আজ টুকুনের স্কুল ছুটি।
সকালে নাস্তা সেরেই সে বসল লাল ঝুড়িটা নিয়ে।
ঝুড়ি ভর্তি টিস্যুপেপার রোল।
টিস্যু শেষ হয়ে গেলে শূন্য রোলগুলো জমিয়ে রাখে টুকুন।
কত কী বানায় সেগুলো দিয়ে- গাছ, প্রজাপতি, পাখি, জিরাফ আরও কত কী।
মনের মতো রং করে তারপর সাজিয়ে রাখে নিজের ঘরে।
মাঝে মাঝে বন্ধুদেরও উপহার দেয়।
আজ সে বসেছে সিংহ আর সিংহী বানাতে।
প্রথমে ঝুড়ি থেকে দুটো টিস্যুরোল নিল।
তারপর রোলের গায়ে হলদে আর সোনালি রং লাগাল।
সিংহের কেশর বানাতে জিগজ্যাগ করে কেটে নিল লাল কাগজ।
এরপর সাদা মোটা কাগজ দিয়ে বানিয়ে নিল সিংহ আর সিংহীর মুখ।
মার্কার পেন দিয়ে চোখ মুখ এঁকে তারপর রং করা টিস্যুরোলের ওপর বসিয়ে নিল।
ওমা! কী দারুণ হয়েছে সিংহ আর সিংহী!
কিন্তু কী যেন নেই- হ্যাঁ লেজ লাগিয়ে দিলেই হবে এবার।
হলদে রঙা কাগজ কেটে লেজ বানিয়ে নিল টুকুন।
এরপর জুড়ে দিল।
এবার রোদে একটু শুকিয়ে নিলেই হলো।
একটা কার্ডবোর্ডের ওপর সদ্যবানানো সিংহ আর সিংহীকে বসিয়ে টুকুন গেল বাগানে।
ঘাসের ওপর রোদে শুকোতে দিয়ে ঘরে ফিরে এল।
কিছুক্ষণ বাদেই রং শুকিয়ে সুন্দরভাবে টিস্যুরোলের গায়ে এঁটে গেল।
মৃদু বাতাসে নড়ে উঠল সিংহের লাল কেশর।
চোখ পিটপিট করে সিংহী তাকাল সিংহের দিকে।
সিংহও মুচকি হাসল।
তারা আবেগে আপ্লুত।
এই জন্মে সিংহ আর সিংহী হবে ভাবতেও পারেনি কাগজের টিস্যুরোল দুটি।
এমন সকালে বাগানে রোদ পোহাবে তাও কি তারা ভেবেছিল?
কাগজের সিংহ ভ্রু নাচিয়ে বলল- আমি কি তবে বনের রাজা?
সিংহী হেসে বলল- বন পাবে কোথায়? বাগানে বসে রোদ পোহাচ্ছো, এই তো ঢের!
সিংহ এবার বলে- চলো তবে একটু বেরিয়ে আসি।
সিংহী বলে- যাওয়া যায় বুঝি?
সিংহ এক পা সামনে বাড়িয়ে বলল- দেখ চাইলে হাঁটতেও পারবে।
সিংহীর চোখ জ্বলে ওঠা লাইটারের মতো ঝপাৎ করে উঠল।
সঙ্গে সঙ্গে দুটো লাফ দিল সে। আনন্দে বলল- চলো না যাই, ঘুরে আসি। টুকুন ফেরার আগেই আমরা ফিরে আসব।
সিংহ কেশর দুলিয়ে বলল- নিশ্চয়ই, চলো রানী।
তারা হাঁটতে হাঁটতে নদীর পাড়ে চলে গেল।
দেখল পাল তোলা নৌকা।
নদীর তীরে কাশফুল সাদা হয়ে রয়েছে, মৃদু হাওয়ায় দুলছে মেঘের মতোন ফুলগুলো।
রাজা রানী ভুলেই গেল যে তারা কাগজের তৈরি।
দুজনেই পা ভেজাল জলে।
গান গাইল- কী আনন্দ আকাশে বাতাসে।
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি মহল সেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে সেতুর আশেপাশের মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর নিচে ও পাশে থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই মাটি নিয়ে যাচ্ছে তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আলীগঞ্জে অবস্থিত পদ্মা রেলসেতুটির পিলারের নিচে ও একপাশের মাটি কেটে নেওয়া চিহ্ন দেখা গেছে। সেতুটির ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বিশাল বড় গর্ত তৈরি হয়ে পানি জমেছে। তবে আপাদত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর অনুসারীরা সেতুর পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর বলেন, আমি সেখান থেকে মাটি কেটে নেইনি। এটা ফতুল্লার কিছু লোকজন করছে। তবে আমার জানা মতে, মাটি কাটার অনুমতি আছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুর নিচের মাটি কাটার জন্য চায়নার এক কোম্পানি টেন্ডার দিলে ঢাকার এক ব্যক্তি টেন্ডার পেয়েছিল। পরে তার সাথে মিলে কাজ শুরু করলে এলাকার লোকজন অনেক আগে বাধা দিয়েছিল। তখন আর মাটি কাটিনি। এটা প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা। এখন নতুন করে ফের ফতুল্লার সাগর সিদ্দির ও তার লোকজন মাটি কাটছে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের টিম সেখানে গিয়ে কথা বলেছে। পরে ওরা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করেছে। রেলওয়ের লোকজন, মাটি কাটার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এই তিনটা প্রতিষ্ঠান ডিসি স্যারের সাথে দেখা করেছে। এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন।
মাটি কাটার কাজ চলছে কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এছাড়া অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিষয়েও আমার জানা নেই।
ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে এ কাজ করেছে, এ বিষয়ে ওনারা জানে। প্রথম দিকে আমরা গিয়ে সেখানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। পরে তারা এটা নিয়ে ডিসি স্যারের সাথে মিটিং করেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এমন কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রজেক্টের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
পদ্মা রেলিং প্রজেক্টের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল করিম বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হয়েছে। পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্থানে কাটা হচ্ছে, যা আগে জলাশয় ছিল। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (CREC) কন্ট্রাক্টার মাটি ও বালু দ্বারা ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ কাজ শেষ করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই অঞ্চলে পূবের মতো জলাশয় খনন করা হচ্ছিল। এটা এই প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকা। এক কথায়, কাজের সুবিধার জন্য এখানে মাটি ভরাট করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেটে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে সম্প্রতি মাটি কাটার ঘটনাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা মোটেও ঠিক নয়। কিছু স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের লাভের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে জলাশয় থাকবে সেই অনুসারে ডিজাইন করা হইয়াছে এবং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যেহেতু ভূমির গভীরতা বিবেচনায় স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুসারে পাইল, পাইল ক্যাপ এর ভিত্তির উপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে যা পিলারের কোন প্রকার ক্ষতি করবে না।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার কধুরখীল কৈবর্ত্যপাড়ার বাসিন্দা সোনালী দাসের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্টে থাকার পর সরকারি সহায়তার আওতায় এসেছেন তারা।
বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সোনালী দাসের স্বামী নির্মল চন্দ্র দাসকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক বছরের সরকারি ভাতা বাবদ ১০ হাজার ৮০০ টাকা হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পিপুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘সোনালী দাসের পরিবারের অসহায় অবস্থার খবর জানার পর তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা হয়। পরে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহায়তায় নির্মল চন্দ্র দাসকে বিশেষ সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ডের আওতায় এনে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কার্ড ও ভাতার অর্থ গ্রহণের পর সোনালী দাস বলেন, ‘অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।’
