× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
You will be silent
hear-news
player
print-icon

তুমি রবে নীরবে

তুমি-রবে-নীরবে
বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তার নোবেল জয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এনে দেয় গৌরবের মুকুট। এশিয়া মহাদেশে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া তিনিই প্রথম লেখক।

বছর ঘুরে এসেছে ২২ শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮০তম প্রয়াণ দিবস আজ।

১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এদিন বাঙালির মনন-চিন্তা-চেতনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে থাকা এই কবির জীবনাবসান ঘটে।

বর্ষা ঋতু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, গান। সেই বর্ষাতেই চিরবিদায় নেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বদরবারে। তার লেখনী সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্যকে।

১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার মা সারদাসুন্দরী দেবী ও বাবা কলকাতার বিখ্যাত জমিদার ও ব্রাহ্মসমাজের ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথ শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন।

জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে ছেলেবেলায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন ঠাকুর বাড়ির ছোট ছেলে রবীন্দ্রনাথ। চার দেয়ালের মাঝে আটকে না রেখে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছিলেন প্রকৃতির কাছে।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে হাতে খড়ি আট বছর বয়সে। শুরুটা কবিতা দিয়ে। কবিতাই তাকে তুলে ধরে বিশ্বদরবারে। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বকবি।

১৮৭৪ সালে ভারতের ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। এটিই তার প্রথম প্রকাশনা।

১৭ বছর বয়সে ১৮৭৮ সালে তিনি প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে তার বিয়ে হয় মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে থাকা শুরু করেন।

১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তার নোবেল জয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এনে দেয় গৌরবের মুকুট। এশিয়া মহাদেশে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া তিনিই প্রথম লেখক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।

তাকে ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় ভূষিত করা হয়।

তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে মিলিয়ে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথের সব লেখা ৩২ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।

তার ছোটগল্প ৯৫টি, গান এক হাজার ৯১৫টি। তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছেন।

১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর সেরে উঠতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালের ২২ শ্রাবণ জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপুরুষ।

আরও পড়ুন:
রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসেও নীরব কাচারিবাড়ি
কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে ছায়ানটের আয়োজন
‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ
এবারও শিলাইদহে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উদযাপন হচ্ছে না
পারস্যে রবীন্দ্র চর্চায় আনিসুর রহমান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Writ to Nazrul for publishing gazette as national poet

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে গেজেট প্রকাশে রিট

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে গেজেট প্রকাশে রিট মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। ফাইল ছবি
রিটকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের আপামর জনগণ এমনকি ছোট্ট শিশুটিও জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাস্তবে এটির কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই।’

কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী হাইকোর্ট বিভাগে এ রিট করেন।

রিটটি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবীরা।

রিটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের আপামর জনগণ এমনকি ছোট্ট শিশুটিও জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু বাস্তবে এটির কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই।

বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে তাকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং কবির মৃত্যুর ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যদিও ইতোপূর্বে নজরুল ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দু-একবার চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি কোনো আলোর মুখ দেখেনি।

আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে।

বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য জাতীয় পুরস্কার ও পদক প্রদানে অনিবার্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলতে হয়। সম্মাননাপত্র, পদক ইত্যাদি দেয়া হয়। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলামের জাতীয় কবি ঘোষণায় এমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার তথ্য বা প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনো অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে কবি পরিবারের পক্ষ হতে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। নজরুল গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অনেক দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে রিট আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

রিট আবেদনকারী অন্য আইনজীবীরা হলেন- মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো. রেজাউল করিম ও মো. আলাউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘বাজাও শঙ্খ, দাও আজান’
১১ জ্যৈষ্ঠ: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুখর দিন
জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bengali started from the Brahmi of Sabyasachi Hazra

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’ প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোজঁ, চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা আফজাল হোসেন, শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্য এবং স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর। ছবি: সংগৃহীত
সব্যসাচী হাজরা বলেন, ‘গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হলো মুদ্রিত বাংলা হরফ। মূলত প্রমিত বাংলা হরফের পরিক্রমা দেখানো হয়েছে এখানে। এই বই ও প্রদর্শনী ১৯৫২ সালের সব ভাষা শহীদ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হলো চিত্রশিল্পী সব্যসাচী হাজরার ব্রাহ্মী থেকে বাংলা শীর্ষক প্রদর্শনী। একইসঙ্গে প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে তার তৃতীয় প্রকাশনা ‘অ- ইন দ্য কোয়েস্ট অফ বাংলা টাইপোগ্রাফি’।

