টুনটুনি আর টুনটুনা, টুনটুনা আর টুনটুনি।
এ ডাল হইতে ও ডালে যায় ও ডাল হইতে সে ডালে যায়,
সে ডাল হইতে আগডালে যায়, আগডাল হইতে লাগডালে যায়,
বেগুন গাছে যায়, লঙ্কা গাছে যায়, আম গাছে যায়, জাম গাছে যায়।
বল ত খোকাখুকুরা, আর কোন কোন গাছে যায়?
যে আগে বলিতে পারিবে তারই জিত।
কাঁঠাল গাছে, পেয়ারা গাছে, লিচু গাছে- আরও কত গাছে যায়।
শুধু কি ফলের গাছে, ফুলের গাছে যায় না?
কি কি ফুলের গাছে যায়?
আগে বলা চাই।
বুঝিয়াছি গোলাপ গাছে, টগর গাছে, হাসনাহেনার গাছে, কয়টা গাছের নাম করিব?
সব গাছে যায়।
সারাদিন কেবল ফুরুৎ ফুরুৎ।
এ গাছ ও গাছ করিয়া টুনটুনিদের জীবন কাটে।
একদিন টুনটুনা টুনটুুন করিয়া টুনটুনিকে বলে,
'দেখ্ টুনটুনি!
আমাদের যদি টাকা-পয়সা থাকিত তবে কি মজাই না হইত।
তোকে ভালমতো একখানা শাড়িও কিনিয়া দিতে পারি না।
আমি একখানা ভাল জামা-কাপড়ও পরিতে পারি না।
দেশে বড় লোকেরা কত রং-বেরঙের জামা-কাপড় পরে,
কেমন বুক ফুলাইয়া চলে।'
টুনটুনি বেশ গুমর করিয়া বলে,
'দেখ টুনটুনা!
শুনিয়াছি বনের মধ্যে নাকি সোনার মোহরভরা ঘড়া থাকে।
আমি যদি তার একটা কুড়াইয়া পাই, তবে বেশ মজা হয়।'
টুনটুনা বলে, 'সত্য কথাই বলিয়াছিস।
দেখ্ টুনটুনি!
বনের মধ্যে খুঁজিয়া পাতিয়া যেমন করিয়া হোক, একটা মোহরভরা কলস আমি বাহির করিবই।'
টুনটুনি বলে, 'তা তুমি বনের মধ্যে খুঁজিয়া খুঁজিয়া দেখ,
কোথায় মোহরভরা কলসি আছে;
আমি এদিকে বাসা আগলাই।'
টুনটুনা এ বনে খোঁজে, সে বনে খোঁজে।
বেতের ঝোপের আড়াল দিয়া,
শিমুল গাছের গোড়া দিয়া, হিজল গাছের তলা দিয়া,
কোথাও মোহরভরা কলসি পায় না।
খুঁজিতে খুঁজিতে খুঁজিতে গহন বনের ভিতর টুনটুনা এক কড়ার একটা কড়ি তালাশ করিয়া পাইল।
তাই ঠোঁটে করিয়া রোদে ঘামিতে ঘামিতে, বোঝার ভারে হাঁপাইতে হাঁপাইতে টুনটুনা ঘরে ফিরিয়া আসিল।
'টুনটুনি!
শিগগির আয়, শিগগির আয়!
দেখিয়া যা কি আনিয়াছি!'
এ বলিয়া ঠোঁট হইতে কড়িটি নামাইয়া টুনটুনা জোরে জোরে নিশ্বাস লইতে লাগিল।
টুনটুনি ব্যস্ত-সমস্ত হইয়া জিজ্ঞাসা করে,
'বল না টুনটুনা!
কি হইয়াছে?'
টুনটুনা বলে, 'আগে আমাকে বাতাস কর, যা মেহনত করিয়া আসিয়াছি!'
টুনটুনি ব্যস্ত ত্রস্ত হইয়া দুইখানা পাখা নাড়িয়া নাড়িয়া টুনটুনাকে বাতাস করে।
কিন্তু কি যে একটা হইয়াছে জানিবার জন্য টুনটুনির মন কেবল উসখুস করিতে থাকে।
অনেকক্ষণ বাতাস করিয়া টুনটুনি বলে,
'বল না টুনটুনা! কি হইয়াছে?'
টুনটুনা বলে, 'আগে আমার হাত-পা ভাল করিয়া টিপিয়া দে, যা হয়রান হইয়া আসিয়াছি!'
