দেশের নাম বাহামা।
দেশটি মূলত আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপদেশ।
এই দ্বীপ দেশের একটা দ্বীপের নাম-ক্যাট আইল্যান্ড।
বাংলায় বিড়াল দ্বীপ।
অনেকে বলেন, এই নামকরণ বিড়ালদের কথা মাথায় রেখে করা হয়নি।
হয়েছে জলদস্যু আর্থার ক্যাটের নামে।
এটি ধারণামাত্র!
আসলে বিড়ালের জন্যই এর নাম হয়েছে বিড়াল দ্বীপ।
এক সময় দ্বীপের অধিকাংশ বাসিন্দাই ছিলো বিড়াল।
হাজার হাজার বিড়াল।
এসব বিড়াল পোষাও ছিলো না আবার বুনোও ছিলো না।
আসলে দ্বীপে মানুষ আসার সময় কিছু বিড়াল এসে পড়েছিলো।
তো ওই পোষা বিড়ালরা এক সময় বুনো পরিবেশে থাকতে থাকতে হয়ে যায় না বুনো না পোষা।
যাই হোক, বিড়াল দ্বীপে এখন আর আগের মতো এতো বিড়াল নেই।
তবে বিড়ালের নামে রয়ে গেছে দ্বীপের নাম।
এদিকে জাপানের একটা দ্বীপও এখন বিড়ালদের দখলে।
দ্বীপটির নাম তাশিরোজিমা।
এখানে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি।
এতে করে দ্বীপের সত্যিকার নাম ঢেকে গেছে, ‘বিড়ালের দ্বীপ’ নামের আড়ালে।
বিড়ালগুলোও যাচ্ছে তাই।
যেখানে সেখানে নিজেদের অধিকার আদায় করে ছাড়বেই।
দ্বীপের মানুষগুলোর কথা আর কী বলবো!
বিড়ালগুলোকে আস্কারা দিয়ে একেবারে মাথায় তুলে রেখেছে।
না রেখেই বা উপায় কী!
দ্বীপের মানুষদের বিশ্বাস, ভবঘুরে বিড়ালকে খাওয়ালে নাকি শরীর স্বাস্থ্য ভালো তো থাকেই, আবার সৌভাগ্যও আনে।
তাশিরোজিমা দ্বীপ জাপানের মিয়াগি জেলার ইশিনোমাকি শহরে পড়েছে। দ্বীপে এমনিতেই মানুষজন খুব একটা থাকে না।
বড়জোর সব মিলিয়ে শ’খানেক।
ওদিকে বিড়াল বাবু আর বিড়াল বিবিরা তাদের সংখ্যা বাড়ানোতে কোনো কার্পণ্য করেনি।
তার ওপর মানুষের যত্ন-আত্তি তো আছেই।
সব মিলিয়ে তর তর করে বেড়েছে তাদের জ্ঞাতি-গোষ্ঠী।
দ্বীপে একসময় জনবসতি গড়ে উঠেছিলো রেশম চাষকে কেন্দ্র করে।
এই রেশম গুটির প্রধান শত্রু ইঁদুর।
ইঁদুররের উৎপাত থেকে রেশমগুটি রক্ষার জন্য বিড়াল আমদানী করা হয়েছিল।
একসময় রেশম চাষ ভেস্তে গেলেও, বিড়ালরা টিকে যায়।
ওদিকে মাছ ধরার জন্য জেলেরা এসে আস্তানা গাড়ে দ্বীপে।
রাতে মাছ ধরার জন্য অন্য জায়গার জেলেরা কিছুদিন থেকে যায়।
দ্বীপবাসী বিড়ালরা তখন মিউ মিউ করে এগিয়ে যায় জেলেদের দিকে। জেলেরাও করুণ মুখের বিড়ালদের দিকে তাকিয়ে একটা দুটো মাছ ছুঁড়ে মারে।
জেলেরাও ভালো মাছ পায়।
এরপর বিড়ালকে খুশি রাখতে পারলে নিরাপদে মাছ ধরে ফিরতে পারবে, মাছও পাবে বেশি-এমন ধারণা জন্মে তাদের মধ্যে।
কাজেই খাবারেরও চিন্তাও কমে যায় বিড়ালদের।
কেবল সময় মতো জেলেদের কাছে গিয়ে মিয়াও মিয়াও করলেই হলো।
শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হলেও বিড়ালের জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করে জেলেরা।
দ্বীপের বিড়ালরা এতই জনপ্রিয় যে, দ্বীপের কিছু বাড়িঘরও বানানো হয়েছে বিড়ালাকৃতির।
এমনকি বিড়ালদের জন্য পবিত্র সমাধিসৌধও আছে দ্বীপে।
অষ্ট্রেলিয়াতেও আছে একটা বিড়াল দ্বীপ।
তবে দ্বীপটার নাম ক্যাঙ্গারু দ্বীপ।
কিন্তু দ্বীপের এখন সর্বোচ্চ বাসিন্দা বিড়াল।
অষ্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম এই দ্বীপে এখন মানুষ থাকে প্রায় চার হাজার।
আর বিড়াল?
