বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ওয়াইল্ড বিস্ট শাবকের জন্ম

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ওয়াইল্ড বিস্ট শাবকের জন্ম

‘করোনা মহামারির কারণে দর্শণার্থীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ সুযোগে প্রকৃতির শতভাগ অনুকূল পরিবেশ পেয়ে ওয়াইল্ড বিস্টের প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর কমপক্ষে পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্টের শাবক জন্ম নিয়েছে।’

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ওয়াইল্ড বিস্ট শাবকের জন্ম হয়েছে। এ নিয়ে পার্কটিতে এখন ওয়াইল্ড বিস্টের সংখ্যা ১৭। এ বছর পার্কে কমপক্ষে পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্ট জন্ম নিয়েছে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, করোনা মহামারির কারণে দর্শণার্থীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ সুযোগে প্রকৃতির শতভাগ অনুকূল পরিবেশ পেয়ে ওয়াইল্ড বিস্টের প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর কমপক্ষে পাঁচটি ওয়াইল্ড বিস্টের শাবক জন্ম নিয়েছে।’

পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের প্রাপ্তবয়স্ক ওয়াইল্ড বিস্ট এ পার্কে আনা হয়। বয়সজনিত কারণে দুটি ওয়াইল্ড বিস্ট মারা গেছে। একটি করে বাচ্চা প্রসব করা এদের বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য অনেক প্রাণির মতোই জন্মের পর থেকে এরা এক বছর পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে থাকে। জন্মের সপ্তাহখানেক পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘাস ও তৃণলতা খেতে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াইল্ড বিস্ট সাধারণত ছোট ঘাস ক্ষেতে বেশি পছন্দ করে। পুরুষ দুই বছর ও মাদি ওয়াইল্ড বিস্ট ১৬ মাসে প্রজনন সক্ষমতা অর্জন করে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ওয়াইল্ডবিস্ট ২০ বছর আর আবদ্ধ পরিবেশে ২৪ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের তাড়া

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের তাড়া

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফাইল ছবি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের অবশ্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রশমনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সমাপ্ত সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে চিঠি লিখেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে বলেন, আমাদের অবশ্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রশমনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সমাপ্ত সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জয়শঙ্কর এ বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়ন দুই দেশকে ভবিষ্যতে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করবে।

'আমরা আনন্দিত যে বাংলাদেশ আমাদের দুর্যোগ প্রতিরোধক অবকাঠামোর জন্য কোয়ালিশনে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ভালোভাবেই জানেন যে সমগ্র বিশ্ব, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল এখন ঘন ঘন জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের সাক্ষী।

চিঠিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, একে অপরের সেরা অনুশীলন থেকে শেখার পাশাপাশি একে অপরকে সহায়তা করাও এখন সময়ের দাবি।

জয়শঙ্কর মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের জন্য শোক প্রকাশ করে দেয়া চিঠির জন্য মোমেনকে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার করুন

‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন শেখ রহমান

‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন শেখ রহমান

‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জর্জিয়ার সিনেটর ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ককাস অব এনভায়রনমেন্টাল লেজিসলেটরস বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমানকে ‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ দেয়। জর্জিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে তিনি প্রথম মুসলিম সিনেটর। সর্বশেষ তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান।

বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে এই খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ককাস অব এনভায়রনমেন্টাল লেজিসলেটরস (এনসিইএল) তাকে এই পুরস্কার দেয়।

পুরস্কারের বিষয়টি এনসিইএল-এর অষ্টম বার্ষিক জাতীয় ফোরামে গত সপ্তায় উপস্থাপন করা হয়। ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যের ১৯০ জনেরও বেশি অংশ নিয়েছিলেন।

সিনেটর শেখ রহমান পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ককাস অব এনভায়রনমেন্টাল লেজিসলেটরসের (এনসিইএল) কাছ থেকে ‘রাইজিং এনভায়রনমেন্টাল লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়ে আমি গর্বিত ও সম্মানিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই এনসিইএল’র সঙ্গে জড়িত সকল সদস্যকে, তারা আমাকে এমন চমকপ্রদ সুযোগ করে দিয়েছেন অনেক কিছু শেখার ও কিভাবে আমাদের দেশকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলা যায় সেই বিষয়ে। জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সুন্দর জর্জিয়া দেয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাবো।’

২০১৮ সালের ২২ মে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়নে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন বাংলাদেশি বশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শেখ রহমান।

জর্জিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে তিনি প্রথম মুসলিম সিনেটর। সর্বশেষ তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হন।