টুনটুনি টুনটুনার পা টিপিয়া দেয়, পাখার পালকগুলিতে ঠোঁট গুঁজিয়া আদর করিয়া দেয়।
চুপটি করিয়া টুনটুনা যেন ঘুমাইয়া পড়ে।
কি যে একটা হইয়াছে শুনিবার জন্য টুনটুনির আর সয় না।
অনেক্ষণ পরে টুনটুনি টুনটুনাকে বলে,
'এবার বল না টুনটুনা কি হইয়াছে?'
টুনটুনা বলে, 'এমন একটা কিছু হইয়াছে যা কখনও হয় নাই।'
'কি হইয়াছে বল না টুনটুনা!'
টুনটুনির ধৈর্য আর মানিতে চাহে না।
টুনটুনা আরও খানিক দম লইয়া বলে,
'আমরা বড়লোক হইয়া গিয়াছি।'
'বড়লোক কেমন রে টুনটুনা!
বড়লোক হইলে কি হয়?'
টুনটুনি ঠোঁট উঁচাইয়া টুনটুনাকে জিজ্ঞাসা করে।
'তাই বুঝিতে পারিলি না?
এখন হইতে আমরা আর গাছের ডালে ডালে ফুলের খোঁজে ঘুরিব না, আকাশে উড়িয়া পোকা মাকড় ধরিব না, বেগুনগাছের কাঁটা খাইয়া ফুলের খোঁজেও বাহির হইব না।'
টুনটুনি চিৎকার করিয়া মরাকান্না কাঁদিয়া উঠে,
'ও মাগো, তবে আমাদের কি হইবে গো!
আমরা কি তবে খোঁড়া হইয়া যাইব নাকি গো?'
টুনটুনা বলে, 'দূর বোকা কোথাকার!
এখন আমরা বড়লোক হইয়াছি।
এখনও কি গাছের ডালে ডালে পরিশ্রম করিয়া বেগুন ফুলের খোঁজে যাইব?'
'তবে আমরা কি খাইব গো?'
টুনটুনি ডুকরাইয়া কাঁদিয়া ওঠে।
'আরে পোড়ারমুখী!
আর কি আমাদের খাওয়ার ভাবনা করিতে হইবে?'
টুনটুনা বলে।
টুনটুনি আরও একটু কাছে আসিয়া জিজ্ঞাসা করে, 'তবে কেমন করিয়া খাইব?'
টুনটুনা এক কড়ার কড়িটি দেখাইয়া বলিল,
'এইটি দিয়া যা যা দরকার হয়, সব কিনিব।'
টুনটুনি বলে, 'সন্দেশ, রসগোল্লা, পানতোয়া, মিহিদানা সব কিনিতে পারিব? যা কিছু কিনিতে পারিব?
চকোলেট, লজেন্স, বিস্কুট?'
টুনটুনি লেজ নাচাইয়া জিজ্ঞাসা করে।
টুনটুনা উত্তর করে, 'হাঁ-হাঁ সবকিছু।'
টুনটুনি বলে, 'আমার গয়না, হাতের বালা, গলার মালা, কানের মাকড়ি?'
'সবকিছু এই এক কড়ার কড়ি দিয়া কিনিব, সাইকেল কিনিব, মোটরগাড়ি কিনিব, উড়োজাহাজ কিনিব।'
টুনটুনা বলে।
দুইজনে বসিয়া ভাবিয়া ঠিক করে, আর কি কি জিনিস তাহারা কিনিবে।
কি কি বই কিনিবে, হাওয়া বদল করিতে কোন কোন দেশে যাইবে।
বল ত সোনামণিরা!
তাহারা কি কি কিনিবে, কোন কোন দেশে যাইবে?
যে আগে বলিবে তারই জিত।
এক কড়ার কড়িটি বাসার মাঝখানে রাখিয়া টুনটুনি আর টুনটুনা তার চারদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর গান করে-
'রাজার আছে যত টাকা,
মোদের আছে তত টাকা।'
তারা নায় না, খায় না, বেড়ায় না, শোয় না, ঘুমায় না, মনের আনন্দে সেই এক কড়ার কড়ির চারিদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর সেই গান গায়-
'রাজার আছ যত টাকা,
মোদের আছে তত টাকা।'
একদিন হইয়াছে কি?
