সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি চান চট্টগ্রামবাসী

সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি চান চট্টগ্রামবাসী

চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' খ্যাত সিআরবি। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহদাকার প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক আগ্রাসনের হাত থেকে ঐতিহাসিক সিআরবিকে রক্ষা করতে চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রামের 'ফুসফুস' খ্যাত সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সিআরবি রক্ষা আন্দোলন।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোমিনুর রহমানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট পাঁচ নাগরিকের সই করা স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

বৃহদাকার প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক আগ্রাসনের হাত থেকে ঐতিহাসিক সিআরবিকে রক্ষা করতে চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কবি আবুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, কবি ও নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত, নাট্যব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার ও স্থপতি জেরিনা হোসেন।

জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফর আহমেদ, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আজাদ, ডা. মনজুরুল করিম বিপ্লব, ব্যবসায়ী খোকন বড়ুয়া ও অ্যাডভোকেট সুমন চক্রবর্তী।

সিআরবিকে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যগত, ভূ-পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অহংকারের জায়গা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২১০ একর এলাকাটিতে ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, উন্মুক্ত স্থান ছাড়াও রয়েছে ১৯৭ প্রজাতির উদ্ভিদ।

সিআরবিতে আরও রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আব্দুর রবসহ সাত বীর সেনানীর সমাধি।

সিআরবির শিরীষতলা চট্টগ্রাম নগরবাসীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একমাত্র স্থান, যেখানে প্রতিবছর আয়োজন হয় পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, রবীন্দ্রজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠান।

১৯৬১ সালের মহাপরিকল্পনা ও ১৯৯৫ সালের নগর পরিকল্পনায় সিআরবি ভবনকে ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে সংরক্ষণ এবং সিআরবি ও বাটালী হিল এলাকাকে উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০০৮ সালের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে সিআরবিকে সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘এখানে হাসপাতাল নির্মাণ হলে এলাকাটির সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক আবেদনই শুধু ধ্বংস হবে না, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিসৌধকেও কলঙ্কিত ও গুরুত্বহীন করবে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রামবাসী মেডিক্যাল স্থাপনার বিরুদ্ধে নয়, তবে তা সিআরবির বিনিময়ে নয়।'

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামবাসীর আবেদনে সাড়া না দিয়ে মেডিক্যাল স্থাপনা নির্মাণে সিআরবি এলাকায় বেশ কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী খলিল খান। ছবি: নিউজবাংলা

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক।

নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শনিবার রাতে সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি দেন ভিক্ষুক খলিল খান। তার বাড়ি মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকায়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ নভেম্বর মস্তফাপুর ইউনিয়নে ভোট হয়। নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন সোহরাব খান। আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পরাজিত হন।

নির্বাচনে মজিবরকে সমর্থন দেন ভিক্ষুক খলিল। এতেই ক্ষিপ্ত হয় শুক্রবার সকালে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় খলিলকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা চালান সোহরাবের ভাই আনোয়োর খান ও তার ছেলে সজিব খানসহ বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় খলিল নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দেন।

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে সবাই মিলে মারধর করে।’

চেয়ারম্যান সোহরাব খান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভিক্ষুককে আমি মারধর কেন করব। আমি কিছু করিনি। তবে ওই ভিক্ষুকের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল, যা পুলিশের এসআই খসরুজ্জামান এসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, থানায় এ বিষয় অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মস্তফা রাসেল বলেন, ‘থানায় যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শনিবার রাতে সাটুরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কারপত্রে বলা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

তিনি জানান, রাতে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে আব্দুল হক বলেন, ‘বহিষ্কারের আগে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ঘটনার মীমাংসা করেছিলেন। তবু আব্দুল মজিদ ফটোর ব্যক্তিগত কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে নয়।’

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে পাওয়া একটি সাপ। ছবি: নিউজবাংলা

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম।’

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। শীতল রক্তের প্রাণীটির এখন শীতনিদ্রার সময়, অথচ সেই সময়েই গ্রামের ঘরে-বাইরে সবখানেই দেখা মিলছে তাদের।

ঘর, বিছানা থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামার, পুকুর, রাস্তা কোনো স্থানই বাদ নেই। এরই মধ্যে গ্রামের ১০-১২ জনকে সাপে কামড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, মাসখানেক ধরে গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এতে তাদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আবার ক্ষেতে সাপ পাওয়ায় ফসল তোলার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি খাল খননের সময় ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলার পর সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘গ্রামে একটি প্রাচীন খাল ছিল। কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বিএডিসি) খালটি খনন করছে। এর অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে তাদের গ্রামের পাশের রায়খালী খালপাড়ের জঙ্গল কেটে ফেলা হয়।

‘এরপর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ কৃষি জমিতে, উঠানে, রাস্তায় ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। চারদিকে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবশ্য আগের তুলনায় এখন কিছুটা কমে এসেছে। আমরা ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

বাবুল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে গিয়ে ঘরের চাল থেকে বিছানায় পড়ে বিষধর এক সাপ। রাতভর ঘরের কেউ ঘুমাতে পারিনি।’

