× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
কবিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
google_news print-icon

কবিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

কবিতায়-বঙ্গবন্ধুর-স্বদেশ-প্রত্যাবর্তন
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এদেশের শিল্পী-সাহিত্যিকরা অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন সৃজনশীলতার উঠোনে। যেমন, সিকান্দার আবু জাফরের ‘সে নাম মুজিব’ ও আবুবকর সিদ্দিকের ‘প্রশ্ন’ জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে লেখা কবিতা। ফিরে আসা বঙ্গবন্ধুর চোখে অশ্রু ছিল সেদিন। কোনো কোনো কবি সেই দৃশ্যও কবিতার চরণে উপস্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। কেবল কবিতায় নয় গল্প-উপন্যাস ও চিত্রকলায় তার ফিরে আসা অন্ধকার থেকে আলোর জগতে ফিরে আসা হিসেবে চিহ্নিত। স্বপ্ন ও আশাবাদীতায় জাগ্রত জনতার কথাও এসেছে এ প্রসঙ্গে। অন্যদিকে বাঙালির স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসও বিবৃত হয়েছে। দেশভাগের পর ১৯৭১ পর্যন্ত যে ঘটনাগুলো মুখ্য হয়ে উঠেছিল তার কয়েকটি দিক কবিতা বিশ্লেষণের পূর্বে স্মরণ করা যেতে পারে।

২.

১৯৪৮ সালের মার্চের ভাষা প্রশ্নে প্রতিবাদের পথ বেয়ে ১৯৪৯-এ জন্ম হয় ‘আওয়ামী মুসলিম লীগে’র। এই রাজনৈতিক সংগঠনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অনুঘটক। অন্যদিকে বিভাগোত্তর কালের কমিউনিস্ট পার্টির একমাত্র প্রগতিশীল সাহিত্য সংগঠন ‘প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’ ক্রমশই কমিউনিস্ট বিপ্লবের দ্বিধাবিভক্ত ও তাত্ত্বিক বিতর্কের ফলে ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা জেলায় এর অস্তিত্ব একেবারে বিলুপ্ত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অবদমন নীতি ও বাংলাদেশকে পাকিস্তানের নতুন-কলোনিতে পরিণত করার চক্রান্তে এবং রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে যে গভীর ষড়যন্ত্র ও বিতর্ক উত্থাপিত হয়, এরই ফলে সংগঠিত হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ এই কালক্রমিক ঘটনা প্রবাহে পাকিস্তানের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তদান ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জানান দেওয়ার ঘটনা। দেশ-বিভাগোত্তর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের রাজনৈতিক কূটজাল, অত্যাচার, নিপীড়ন, ধর্মীয় কলহ ও দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তারের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্য ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় লাভ অনিবার্য করে তোলে। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তে বাংলাদেশের খাদ্য পরিস্থিতির অবনতি ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দাঙ্গার সৃষ্টি করে ১৯৫৪ সালের মে মাসে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা পরিকল্পিতভাবে বাতিল করা হয়।

১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক প্রশাসনের বিচিত্রমুখী ষড়যন্ত্রের পরে দেশে সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটে। সামরিক শাসক দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, সাহিত্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়। মূলত দেশবিভাগ থেকে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তী পাঁচ বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দ্বন্দ্ব-জটিল হলেও এর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলটি ছিল সকল বিকৃতি, কুসংস্কার, কূপমণ্ডুকতা এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়গত সকল প্রকার বৈরীভাবের বিরুদ্ধে মানবতার আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে মহিমাদীপ্ত করার কাল।

