পেতে ৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে টুইটার ব্যবহারকারীদের। এর ফলে নির্দিষ্ট অর্থ খরচে যে কেউ পেতে পারেন ব্লু টিক। আর সে সুযোগে ভুয়া অ্যাকাউন্টের ছড়াছড়ি দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে।

রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্লু ব্যাজ পাওয়া সহজ হয়ে যাওয়ায় টুইটার ভরে গেছে প্যারোডি অ্যাকাউন্টে। এমনকি যিশু খ্রিষ্টের নামেও ব্লু ব্যাজওয়ালা অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়।

ভ্যারিফায়েড ওই অ্যাকাউন্টে ভুয়া যিশুকে পরিচয় করানো হয়েছে কাঠমিস্ত্রি, নিরাময়কারী ও ঈশ্বর হিসেবে। অ্যাকাউন্টের লোকেশন দেখানো হয়েছে ইসরায়েল।

সে অ্যাকাউন্ট থেকে টিজিআইএফের (থ্যাংকস গড ইট’স ফ্রাইডে) মতো টুইট হচ্ছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আজ শুক্রবার।

ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্টধারীকে কেন ভুয়া মনে করছে, সে প্রশ্নও করা হচ্ছে টুইটে।

যিশুর নামে অ্যাকাউন্টই শেষ নয়। ব্লু ব্যাজওয়ালা অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে রয়েছে শয়তানও। ‘স্যাটান’ নামের প্যারোডি অ্যাকাউন্টের বায়োতে বলা হয়েছে, শয়তান অশুভ নয়, একে ভুল বোঝা হয়েছে।

অ্যাকাউন্টটির লোকেশন হিসেবে দেয়া হয়েছে নরক। এতে শয়তানের প্রতিমূর্তি হিসেবে দৈত্যাকার শিংওয়ালা এক পুরুষের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

টুইটারের মালিক ইলন মাস্ক এ ধরনের অ্যাকাউন্টের নামের সঙ্গে ‘প্যারোডি’ শব্দটি ব্যবহার করতে বলেছেন। তার এ নির্দেশের ফলে এমন অ্যাকাউন্টে টু্ইটার সয়লাব হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
টুইটারের সব কার্যালয় বন্ধ করলেন মাস্ক
ভারতীয়দের ছাঁটাই শুরু করেছে টুইটার
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টুইটারের কর্মী ছাঁটাই শুরু
টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করতে চান ইলন মাস্ক
কবে টুইটারে ফিরছেন ট্রাম্প

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Zuckerberg regrets laying off 11000 workers

১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে ‘দুঃখিত’ জাকারবার্গ

১১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে ‘দুঃখিত’ জাকারবার্গ মেটা ইনকরপোরেটেডের সিইও মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: এএফপি
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ১১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে প্রতিষ্ঠানটি। সে জন্য ছাঁটাইয়ের শিকার কর্মীদের কাছে বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ফেসবুকের মাতৃপ্রতিষ্ঠান মেটা ইনকরপোরেটেডে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরটা বেরিয়েছিল কয়েক দিন আগে। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। বুধবার সেটি এসেছে বিবৃতি আকারে।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ১১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে প্রতিষ্ঠানটি। সে জন্য ছাঁটাইয়ের শিকার কর্মীদের কাছে বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছাঁটাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা মেটার মোট কর্মীদের প্রায় ১৩ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কোম্পানিতে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ থাকবে আগামী বছরের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত।

ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া বিবৃতিটি মেটার কর্মীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেটি কোম্পানির ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে।

এতে জাকারবার্গ বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত এবং আমাদের এ পর্যায়ে আসার দায় নিতে চাই। আমি জানি এটা সবার জন্য কষ্টসাধ্য এবং আমি এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের মারাত্মক প্রভাব পড়বে নিয়োগকারী টিমের ওপর। এ সময়ে বিজনেস টিমকে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

আগামী মাসগুলোতে আরও ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানিয়েছে জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি।

চলতি বছর পুঁজিবাজারে ৭১ শতাংশ দর হারিয়েছে মেটার শেয়ার। বেশ কয়েকটি প্রান্তিকে হতাশাজনক আয় দেখেছে কোম্পানিটি। এমন বাস্তবতায় খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন জাকারবার্গ।