অক্ষরবিন্যাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা হরফকে নান্দনিক ও ব্যবহারিকভাবে বিশ্লেষণ এই প্রদর্শনী ও প্রকাশনার প্রধান উপজীব্য।

প্রদর্শনীটির উদ্বোধন ও বইটি প্রকাশ হয় মঙ্গলবার বিকেলে। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন, শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোজঁ।

মুখের ভাষার মতো লেখার হরফও প্রতিনিয়ত রূপ বদলায়। সময়, প্রযুক্তি, মাধ্যম, প্রয়োগ, বৈষয়িক বোঝাপড়া ও নন্দনতাত্ত্বিক নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভিন্নতা পায় হরফের আদল ও ব্যঞ্জনা।

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
প্রদর্শিত হচ্ছে সব্যসাচী হাজরার তৃতীয় প্রকাশনা ‘অ- ইন দ্য কোয়েস্ট অফ বাংলা টাইপোগ্রাফি’।

প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে হাতে লেখার প্রয়োজন সীমিত হয়ে আসছে। কিন্তু হস্তাক্ষর ও লেখাঙ্কনের অনুশীলন অক্ষরবিন্যাস-সংশ্লিষ্টদের জন্য খুবই জরুরি। মুদ্রিত বাংলা অক্ষরের প্রমিত রূপ বিগতকালের হস্তাক্ষরের অনুকরণেই গৃহীত। অক্ষরবিন্যাসের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা নিয়ে চর্চার প্রয়োজনে বাংলা অক্ষরের প্রমিত রূপকে প্রকৃতভাবে চেনা, জানা ও আত্মস্থ করার তাগিদে এই প্রয়াস।

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
অভিনেতা আফজাল হোসেনকে প্রদর্শনীর কাজ দেখাচ্ছেন চিত্রশিল্পী সব্যসাচী। ছবি: সংগৃহীত

এই প্রদর্শনী ও প্রকাশনার মাধ্যমে সব্যসাচী হাজরা মূলত তরুণ শিল্পীদের জন্য বাংলা অক্ষর বিষয়ে তার অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

সব্যসাচী আশা করেন, তরুণ শিল্পীরা এই চর্চাকে এগিয়ে নেবেন এবং এই প্রকাশনার তথ্যগত ঘাটতি পূরণ করবেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবার্ষিকীর সন্ধিক্ষণে এই প্রকাশনা ও প্রদর্শনীটি হচ্ছে।

সব্যসাচী হাজরা বলেন, ‘গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হলো মুদ্রিত বাংলা হরফ। মূলত প্রমিত বাংলা হরফের পরিক্রমা দেখানো হয়েছে এখানে। আমি ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা প্রচণ্ডভাবে অনুপ্রাণিত। এই বই ও প্রদর্শনী ১৯৫২ সালের সব ভাষা শহীদ এবং ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

শুরু হলো সব্যসাচী হাজরার ‘ব্রাহ্মী থেকে বাংলা’
প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

আফজাল হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে একদল মানুষ রয়েছে যারা সৃজনশীল। যারা সবকিছুকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে পারেন। এ রকম একটা দুঃসময়ে একটা মানুষ হরফের সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করছে। এটা নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি, আনন্দিত হই।’

এনামুল করিম নির্ঝর বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বাংলা হরফ নিয়ে নানা কাজের উদ্যোগ নেয়া হলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। সব্যসাচী হাজরার এই দারুণ কাজটি অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বাংলা হরফ নিয়ে কাজ করতে।’

প্রদর্শনীটি চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছাড়া গ্যালারি প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Legal notice for Nazrul to be declared a national poet

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণায় গেজেট প্রকাশে আইনি নোটিশ

নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণায় গেজেট প্রকাশে আইনি নোটিশ মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। ফাইল ছবি
নোটিশকারীদের মধ্যে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামী প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।’

মৌখিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে এবার ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে লিখিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা দিতে গেজেট প্রকাশের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিনসহ ১০ আইনজীবী রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি সংস্কৃতি সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন নোটিশকারীরা।

নোটিশে বলা হয়, কাজী নজরুল ইসলাম মৌখিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কোনো মৌখিক বিষয় নয়।

নোটিশকারীদের মধ্যে আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে তাকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়। সব কিছুরই ছবি, তথ্যসহ লিখিত দলিল আছে। কিন্তু নির্মম সত্য এটিই যে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সরকারি ঘোষণার কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশের দুটি আইনে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের পরিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামী প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।

আইনজীবী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের ইতিহাসের অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনও অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায়। এ জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। এ ছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি তোলা হয়েছে। নজরুল গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অনেক দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আসাদ উদ্দিন ছাড়াও বাকি ৯ আইনজীবী হলেন মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো. রেজাউল করিম ও মো. আলাউদ্দিন।

মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। এ বিষয়ে গত বছর ২০ জুন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির বিষয় নয়।’

আরও পড়ুন:
১১ জ্যৈষ্ঠ: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুখর দিন
জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’
গৌরবের ১৪৮ বছরে কবি নজরুল কলেজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Those in power consider the police as their asset

‘ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে তাদের সম্পদ মনে করে’

‘ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে তাদের সম্পদ মনে করে’ সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। ফাইল ছবি
সাবেক আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশের রুলিং পার্টি- তারা মনে করে পুলিশ তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা চায় তারা যা বলবে পুলিশ তাই করবে। এমপি চান তিনি যা বলবেন থানার ওসি সেটাই করবেন। এসব চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাজ করা খুবই কঠিন।’

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের মতো করে চালাতে চায়। দেশের রাজনৈতিক শক্তি ও আমলাতন্ত্রের সদিচ্ছার অভাবে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এসব কথা বলেছেন।

‘ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে তাদের সম্পদ মনে করে’
জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে শনিবার সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের লেখা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে নিজের লেখা একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শহীদুল হক। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘পুলিশ জীবনের স্মৃতি: স্বৈরাচার পতন থেকে জঙ্গি দমন’ বইটিতে স্থান পাওয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশের রুলিং পার্টি- তারা মনে করে পুলিশ তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা চায় তারা যা বলবে পুলিশ তাই করবে। এমপি চান তিনি যা বলবেন থানার ওসি সেটাই করবেন। এসব চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাজ করা খুবই কঠিন।

‘রাজনৈতিক অপশক্তির কাছে আমি মাথানত করিনি। চাকরিতে থাকা অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হইনি। তবে আমার মতো তো সবাই পারবে না। এজন্য একটা সিস্টেম চালু করা উচিত যাতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।’

সাবেক আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ বিচারব্যবস্থার একটি বড় অংশ। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না পারলে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম কখনও কার্যকর হবে না। পুলিশকে স্বাধীনতা দিতে হবে। জুডিশিয়াল সার্ভিস দিতে হলে আইনের পরিবর্তন জরুরি।

‘আমি দায়িত্বে থাকার সময় উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তা আর হয়নি। সেটা হয়নি আমলাদের কারণে। আর এটি হোক তা রাজনীতিকরা তো চাইবেনই না। রাজনীতিক ও আমলাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটলে সুশাসন কথাটা স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’

পুলিশের এই সাবেক প্রধান আরও বলেন, ‘পুলিশকে অনেক বৈরী পরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হয়। সবাই পুলিশের সেবা চায়। কিন্তু কেউই পুলিশকে পছন্দ করে না। পুলিশকে বুঝতে হলে পুলিশের কাছে যেতে হবে। পুলিশকে আস্থায় নিতে হবে। সেসঙ্গে পুলিশকেও ঔপনিবেশিক মন-মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব কবি ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ও সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মুক্তিযুদ্ধে নিক্সন-কিসিঞ্জারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ড. নুরুন নবীর বই
ডিজিটাল লাইফের ব্যবহারবিধি প্রয়োজন
সংবাদ পাঠক-পাঠিকাদের ‘ব্রেকিং নিউজ’
জমজমাট ঈদের পাঁচফোড়ন
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ‘লালন করি মুক্তিযুদ্ধ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tea is free when reading books

বই পড়লে চা ফ্রি

বই পড়লে চা ফ্রি
বইপ্রেমীদের জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসেন লিপিকা লাইব্রেরি বিক্রয়কর্মী মো. রিফাত। জানালেন, আদা, তেজপাতা আর এলাচ দিয়ে তিনি চা বানান। বই হাতে নিয়ে কেউ বসলে একটু পর পরই চায়ের কাপ এগিয়ে দেন।

বইয়ের ছোট্ট একটা দোকান। সামনে কার্পেট বিছিয়ে কয়েকটা চেয়ার-টেবিল রাখা। তাতে বসে বই পড়ছেন কয়েকজন। সবার হাতে চায়ের ওয়ানটাইম কাপ। কেউ কেউ বই পড়ছেন আর প্রয়োজনীয় লাইনগুলো টুকে রাখছেন নোটবুকে। দেখে হঠাৎ করে লাইব্রেরিই মনে হবে।

দোকানের নামও লিপিকা লাইব্রেরি। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার পাশে নুরজাহার ট্রেড সেন্টারের নিচতলায় এর অবস্থান।