এদিক থেকে ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাগমারিতে পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক সম্মেলনের কথা উল্লেখযোগ্য। রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির এই যোগসূত্র বাংলাদেশের কবিদের আলোড়িত করেছিল স্বাভাবিক কারণে। তবে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সালের সামরিক জান্তার করতলগত বাংলাদেশের নগর-গ্রামের গণজাগরণ এ অঞ্চলের সমাজ মানসের প্রগতিশীল রূপান্তরের স্বতন্ত্র মাত্রা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এরপর স্বাধিকার অর্জনের পথে ১৯৬৯-এর পথ বেয়ে ১৯৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম দেশ বিভাগের পরবর্তী আরেকটি দেশবিভাগের ঘটনাকে ত্বরান্বিত করে দেয়। জন্ম হয় নতুন দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন কালানুক্রমিক ঘটনা ধারায় আমাদের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদী আদর্শ এবং প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক জীবনবোধের বিকাশ ঘটে। কবিরা সেই শ্রেণির অংশ হিসেবে তাদের কবিতার ধারায় ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মাণ করেন স্বাধিকারের সপক্ষে আমাদের সমাজমানসের বিচিত্র তরঙ্গ। মনে রাখা দরকার ভাষা-আন্দোলন থেকে ১৯৭১ পর্যন্তই কেবল নয় ২০২০ সালে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর নানান অনুষঙ্গে অভিব্যক্ত এদেশের কবিতায় স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ যুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজে কবি ছিলেন না কিন্তু ছিলেন রাজনীতির কবি- ‘রাজনীতির প্রকৌশলী নন মুজিব, মুজিব হচ্ছেন রাজনীতির কবি, বাঙালির স্বাভাবিক প্রবণতা প্রয়োগিক নয়, শৈল্পিক। তাই মনে হয়, বাংলাদেশের সকল মানুষ, শ্রেণি ও মতাদর্শকে এক সূত্রে গাঁথা হয়ত কেবল মুজিবের মতো রাজনৈতিক কবির পক্ষেই সম্ভব।’ বেলাল চৌধুরী বলেছেন, কবিতা একটি জাতির ভাষার স্মৃতি। (কবিতায় বঙ্গবন্ধু, ভূমিকা, ২০১০) প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতায় বাঙালি জাতির ভাষার স্মৃতি উচ্চকিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মতো মহাপুরুষকে নিয়ে রচিত কবিতায় কবি সমাজ ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে বাধ্য। কারণ কবিতার মাধ্যমে কবি একাত্মতার বাণী প্রচার করেন। মানুষের সঙ্গে মানুষের একাত্ম হওয়ার এই বাণী অসংখ্য কবির অজস্র চরণে কখনও শেখ মুজিব, কখনও বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে।

৩.

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। সেদিন মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসেছিলেন মুক্ত স্বদেশে। যে স্বদেশকে তিনি নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। সেদিন ঢাকার ১০ লাখ মানুষের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়েছেন; অশ্রু সজল নয়নে চেয়েছেন মানুষের মুখপানে। ১৯৭১ সালে দেশের মধ্যে যা কিছু ঘটেছে তা তিনি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই জেনেছিলেন। হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় লুটেরা রাজাকার-আলবদর-আলশামসের অত্যাচারের কথা শুনেছিলেন। এজন্যই আবেগময়ী ভাষণে তিনি এদেশকে পাকিস্তান কর্তৃক শ্মশান করে ফেলার কথা বলেছিলেন। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। তার অনুভূতি তখন প্রতিটি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে শিহরণ জাগাচ্ছিল।

যখন তাকে বহন করা বিমানটি ঢাকার মাটি স্পর্শ করছিল, তখন বিপুল জনতার ঢেউ দেখে তিনি বলেছিলেন- ‘আমার দেশের মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। আমি এদেরকে খাওয়াবো কীভাবে?’ (দ্রষ্টব্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি, ২০০৮, বাংলা একাডেমি, পৃ ৮৬১-৬৪) দেশ পরিচালনায় জননেতার এই উৎকণ্ঠা সত্যিই শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল। যুদ্ধোত্তর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও বীরের মতো মানুষের জন্য উদগ্রীব হয়েছেন। একাত্তরে হত্যাযজ্ঞের শিকার মানুষের আত্মীয়-স্বজনের হাহাকার, নিরাশ্রয় আর খাদ্যহীন পরিস্থিতির কথা বলে তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিলেন পাকিস্তানীদের বীভৎসতার চালচিত্র।

‘স্বাধীন’ শব্দটি তার প্রাণের গহীন থেকে উচ্চারিত হলো - ‘ভাইয়েরা আমার লক্ষ মানুষের প্রাণদানের পর আজ আমার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’(প্রাগুক্ত)

