মানুষের মাথায় কয়টা চুল?
চুল গোনার কথা ভাবছো নিশ্চয়ই!
আসলে মানুষের মাথার চুল গোনার চেয়ে জিরাফের লেজের চুল গোনা সহজ। কারণ, জিরাফের লেজ মানুষের মাথার তুলনায় অনেক ছোট!
আসলে তা নয়। জিরাফের লেজের চুল মানুষের মাথার চুলের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ঘন।
একটা জিরাফ একটা ট্রাক!
কীভাবে সম্ভব?
একটা জিরাফ ১৪০০ কেজির মতো ওজন বহন করতে পারে।
এবার বের করো, একটা ট্রাক কয় কেজি ওজন বহন করতে পারে।
খেলার মাঠ থেকে জিরাফের দুষ্টু ছানাদের যদি বের করে দিতে চাও,
তবে পারবে না।
কারণ?
ওদের ঘাড় লম্বায় ৫ থেকে ৬ ফুটের মতো হয়।
মানুষের থাকে একটা পাকস্থলী।
জিরাফের কয়টা পাকস্থলী, জানো?
চারটা।
ওদের মূল পাকস্থলীতে খাবার হজম হয়, আর বাকিগুলো খাবার হজমে সাহায্য করে!
পানি না খেয়ে কোনো প্রাণীই বাঁচতে পারে না।
জিরাফও পারে না।
তবে এই পানি খেতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে বেচারা জিরাফ! কেন?
কারণ পানি খাওয়ার সময় অন্যদিকে খেয়ালই থাকে না ওদের।
প্রাণীদের এমন আজব-বিজব ঘটনা চাইলে তোমরাও আমাদের জানাতে পারো। আমরা তা প্রকাশ করবো কিডজোনে।
সঙ্গে তোমার নাম, বয়স, শ্রেণি ও স্কুলের নাম লিখে দিও।
আমাদের কাছে লেখা পাঠানোর ঠিকানা [email protected]
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসম নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল, একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহষ্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানা নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলে পার ঘাটি ব্রিজে চলে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পিছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। টান দেওয়ার সাথে সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণবাংলার অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্বের সংরক্ষণ ও উপস্থাপনায় এক অনন্য ভূমিকা রেখেছে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ী মোড়ে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিদিনই নানা বয়সি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।
আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরটি এক একর জমির উপর অবস্থিত। এখানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে। খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে রয়েছে গুপ্ত, পাল, সেন, মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের নানা ধরনের পুরাকীর্তির নিদর্শণ, পোড়ামাটি, পাথরের মূর্তি, বিভিন্ন আমলের মুদ্রার রেপ্লিকা ও বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রসহ সুন্দরবন গ্যালারি সংযোজন রয়েছে।
দর্শনার্থী নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘প্রতিটি প্রদর্শনীর পেছনে একটা গল্প রয়েছে। আমরা শুধু বই পড়ে ইতিহাস শিখছি না, বরং ইতিহাস ছুঁয়ে দেখছি।’ জাদুঘরের একজন কিউরেটর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু নিদর্শন সংরক্ষণ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।’
জাদুঘরের প্রদর্শনীর সূচনা হয়েছে ১নং গ্যালারি থেকে। এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে যশোরের ভরত ভায়না বৌদ্ধ মন্দির, পীরপুকুর মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদ, জাহাজঘাটা, দমদম পীরস্থান ঢিবি, বাগেরহাটের খানজাহান আলী (র.)-এর বসতভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শন। এ ছাড়া রয়েছে খুলনা আর্ট কলেজ থেকে প্রাপ্ত ১২-১৩ শতকের মূর্তি, বাগেরহাটের কচুয়া থেকে প্রাপ্ত মারিচী মূর্তি, খুলনার কপিলমুনি ঢিবি গুচ্ছ থেকে সংগৃহীত পোড়ামাটির সামগ্রী, গুপ্ত যুগের মুদ্রা, খুলনা বিভাগের প্রশাসনিক মানচিত্র ইত্যাদি।
২নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে পোড়ামাটি ও শামুকের তৈরি চুড়ি, লোহার শাবল, পেরেক ও কব্জা, পশুর হাড় ও দাঁত। আদি মধ্যযুগীয় প্রত্নস্থান যশোরের ভরত ভায়না থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির অলংকৃত ইট, পোড়ামাটির খেলনা, ওজন, পিরিচ ও থালা ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে খ্রিষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকের গণেশ, বিষ্ণু, গরুড়, নন্দীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর নির্মিত মূর্তি।
৩নং গ্যালারিতে দেখানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রত্নস্থান মহাস্থানগড় ও মঙ্গলকাটি থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, তামার তৈরি মৃৎপাত্র, স্বল্প মূল্যবান পাথরের পুতি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকিত রৌপ্যমুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, মসৃণ কালো মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ফলকে চিত্রিত মানুষের মাথা প্রভৃতি। আরও রয়েছে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় ১১শ-১২শ শতকের মহিষমর্দিনী দূর্গা, নন্দী ও ১০ম শতকের নকশাসহ প্যানেলের অংশ বিশেষ ইত্যাদি।
৪নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে লালমাই ময়নামতি অঞ্চলে অবস্থিত শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, রাণীরবাংলো, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, কুটিলা মুড়া ও চারপত্র মুড়া প্রত্নস্থান থেকে সংগৃহীত প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, নব্য পাথর যুগের জীবাশ্ম কাঠের দ্বারা নির্মিত অস্ত্র প্রভৃতি। ৯ম-১০ম শতকের শাক্যমণি, কালো পাথরের শিল ও নোড়া যা ১০ম শতকের বলে অনুমান। রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, সুলতানি ও মোঘল যুগের বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা এবং ১২শ-১৫শ শতকের কালো পাথরের উপর খোদিত আররি ও ফারসি উৎকীর্ণ লিপি।
৫নং গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রত্ননিদর্শন। পাহাড়পুর বৌদ্ধমন্দির থেকে সংগৃহীত জীবজন্তু, গাছপালার ছবি অংকিত বিভিন্ন ধরনের মানব প্রতিকৃতি পোড়ামাটির ফলক।