সেই দেশের রাজা শিকারে চলিয়াছেন।
আগে পিছে মন্ত্রী-কোতোয়াল, লোক-লশকর, পেয়াদা-পাইক কেবল গমগম করিতেছে।
যাইতে যাইতে যাইতে তাহারা সেই টুনটুনি আর টুনটুনার বাসার কাছে আসিয়া উপস্থিত।
তখন রাজা শুনিতে পাইলেন, টুনটুনি আর টুনটুনা গান গাহিতেছে-
'রাজার আছে যত টাকা,
মোদের আছে তত টাকা।'
কি, এত বড় বুকের পাটা!
ছোট্ট এতটুকুন টুনটুনি, এক রত্তি টুনটুনা তারা গান গায়-
'রাজার আছে যত টাকা,
মোদের আছে তত টাকা।'
এতবড় রাজদ্রোহীদের সাজা হওয়া উচিত।
কোনদিন তারা রাজার রাজ্য আক্রমণ করিয়া বসে তার ঠিক কি!
তখন রাজা হুকুম করিলেন টিকটিকি পুলিশকে, 'দেখ ত কি আছে উহাদের বাসার মধ্যে।'
টিকটিকি পুলিশ টিক্টিক করিয়া রাজ্যের যত খবর আনিয়া রাজাকে শোনায়। রাজার হুকুম পাইতে না পাইতেই টিকটিকি পুলিশ টুনটুনির বাসায় যাইয়া দেখিয়া-শুনিয়া
সরেজমিনে তল্লাশি করিয়া রাজার কাছে আসিয়া নিবেদন করিল, 'মহারাজ!
টুনটুনি পাখির বাসায় এক কড়ার একটা কড়ি আছে।'
'কি, এক কড়ার একটা কড়ির জন্য টুনটুনির এত স্পর্ধা!
ওর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত কর।
ঘর-দোর যা কিছু আছে ভাঙিয়া ফেল।'
গোস্বায় রাজা কলাপাতার মতন কাঁপিতে লাগিলেন।
রাজার মুখ হইতে কথা বাহির হইতে না হইতে শহর-কোতোয়াল সৈন্যসামন্ত, দারোগা-পুলিশ লইয়া টুনটুনির বাসা ঘিরিয়া ফেলিল।
তারপর এক কড়ার কড়ি আনিয়া রাজকোষে জমা দিল, রাজার হাতি গিয়া টুনটুনি পাখির বাসা ভাঙিয়া পায়ের তলে পিষিয়া ফেলিল।
টুনটুনি পাখির গান তবু থামে না।
তারা এ ডাল হইতে ও ডালে, ও ডাল হইতে এ ডালে আসে, রাজার মাথার উপর দিয়া ফুরুৎ ফুরুৎ করিয়া উড়িয়া বেড়ায়, আর গান গায়-
'রাজার আছে যত টাকা,
মোদের আছে তত টাকা।'
কি, এত বড় রাজদ্রোহী এক টুনটুনি পাখি!
স্পর্ধা ত কম না!
রাজাকে অপমান!
রাজা এবার রাগে জ্বলিয়া উঠিলেন।
'কে আছ, এখনই এই টুনটুনি পাখিকে বন্দী কর।'
রাজার হুকুম পাইয়া শহর-কোতোয়াল হুঙ্কার দিয়া উঠিলেন।
সোয়ালক্ষ দারোগা, জমাদার কনস্টেবল, মার মার করিয়া উঠিলেন- সোয়ালক্ষ সিপাই সোয়ালক্ষ বন্দুক গুডুম করিয়া আওয়াজ করিলেন। সোয়ালক্ষ কামান কাঁধে করিয়া
সোয়ালক্ষ গদাইলশকর হন হন করিয়া ছুটিল।
কিন্তু কামানের গুড়ূম আর টুনটুনি পাখির ফুরুৎ ফুরুৎ বন্দুকের ফুটুৎ ফুটুৎ আর টুনটুনি পাখির সুরুৎ সুরুৎ কিছুতেই থামে না।
এদিক হইতে যদি কামান গর্জায়, টুনটুনি পাখি ওদিকে চালিয়া যায়।
ওদিক হইতে যদি বন্দুক ফটকায় টুনটুনি পাখি এদিকে চলিয়া আসে।
এতটুকুন দু'টি পাখি!
গায়ে বন্দুকের গুলিও লাগে না, কামানের গোলা বারুদও আঘাত করে না। সোয়ালক্ষ দারোগা জমাদার রোদে ঘামিয়া উঠিলেন। সোয়ালক্ষ গদাইলশকর দৌড়াইতে
দৌড়াইতে হাপুস হুপুস হইয়া গেলেন; কিন্তু টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিতে পারিলেন না।
রাজা তখন রাগিয়া মাগিয়া অস্থির।
প্রধান সেনাপতিকে ডাকিয়া কহিলেন, 'যদি টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিয়া আনিতে না পার, তবে তোমার গর্দান কাটিয়া ফেলিব!'