কাউন্টারের ওপর রাখা নোটিশটিই এই দোকানের মূল আকর্ষণ। কারণ ওই নোটিশে লেখা, ‘আসুন, বসুন, চা খেতে খেতে বই পড়ুন। বসা ফ্রি, বই পড়া ফ্রি, চা খাওয়াও ফ্রি।’

বইপ্রেমীদের জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসেন লিপিকা লাইব্রেরি বিক্রয়কর্মী মো. রিফাত। জানালেন, আদা, তেজপাতা আর এলাচ দিয়ে তিনি চা বানান। বই হাতে নিয়ে কেউ বসলে একটু পর পরই চায়ের কাপ এগিয়ে দেন।

বই পড়লে চা ফ্রি

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বই পড়ছিলেন আর নোট নিচ্ছিলেন উম্মে হাবিবা ফাইজা। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির পড়েন তিনি। দুপুরে কলেজ শেষ। বিকেল তিনটায় কোচিং। এর মাঝে চট করে এই দোকানে এসেছেন তিনি। জানালেন এখানে নিয়মিতই আসেন।

ফাইজা বলেন, ‘কলেজ শেষ হওয়ার পর হাতে ঘণ্টা দেড়েক সময় থাকে। তখন লিপিকাতে আসি। বই নিয়ে পড়ি। নোট করি। দোকানের লোক চা দেয়। চা খাই আর নোট করি। চায়ের জন্য টাকা নেয় না।’

কলেজ শেষে লিপিকায় আসেন ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ছাত্রী রাবেয়া আক্তারও।

তিনি বলেন, ‘লাইব্রেরির মালিক আমাদের জন্য বই পড়া এবং চায়ের ব্যবস্থা করেছেন। খুব ভালো ব্যবহার তার। এখানে সরকারি লাইব্রেরির মতো বই পড়ার ব্যবস্থা আছে। বিষয়টা আমার কাছে নিরাপদ ও আনন্দের।’

বই পড়লে চা ফ্রি

এই দোকানের স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, পড়ালেখা শেষ করে বইয়ের দোকান দেন। প্রথম দোকানটি ভিক্টোরিয়া কলেজ সড়কের পূর্ব পাশে, সেটি এখনও আছে। নতুন এই দোকানটি চালু করেন সম্প্রতি।

চা খাওয়ানোর উদ্যোগ কেন?

আরিফুর বলেন, ‘আমি নতুন দোকানটা খোলার সময় চিন্তা করেছি বই বিক্রির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা যায় কি না। সেই চিন্তা থেকে মনে হলো, দোকানের সামনে বসার ব্যবস্থা করব এবং যারা বই কিনতে আসবেন এবং আমাদের দোকানের সামনে বসে বই পড়বেন, তাদের জন্য চা পানের ব্যবস্থা করব। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দোকান পরিচালনা শুরু করলাম।’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বইপ্রেমী অন্যদেরও বেশ সাড়া পাচ্ছেন। দিনভর এমনকি সন্ধ্যায়ও লোকজন এসে চায়ের কাপ নিয়ে বই খুলে বসে যান।

বই পড়লে চা ফ্রি

আরিফুর বলেন, ‘আমি আগে শুধু ব্যবসায়ী ছিলাম। যারা আমার দোকানে আসতেন, তারা দর কষাকষি করে বই কিনে নিয়ে যেতেন। এখন আমি আমার ক্রেতাদের কাছে একজন ভাই ও বন্ধু।

‘এখন বই পড়ুয়াদের জন্য বসার ও চায়ের ব্যবস্থা করায় গ্রাহকরা আমার আপনজন হয়ে উঠেছেন। দোকানে আসার ও যাওয়ার সময় সালাম দেন। ভাইয়া কেমন আছেন- জিজ্ঞেস করেন। আমিও তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করি। চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এটা আমার খুব ভালো লাগে।’

আরও পড়ুন:
‘ইন্টারনেটকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের কাছে বই পৌঁছাবে’
প্রত্যন্ত গ্রামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠাগার
অন্যরকম একুশ উন্মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধন
শিক্ষকদম্পতির পেনশনের টাকায় গণপাঠাগার
আসাদের ভাঙা ঘরে বইয়ের সুমুদ্দুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The body of Gaffar Chowdhury is coming to the country on Saturday

শনিবার দেশে আসছে গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

শনিবার দেশে আসছে গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গার্ড অফ অনার ও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ওইদিন বেলা ১-৩টা পর্যন্ত মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে। বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৪টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেয়া হবে। বেলা সাড়ে ৪টায় মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের উদ্দেশে নেয়া হবে। বিকেল সাড়ে ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