ফেসবুকের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই ও খরচ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক দায়িত্ব নেয়ার পরপরই প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় টুইটার।

আরও পড়ুন:
পদ ছাড়ছেন মেটার সিওও স্যান্ডবার্গ
এবার মেটাভার্সে ডিজনি
ইউরোপে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ চায় না মেটা
মেটাভার্সে নারীকে ‘ভার্চুয়াল ধর্ষণ’: নিরাপত্তায় নতুন ফিচার
আর হবে না মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট ফাঁস!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Parimani warns Raj by hinting at Mims extra marital affair

মিমকে নিয়ে রাজকে সতর্ক করলেন পরীমনি

মিমকে নিয়ে রাজকে সতর্ক করলেন পরীমনি চিত্রনায়িকা পরীমনি (বাঁয়ে), রায়হান রাফির পরিচালনায় দামাল সিনেমার এক অনুষ্ঠানে মূল চরিত্রে অভিনয় করা রাজ ও মিম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পোস্টে চিত্রনায়িকা মিমের বিরুদ্ধে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনেছেন এবং পরিচালক রায়হান রাফিকে দালালের তকমা দিয়েছেন পরীমনি। একই সঙ্গে নিজের স্বামীর উদ্দেশে সতর্ক বাণী দিয়েছেন তিনি।

হঠাৎ করেই নিজের স্বামী চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ, চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ও পরিচালক রায়হান রাফির ওপর চটেছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বুধবার রাত সোয়া ২টার দিকে তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়েছেন পরীমনি।

সম্প্রতি রায়হান রাফির পরিচালনায় ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’ নামে দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সেখানে জুটি বেঁধেছেন রাজ-মিম। তাদের জুটি ব্যাপক নজর কেড়েছে দর্শকদের।

যে পোস্টে চিত্রনায়িকা মিমের বিরুদ্ধে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনেছেন এবং পরিচালক রায়হান রাফির নামের সঙ্গে দালালের তকমা জুড়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজের স্বামী রাজের উদ্দেশে সতর্ক বাণী দিয়েছেন পরীমনি।

সেই পোস্টের শুরুতেই রায়হান রাফিকে ট্যাগ করে পরীমনি লেখেন, সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে দালালিটাও ভালো করেন দেখি!'

এরপর মিমকে ট্যাগ করে পরীমনি লেখেন, ‘নিজের জামাইকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত ছিল।’

একইভাবে নিজের স্বামী রাজকে ট্যাগ করে এই চিত্রনায়িকা লেখেন, ‘এটা এতদূর গড়াতে দেয়া উচিত হয়নি তোমার।’

সবশেষে ধন্যবাদও জানিয়েছেন পরীমনি। তবে হঠাৎ করে কেন এমন চটেছেন তিনি তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন নেটিজেনরা। সেই পোস্টে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন- হঠাৎ করে এমন কী ঘটনা ঘটে গেছে?

আরও পড়ুন:
পরী, রাজ্য ও রাজের নতুন জন্মের গল্প
‘মা’ পরীর ছিমছাম প্রথম জন্মদিন
প্রস্তুত মঞ্চ, জন্মদিনে পরীর কেক কাটার অপেক্ষা
‘আমাকে আলোকিত করেছে যে নারী, তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা’
রানা প্লাজা থেকে গুণিন, পরীমনির সিনেমাটিক জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Will you leave Twitter and go to Mastodon?

টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন? মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পরদিনই ম্যাস্টোডনে যুক্ত হয়েছেন ৭০ হাজার নতুন ব্যবহারকারী। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ম্যাস্টোডন একক কারও অধীনে না থেকে একটি একত্রিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রোগ্রামার জার্মানির ইউজেন রচকো বলেন, ‘সার্ভারগুলো আদতে সেবাদাতা হিসেবে কাজ করে। তবে স্কুল ফোরামের মতো সার্ভারগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি এ বৈশ্বিক বহুকেন্দ্রিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’

ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেয়ার পর জনপ্রিয় এই মাইক্রো ব্লগিং সাইট ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিকল্প নতুন প্ল্যাটফর্মের সন্ধান করছেন অনেকে।