তাপস নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়ার টেবিলে গিয়ে দেখি চেয়ারের নিচে ফনা তুলে আছে একটি সাপ। চিৎকার দিতেই বাড়ির অন্যরা ছুটে এসে পিটিয়ে মারার পর স্বস্তি পাই।’

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষেতে যেতে ভয় পাচ্ছি। শুধু আমি না, সাপের ভয়ে এখন কেউ জমিতে নামতে চাচ্ছে না।’

দক্ষিণ সারোয়াতলীর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সুরেষ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি জমির পাশাপাশি বাড়িঘরেও সাপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এখানকার ১০ থেকে ১২ জনকে সাপ কামড়েছে। কৃষকরা ধান কাটতে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আবাসস্থলে আঘাত আসার কারণেই সাপগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে। উষ্ণ স্থানে আশ্রয় পাওয়ার আশায় তারা এখন বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন। ওই এলাকার ঝোপ-জঙ্গল কাটা বন্ধ রাখতেও বলেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর বর্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

৮ দফা দাবিতে দলিত সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

৮ দফা দাবিতে দলিত সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

রোববার দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

ডা. তাসুকুজ্জামান বলেন, “জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে প্রস্তাবিত 'বৈষম্য বিলোপ আইন' দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ও জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।'

মাগুরায় বিশ্ব মর্যাদা দিবসে আট দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ।

সমাবেশে জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা ডা. তাসুকুজ্জামান বলেন, “জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে প্রস্তাবিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। সরকারি চাকরিতে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ও জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিডিআরএম জেলা শাখার আহ্বায়ক ও দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস মন্টুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাড. সঞ্জয় রায় চৌধুরী, শামীম শরীফ, যুগ্ম-আহবায়ক অসীত কুমার দাস, সুবোধ বাগচি, এস এম তামিম হাসান, দেবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মিন্টু কুমার দাস, কমলেশ চন্দ্র ঘোষ, প্রভাত কুমার বিশ্বাস ও অধ্যাপক তপন বিশ্বাস ।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এবং দলিত সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৪০ জন সদস্য অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

এসপির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য: প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি

জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হুমকির অভিযোগে জামালপুরের পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার সাংবাদিকরা।

জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার নেতৃত্বে সাংবাদিকরা প্রথমে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সার্কিট হাউসে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমাবেশ করে পুলিশ সুপার নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে বেলা ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সাংবাদিকরা।

এর আগে তারা নাছির উদ্দীন আহমেদের প্রত্যাহার চেয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের দয়াময়ী চত্বরে মানববন্ধন করেন।

এতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

মানববন্ধনে জামালপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) মেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের ডাকেন এসপি নাছির। এ সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত না হওয়ায় এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধরে এনে পিটিয়ে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এসপিকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

৬ ‘জঙ্গির’ নামে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে। তিনি পলাতক আছেন।

নীলফামারীতে ছয় ‘জঙ্গির’ নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে র‌্যাব।

রোববার সকাল ১০টার দিকে মামলাটি হয়। মামলার বাদী হয়েছেন র‌্যাব-১৩ রংপুরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুল কাদের।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের পুটিহারী এলাকার শরিফুল ইসলাম শরিফকে।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার সোনারায় ইউনিয়নের তেলিপাড়া উত্তর মুশরত কুখাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাই অহিদুল ইসলাম, সংগলশী ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সুজা, চড়াইখোলা ইউনিয়নের বন্দর চড়াইখোলা গ্রামের ওয়াহেদ আলী ও সোনারায় ভবানীমোড় এলাকার রজব আলীর ছেলে ও তেলিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম নূর আমিন।

র‌্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ জেএমবি সদস্যকে নীলফামারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেএমবির সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য। তারা বোমা তৈরি করেছিলেন।

তিনি জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আর কারা জড়িত আছেন তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ওসি আব্দুর রউপ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছয় জনের নামে মামলাটি করে র‌্যাব। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে তোলা হবে এবং আদালতের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া পুটিহারী এলাকায় শনিবার সকালে শরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করে র‌্যাবের বম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন

বরিশালে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালে হাফ ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

আ‌লিসা মুনতাজ নামের এক শিক্ষার্থী ব‌লেন, ‘আমাদের কাছ থে‌কে জুলুম ক‌রে পুরো ভাড়া রাখা হ‌চ্ছে। এটা অ‌নৈ‌তিক। দাবি না মানা হ‌লে ক‌ঠোর আ‌ন্দোল‌নে যাবো।’

নৌপথসহ সব ধরনের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে রোববার দুপু‌র ১২টার দিকে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতীকী মরদেহ সামনে রেখে নিরাপদ সড়কের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধরা।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কর্মসূচীতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী আ‌লিসা মুনতাজ ব‌লেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থে‌কে জুলুম ক‌রে পুরো ভাড়া রাখা হ‌চ্ছে। এটা অ‌নৈ‌তিক। দাবি না মানা হ‌লে ক‌ঠোর আ‌ন্দোল‌নে যাবো।’

আরও পড়ুন:
‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’
সিআরবিতে ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়: মেয়র
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

শেয়ার করুন