‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’

‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সিআরবি নিয়ে ষড়যন্ত্র’

চট্টগ্রামের সিআরবি। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক অনুপম সেন বলেন, ‘হেরিটেজ ঘোষিত চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেরিটেজ হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়া সিআরবিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবর্তন করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের শামিল।’

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল চট্টগ্রামের সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক অনুপম সেন বলেন, ‘হেরিটেজ ঘোষিত চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। হেরিটেজ হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়া সিআরবিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবর্তন করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সাংবিধানিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।’

সভায় চট্টগ্রামের প্রকৌশলীরা সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।

সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম একসময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে আমরা ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়েছি। উন্মুক্ত জায়গা, খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। একটিমাত্র উন্মুক্ত স্থান সিআরবি, যেখানে মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে, সেটিও ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।

‘সিআরবি কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত। এটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত গেজেটভুক্ত। সিআরবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘন করা যাবে না। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে সিআরবি সংরক্ষণের সুপারিশ রয়েছে। এর প্রকৃতি নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। আগামী প্রজন্মের জন্য যেকোনোভাবে সিআরবি রক্ষা করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন।

সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাঁচতে হলে প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ দরকার। চট্টগ্রামের সেই পরিবেশ অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। একমাত্র সিআরবি আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেও সিআরবির মতো নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা যাবে না। এখন তা ধ্বংস করা হচ্ছে। এটি ধ্বংস করতে দেয়া যাবে না।’

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো-চেয়ারম্যান ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি জায়গা জনগণের সম্পত্তি। জনগণের সম্পত্তিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে না- এমন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। সিআরবি রক্ষা করার বিষয়টি আইনিভাবে নির্ধারিত। তা রক্ষার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।

‘সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আপামর মানুষ, সেবা সংস্থা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুস্থধারার প্রগতিশীল ব্যক্তিরা। যারা সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইছে, তারা কি এতটাই শক্তিশালী?’

তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইছে। সিআরবিতে হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে। সিআরবিতে যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব হয়েছে, সেটি শুধু ধনীদের স্বার্থ রক্ষার। এটি জনস্বার্থ পরিপন্থি প্রকল্প।’

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্যসচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে সিআরবিকে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সিআরবি প্রোটেকটেড এরিয়া হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই হিসেবে সিআরবিকে কমার্শিয়ালি ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়া যাবে না।’

সভায় বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার, আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মো. হারুন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।

উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুচ, নুরুল আলম মন্টু, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবুসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্রিজের নিচে ডাকাতি মামলার আসামির মরদেহ

ব্রিজের নিচে ডাকাতি মামলার আসামির মরদেহ

পলাশবাড়ীতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ‘নিহত সাদা মিয়ার নামে ডাকাতির মামলা রয়েছে। কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মরদেহ ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে গেছে।’

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ডাকাতি মামলার এক আসামির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর গ্রামে একটি ব্রিজের নিচ থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।

৫০ বছর বয়সী সাদা মিয়া ওই গ্রামের আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে বাড়ির পাশের একটি ব্রিজের নিচে সাদা মিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তার ভাষ্য, ‘নিহত সাদা মিয়ার নামে ডাকাতির মামলা আছে। কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মরদেহ ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে গেছে।’

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সাদা মিয়া। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।’

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত

বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাস জলফৈ এলাকায় পৌঁছলে কাভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রাস্তায় উল্টে যায় কাভার্ডভ্যানটি। চালকের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বাসের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের জলফৈ এলাকায় শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই মো. নবীন হোসেন।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের একটি বাস জলফৈ এলাকায় পৌঁছলে কাভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রাস্তায় উল্টে যায় কাভার্ডভ্যানটি।

চালকের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাস চালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহও নেয়া হয়েছে এই হাসপাতালে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলীর থানা এলাকায় চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন (সিপিপি) ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হলেও বিষয়টি শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানায় পুলিশ।