এই স্বাধীন দেশের প্রথম সংবর্ধনায় তিনি তার ভাষণে আত্মত্যাগী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শহিদদের জন্য অন্তরের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন- ‘আমার বাংলায় আজ এক বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। তিরিশ লক্ষ লোক মারা গেছে। আপনারা জীবন দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন। বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে, খেয়ে-পরে সুখে থাকবে, এটাই ছিল আমার সাধনা।’(প্রাগুক্ত)

তিনি সেদিন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার মুক্তির জন্য ইন্দিরা গান্ধীর প্রচেষ্টাকে স্মরণ করেছেন। আর বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন বলেই শত্রু পাকিস্তানিদেরও মঙ্গল কামনা করেছেন। কারণ বাংলাদেশ তখন স্বাধীন। এর চেয়ে বড় আর কোনো চাওয়া ছিল না তার।

১০ জানুয়ারির ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন- ‘অনেকেই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে আমি তাদের জানি। ইয়াহিয়া সরকারের সাথে যারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’(প্রাগুক্ত)

তিনি আরও উল্লেখ করে বলেছিলেন- ‘২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাসে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে। তারা আমার মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে।’(প্রাগুক্ত)

বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে জঘন্যতম কুকীর্তির তদন্ত হওয়া দরকার বলেই পরবর্তীকালে ১১ হাজার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের কারাগারে আটকও রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করে তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এদেশের শিল্পী-সাহিত্যিকরা অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন সৃজনশীলতার উঠোনে। যেমন, সিকান্দার আবু জাফরের ‘সে নাম মুজিব’ ও আবুবকর সিদ্দিকের ‘প্রশ্ন’ জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে লেখা কবিতা। ফিরে আসা বঙ্গবন্ধুর চোখে অশ্রু ছিল সেদিন। কোনো কোনো কবি সেই দৃশ্যও কবিতার চরণে উপস্থাপন করেছেন। (শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ, প্রাগুক্ত, পৃ ৫৬৯) আবুবকর সিদ্দিক ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ফেরা’ কবিতায় বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আনন্দ এবং বিরান বাংলায় স্বজন হারানোর বেদনাকে পাশাপাশি উপস্থাপন করেছেন।’(সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, আমি তোমাদেরই লোক, পৃ ৫৭১) কামাল চৌধুরীর ‘১০ জানুয়ারি ১৯৭২’- এ বিষয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হাল টেনে ধরলেন, মানুষ আশায় বুক বাঁধল-

‘চতুর্দিকে শোক, আহাজারি, ধ্বংসচিহ্ন, পোড়াগ্রাম, বিধ্বস্ত জনপদ

তিনি ফিরে আসলেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতর ফুটে উঠল কৃষ্ণচূড়া

মুকুলিত হ’ল অপেক্ষার শিমুল

শোক থেকে জেগে উঠল স্বপ্ন, রক্তে বাজল দারুণ দামামা

বেদনার অশ্রুরেখা মুছে ফেলে

‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ ব’লে হেসে উঠল

লতাগুল্ম, ধূলিকণা, পরিপূর্ণ দীপ্ত পতাকা।’(কবিতায় বঙ্গবন্ধু, ২০১২, পৃ ৩৭)

সিকানদার আবু জাফর রচিত ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ সম্পর্কে কবীর চৌধুরী লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মাটিতে, তার মুক্তস্বদেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগেই আন্তর্জাতিক তৎপরতা ও পাকিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতির ফলে তখন তার মুক্তি ও বাংলাদেশে ফিরে আসার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে যায়, তখন সংগ্রামী কবি সিকানদার আবু জাফর ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ নামে একটি চমৎকার কবিতা লেখেন। সিকানদার আবু জাফর তখন আরও বহু দেশত্যাগী বাংলাদেশের মানুষের মতো ভারতের পশ্চিম বাঙলায় ছিলেন।’(কবীর চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ মুক্তবুদ্ধির চর্চা, র‌্যাডিকেল এশিয়া পাবলিকেশন্স, লন্ডন, ১৯৯২, পৃ ১১) মূলত কবি এ কবিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাকের সফলতার চিত্র তুলে ধরেছেন।