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবারটির পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
"কারিগরি শিক্ষা দিলে দেশ-বিদেশ কর্ম মেলে " এ প্রতিপাদ্য নিয়ে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ ও ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
এ কর্মশালায় মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাঃ সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা, মাগুরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ মনির হোসেন , মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মৃধা ।
প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বনবাসী বর্মন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার ASSET প্রকল্পের সংযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম।
ওয়ার্কশপে জানানো হয়, কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার্থীদের আরো দক্ষ,কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীল করতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শুধু সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় বাংলাদেশের বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো দক্ষ করতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করছে সরকার।
আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষার্থীরায় হবে দেশের উন্নয়নের চাবিকাটি। দিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণে জেলার সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বে সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১২০ প্রধান, সুধীজন ও সাংবাদিক অংশ নয়।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২শে জামাতের সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতের নেতাকর্মীদের দ্বারা মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নড়াইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নড়াইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বুধবার (২৪ জুন) বুধবার শহরের আদালত সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন।যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য বড় হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের
ন্যক্কারজনক হামলা ও হয়রানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
নড়াইল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন।তাদের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত।
অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এস এম আব্দুল হক, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রশিদ লাবলু, সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুল আরেফিন রানা, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী
হাফিজুর রহমান,আল আমিনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অনেকে বক্তব্য দেন। জেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ,বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি,মানবাধিকারকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশে ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১০ টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ফটকের পাশে সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন। পরে খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করে জনবহুল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রবেশপথে এ ধরনের বস্তু পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুটিতে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকায় তাদের ধারণা, এটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নাশকতামূলক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বস্তুটির প্রকৃতি ও এর সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র একদিনের ব্যবধানে মো. নুরুল আলম (৩৮) নামের এক যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি মারা যান। মৃত নুরুল আলম সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। থানা থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালতের আদেশে ওইদিনই তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে জমির দখল নিয়ে প্রতিবেশী আরিফদের সঙ্গে নুরুল আলমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রভাব খাটিয়ে ডিবি পুলিশকে দিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর প্রতিপক্ষের লোকজনের আনন্দ-উল্লাস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের ঘটনাটি পরিবারের এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, “চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। থানায় আনার আড়াই ঘণ্টার মাথায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা তাকে আদালতে পাঠাই। আমাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও ধারণা করেন, গ্রেপ্তারের পর নুরুল আলম হয়তো মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন, যা থেকে তাঁর স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে কারাগারে নিয়ে আসার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। পরবর্তীতে বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। একজন রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারের স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক মমতাজকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও করা হতে পারে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে চলমান ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন মো. মুক্তার হোসেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তারের বুকে ও শরীরে আঘাত হানে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় মুক্তার হোসেন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগমকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর আদালতের আদেশে চার দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জনপ্রিয় এই লোকসংগীত শিল্পী ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
মন্তব্য