টুইটার ব্যবহারকারীদের একটি অংশ ঝুঁকছে ম্যাস্টোডন-এর দিকে। ছয় বছরের পুরোনো ম্যাস্টোডন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বাম ঘেঁষা একটি ব্যবহারকারী গোষ্ঠী রয়েছে। হাতি ও ম্যামথের আদি প্রাণী ম্যাস্টোডনের নামে তৈরি হয় সাইটটি। এর বিশেষত্ব হচ্ছে একে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে না। এর নিয়ন্ত্রণ বহুকেন্দ্রিক।

টেকজায়ান্টদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে এ বিষয়টি ম্যাস্টোডনকে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পরদিনই ম্যাস্টোডনে ৭০ হাজার নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হন।

অবশ্য টুইটারের ৪৫ কোটি অ্যাকটিভ ব্যবহারকারীর তুলনায় এ সংখ্যা নগণ্য। ম্যাস্টোডনের জন্য বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের বহুকেন্দ্রিক সফটওয়্যার যেটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কঠিন।

ম্যাস্টোডনে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশ কিছু বিষয় আলাদা। যেমন, এখানে টুইটের বদলে ‘টুট’ করতে হয়।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও জটিলতা রয়েছে। ম্যাস্টোডন কোনো একটা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নয়। হাজারো সংযুক্ত ওয়েবসাইটের নেটওয়ার্ক। এ ধরনের সাইটকে বলা হয় ইনস্ট্যানস।

এগুলো মূলত আলাদা আলাদা সার্ভার থেকে পরিচালিত। সার্ভারগুলো ফেডারেটেড অর্থাৎ এগুলো আলাদাভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত তবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে সক্ষম। এ জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না। তাদের যোগাযোগের জায়গাটি ফেডিভার্স বা ফেডি নামে পরিচিত।

ম্যাস্টোডনে সাইন আপ করার পর আপনাকে একটি সার্ভার বেছে নিতে হবে। যেগুলোর মধ্যে ম্যাস্টোডন ডটকমের মতো সাধারণ সার্ভার থেকে শুরু করে কেপপ ডটসোশ্যাল বা লিনাক্সরকস ডটঅনলাইন এর মতো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য সার্ভারও রয়েছে।

একবারে নিছক মজার জন্য ডলফিন ডটটাউন নামের সার্ভারও আছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা শুধু ইংরেজি ‘ই’ অক্ষরটি লিখতে পারেন। যে সার্ভারটি নির্বাচন করা হয় সেটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের নামের শেষে যুক্ত হয়ে যায়, যেমন rubaid@kpop.social

টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?

আপনি যে টুট বা পোস্টগুলো দেখতে পান সেগুলো একই সার্ভার ব্যবহারকারীদের পোস্ট, পুরো ফেডিভার্সের নয়। তবে, চাইলে অন্য সার্ভার ব্যবহারকারীদেরও টুট করা যায় এবং তাদের টুটকে বুস্ট করা যায়।

এভাবেই ম্যাস্টোডন একক কারও অধীনে না থেকে একটি একত্রিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। ম্যাস্টোডনের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম প্রোগ্রামার জার্মানির ইউজেন রচকো ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘সার্ভারগুলো আদতে সেবাদাতা হিসেবে কাজ করে। যেমন হটমেইল ও জিমেইল আমরা ই-মেইলের জন্য ব্যবহার করি। তবে স্কুল ফোরামের মতো সার্ভারগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একটি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি এ বৈশ্বিক বহুকেন্দ্রিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’

ম্যাস্টোডনের মডেলের ঝামেলা হলো, যে সার্ভারে আপনি যুক্ত হয়েছেন সেটি অকেজো হয়ে পড়লে আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা সবকিছু হারাতে হবে। ম্যাস্টোডনের সার্ভার অ্যাডমিনের হাতে আপনি যা করেন তার নিয়ন্ত্রণ থাকছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেপপ ডটসোশ্যালের মালিক যদি দেখেন তার সার্ভার ব্যবহারকারী ডলফিন ডটটাউন থেকে করা কোনো পোস্ট বা টুট বুস্ট করেছেন তাহলে তিনি চাইলে সেটি মুছে দিতে পারেন। এমনকি সার্ভারকে আলাদা করে রাখতে পারেন, যাতে ডলফিন থেকে কোনো ব্যবহারকারীর কেপপের সার্ভারে ঢুকতে না পারেন। সার্ভার অ্যাডমিন চাইলে একজন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত টুট দেখতে পারেন এবং চাইলে তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে পারেন।