বাঙালির ত্যাগ-তিতিক্ষার ফল স্থপতিরূপে বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা। তার প্রত্যাবর্তন আমাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত করে। কবি জানতেন বঙ্গবন্ধু ফিরে আসবেন। ৭ মার্চের ডাক ব্যর্থ হতে পারে না। মা- বোনদের ইজ্জত বৃথা যেতে পারে না। নির্মলেন্দু গুণের ‘প্রত্যাবর্তনের আনন্দ’ বঙ্গবন্ধুর আত্মকথনে রচিত। স্বদেশে ফিরে আসা বীরের চেতনার নানা প্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে এখানে। পঁচাত্তরের পনের আগস্ট ও পরবর্তীতে সত্যের জয়গান সম্পর্কে জাতির পিতার কথনে কবির চরণ এরকম-

‘আনন্দের ঘোর কাটতে না কাটতেই,

একাত্তরের পরাজিত এজিদবাহিনী

রাত্রির অন্ধকারে সংগঠিত হয়ে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট

সপরিবারে হত্যা করলো আমাকে।...

বহুদিন পর আজ সত্য জয়ী হয়েছে-,

সংগ্রাম জয়ী হয়েছে, সুন্দর জয়ী হয়েছে।

আজ আমার খুব আনন্দের দিন।’( মুজিবমঙ্গল, ২০১২, পৃ ৬১-৬২ )

কবি আসাদ মান্নানের কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাল্যকালের অভিজ্ঞতাকে বর্তমানের বোধিতে ধরা, বৃহত্তর পরিসরে জাতির পিতার চিরন্তন ভাবমূর্তিকে প্রকাশ করা সত্যিই অভিনব। কখনোবা আবেগের সঙ্গে যুক্তির বিন্যাসে ও লেখনী নিঃসৃত চিত্রকল্পসজ্জায় উপলব্ধিময় আখ্যানের রূপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবির চিন্তা পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রযত্নে। ভাষার নানা নির্দেশ ও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসার উপস্থাপনা এবং বাংলা কবিতার ঐতিহ্য সংলগ্নতায় আসাদ মান্নান অনন্য। ১০ জানুয়ারি নিয়ে লেখা ‘পিতা তুমি ফিরে এলে’ কবিতার একটি অংশ-

‘নতুন আশার টানে ছুটে যায় আলো জ্বালতে গঞ্জের বাজারে-

কামার কুমার কুলি জেলে তাঁতী এক পায়ে নেমেছে রাস্তায়:

ভয়াবহ অই দীর্ঘ রক্তপথ পার হয়ে আলোর নাবিক

তুমি পিতা ফিরে এলে বীর বেশে বিজয়ী যোদ্ধার মতো-

স্বপ্নের জাহাজে চড়ে তীরে এসে দাঁড়িয়েছ মুক্তির হাওয়ায়;

মাঠে মাঠে সোনা ফলে, কৃষকের হাসি জমে ধানের গোলায়:

তোমার আভার কাছে পরাজিত সূর্যটাকে মেঘের আড়ালে

ঢেকে রাখে দুঃখিনী মুজিব বাংলা- বাঙালির স্বাধীন ভূখণ্ড।’

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রচনায়, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিতায় কিংবা অজস্র প্রবন্ধ-নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা পরিপূর্ণ মুক্তির দিশা হিসেবে এবং স্বাধীনতা অর্জনের সার্থকতায় শোভিত হয়েছে।

বস্তুত ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা এদেশবাসীর কাছে ছিল বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম আলোড়িত ঘটনা। এজন্য কবিদের অনুভূতি ও মননে সেই সন্দ্বীপন ইতিহাস ও কল্পনায় রঙিন হবে এটাই স্বাভাবিক। কবিতার চরণে সেই দিনটির আনন্দ, উচ্ছ্বাস ফিরে আসার তাৎপর্যে অনন্য হয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

লেখক: ড. মিল্টন বিশ্বাস, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The goal of BNP is to serve the people not power
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাই বিএনপির লক্ষ্য

ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাই বিএনপির লক্ষ্য কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জনগণকে প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যেই বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাকে যারা বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে?