লাখেরও বেশি।
কোথা থেকে এলো এতো বিড়াল?
গবেষকদের ধারনা, এরা আফ্রিকা থেকে এসেছে।
তবে কাদের সঙ্গে এসেছিলো তা আর জানা যায়নি।
ওদিকে দিন দিন এই দ্বীপে বিড়ালের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।
চলো, একবার ঘুরে আসি এই তিনটি বিড়াল দ্বীপের যে কোন একটি থেকে।
কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দুই সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, গত ১৬ জুন কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানকে ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ওই দুই আইনজীবী। এ সময় অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, প্রশাসন জিসানের সঙ্গে আইনজীবী ও স্বজনদের কথা বলতে দেয়নি।
নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা জিসানের মামলায় ওকালতনামা নেইনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেছি। নিয়োগ বাতিলের আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে জিসানের মামলার বিষয়ে কথা বলার কারণেই এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।’
কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা দুজনই সরকারি আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে কোনো আসামির পক্ষে অবস্থান নেওয়া সমীচীন নয়।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় যেকোনো সময় সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নিয়োগ বাতিল হওয়া দুই আইনজীবী জিসানের পক্ষে ওকালতনামা না নিলেও আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে তার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন।’
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করে। পরদিন দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে একই দিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সি এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।
প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। ‘মাছের ভাণ্ডর’ বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।
গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: ‘হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ‘ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে’, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক কাঠামো পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদলের সফর এবং তাদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও হাইকমিশনার আলোচনায় তুলে ধরেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে পাকিস্তান সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে পড়াশোনা শুরু করেছেন। এছাড়া গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা বিনিময় বৃদ্ধি এবং চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পকে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সংসদীয় পর্যায়ে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আলোচনার এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার জন্য হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী নদীর তীর থেকে মুখমণ্ডল থেঁতলানো অবস্থায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সামনে কালনী নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
নিহত মো. শফিক মিয়া (৩১) আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফিক মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই মীমাংসার অংশ হিসেবে সাবেক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শফিকের কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল এবং বাকি ১০ হাজার টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। টাকাগুলো সবসময় নিজের কাছেই রাখতেন। এ কারণে টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের বাঘমারা পূর্ব কাটুটিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের জহির মিয়ার দুই ছেলে হামিদ মিয়া ও কাবিল মিয়া এবং একই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদ, কাবিল ও সাব্বির একটি নৌকা নিয়ে হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশে মাছ ধরতে যান। দুপুর গড়াতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থালেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের পর হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ নৌকার ওপরেই পড়ে ছিল। তবে কাবিল মিয়ার মরদেহটি নৌকা থেকে ছিটকে হাওরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করলেও কাবিল মিয়ার সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ কাবিল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের জন্য হাওরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে পাঁচটা) পানিতে তলিয়ে যাওয়া মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মরদেহ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাওরপাড়ে তিন তরুণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজনগরের কামালপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তিনি এসএসএফকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এসএসএফকে বিশেষায়িত বাহিনী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এ বাহিনীর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের কারণে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।’
তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এখন প্রতিদিন-প্রতি সময় এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি বলেন, ‘মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। গাড়ি বহরের আকার সীমিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এ কারণে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।
এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধনের কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছেন এবং উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি ও কর্মপদ্ধতির নীতিমালা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসএসএফ সদস্যদের জন্য সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও এসএসএফকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে, তবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান । ছবি: সংগৃহীত
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দক্ষ ও যোগ্য সেনা কর্মকর্তা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। এসব কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে এ ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মতো নেতৃত্বের মৌলিক গুণাবলি ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সামরিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি আরও বলেন, শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষ অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেনাবাহিনীর সব কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
নতুন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ সৈনিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার পাশাপাশি তাদের দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে একজন সেনা কর্মকর্তার জীবনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।
কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।
তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমির সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএমএতে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে সেনাপ্রধানের। একই সঙ্গে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
মন্তব্য