গর্দান কাটার ভয়ে প্রধান সেনাপতি বনের মধ্যে আসিয়া মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন!
বনের মধ্যে ছিল এক কাঠুরিয়া।
সে-ই প্রধান সেনাপতিকে পরামর্শ দিল, 'বলি, সেনাপতি মহাশয়।
কামান বন্দুক দিয়া টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিতে পারিবেন না।
জেলেকে ডাকিয়া বনের মধ্যে জাল ফেলিতে বলুন।
সেই জালে টুনটুনি পাখি ধরা পড়িবে।'
কাঠুরিয়ার কথা শুনিয়া প্রধান সেনাপতি জেলেকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। সোয়ালক্ষ নাতিপুতি লইয়া জেলে আসিয়া সমস্ত বন জুড়িয়া জাল পাতিল। সেই জালে টুনটুনি আর
টুনটুনা ধরা পড়িল।
টুনটুনি আর টুনটুনাকে হাতে পাইয়া রাজা ঘরে চলিলেন।
রাজার একশ এক রানী।
পিলে রানী, জ্বরো রানী, কেশো রানী, বেতো রানী, মোটা রানী, পাতলা রানী, কোঁড়া রানী, তোতলা রানী, কানা রানী, বোবা রানী, আলসে রানী, চটপটে রানী, দুষ্টু রানী,
মিষ্টি রানী, কত রানীর নাম আর করিব?
সব রানীরা আসিয়া রাজাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল।
কেহ খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে আসিল, কেহ জ্বরে কাঁপিতে কাঁপিতে আসিল, কেহ আলসি ভাঙিতে ভাঙিতে ভাসিল, কেহ চটপট করিয়া আসিল, কেহ ঘুমে ঢুলিতে ঢুলিতে
আসিল, সবাই আসিয়া রাজাকে ধরিল,
'মহারাজ আজ শিকারে যাইয়া কি আনিলেন?'
রাজা বলিলেন, 'আজ শিকারে যাইয়া টুনটুনি আর টুনটুনা পাখি ধরিয়া আনিয়াছি।'
তখন পিলে রানী পিলের ভরে কোঁকাইতে কোঁকাইতে বলিলেন, 'দেখি ত কেমন টুনটুনি পাখি?'
রাজা পিলে রানীর হাতে পাখি দুটি দিয়া রাজসভায় যাইয়া এই রাজদ্রোহী পাখি দুটির বিচারের বন্দোবস্ত করিতে মনোযোগ দিলেন।
এদিকে পিলে রানীর হাত হইতে টুনটুনি পাখি গেল জ্বরো রানীর হাতে, তার হাত হইতে গেল কেশো রানীর হাতে, তারপর এর হাতে ওর হাতে নানা হাতে ঘুরিতে ঘুরিতে
টুনটুনি পাখি যখন আলসে রানীর হাতে আসিল, অমনি টুনটুনি করিল ফুরুৎ ফুরুৎ, টুনটুনা করিল সুরুৎ সুরুৎ!
দুইজন দুইদিকে পালাইল।
রাজার একশ এক রানী ভয়ে কাঁপিতে লাগিল।
পরদিন রাজা রাজসভায় বসিয়া আছেন; কাশী, কাঞ্চি, কনোজ নানান দেশ হইতে পণ্ডিতেরা আসিয়াছেন রাজদ্রোহী টুনটুনি আর টুনটুনা পাখির বিচার করিতে।
রাজসভায় পাখিদের ডাক পড়িল।
শামুকের কৌটা হইতে নস্য নাকে পুরিয়া, বড় বড় কেতাব উল্টাইয়া পাল্টাইয়া পণ্ডিতেরা রাজদ্রোহী পাখির কি শাস্তি হইতে পারে তাই বাহির করিতে ব্যস্ত; কিন্তু টুনটুনা
আর টুনটুনি পাখি আসে না।
রাজা রাগিয়া মাগিয়া রাজসভা ছাড়িয়া রানীদের মধ্যে যাইয়া উপস্থিত। 'কোথায় সেই রাজদ্রোহী পাখি?'