দেশের চলমান উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন বিএনপি চেষ্টা করছে দেশ গঠনের। কিন্তু চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল। কিন্তু ভোটে জনগণ বিএনপিকে যে সমর্থন দিয়েছে, ততক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কারণ দেশই বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে সরকার।

বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেওয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে এই বাজেট তারা মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব— এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

এ সময় তিনি জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেছেন, ‘কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।’

বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে খাল পুনঃখননকাজের তিনি উদ্বোধন করেন।

পুনঃখনন উপলক্ষে খালের পাড়ে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পাতলী গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে খালপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। এ সময় তারা স্লোগান ধরেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।’

খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক পাতলী খাল আট কিলোমিটার দীর্ঘ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট খালের পাড়ে একটি খেজুরগাছও রোপণ করেন। এটি আজ ৪৮ বছর পরও কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে।

এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন : পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি অন্য অতিথিদের সঙ্গে ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

এর আগে, সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়কপথে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক বছরে প্রতি উপজেলায় পৌঁছবে ১০ হাজার কৃষিকার্ড : প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় আট থেকে ১০ হাজার কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এবার বাড়েনি। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স কমানো ও মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানোর পরও সেই বাজেটও বিরোধীদলের ভালো লাগে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য এবং সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। একই সাথে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার সুবিধা দেওয়া হবে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত ডুলাহাজারায় গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে তিনি পৌঁছান।

এর আগে পার্কের ‘বাংলো ঈগল’-এ যান ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মন্তব্য লিখে রাখেন। পরে পার্ক পরিদর্শনের সূচনায় প্রবেশদ্বারের পাশে নিজ হাতে একটি নাগলিঙ্গমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর ব্যক্তিগত গাড়িতে পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনকালে বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তী, অজগর, ভালুক, হরিণ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির বেষ্টনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Brazil supporter dies in motorcycle accident in Bhola 1 injured

ভোলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু, আহত ১

ভোলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু, আহত ১ ছবি: সংগৃহীত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল (২৬) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সবুজ (২৪) নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৌলতখান রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত ইসমাইল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা মো. মাকসুদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছেলে। আহত সবুজের বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশেই।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বোরহানউদ্দিন পৌর ভবনের সামনে থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের পূর্বনির্ধারিত মোটর শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি দৌলতখান রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর সমর্থকেরা সড়কের পাশে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে অথবা ব্যক্তিগত কাজে নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসছিলেন।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও চিত্রগ্রাহক মো. শাকিল বলেন, “ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রার ড্রোন ফুটেজ ধারণের উদ্দেশ্যে আমি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কুঞ্জেরহাট দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি জিক্সার মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কংক্রিটের ব্লকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।”

‎আহত সবুজের চাচী লাইজু বেগম বলেন, “দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সবুজকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।” পরে সবুজকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।

‎ব্রাজিল সমর্থকদের কয়েকজন জানান, শোভাযাত্রাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তারা ইসমাইলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাফসানা বলেন, “হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gaibandhars Alai river under increasing threat of encroachment and pollution

দখল-দূষণ বাড়ায় হুমকিতে গাইবান্ধার আলাই নদী

দখলমুক্ত করে খননের দাবি এলাকাবাসীর
দখল-দূষণ বাড়ায় হুমকিতে গাইবান্ধার আলাই নদী ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা জেলার সদর, সাঘাটা ও ফলুছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আলাই নদী। একসময় এ অঞ্চলের প্রাণরেখা ও বাণিজ্যপথের একটি মাধ্যম ছিল নদীটি। কিন্তু দখল, ভরাট ও দূষণে অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে আলাই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দখল-দূষণ বাড়ায় মারাত্মক হুমকিতে নাব্যতা হারিয়ে এখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা আলাই নদীর।

