অ্যাকাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস-এর চেয়ারম্যান মাইকেল জ্যাকবস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তার কবিতা, তার সামগ্রিক কাজ এবং তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কণ্ঠস্বর মানব-পরিস্থিতিকে স্মরণীয় ও উত্তেজনাকর ভাষায় উপস্থাপন করে।’ জ্যাকব্স তার আগে বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে খ্যাতিমান আমেরিকান কবি হিসেবে লুইস গ্লুক এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় আমরা রোমাঞ্চিত।’
আমেরিকান কবিসমাজ যে রোমাঞ্চিত হয়েছে তার আরও প্রমাণ মেলে ক্লডিয়া র্যাঙ্কিনের কথায়। ক্লডিয়া র্যাঙ্কিন অপেক্ষাকৃত তরুণ কবি, ‘সিটিজেন’ ও ‘জাস্ট আস’ নামে দুটি সাড়া জাগানো বইয়ের লেখক। লুইস গ্লুকের অধীনে অধ্যয়ন করেছেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই গ্লুকের সহকর্মী তিনি। কবি হিসেবে গ্লুকের পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছেন বরাবর এবং তার কথায়, ‘আমার যখন ১৯ বছর বয়স আর জানার চেষ্টা করছি কবিতাশৈলীর ভিতরে কী আছে, তিনি তখন আমার প্রতি কখনও যে প্রাণময়তা, কখনও যে নিষ্ঠা দেখিয়েছেন তা ভোলার নয়।’ এরপর ক্লডিয়া বলেছেন সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি- ‘তার মধ্যে মাঝারিপনার কোনও জায়গা ছিল না, মিথ্যা প্রশংসার কোনও জায়গা ছিল না। লুইস যখন কথা বলেন, তখন তাকে আপনি বিশ্বাস করবেন, কেননা সভ্যতার আড়ালে নিজেকে গোপন করেন না তিনি।’
লুইস গ্লুক সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত মনোভাব নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগে থেকেই ছিল আমেরিকান কবিসমাজে। ডাব্লিউ আর মোসেস, র্যান্ডল জ্যারেল, জর্জ ম্যারিওন ও’ডনেল, জন বেরিম্যান, মেরি বার্নার্ড প্রমুখ কবিও লুইসে মুগ্ধ। যদিও গ্লুকের পূর্বসূরীদের মধ্যে রবার্ট ফ্রস্ট বা গোয়েন্ডোলিন ব্রুক্স বা ওয়ালেস স্টিভেন্সকে বছরের পর বছর পাশ কাটিয়ে গিয়েছিল নোবেল কমিটি। তবে তাদের এবারকার নির্বাচন নিয়ে কোনও সংশয় নেই, অন্তত আমেরিকান কবিসমাজের মধ্যে। তারা ‘অকপট ও আপসহীন’ হিসেবে প্রভূত প্রশংসা করেছে লুইসের। আর ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে নিজের বাড়ির বাইরে লুইস নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি ‘আলোড়ন, উল্লাস আর কৃতজ্ঞতা’ অনুভব করছেন।
পরে তিনি বলেছেন, ‘পার্থিব পুরস্কার বিশ্বে অস্তিত্বশীল থাকাটাকে সহজ করে দেয়। এটা আপনাকে একটা ভালো কাজ পাওয়ার অবস্থায় নিয়ে যায়। মানে হলো, একটা বিমানে চড়ার পক্ষে আপনি মোটা টাকা খরচ করতে পারেন। কিন্তু আমি যা চাই তার প্রতীক হিসেবে- এটা আমার জীবনকালে আমার সত্তাকে ধারণ করতে সক্ষম নয়। আমি মৃত্যুর পর বেঁচে থাকতে চাই, সেই প্রাচীন ধারায়। আর জানার উপায় নেই তা হবে কি না, জানা যাবেও না, আমার মৃতদেহের ওপর কতগুলো নীল রিবন এঁটে দেওয়া হলে তাতে কিছু আসে যায় না।’
লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ এপ্রিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে ওঠেন লং আইল্যান্ডে। তার বাবা ড্যানিয়েল গ্লুক ছিলেন ব্যবসায়ী, মা বিয়াট্রিস গ্লুক ছিলেন গৃহিনী। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে লুইস ছিলেন বড়। মা ও বাবা উভয়ের পূর্বপুরুষের দিক থেকে লুইসের ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদি রক্ত। তার বাবার লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু ভগ্নিপতির সঙ্গে ব্যবসায় ঢুকে পড়েছিলেন। লুইসের মা ছিলেন ওয়েলেস্লি কলেজের গ্র্যাজুয়েট। শৈশবে মা-বাবার কাছ থেকে গ্রিক পুরাণ আর ধ্রুপদী গল্প সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন লুইস। কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন ছোটবেলায়।
কিশোরীকালে অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন লুইস। ওই সময়ে ও তারুণ্যে সেটা তার জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিউইয়র্কের হিউলেটে জর্জ ডাব্লিউ হিউলেট হাইস্কুলে শেষের দিকে সাইকোঅ্যানালিটিক্যাল ট্রিটমেন্ট নিতে শুরু করেছিলেন তিনি। কয়েক মাস পর পুনর্বাসনের জন্য স্কুল থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে ১৯৬১ সালে গ্র্যাজুয়েট হতে সমস্যা হয়নি তার। পরের সাত বছর তার থেরাপি চলে। এই সময়টাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন আত্মোপলব্ধির সুযোগ পাওয়ার জন্য। নিজের এই পরিস্থিতির কারণে পূর্ণকালীন ছাত্রী হিসেবে কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। পরিবর্তে সারা লরেন্স কলেজে কবিতা বিষয়ক ক্লাসে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জেনারেল স্টাডিজে কবিতার কর্মশালায় অংশ নেন। অপ্রথাবদ্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের একটা ডিগ্রি প্রোগ্রাম ছিল। তার শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন লিওনি অ্যাডাম্স ও স্ট্যানিও কুনিট্জ। কবি হয়ে ওঠার পথে এ দুজনের অবদান সবসময় স্বীকার করেন লুইস।