তখন এ রানী চায় ও রানীর মুখের দিকে, ও রানী চায় সে রানীর মুখের দিকে।
রাজার মাথার উপর তখন টুনটুনি পাখি উড়িয়া চলিয়াছে ফুরুৎ ফুরুৎ।
রাজা সবই বুঝিতে পারিলেন।
রাগিয়া মাগিয়া রাজা তখন একশ এক রানীর নাক কাটিয়া ফেলিলেন।
টুনটুনি আর টুনটুনা তখন রাজার মাথার উপর দিয়া ফুরুৎ ফুরুৎ ওড়ে, আর গান গায়-
'আমি টুনা টুন-টুনাইলাম,
একশ রানীর নাক কাটাইলাম।'
কি, এত বড় বুকের পাটা টুনটুনি পাখির!
রাজার কুলের কথা লইয়া ছড়া কাটে!
ধর টুনটুনি পাখিকে।
জেলে আবার তার সোয়ালক্ষ নাতিপুতি লইয়া রাজবাড়িতে হাজির; পাখি দুটি জালে ধরা পড়িল।
রাজা তাহাদের হাতে পাইয়া কলাপাতার মতো কাঁপিতে লাগিলেন।
এবার আর বিচার-আচারের প্রয়োজন নাই।
এক গ্লাস পানি লইয়া রাজা পাখি দুটিকে গিলিয়া খাইয়া ফেলিলেন।
তখন রাজসভায় বড় বড় পণ্ডিত বড় বড় কেতাব দেখিয়া মাথা নাড়িলেন। তাহাদের মাথানাড়া দেখিয়া মন্ত্রী মহাশয় ভাবিত হইলেন।
পণ্ডিতেরা মন্ত্রী মহাশয়কে সাবধান করিয়া দিলেন,
'মহারাজ যদি কোনো মূহুর্তে হাসিয়া উঠেন, তবে পাখি দুটি রাজার হাসিমুখের ফাঁক দিয়া বাহির হইয়া আসিবে।'
মন্ত্রী মহাশয় সেয়ান লোক।
তিনি খাড়া তলোয়ার হাতে দুই সেপাইকে রাজার দুই পাশে দাঁড় করাইয়া দিলেন।
যদিবা রাজা মহাশয় হাসিয়া ফেলেন, আর সেই ফাঁকে টুনটুনি পাখিরা বাহির হইয়া আসিতে চায়; তখনি তারা তলোয়ার দিয়া মারিবে কোপ, রাজার দুই পাশ হইতে দুই
টুনটুনি পাখির ঘাড়ে।
খোকাখুকুরা, তোমরা কেহ হাসিও না যেন!
কেউ হাসিও না।
একি হাসিয়া দিলে যে?
তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে রাজা মহাশয়ও যে হাসিয়া উঠিলেন!
সেই হাসির ফাঁকে টুনটুনি আর টুনটুনা ফুরুৎ করিয়া উড়িয়া পালাইল।
রাজার দুই ধার হইতে দুই সেপাই তলোয়ার উঠাইয়া মারিল কোপ।
টুনটুনির গায় ত লাগিল না।
লাগিল রাজা মহাশয়ের নাকে।
নাক কাটিয়া দুইখান।
টুনটুনি আর টুনটুনা তখন রাজা মহাশয়ের মাথার উপর দিয়া উড়িয়া বেড়ায়, আর গান গায়-
'আমি- টুনটুনা টুন-টুনাইলাম
রাজা মশাইর নাক কাটাইলাম
- নাক কাটাইলাম।'
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং এই তিন মাসে তিনি যে অভূতপূর্ব কাজ করেছেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তিন বছরেও তা করতে পারত না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর শোকসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যকালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যে পরিমাণ জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে, তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই দীর্ঘ সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে জিয়া পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং জেলা-উপজেলা লেভেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছেন গোপালপুর ও ভূঞাপুরের মানুষ।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, বর্তমানে দেশ এবং দল দুই জায়গাতেই নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে দলের ভেতর বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা সবাই জিয়া পরিবারের লোক এবং দলের সবাইকে তিনি নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেন। তাই যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান গিয়াসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় পর্যায়েও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এর আগে গত বুধবার তিনি চকবাজার থানায় জিডিটি করেন, যেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরের হোটেল দ্য পেনিনসুলায় এনসিপির কমিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ১৫ তলার রুফটপ বারে যান। সেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে তাকে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রিংকস গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে সাদিয়া আফরিন সেখান থেকে চলে গেলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন এবং তাঁর সাথে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তাঁর আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তিনি এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল দ্য পেনিনসুলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করতে অলরেডি হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে, তার সব আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান সরকারের তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বিগত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই মার্কেট ভবনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভবেরচর আধুনিক ভবনের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের ২ হাজার মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ছবি: সংগৃহীত
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। আর এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন ৭ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। আধুনিক যুগে এসেও একটি মাত্র সেতুর অভাবে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা এখনো একটি সাঁকোই। প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার, কিন্তু এ সাঁকোর জায়গায় সেতু আর হয়নি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৭ গ্রামের মানুষ।
সেতুর অভাবে বছরের পর বছর এ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করেছেন তারা। বর্ষা এলেই সেই সাঁকোও পানির নিচে ডুবে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা, মাঠের ফসল আনা-নেওয়া ও বাজার-সদাই এসব কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। এতে তারা অসহায় হয়ে আছেন।
সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদীর দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের জন্য নেই কোনো পাকা সেতু। ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, জোয়ারদী, মুছারচরসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। তাই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী, রোগী সবারই একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই সাঁকো। তখন তাদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার ওপর। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এখানে সেতু না থাকায় এ সাত গ্রামের মানুষের সাথে কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না। এতে বিপাকে পড়ে মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে সাঁকোর বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙেও পড়েছে। ফলে সাঁকো দিয়ে আর চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন নৌকায় করে নদী পারাপার করছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই সাঁকো। এখন আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। কিন্তু এত দিনে একটি সেতুও হলো না। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেন, পরে আর কোনো খোঁজ থাকে না।
কুমারচর এলাকার কলেজ ছাত্র সিফাত ও মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কয়েক দিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে সাঁকো ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ক্লাসে যেতে পারি না। পরীক্ষার সময় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক সুরুজ আলী জানান, ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হয়। অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে মাল বহন করে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।
গোলনগর গ্রামে ৬০ বছরের সোলায়মান মিয়া জানান, সাদিপুর ও সনমান্দি ইউনিয়নের এ জায়গা একটি সেতু না থাকায় আমরা এখন খুবই কষ্টে আছি। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সেতু না থাকায় আমাদের গ্রামসহ সাত গ্রামের মানুষের সাথে দুরের কেউ বিয়ে সাদির সমন্ধ করতে চায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ হাত-পা ভেঙেছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। দুই ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিন যুগ ধরে যে সেতুর অপেক্ষা, সেই অপেক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে? প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়া হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি-আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের মধ্য বাগুয়ান গ্রামে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমিয়ে গ্রামের শতাধিক মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী জহুরুল ও খায়রুল নামে দুই ব্যক্তি পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করার কারণে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাতে হাঁটু পানি জমে থাকে। ছোট বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। নোংড়া, ময়লা পানি দিয়ে যাতায়াত করার কারণে বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, একবার ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসলেও কেউ জায়গা না দেওয়ায় ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জহুরুলের মা দেলোয়ারা বেগম বলেন, পানি যাওয়ার কারণে মাটি ধুয়ে যায়। এ কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে পাইপ দিলেই পানি চলে যাবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য বাঁধা থাকা স্বত্বেও রাস্তা করে দিয়েছি। তারা ড্রেন করার জায়গা দিলে বরাদ্দ সাপেক্ষে আবারও ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে জাল টাকার নোটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার আশরাফ সেতু কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে শাহিন আলম (৪৫) এবং টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান সোহেল (২৪)।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে দুই ব্যক্তি অবস্থান করার সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার ৫১টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।
আটককৃতদের মধ্যে শাহিন আলমের কাছ থেকে ৫০০ টাকার ২০টি ও ১০০০ টাকার ৮টি জাল নোট এবং সোহেলের কাছ থেকে ১০০ টাকার ২৩টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের শেষে শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক শফিক মিয়া (৩১) হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আবদুল্লাহপুর মুন্সিবাড়ির মৃত শের আলীর পুত্র হান্নান মিয়া (৪২) ও জামিরা বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের পুত্র ফরহাদ (৩৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার কালনী নদীর পাড় থেকে মুখমন্ডল থেঁতলানো অবস্থায় শফিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন (২০২৬) অষ্টগ্রাম থানায় ৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা (নং-১৩) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শফিক মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উদ্যোগ নিয়ে মোহরানা ও ভরন পোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারন করা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কালনী নদীর পাড়ে তার রহস্যজনক ও নৃশংস মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর দ্রুততম সময়ে দুই আসামি গ্রেপ্তার করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য