রচকোর মতে, একজন নতুন ব্যবহারকারীর উচিত কোনো সার্ভারে যোগ দেয়ার আগে সেটি সম্বন্ধে খোঁজ নেয়া এবং সেটি কে চালাচ্ছে জানার চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, ‘সার্ভার পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠান নাকি ব্যক্তি, তার অতীত রেকর্ড কেমন, নির্ভরযোগ্য কিনা, দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা, মডারেশনের নীতিমালা আছে কিনা সেগুলো দেখে নেয়া উচিত।

‘ঘৃণামূলক বার্তার বিরুদ্ধে নিয়ম রয়েছে ও সার্ভারের মালিকের কিছু হলে যেন সার্ভারের কিছু না হয় সে কারণে ব্যাকআপের মতো প্রয়োজনীয় সার্ভিস যাদের রয়েছে সেগুলোই মূলত নির্ভরযোগ্য।’

রচকো আরও বলেন যে, ম্যাস্টোডনের হোমপেজে পরীক্ষিত সার্ভারের একটা তালিকা আছে। তবে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সেটা ব্যবহার করা ঝক্কির ব্যপার।

ম্যাস্টোডনের সঙ্গে টুইটারের মতো কোনো সাইটের পার্থক্য নাটকীয় মনে হতে পারে। জার্মান প্রবাসী ব্রাজিলিয়ান ট্রান্সনারী এলাইলা দ্য গার্ডিয়ানকে জানান তার কাছে ম্যাস্টোডনক অনেক বেশি নিরাপদ মনে হয়।

কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, ইনস্ট্যানসগুলোকে এখানে খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতামত অজান্তে বা দুর্ঘটনাবশত প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকেন না।

তিনি বলেন, ‘ভাইরাল হিসেবে যে পোস্টগুলো বিবেচিত হয় সেগুলোতে সাধারণত ৫০ থেকে ১০০টি বুস্ট থাকে। আমার অধিকাংশ টুটে দুই থেকে ২০টি লাইক রয়েছে। সেখানে যখন ২০টি লাইক আসে তখনও আমি যারা লাইক দিয়েছে তাদের সবার নাম, রুচি ও আগ্রহের বিষয় জানতে পারি। পারস্পরিকতার যে অনুভূতি সেটা আমি টুইটারে কখনও পাই না। এখানে কেউ সেলেব্রিটি না। সবার মতামতই পড়া হয়।’

এ কারণে এলাইলা এখানে একটি কমিউনিটি তৈরি করতে পেরেছেন, যার মাধ্যমে তিনি বন্ধুত্ব, রোমান্টিক সম্পর্ক এমনকি চাকরিও খুঁজে পেয়েছেন। যৌনতাপূর্ণ পোস্ট করার সময়েও তিনি ঘৃণা বা বিদ্বেষের শিকার হননি। টুইটারের মতো সাইটের ক্ষেত্রে এলাইলা মনে করেন এমনটা ঘটা অভাবনীয়।

তিনি বলেন, ‘ফেডিভার্স আমাকে শিখিয়েছে কমিউনিটিতে থাকতে কেমন লাগে আর কমিউনিটি আমাকে শিখিয়েছে একজন ট্র্যান্স হওয়ার আনন্দ।’

দুর্ভাগ্যবশত মাস্টোডনের বিকেন্দ্রীকরণের খারাপ একটি দিক হলো নিজেদের স্বার্থে কেউ এটিকে ব্যবহার করতে পারে।

২০১৯ সালে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘গ্যাব’ ম্যাস্টোডনের ফ্রি সফটওয়্যারের একটি সংস্করণ ব্যবহার করা শুরু করে। ম্যাস্টোডন গ্যাবকে এটি থেকে বিরত রাখতে পারেনি, তবে ম্যাস্টোডনের প্রধান সার্ভারগুলো গ্যাব সার্ভারগুলোকে ‘ডি-ফেডারেট’ করেছে, যাতে তারা যোগাযোগ করতে না পারে। ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যালকে শক্তিশালী করতে ম্যাস্টোডনের কোড ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষক নেইথান স্নাইডারের মতে, ম্যাস্টোডনের প্রভাব ক্রমবর্ধমান হলেও ডিজাইনের কারণে এর তহবিল পাওয়া কঠিন এবং এ কারণে টুইটারের মতো একটি ওয়েবসাইটের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কার্যত অসম্ভব।