আর ৬ নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে গৌড়, লালবাগ কেল্লা, সাভার ও রোয়াইলবাড়ী থেকে সংগৃহীত প্রত্নবস্তু। যার মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির নকশাকৃত ইট, শিলালিপি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, চকচকে রঙিন প্রলেপযুক্ত টাইল্স প্রভৃতি। খ্রিষ্টীয় ১৭শ-১৯শ শতকের আরবি ও ফারসি হস্তাক্ষর লিপি, একশত বছরের পুরোনো কাঠের খাট। ১৮শ-১৯শ শতকের বিভিন্ন ধাতব ধরন ও পাথরের তৈরি তৈজসপত্র প্রভৃতি।
জাদুঘরটি সাপ্তাহিক রোববার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে। এ ছাড়া সকল সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। তা ছাড়া অন্যান্য দিবসে খোলা থাকে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর-রাওথা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও সীমান্তে বাড়তি নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় এই পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়। পদ্মা নদীর ভারতীয় অংশ থেকে দুটি নৌকায় করে এসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে নৌকাগুলো বাংলাদেশ অভিমুখে মোটেও অগ্রসর হতে পারেনি।
স্থানীয় জেলে ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার কাগমারি চর এলাকায় প্রায় ১৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম দফায় ২৩ জনকে কাগমারি ও খালিশপুর বিএসএফ ক্যাম্পের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি ব্যাপক জোরদার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, পাশাপাশি বিএসএফের সম্ভাব্য পুশ ইন প্রতিহত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করছে বিজিবি।
দেশের সুরক্ষায় এ সময় স্থানীয় অনেক বাসিন্দাকেই বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর থেকেই বিএসএফ কর্তৃক কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করার খবর তারা জানতে পারেন। বিজিবি তাদের সহযোগিতা চাওয়ায় দেশের স্বার্থে তাঁরাও জওয়ানদের পাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
বিজিবির চারঘাট বিকল্প বিওপির কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা আগে থেকেই সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
বিজিবির এই কঠোর নজরদারির কারণেই পুশ ইনের ভারতীয় প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় সীমান্তে এখন আরও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। শনিবার (১৩ জুন) গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ৫ বছরে মোট তিন (৩) লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি এলাকায় পাঁচশত (৫০০) বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"
৫ বছরে ২৫ কোটি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, "একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এর বিকল্প কিছুই নেই।"
ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দুর্বা রাখার জন্য আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।"
শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসক জানান, "ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্স রিবেট (ট্যাক্স ছাড়) দেওয়ার বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে রোড মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের গাছ উপহার দেওয়া হবে।
প্রশাসক নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যাদের পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।"
সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি সুন্দর, 'গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন' মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাহিনীর নারী সদস্যদের জন্য জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগিতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ হতে ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৯০ (নব্বই) দিনব্যাপী জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) পরিচালিত হবে। দেশের মোট ১৩টি কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ হলো—আনসার-ভিডিপি একাডেমি, গাজীপুর; ভিটিসি, নবাবগঞ্জ, ঢাকা; এবং ১১ টি জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়: ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও কক্সবাজার।
প্রতিটি কেন্দ্রে ৪০ জন করে মোট ৫২০ জন প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে AVMIS অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এ উদ্যোগ দেশের নারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালি ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এর আগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এর সভাপতিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর ১ আসনে সংসদ সদস্য ডঃ ইলিয়াস হুসাইন মোল্লা, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম সহ সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
পরে প্রধান অতিথি লাঞ্চ নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ জাদুঘর চত্বরে গাছের চারা রোপণ করে এ জেলায় বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আফতাবনগরসংলগ্ন দাশেরকান্ধি পয়ঃশোধনাগার কম্পাউন্ডে প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার পক্ষে শনিবার (১৩ জুন) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) জনাব এ. কে. এ. এম ফজলুল হক, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) জনাব মো. মিজানুল হক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ওএ্যান্ডএম) জনাব মির্জা গোলাম কিবরিয়া,উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (আরপিএ্যান্ডডি) জনাব মোঃ আজিজুল হক সহ অন্যান্য প্রকৌশলী ও কমকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য