কোনও ডিগ্রি না নিয়েই কলম্বিয়া ছাড়ার পর সেক্রেটারিয়াল কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন লুইস। ১৯৬৭ সালে বিয়ে করেন চার্লস হার্টজ জুনিয়রকে। সেটা শেষ হয় বিচ্ছেদে। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই ফার্স্টবর্ন। কিছু ইতিবাচক সমালোচনা হয়েছিল বইটি নিয়ে। ১৯৭১ সালের পর, যখন তিনি ভার্মন্টের গডার্ড কলেজে কবিতার শিক্ষকতা করতেন, অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আবার লেখালেখি শুরু হয়। তার দ্বিতীয় কবিতার বই দ্য হাউজ অন মার্শল্যান্ড প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। সেটা তার ‘ব্রেক থ্রু ওয়ার্ক’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় অনেক সমালোচকের তরফে। তার মধ্যে তারা আবিষ্কার করেছিলেন ‘একটি বৈশিষ্ট্যমূলক কণ্ঠস্বর’-এর সংকেত।
১৯৭৩ সালে জন্ম নেয় নোয়া; লুইস ও তার পার্টনার জন ড্র্যানাউয়ের ছেলে। যদিও লুইস ড্র্যানাউকে বিয়ে করেন ১৯৭৭ সালে। ১৯৮০ সালে ড্র্যানাউ ও কবি এলেন ব্রায়ান্ট ভয়েটের স্বামী ফ্রান্সিস ভয়েট মিলে প্রতিষ্ঠা করেন নিউ ইংল্যান্ড কুলিনারি ইনস্টিটিউট, বেসরকারি কলেজ। সে বছরই প্রকাশিত হয় লুইসের তৃতীয় কবিতার বই ডিসেন্ডিং ফিগার। কবি গ্রেগ কুজমা এ বইয়ের কিছু বিষয়বস্তুর কারণে ‘চাইল্ড হেটার’ হিসেবে লুইসের সমালোচনা করেন। তবে সামগ্রিকভাবে পাঠকমহলে বইটি সমাদৃত হয়। একই বছর লুইসদের ভার্মন্টের বাড়িতে আগুন ধরে এবং তার অনেক লেখা পুড়ে যায়। এই ট্র্যাজেডি থেকে উঠে এসে লুইস সেইসব কবিতা লেখা শুরু করেন. যা তাকে এনে দেয় সম্মানজনক সব পুরস্কার।
১৯৮৪ সালে লুইস ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন ম্যাসাচুসেটসের উইলিয়ামস কলেজে। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় তার কবিতার বই দ্য ট্রায়াম্ফ অব অ্যাকিলিস। বইটি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পায় সমালোচকদের। তার বিখ্যাত আরও দুটি কবিতার বই অ্যারারাট ও দ্য ওয়াইল্ড আইরিস প্রকাশিত হয় ১৯৯০ ও ১৯৯২ সালে। শেষের বইটি সম্পর্কে পাবলিশার্স উইক্লি মন্তব্য করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বই’ এবং সমালোচক এলিজাবেথ লান্ড দ্য ক্রিস্টিয়ান সায়েন্স মনিটরে লেখেন, ‘একটি মাইল ফলক কাজ’। এ বইটির জন্য ১৯৯৩ সালের পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত করা হয় লুইস গ্লুককে। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে আরও আছে মিডোল্যান্ডস, ভিটা নোভা, দ্য সেভেন এজেস, অ্যাভার্নো, এ ভিলেজ লাইফ, ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চুয়াস নাইট। এছাড়া গদ্যগ্রন্থ প্রুফ্স অ্যান্ড থিওরিস : এসেস অন পোয়েট্রি (১৯৯৪) এবং অ্যামেরিকান অরিজিনালিটি: এসেস অন পোয়েট্রি (২০১৭)।
আমেরিকার সব বড় পুরস্কারই পেয়েছেন লুইস গ্লুক। পুলিৎজার ছাড়াও পেয়েছেন ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডাল, ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কল অ্যাওয়ার্ড, বলিঞ্জেন প্রাইজ। লুইস গ্লুক ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন পোয়েট লরিয়েট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস। বাকি ছিল শুধু নোবেল সাহিত্য পুরস্কার, সেই শূন্যতাও এবার পূরণ হয়ে গেল।
প্রমিত হোসেন: অনুবাদক ও সাংবাদিক
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
এদিন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় গতকাল বুধবার দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকদের মাঝে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরি করতে মাঠে নামছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এবং ‘আছি বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বুধবার থেকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় (৯নং ওয়ার্ড) ‘পরিচ্ছন্ন আঙিনা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে।
নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। মতিঝিল ৯নং ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা সফল হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সকল ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও জানান, এই সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজ হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলোবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ ১০টি জোনে বিভক্ত: পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠে নিয়োজিত থাকবেন।
সরাসরি যোগাযোগ ও পরামর্শ: ইন্সপেক্টররা বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
নাগরিকদের রেটিং ও সামাজিক প্রচার: নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিকদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, সিটি ইন্সপেক্টর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।
উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য