× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

১৯ নভেম্বর পুরুষের দিন

১৯-নভেম্বর-পুরুষের-দিন
দেশ ও পরিবারিক পাঁচ ক্ষেত্রে পুরুষের দায়িত্বের স্বীকৃতি জানানো হয় এই দিনে। ক্ষেত্রগুলো হলো জাতি, সমাজ, গোষ্ঠী, পরিবার, বৈবাহিক জীবন ও সন্তানের যত্ন।

বিশ্বে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবস উদযাপন করা হয়। ১৯ নভেম্বরের দিনটি হচ্ছে পুরুষের। অর্থাৎ ওই দিন ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’।

প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বে দিনটি পালিত হয়। পরিবার,সমাজ তথা পুরো পৃথিবীর প্রতি পুরুষের ইতিবাচক আচরণকে সম্মান জানাতে এবং পুরুষদের কল্যাণ ও জেন্ডার সমতা প্রচার করার জন্য এই দিনটি পালন করা হয়।

এই বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বেটার হেলথ ফর ম্যান অ্যান্ড বয়েস’। অর্থাৎ ‘পুরুষ ও ছেলেদের জন্য সুস্বাস্থ্য’।

রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও পিতৃতন্ত্র ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হয়। তাদেরও মানসিক সংকট দেখা দেয় এবং তারাও আত্মহত্যার মতো বিধ্বংসী পথ বেছে নেয়। তাই দেশ ও পরিবারিক পাঁচ ক্ষেত্রে পুরুষের দায়িত্বের স্বীকৃতি জানানো হয় এই দিনে। ক্ষেত্রগুলো হলো জাতি, সমাজ, গোষ্ঠী, পরিবার, বৈবাহিক জীবন ও সন্তানের যত্ন।

পুরুষ দিবসের ছয়টি লক্ষ্য রয়েছে যার মধ্যে - পুরুষদের ইতিবাচক ভূমিকা প্রচার, পুরুষের অবদান উদযাপন, তাদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিষয়ে মনোযোগ দেয়া, পুরুষ ও ছেলেদের প্রতি বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা, জেন্ডার সম্পর্কের উন্নতি ও জেন্ডার সমতা প্রচার এবং সবার জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব তৈরি করা।

ইন্টারন্যাশনাল মেন’স ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৬০ সাল থেকে এই দিনটি উদযাপনের দাবি উঠলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ১৯৯৯ সালে ড. জেরম তিলক সিংয়ের হাত ধরে।

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসটি মূলত ১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করেছিলেন টমাস অস্টার। পুরুষদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের এই নাগরিক সমাজের নানা ক্ষেত্রে পুরুষের অবদানকে উদযাপনের জন্য এই উদ্যোগ নেন। অস্টারের পাশাপাশি আরও অনেকে এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেভাবে সাড়া মেলেনি।

১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত এই দিনটি আলোর মুখ দেখেনি। ড. জেরম তিলক সিংয়ের উদ্যোগে পুনরায় দিনটি পালিত হয়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়।

তখন এটা ক্যারিবীয় দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন পায়। এর পরের দিনই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজরে পরে বিষয়টি।

এখন ক্যারিবীয় দেশগুলো ছাড়াও সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র,দক্ষিণ আফ্রিকা, হাইতি, জ্যামাইকা, হাঙ্গেরি, মাল্টা, ঘানা, মলদোভা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ দিনটি ঘটা করে উদযাপন করে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Will not allow peoples money to be laundered Prime Minister

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’

দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সে জন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সে জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’

বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশের জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’

বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারীশ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে।’

আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারীশ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সে জন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদের সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘সে জন্যই নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারীপ্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সাথে সাথে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের নারীশ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা-শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।

একই দিনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না, দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।’ এই অনুষ্ঠান থেকে সারাদেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা মানুষের ভোট, ভাত ও কথা বলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট দেশের মানুষ বুক টান করে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসনকে চিরতরে বিদায় করেছে। স্বৈরাচারের সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে দেশের মানুষ এখন চায় স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার সমান সুযোগ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লেখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজ আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি।’

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্র হয়ে যারা আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
77000 jailed against 45000 capacity Home Minister in Parliament

৪৫ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে কারাগারে বন্দি ৭৭ হাজার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪৫ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে কারাগারে বন্দি ৭৭ হাজার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে।

সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বুধবার (১৭ জুন) এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭+ নারী ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬+ নারী ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।’

তিনি বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি আটক থাকায় কিছু কিছু কারাগারে বন্দিদের আবাসন সমস্যা বিরাজ করছে। বন্দি আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২, পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। উল্লিখিত চারটি কারাগারের নির্মাণ পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৪৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হবে।

এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে; যা বাস্তবায়িত হলে ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trump threatens to attack Iran again if not satisfied with the agreement

চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালাবে এবং বোমা ফেলবে। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি সম্পর্কে বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে, ইরানে কোনো বিনিয়োগ করবে না যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিতও করা হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলো চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ‘২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) করার সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানকে ঘুষ হিসেবে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দিয়ে দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য কোনো তহবিল দেবে না এবং বর্তমানে কোনো বিনিয়োগ পরিকল্পনাও নেই।’ সবশেষে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী আচরণ না করে তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।’

ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার জন্য ইসরায়েলের করা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। ফলে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের কাছে সমঝোতা স্মারকটি দেখার সুযোগ চেয়েছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসরায়েল এখনো চুক্তির পূর্ণ বিবরণ জানে না, যা আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।’

তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, তেল আবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের কাছে ‘এ ধরনের কোনো অনুরোধই জানায়নি’।

অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা প্রতিবেদনটিকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে, ‘‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’’ বজায় রেখেছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি চুক্তির নথিটির ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন। তবে এর বিষয়বস্তু কবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা দাবি করেছে, স্মারকটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘এসব ধারার মধ্যে আছে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।’

ট্রাম্প বলেছেন, ‘শুক্রবার জেনেভায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর পরপরই হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেনি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5000 more doctors to be recruited through special BCS in health sector Health Minister

স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা একটা অথৈ সাগরের ভেতরে সাঁতার কাটছি। তবুও আল্লাহর রহমতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার ডাক্তার নেব। আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসক নতুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন যোগদান করেনি। দুইজন কনসালটেন্ট দেওয়া হয়েছে। আরও যা লাগবে, আমরা দেব।

বুধবার (১৭ জুন) ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে যে ডেপুটেশন ছিল এগুলো আমরা বাতিল করছি। এখানেও একজন নারী ডাক্তার দুই মাস ধরে আসেন না। খবর পেয়েছি তিনি অন্য জায়গায় প্র্যাকটিস করেন। তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে তিনি এখানে যোগদান না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু কিছু কাজ আমরা করছি। ১৭ বছরের জঞ্জাল তো একবারে শেষ করতে পারব না।’

মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আসলে একটা টিম। ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যান্য যারা রয়েছে, আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আমাদের সমন্বিতভাবে দেশটাকে গড়তে হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে দিতে চাই না। এই জিনিসগুলো বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে মানুষ যাতে সত্যিকারের সেবা পায়, সেজন্য আমরা সবাইকে মোটিভেট করছি। আর ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য আমরা ডিসিকে বলেছি।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এরপর বলেন, ‘আমাদের আসার উদ্দেশ্য হাসপাতালের নতুন ভবনটি দেখা, এটা খুব শিগগিরই উদ্বোধন করব। এটাতে কী কী ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি লাগবে, এগুলো দেখলাম। হাসপাতালের সুপেয় পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতে হবে, যাতে পানি স্মুথলি চলে যেতে পারে, কোথাও যাতে পানি না জমে। হাসপাতালে একটা ফ্রিজার দিতে হবে। এই বাকি কাজগুলো আমাদের করতে হবে। এগুলো শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটির ২৫০ শয্যা উদ্বোধন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে সার্ভিসের ব্যবস্থা দেখলাম। কর্মচারীরা বেতন ঠিক মতো পায় কি না, তাদের উপস্থিতি ঠিক আছে কি না, ডাক্তাররা নিয়মিত আসেন কি না, নতুন পদায়নকৃত ডাক্তাররা ঠিকমতো কাজ করছেন কি না— বিভিন্ন সাইড আমরা দেখলাম। আমি এই হাসপাতালে বড় ধরনের কোনো নোটেবল ত্রুটি পাইনি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রত্যেক হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালুসহ ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে মিটিং করেছি, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলায় প্রত্যেকটি হাসপাতালে এমনকি উপজেলা পর্যন্ত গরিব মানুষ যাতে কম টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস করতে পারে, এজন্য আমরা মেশিন ক্রয় করছি। গরিব মানুষ কিডনি ডায়ালাইসিস যাতে কম টাকায় করতে পারে, এজন্য আমরা এবার বাজেটেও কিডনি ডায়ালাইসিসের টাকা কমিয়ে দিয়েছি। গত সপ্তাহেও ১০টি হাসপাতালে আমরা আইসিইউ দিয়েছি।’