জেলার শহরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া হয়ে পুলবন্দি ও লোহাচোরা ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করে ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে আলাই নদী। প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া এলাকায় নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত। এরপর প্রায় ২২ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে আলাই নদী ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে নদীর প্রবাহ প্রশস্ত ও পানি চলাচল বাড়াতে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও তা কার্যত শুধু যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করায় স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এছাড়া সেতুর দুই পাশে বাজারকেন্দ্রিক দোকানপাট গড়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। নদীর কোথাও কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কিছুটা গভীরতা দেখা যায়। নদী ও আশপাশের এলাকায় স্থানে স্থানে আগাছা ও কচুরিপানা জন্মেছে। সেতুর পশ্চিম পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, চাতাল ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে মুরগি ও গরুর রক্ত, উচ্ছিষ্ট নাড়িভুঁড়ি, হাড়, বাজারের পলিথিনসহ নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা সেতুর ওপর দিয়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া সেতুর দুই পাশে পলিথিন, ডিমের খোসা, পচা মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় এই নদীর পাশে বড় বাজার ছিল। সে সময়ে নৌকা করে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করত। নদীতে সারা বছর পানি থাকতো। সেই পানি দিয়ে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতো। কিন্তু ধরে ধীরে নদীটি দখল-দূষণের বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরের অনেকেই ক্ষমতার শক্তি দেখিয়ে অনেক জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর দোকানপাট স্থাপনা তৈরি করছেন। আলাই নদী একবারও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংস্কার ও খনন করা হয়নি। বছরের পর বছর দখল আর ময়লা আবজর্নার স্তূপে নদীটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষায় উজান থেকে ঢল নামলে নদীটি পানি ধারণ করতে পারে না। এতে ডুবে যায় আশপাশ এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা খালিক হাসান বলেন, নদীর জায়গা দখল করতে করতে নালায় পরিণত হয়েছে। এসব দখল উচ্ছেদ করে নদী খননের জোর দাবি জানাই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ইসলাম শুভ বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এ নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই আলাই নদী এখন আর নেই।

বাদিয়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী মো. গোলাম রহমান সুমন বলেন, ছোট সময়ে নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন বড় নৌকা চলতো। এখন নদী ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়। নদীটির জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানান।

বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সদস্য নুর আলম বলেন, নাব্য সংকটে আলাই নদীতে পানি নেই। নদীটি খনন করে নাব্য ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, নদীশাসন না হলে একসময় হয়তো নদীটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তাই অস্তিত্ব রক্ষায় এটি খনন ও সংস্কার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলাই শুধু একটি নদী নয়, এটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর উৎস। ফলে আলাই নদীটি মারা গেলে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

গাইবান্ধা সদর ইউএনও মো. লোকমান হোসেন বলেন, মাত্র দুই মাস আগে এখানে জয়েন করছি। খোঁজখবর নিয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আলাই নদী দখল করে বাসা- বাড়ি দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। দখল তো সহজেই উচ্ছেদ করা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নানান জটিলতায় দখল বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে খননব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নদী রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
61 arrested in operation in Tejgaon area

তেজগাঁও এলাকায় অভিযানে গ্রেপ্তার ৬১

তেজগাঁও এলাকায় অভিযানে গ্রেপ্তার ৬১ ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তেজগাঁও থানা থেকে ৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ৫ জন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে ৩৩ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে ৫ জন, আদাবর থানা থেকে ৯ জন এবং হাতিরঝিল থানা থেকে ৪ জন রয়েছেন।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maternal workload impairs child nutrition study

মায়ের অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর পুষ্টি: বাকৃবি গবেষণা

