× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

মনে হচ্ছে, বাবাই চলে গেছেন: খিলখিল কাজী

মনে-হচ্ছে-বাবাই-চলে-গেছেন-খিলখিল-কাজী
আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচী ও তার পরিবারের সঙ্গে সৌমিত্রের ঘনিষ্ঠতার গল্প নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সেই পরিবারের মেয়ে কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী।

বাংলদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছেলে কাজী সব্যসাচীর বন্ধু ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার আকাশবাণীতে কাজ করার সুবাদে এ দুই কবি ও আবৃত্তিকারের বন্ধুত্ব হয়।

আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচী ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গল্প নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সেই পরিবারের মেয়ে কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী।

রোববার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর কথা হয় তার সঙ্গে।

নিউজবাংলাকে খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমরা কলকাতা থেকে ঢাকা চলে আসার পরও তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আমার বাবা যখন মারা যান, আমার ইচ্ছা ছিল তার স্মরণে একটা পুরস্কার আয়োজন করার। প্রথম পুরস্কারটা আমি ওনাকে দিতে চেয়েছিলাম।

‘যখন তাকে আমাদের এসব চাওয়া জানালাম, তখন খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি।’

১৯৭৯ সালের ২ মার্চ মৃত্যু হয় কাজী সব্যসাচীর। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে কাজী সব্যসাচী মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় ২০১৬ সালে ঢাকায়।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সামনাসামনি দেখার, তার সঙ্গে কথা হওয়ার স্মৃতি তার প্রয়াণের পর বার বার নাড়া দিচ্ছে কাজী নজরুল ইসলামের নাতনির মনে।

খিলখিল কাজী বলেন, ‘একজন ভক্ত হিসেবে তাকে সামনাসামনি দেখে আমি ভীষণ অভিভূত হই। তিনি তখন আমাকে একটা চিরকুট লিখে দেন। বলেন, বাবাকে নিয়ে এমন উদ্যোগে তিনি খুব খুশি।

‘বাবাকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার আবৃত্তি ও কণ্ঠ শোনার জন্য আকাশবাণীতে সবাই অপেক্ষা করত। বাবাও বলত, তার বন্ধুর দারুণ অভিনয়ের কথা, তার কবিতার প্রতি ভালোবাসার কথা।’

‘ওনার শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। উনি চলে গেছেন। মনে হচ্ছে, আমার একজন বাবাই চলে গেছেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি’, একথা বলতে বলতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোন রেখে দেন খিলখিল কাজী।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সেই চিরকুটটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন খিলখিল কাজী।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Climate change has changed the life of Ashtagram fishermen due to lack of air and uncertainty

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে গেছে হাওর, অভাব আর অনিশ্চয়তায় অষ্টগ্রামের জেলে জীবন

জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে গেছে হাওর, অভাব আর অনিশ্চয়তায় অষ্টগ্রামের জেলে জীবন ছবি: সংগৃহীত

খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।

প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। ‘মাছের ভাণ্ডর’ বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।

জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।

চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।

পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।

গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: ‘হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pakistan will give scholarships to 500 Bangladeshi students in five years

পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে পাকিস্তান

পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে পাকিস্তান ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ‘ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে’, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক কাঠামো পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদলের সফর এবং তাদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও হাইকমিশনার আলোচনায় তুলে ধরেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে পাকিস্তান সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে পড়াশোনা শুরু করেছেন। এছাড়া গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা বিনিময় বৃদ্ধি এবং চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পকে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সংসদীয় পর্যায়ে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আলোচনার এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার জন্য হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The crushed body of a mentally challenged youth was recovered from the river bank

নদীর তীর থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার

নদীর তীর থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের থেঁতলানো মরদেহ উদ্ধার ছবি: নিউজ বাংলা

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী নদীর তীর থেকে মুখমণ্ডল থেঁতলানো অবস্থায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সামনে কালনী নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

নিহত মো. শফিক মিয়া (৩১) আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফিক মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই মীমাংসার অংশ হিসেবে সাবেক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, শফিকের কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল এবং বাকি ১০ হাজার টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। টাকাগুলো সবসময় নিজের কাছেই রাখতেন। এ কারণে টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 fishermen died in lightning strike while fishing in Howar 1 missing

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ১

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৩ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ছবি: নিউজ বাংলা

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের বাঘমারা পূর্ব কাটুটিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের জহির মিয়ার দুই ছেলে হামিদ মিয়া ও কাবিল মিয়া এবং একই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদ, কাবিল ও সাব্বির একটি নৌকা নিয়ে হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশে মাছ ধরতে যান। দুপুর গড়াতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থালেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের পর হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ নৌকার ওপরেই পড়ে ছিল। তবে কাবিল মিয়ার মরদেহটি নৌকা থেকে ছিটকে হাওরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করলেও কাবিল মিয়ার সন্ধান পাননি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ কাবিল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের জন্য হাওরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে পাঁচটা) পানিতে তলিয়ে যাওয়া মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মরদেহ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হাওরপাড়ে তিন তরুণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজনগরের কামালপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Security tightening should not take peoples love away PM to SSF

নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তিনি এসএসএফকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’

এসএসএফকে বিশেষায়িত বাহিনী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এ বাহিনীর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের কারণে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।’

তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এখন প্রতিদিন-প্রতি সময় এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি বলেন, ‘মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। গাড়ি বহরের আকার সীমিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এ কারণে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধনের কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছেন এবং উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি ও কর্মপদ্ধতির নীতিমালা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের জন্য সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও এসএসএফকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে, তবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Realistic development plan taken to meet challenges of modern battlefield Army Chief

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: সেনাপ্রধান

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: সেনাপ্রধান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান । ছবি: সংগৃহীত

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দক্ষ ও যোগ্য সেনা কর্মকর্তা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। এসব কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে এ ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মতো নেতৃত্বের মৌলিক গুণাবলি ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সামরিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান।

তিনি আরও বলেন, শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষ অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেনাবাহিনীর সব কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

নতুন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ সৈনিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার পাশাপাশি তাদের দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে একজন সেনা কর্মকর্তার জীবনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।

দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।

এছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।

কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমির সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএমএতে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে সেনাপ্রধানের। একই সঙ্গে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 thousand 425 cases settled in one day in High Court to reduce the confusion of cases

মামলার জট কমাতে হাইকোর্টে একদিনে নিষ্পত্তি ২ হাজার ৪২৫ মামলা

মামলার জট কমাতে হাইকোর্টে একদিনে নিষ্পত্তি ২ হাজার ৪২৫ মামলা ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট কমাতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে একদিনে ২ হাজার ৪২৫টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৮৪টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরনো রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে একদিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪২৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, পুরনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত চার কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ চার কার্যদিবসে সর্বমোট ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোর বিচারপতিরা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন। আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা জট নিরসনে পুরনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

p
উপরে