ওই চীনা নাগরিকের নাম থিয়াং ইউ। তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের লিওনিং এলাকার বাসিন্দা। সিপিপি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে ফোরম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, শুক্রবার রাতে কর্ণফুলী এলাকার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। তাকে রাত ১২টার দিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ আল মঈন বলেন, ‘ওয়াহেদ আলীর নেতৃত্বে এই বাড়িতে বোমা তৈরি করা হতো বলে আমরা জেনেছি। রংপুর অঞ্চলে সে-ই এই কাজ করত।’

নীলফামারী সদরের সোনারায়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় ওহিদুল ইসলাম, ওয়াহেদ আলী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহিদুল ইসলাম ও নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করার কথাও জানায় র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক শেখ আল মঈন।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নীলফামারীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকাল থেকে সোনারায় ইউনিয়নের পুটিহারীর শরিফুল ইসলামের বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। পরে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অভিযান চালিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে।

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

র‌্যাব কর্মকর্তা শেখ আল মঈন বলেন, ‘ওয়াহেদ আলীর নেতৃত্বে এই বাড়িতে বোমা তৈরি করা হতো বলে আমরা জেনেছি। রংপুর অঞ্চলে সে-ই এই কাজ করত।’

আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১৩ রংপুর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। বিকেলে রংপুরে অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সব জানানো হবে বলে জানান তিনি।

অভিযানের সময় র‍্যাব একটি আইইডি-সদৃশ বিস্ফোরক শনাক্ত করে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এটি নিষ্ক্রিয় করেছে।

জঙ্গিদের কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তা জানাননি এই কর্মকর্তা। অভিযানের সময় ঘিরে রাখা বাড়ির আশপাশে হাজারও মানুষ ভিড় করেন।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

ভেঙে ফেলা হলো মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট

ভেঙে ফেলা হলো মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট

কাটাখালী বাজারের বাসস্ট্যান্ডের পাশে সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন দোতলা মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য এই অভিযান। খালের ওপর নির্মাণাধীন ভবনটি উচ্ছেদের জন্য ২৫ আগস্ট নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

সরকারি খালের ওপর নির্মিত কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর মার্কেট ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন কাটাখালী বাজারের বাসস্ট্যান্ডের পাশে সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন দোতলা মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য এই অভিযান। খালের ওপর নির্মাণাধীন ভবনটি উচ্ছেদের জন্য ২৫ আগস্ট নোটিশ দেয়া হয়েছিল।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বিতীয়বার নৌকার মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আব্বাস আলী কাটাখালী বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালটি দখল করে তার ওপর দোতলা মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু করেন।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তি তোলা মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে তিনি বলেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এ ঘটনায় ২৪ নভেম্বর আব্বাসের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ১ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হাসনায়েন।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য পাবনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন মারা গেছেন।

শনিবার ভোরে শহরের পৌর এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। গোলাম হাসনায়েন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল তার মৃত্যুর তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে ভোকেশনাল স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে উল্লাপাড়া আসন থেকে সদস্য (এমসিএ) নির্বাচিত হন।

তিনি ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালের দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

আজীবন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২১ সাল তাকে একুশে পদক দেয়া হয়।

গোলাম হাসনায়েনের মৃত্যুতে পাবনার মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন

ক্যাম্প থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ যুবক আটক

ক্যাম্প থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ যুবক আটক

কামরান হোসেন জানান, রবিনের কাছ থেকে একটি রিভলবার, চারটি গুলি ও ২ হাসার ২৭২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা শিবির থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার ভোররাতে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে রবিন লেতটিয়াকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন।

আটক রবিন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিণখোলা এলাকার ক্যাচচিং চাকমার ছেলে।

কামরান হোসেন আরও জানান, রবিনের কাছ থেকে একটি রিভলবার, চারটি গুলি ও ২ হাসার ২৭২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
সিআরবিতে হাসপাতালের অনুমোদন নয়: সিডিএ
‘চট্টগ্রামের ফুসফুস’ বাঁচাতে অক্সিজেন মুখে অবস্থান মুক্তিযোদ্ধার
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের

শেয়ার করুন