এর আগে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের টয়লেট ও রান্নাঘর দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন রোগীর কাছে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া, হাসপাতালের নতুন ভবন তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে কর্মরত ডাক্তারদের হাজিরা খাতা চেক করেন। পরে বাইরে এসে হাসপাতালে মাস্টাররোলে নিয়োজিত কর্মচারীদের হাজিরা খাতা নিয়ে তারা উপস্থিত আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দালালমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The date of submission of investigation report on Hadis murder has been delayed again

আবারও পেছাল হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

আবারও পেছাল হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ শরিফ ওসমান বিন হাদি। ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর (সম্পূরক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ জুন।

বুধবার (১৭ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৬তম বারের মতো সময় পেলেন।

ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ গত ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maximum vigilance must be maintained to maintain law and order and prevent crime DMP Commissioner

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম (সেবা)। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে গত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি থানায় মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে থানাকে দালালমুক্ত রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

সভা শেষে গত মে মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম এবং ডিএমপির সব থানার অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Recession in Naogaon mango market Gardeners are disappointed not getting the price as expected

নওগাঁয় আমের বাজারে মন্দা, আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশায় বাগানিরা

নওগাঁয় আমের বাজারে মন্দা, আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশায় বাগানিরা ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গত ২ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা জাতের সুস্বাদু আম। গুটি, নাগ ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজার। ক্রেতারাও নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী আম কিনছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে কিছুটা মন্দাভাব বিরাজ করায় আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ অনেক চাষি।

নওগাঁর বিস্তীর্ণ আমবাগান ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারে দামের অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানির পরিধি বাড়ানো এবং আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে দেশের এই বৃহৎ আম উৎপাদন অঞ্চলের কৃষকরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আম অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।

আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নওগাঁর মোকামগুলোতে আসতে শুরু করলে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং আমের দামও বৃদ্ধি পাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে নওগাঁ জেলায় আমের আবাদ ছিল মাত্র ৬ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে। এক দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ১৮৬ হেক্টর জমিতে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০টি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল।

চাষিদের হিসাবে, এক বিঘা মাঝারি আকারের বাগান থেকে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মণ আম উৎপাদন হয়। বর্তমানে জমির ইজারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিবহন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আম মোকামে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি মণ আম ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হলে অনেক ক্ষেত্রেই চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

নওগাঁর সাপাহারে দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের হাটে বর্তমানে হিমসাগর আম প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, নাগ ফজলি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, গুটি আম ১ হাজার ২০০ টাকা, আম্রপালি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং ল্যাংড়া জাতের আম প্রায় ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে অধিকাংশ চাষিই প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

সাপাহার উপজেলার পাকুড়ডাঙ্গা গ্রামের আমচাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আম্রপালির বাগান করেছি। প্রতি বিঘায় সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিচর্যা ও আম সংগ্রহসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা থেকে ৫০ থেকে ৬০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান দরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।

একই উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার চাষি আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বছর গাছে আমের পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত বছর মৌসুমের শুরুতে আম্রপালি ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এ বছর দাম কিছুটা কম। ৩ হাজার টাকার নিচে আম্রপালি বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ তুলতে কষ্ট হবে।’

বদলগাছী উপজেলার আমচাষি মোস্তাকিম বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে নাগ ফজলি চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান বাজারদরে খুব বেশি লাভ নেই। তবে মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়লে কিছুটা ভালো লাভ পাওয়া যাবে। রপ্তানি বাড়ানো গেলে চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’

সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘সাপাহারের আমের হাটে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। কিন্তু বর্তমানে সার, কীটনাশক, জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘আমের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। বর্তমানে সীমিত পরিসরে হলেও কিছু রপ্তানিকারক সরাসরি বাগানিদের সঙ্গে কাজ করছেন। ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এসব আমের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’

মন্তব্য

p
উপরে