মায়ের অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর পুষ্টি: বাকৃবি গবেষণা ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ বাংলাদেশের মায়েদের অতিরিক্ত গৃহস্থালি ও শ্রমঘন কাজের চাপ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত যত্ন নিলেও গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ ও অন্যান্য অবৈতনিক শ্রমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে সেই যত্নের ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শিশুদের পুষ্টিগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী উইমেনস স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম (ডব্লিউএসআইএফ) এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। গবেষণাটিতে গ্রামীণ বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার ওপর মায়েদের সময় ব্যবস্থাপনা, যত্ন এবং কাজের চাপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) পরিচালিত বাংলাদেশ সমন্বিত পরিবার জরিপ (বিআইএইচএস)। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৫০০ গ্রামীণ পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৪৭ শিশুর পুষ্টিগত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। শিশুদের পুষ্টির মান নির্ধারণে বয়স অনুযায়ী উচ্চতা এবং বয়স অনুযায়ী ওজনের সূচক ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মায়ের যত্ন এবং কর্মঘণ্টার পারস্পরিক সম্পর্ক শিশুদের পুষ্টির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা নির্ণয় করা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু পুষ্টি বিষয়ে পরিচালিত অধিকাংশ গবেষণায় আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অবস্থানের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও মায়েদের সময় ব্যবহারের প্রভাব তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত ছিল। নতুন এই গবেষণা সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন গবেষক ড. মাহবুব।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাতৃস্নেহ, পরিচর্যা ও যত্ন শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মায়েরা যখন গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ কিংবা অন্যান্য শ্রমঘন কর্মকাণ্ডে অধিক সময় ব্যয় করেন, তখন সেই যত্নের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে শিশুর পুষ্টিতে যত্নের ইতিবাচক প্রভাব প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। অর্থাৎ একই মাত্রার শিশুযত্ন ভিন্ন ভিন্ন কর্মঘণ্টার কারণে ভিন্ন ফলাফল তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে নারীদের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে শিশু পরিচর্যা সহায়তা বা দিবাযত্ন কেন্দ্রের সুবিধা সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে অনেক মা একই সঙ্গে গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ এবং শিশুর যত্নের দ্বৈত চাপ বহন করছেন।

সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, শুধু পুষ্টি কর্মসূচি বা সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করলেই শিশু পুষ্টির সমস্যার সমাধান হবে না। মায়েদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নারীদের শ্রমের ভার লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মায়েদের সময় বাঁচাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিশু যত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মায়েদের সময় ও শ্রমের বিষয়টিকে তাই নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে স্থান না দিলে শিশু পুষ্টি উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Multi storied in Aftabnagar of the capital 1 killed by falling from building

রাজধানীর আফতাবনগরে বহুতল ভবন থেকে পড়ে, নিহত ১

রাজধানীর আফতাবনগরে বহুতল 
ভবন থেকে পড়ে, নিহত ১ ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। স্বজনদের দাবি, মানসিক সমস্যার কারণে তিনি আট তলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নারীর নাম মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)। শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

মনিকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা সরকারপাড়ার মহির উদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী লিটন মিয়া আফতাবনগরের ই ব্লকের দুই নম্বর সেক্টরের এক নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির কেয়ারটেকার এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিচতলায় বসবাস করতেন।

নিহতের বোন মমিনা জানান, মনিকা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আগের দিন তার স্বামী জমিসংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সুযোগে তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, শুক্রবার বিকেলে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন মনিকা আক্তার। পরে খবর পেয়ে ৩১ নম্বর ভবনটির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এসআই ফাতেমা আরও বলেন, পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারি, মনিকা মানসিক হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
82 thousand 500 cases in the court are slowing down the work of the Ministry Minister of Education

আদালতে ৮২ হাজার ৫শ’ মামলা, গতি কমছে মন্ত্রণালয়ের কাজের: শিক্ষামন্ত্রী

আদালতে ৮২ হাজার ৫শ’ মামলা, গতি কমছে মন্ত্রণালয়ের কাজের: শিক্ষামন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা মন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেছেন, বর্তমানে আদালতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রায় ৮২ হাজার ৫শ’ মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলা জটিলতার কারণে সুষ্ঠুভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না। এসব মামলার কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতের সাথে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এ পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এ ব্যাপারে শিক্ষক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। দ্রুত এর সমস্যা সমাধান করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার লক্ষ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুলের জুতা বিনামূল্যে দেয়া হবে। জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে। আমরা চাই শিশুদের আনন্দময় শিক্ষা। শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয়, শিক্ষা মানে জিপিএ পাঁচ পাওয়া নয়। সবাইকে আনন্দের সাথে প্রকৃত শিক্ষা অর্জণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ এবি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে ও পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ড. নুসরাত ফাতেমা'র ব্যবস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বাবু অমল পোদ্দার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম প্রমূখ।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বাজেট অনেক বেশি বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকার ৭৮ কোটি টাকার উপরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখেনি সেখানে তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছেন এক লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

মন্তব্য

p
উপরে