তিনি বলেন, “ম্যাস্টোডন মূলত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প যা আদতে একজন ব্যক্তির দ্বারা তৈরি। টুইটার দৃশ্যত ৪৪ বিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানি। যদি একদল ব্যবহারকারী একত্রিত হন ও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে ও একটি বিকল্প তৈরি করতে চাই’ তাহলেও তাদের তহবিল পাওয়ার ক্ষমতা ইলন মাস্কের তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতার চেয়ে অনেক কম হবে।”

প্রযুক্তি সমালোচক ও টেক ওন্ট সেইভ আস পডকাস্টের হোস্ট প্যারিস মার্কস জানান, তিনি ম্যাস্টোডন ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন কিন্তু তেমন কোনো দর্শক পাননি। যেখানে টুইটারে তার ৩৫ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এবং তার পোস্ট প্রায়ই ভাইরাল হয়।

তিনি বলেন, ‘এটি (টুইটার) এখনও একটি প্রভাবশালী সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। আদতে যার সমতুল্য কেউ নেই। তাই টুইটারে আর কী কী আসছে সেটা জানতে অনেকেই এখানে আটকে আছেন।’

মার্কস টুইটার ব্যবহার বন্ধ করতে না পেরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে বিজ্ঞাপন পাঠানো হয় আমি সেগুলো ব্লক করে দেই। আমি টুইটারের ব্লু টিকের জন্য অর্থ দিইনি। আমাকে তারা আর্থিকভাবে যেন খুব বেশি মূল্যবান মনে না করে সে বিষয়টি আমি নিশ্চিত করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করতে চান ইলন মাস্ক
কবে টুইটারে ফিরছেন ট্রাম্প
টুইটারে ব্লু টিকের ফি মাসে ৮ ডলার
ইলন মাস্ক এবার টুইটারের সিইও
টুইটার ব্লু ব্যাজে টাকা নেয়ার পরিকল্পনায় মাস্ক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Masks announcement of cancellation of parody account

প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের

প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের টুইটারে ইলন মাস্কের নামে চালানো একাধিক প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টুইট বার্তায় মাস্ক জানান, প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, যেগুলো নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করেছে। এমন সব অ্যাকাউন্ট চালাতে হলে আগেভাগে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে হবে এসব প্যারোডি। অন্য কারো নাম বা ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট চালানো যাবে না। প্যারোডি অ্যাকাউন্ট চালাতে হলে ক্যাটাগরি স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে।

টুইটারে অন্যের নামে চালানো প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নতুন মালিক ইলন মাস্ক।

রোববার একাধিক টুইট বার্তায় মাস্ক জানান, প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে যেগুলো নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করেছে। এমন সব অ্যাকাউন্ট চালাতে হলে আগেভাগে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে হবে এসব প্যারোডি। অন্য কারো নাম বা ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট চালানো যাবে না। প্যারোডি অ্যাকাউন্ট চালাতে হলে ক্যাটাগরি স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে।

টুইট বার্তায় আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে প্যারোডি অ্যাকাউন্ট যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তি পরিচালনা করেন, তবে সেই অ্যাকাউন্টিও বাতিল হয়ে যাবে।

ইলন মাস্কের নামে বেশ কিছু প্যারোডি অ্যাকাউন্ট চালু ছিল, যেগুলো সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে। অ্যান ওলফোর্ড নামের একজন ইলন মাস্কের নামে হিন্দি ও ভোজপুরি ভাষায় অসংখ্য পোস্ট করেছিলেন। এর জেরেই এই ধরনের অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি।

সচল টুইটার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২৪ কোটি।

অনেক নাটকীয়তার পর ২৭ অক্টোবর ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেয়ার পর একের পর এক কঠোর নীতিমালা আরোপ করেন নতুন এই মালিক এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী।

গত ২৯ অক্টোবর টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের পাশে ভেরিফিকেশন চিহ্ন হিসেবে ব্লু টিকের জন্য মাসে ৮ ডলার ফি নির্ধারণের পক্ষে মত দেন ইলন মাস্ক।

টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইলন মাস্ক বলেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে স্প্যাম বট অ্যাকাউন্ট দেখতে চান না। মাধ্যমটিকে ঘৃণা ও বিভাজনের কেন্দ্র হওয়া থেকেও রক্ষা করতে চান।

খরচ কমাতে ৩ নভেম্বর টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানান নতুন মালিক ইলন মাস্ক।

এর আগে টুইটারের মালিকানা নেয়ার এক দিনের মধ্যেই পরাগ আগারওয়ালকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে বরখাস্ত করেন মাস্ক। একই সঙ্গে কোম্পানির আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতও করেন তিনি। ভেঙে দেন আগের পরিচালনা পর্ষদও। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে আগের নিয়মনীতিও মুছে দিতে থাকেন তিনি।

আরও পড়ুন:
চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন টুইটার প্রতিষ্ঠাতা
লোকসান কমানোর উপায় না পেয়ে কর্মী ছাঁটাই করছি: ইলন মাস্ক
মিথ্যা ছড়ানোর সরঞ্জাম কিনেছে ইলন মাস্ক: বাইডেন
টুইটারের সব কার্যালয় বন্ধ করলেন মাস্ক
ভারতীয়দের ছাঁটাই শুরু করেছে টুইটার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Meta to plan big layoffs after Twitter Report

টুইটারের পর বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনায় মেটা: প্রতিবেদন

টুইটারের পর বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনায় মেটা: প্রতিবেদন মেটার লোগো। ছবি: সংগৃহীত
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, চলতি সপ্তাহেই বড় পরিসরে ছাঁটাই শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মেটা প্ল্যাটফরমস ইনকরপোরেটেড, যার প্রভাব পড়বে হাজারো কর্মীর ওপর। বুধবার নাগাদ এ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক দায়িত্ব নেয়ার পর গত শুক্রবার প্রায় অর্ধেকের মতো কর্মী ছাঁটাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। ব্যাপক জনপ্রিয় আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাতৃপ্রতিষ্ঠান মেটাও একই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সংবাদমাধ্যমটির বরাত দিয়ে এনডিটিভির সোমবারের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, চলতি সপ্তাহেই বড় পরিসরে ছাঁটাই শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে মেটা প্ল্যাটফরমস ইনকরপোরেটেড, যার প্রভাব পড়বে হাজারো কর্মীর ওপর। বুধবার নাগাদ এ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি মেটা।

চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকটা সুবিধাজনক হবে না বলে অক্টোবরে আভাস দিয়েছিল মেটা।

এ বছর কোম্পানিটি ৫০ হাজার কোটি ডলারের বেশি দর হারিয়েছে। আগামী বছর পুঁজিবাজারে কোম্পানিটি আরও প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার দর হারাবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি টিকটকের দাপট, অ্যাপলের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নীতির পরিবর্তন, মেটাভার্সে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফরম নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী হুমকির মধ্যে নেতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে মেটা।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, মেটাভার্সে বিনিয়োগের সুফল পেতে প্রায় এক দশক লাগবে বলে আশাবাদী তিনি। এমন বাস্তবতায় খরচ কমাতে তাকে নিয়োগ ও প্রকল্প বন্ধ এবং কর্মী সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে।

অক্টোবরের শেষের দিকে জাকারবার্গ বলেছিলেন, ২০২৩ সালে অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা আয়ের খাতগুলোর দিকে নজর দেবে মেটা। ফলে কিছু বিভাগ বাড়তি নজর পাবে। অন্যদিকে বেশ কিছু বিভাগে তেমন উন্নতি দেখা যাবে না কিংবা এগুলো সংকোচন করা হবে।

তিনি আরও বলেছিলেন, আগামী বছর কোম্পানির আকার একই থাকবে কিংবা সামান্য ছোট হবে।

আরও পড়ুন:
এবার মেটাভার্সে ডিজনি
ইউরোপে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ চায় না মেটা
মেটাভার্সে নারীকে ‘ভার্চুয়াল ধর্ষণ’: নিরাপত্তায় নতুন ফিচার
আর হবে না মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট ফাঁস!
বিয়েতে মৃত বাবার ‘অবতার’ করবেন আশীর্বাদ

মন্তব্য

p
উপরে