বরেণ্য লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ শনিবার দেশে আসবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে আসা তার মরদেহ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘মহান একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা বর্ষীয়ান সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী গত ১৯ মে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মরহুমের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আগামী ২৮ মে (শনিবার) বেলা ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-২০২ যোগে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিমানবন্দরে মরহুমের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গার্ড অফ অনার ও সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ওইদিন বেলা ১-৩টা পর্যন্ত মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে। বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৪টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেয়া হবে। বেলা সাড়ে ৪টায় মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের উদ্দেশে নেয়া হবে। বিকেল সাড়ে ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

মরহুম আবদুল গাফফার চৌধুরীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সার্বিক সহযোগিতা করছে।

আরও পড়ুন:
গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে আসছে সোমবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
For the first time Booker received a Hindi novel

হিন্দি উপন্যাসের জন্য প্রথম বুকার

হিন্দি উপন্যাসের জন্য প্রথম বুকার ইংরেজি ভাষায় বইটির অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের অর্থ পেয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী ভারতীয় লেখিকা গীতাঞ্জলি শ্রী (ডানে)। ছবি: ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজ
ইংরেজি ভাষায় বইটির অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কারের অর্থ পেয়েছেন নয়াদিল্লির ৬৪ বছর বয়সী লেখিকা। ভারতের যেকোনো ভাষায় লেখা ‘ইন্টারন্যাশনাল বুকার’ জয়ী প্রথম উপন্যাসও এটি। হিন্দিতে লেখা গীতাঞ্জলির মূল উপন্যাসটির নাম ছিল ‘রেত সমাধি’।

ভারতীয় লেখিকা গীতাঞ্জলি শ্রীর হিন্দি উপন্যাস ‘টুম অফ স্যান্ড’ প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার’ জিতেছে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে গীতাঞ্জলির হাতে ৫০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড মূল্যের সাহিত্যের সম্মানজনক পুরস্কারটি তুলে দেয়া হয়। ইংরেজি ভাষায় বইটির অনুবাদক ডেইজি রকওয়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কারের অর্থ পেয়েছেন নয়াদিল্লির ৬৪ বছর বয়সী লেখিকা।

ভারতের যেকোনো ভাষায় লেখা বুকারজয়ী প্রথম উপন্যাসও এটি।

হিন্দিতে লেখা গীতাঞ্জলির মূল উপন্যাসটির নাম ছিল ‘রেত সমাধি’।

পুরস্কার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, ‘আমি কখনই বুকার পুরস্কারের স্বপ্ন দেখিনি, আমি কখনই ভাবিনি যে আমি সেটা পেতে পারি। কী বিশাল অর্জন আর স্বীকৃতি। আমি বিস্মিত, আনন্দিত, সম্মানিত ও বিনীত।’

তিনি বলেন, “এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ-বেদনা মেশানো অনুভূতি হচ্ছে। ‘রেত সমাধি’ বা ‘টুম অফ স্যান্ড’ হলো আমাদের বসবাসের জগতের একটি বিবরণ। এক অতি-বৃদ্ধার বিশেষ ধরনের মানসিক শক্তি, যা আসন্ন মৃত্যুর মুখে তার শেষ আশাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে। বুকার পুরস্কারপ্রাপ্তি অবশ্যই উপন্যাসটিকে অনেক বেশি ভাষাভাষীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।’’

হিন্দি কথাসাহিত্যের প্রথম এই বুকার প্রাপ্তির বিষয়ে ৬৪ বছর বয়সী লেখিকা বলেন, ‘আমার এবং এই বইটির এমন স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী হিন্দি সাহিত্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভাষার সমৃদ্ধ অতীতের অবদান।’

৮০ বছরের এক বৃদ্ধার যাপিত জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ‘রেত সমাধি’ উপন্যাসটি। স্বামীর মৃত্যুর পর পাকিস্তানে পাড়ি দিতে হয় সেই ভারতীয় নারীকে। দেশভাগের সাক্ষী ছিলেন তিনি। সেই সময়ের টানাপোড়েন, ক্ষতগুলোই যেন ফের অনুভব করতে চান এই বৃদ্ধা। কখনও মেয়ে, কখনও মা, নারী কিংবা নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সেই দুর্বিষহ জীবনের হিসাব মেলাতে চাইছেন তিনি।

এর আগে, ১৯৯৭ সালে আরেক ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায় তার প্রথম উপন্যাস ‘গড অফ স্মল থিংস’-এর জন্য ম্যান বুকার পুরস্কার জিতেছিলেন।

আরও পড়ুন:
প্রথম উপন্যাসেই বুকার

মন্তব্য

p
উপরে