শৈশব এবং কৈশোর কিশোরগঞ্জ জেলায় কাটিয়েছেন শেখ রহমান। বাংলাদেশে মাধ্যমিকের স্তর শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

শেয়ার করুন

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।’

মৌলভীবাজার থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় দুটি বাঁশ ভল্লুক, একটি শকুন ও একটি বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল শহরের জালিয়া রোডের শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেনজারড ওয়াইল্ডলাইফের (Stand For Our Endangered Wildlife) মাধ্যমে বন্য প্রাণী আটকে রাখার খবর পায় বন বিভাগ। এরপর তারা র‍্যাবকে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।

‘প্রাণীগুলো কীভাবে কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং এগুলো দিয়ে কী করা হবে তা জানার চেষ্টা চলছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বাঁশ ভল্লুক নিশাচর প্রাণী। এরা দিনে গাছের ওপর ঘুমায়। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার গভীর জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

খুব সকালে নয়তো গোধূলিবেলায় কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ শিকার করেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ে বাগদা চিংড়ি, বোয়াল, কালবাউশ, বাইনসহ নানা প্রজাতির মাছ।

কয়েক দিন ধরে গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। এগুলো নদীর পাড় থেকেই কিনে নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের ডুমুর নামক স্থানে উৎপন্ন হয়ে ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করে কুমিল্লা সদর উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর গোলাবাড়ী, টিক্কারচর, কাপ্তানবাজার হয়ে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জ, দাউদকান্দি হয়ে জোয়ারভাটাহীন নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে।

গোমতীর আলেখারচর অংশে শনিবার বিকেলে জেলেদের জালে চিংড়ি কালবাউশের সঙ্গে একটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলে আবদুর রহিম বলেন, ‘মাজে মইধ্যে দুই একডা ইলিশা মাছ পাই। ইলিশাটি ছোডু। মাঝে মইধ্যে আবার বড়ও ধরা পড়ে। কয়দিন আগে এক কেজি ওজনের একটা পাইছিলাম। আশটে শ (৮০০) টেহায় বেচ্চি।’

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া নিয়ে বিস্মিত নন নদীপাড়ের মানুষ।

নদীটির আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘মইধ্যে মইধ্যে এক-দুইডা ইলিশ পাওন যায়। জাউল্লাডি (জেলেরা) জাল দিয়া বেড় দেয়। একটা-দুইডা ইলিশ উডে। এডি আবার মাইনষে বেশি দামে কিন্না লইয়া যায়।’

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

তিনি আরও বলেন, ‘গোমতী নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে। প্রজননের সময় পদ্মা ও মেঘনা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারটে ইলিশ গোমতীতে চলে আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না।’

শেয়ার করুন

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজের বিরল প্রজাতির তালিপাম গাছে ফুটেছে ফুল। ছবি: নিউজবাংলা

তালিপাম গাছের ‘অনন্য বৈশিষ্ট্য’, প্রায় শত বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যায় অর্থ্যাৎ জীবনচক্র শেষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে রোপন করা বিরল প্রজাতির গাছটির ‘মারণ ফুল’ ফুটেছে ৯ বছরেই।

বিশ্বের মহাবিপন্ন বৃক্ষের তালিকাভূক্ত তালিপামে ফুল ও ফল হওয়ার সবশেষ নমুনাটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুলার রোড সংলগ্ন উপ-উপাচার্যের বাসবভন চত্বরে।

এই গাছের ‘অনন্য বৈশিষ্ট্য’, প্রায় শত বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যায় অর্থ্যাৎ জীবনচক্র শেষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে রোপন করা বিরল প্রজাতির গাছটির ‘মারণ ফুল’ ফুটেছে ৯ বছরেই।

গাছটি ২০১২ সালের ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম বজলুল করিম চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের বাসা থেকে এনে রোপণ করেছিলেন। মাত্র ৯ বছরে ফুল ফোটার খবরে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে যান একদল উদ্ভিদ গবেষক।

তালিপাম গাছের গবেষক ও সরকারি বাঙলা কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টের মহাপরিচালক অমি ড. মালা খান, হেলথ ইন হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক শারমিন সুলতানা।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ভিদ গবেষকরা গাছটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ফুল, পাতা, শেকড়, ডালসহ বিভিন্ন উপকরণ গবেষণার জন্য সংগ্রহ করেন।

ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তালিপামের ফুল-ফল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৯টি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। যার কিছু উপাদান অণুজীব ধ্বংসকারী, বার্ধক্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধক গুণাগুণ সম্পন্ন। এর মধ্যে বিটুলিনিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

জানা যায়, ১৭৯৯ সালে সর্ব ভারতের পূর্বাঞ্চলে তালিপাম প্রজাতির সন্ধান পান যুক্তরাজ্যের উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলিয়াম রক্রবার্গ। স্থানীয়ভাবে যা ‘বুনো তাল’ নামে পরিচিত ছিল।

তিনি জানিয়েছিলেন, বুনো তাল পূর্ববাংলার এনডেমিক উদ্ভিদ অর্থ্যাৎ এটি এমন উদ্ভিদ, যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে জন্মায়।

এরপর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তি নিকেতন এলাকায় আরেকটি তালিপাম বৃক্ষের তথ্য পাওয়া যায়। তবে বৃক্ষটিতে ফুল আসার পরপরই স্থানীয় অধিবাসীরা তা কেটে ফেলেন।

কথিত আছে, ১৯৭৯ সালে ওই গাছে যখন ফুল আসে। তখন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ অশুভ মনে করে সেটি কেটে ফেলেন।

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’
তালিপামের ফুল পরীক্ষা করছেন গবেষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে অবশ্য ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম সালার খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি তালিপাম গাছ চিহ্নিত করেন। ১৯৭৯ সালের পর পৃথিবীর অন্য কোথাও এ প্রজাতির সন্ধান না পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদটিকেই বিশ্বের একমাত্র বন্যতাল প্রজাতির নমুনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) তালিপামকে বিশ্বের মহাবিপন্ন উদ্ভিদ হিসেবে ঘোষণা করে।

তালিপাম গাছের গবেষক ড. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তালিপামের ফুল-ফল থেকে সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষণ নিয়ে গবেষণা করছেন। এটি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম সুপারভাইজার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদ কো-সুপারভাইজার হিসেবে তত্ত্বাবধান করছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম থেকে ২০০১ সালে জানতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তালিপাম নামে একটি গাছ আছে। বৃক্ষটি ১০০ বছর পর মাত্র একবারই ফুল-ফল দিয়ে মারা যাবে। এরপর ২০০৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃক্ষটিতে মুঞ্জরী বের হয়।

‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বৃক্ষপ্রেমী মানুষের মধ্যে এটি ভালো আগ্রহের সৃষ্টি করে। পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে লেখালেখি হতে থাকে। এই সময় প্রচলিত চিকিৎসার একটি কথা আমার মনে পড়ে যায়, যে গাছ একবার ফুল-ফল দিয়ে মরে যায়, সে গাছ ঔষধি।

‘তখন মনে হয়, যেহেতু বৃক্ষটি ১০০ বছর পর একবার ফুল-ফল দিয়ে মরে যাবে, নিশ্চয় এর ফুল-ফল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি উপাদান পাওয়া যাবে। এরপরই তালিপাম নিয়েই পিএইচডি কোর্সের গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম ও কো-সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদকে জানালে তারা সানন্দে রাজি হন। কারণ ইতোমধ্যে গাছটি সম্পর্কে তারাও জেনেছেন।

কো-সুপারভাইজার থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টাওয়ার ভবনের একটি ফ্ল্যাটে, গাছটি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। এরপর শুরু হয় তালিপামের ফুল, অপরিপক্ক ও পরিণত ফল নিয়ে পিএইচডি কোর্সের গবেষণার কাজ।’

ড. আখতারুজ্জামান জানান, গবেষণার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছটি কাছে গিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে একদিন ভোরে গাছের নিচে গিয়ে দেখেন চার-পাঁচটার মতো বীজ পড়েছে মাটিতে। সেগুলো অঙ্কুরোদগমের জন্য বাসার বারান্দায় টবে রোপন করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর থেকে প্রায় এক হাজারের মতো বীজ সংগ্রহ করে ৫০০ বীজ রেখে দেন গবেষণার জন্য। এ ছাড়া অঙ্কুরোদগমের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের মেডিসিনাল প্ল্যান্ট গার্ডেনে ৩০০ এবং বাকি ২০০ বীজ দেন আজিমপুর কোয়ার্টারের নিচে। টবে দেয়ার দুই-আড়াই মাসের মধ্যে বীজগুলো থেকে অঙ্কুরোদগম হয়।

৯০ বছর আগেই কি ফুটল ‘মারণ ফুল’

চারাগুলো আট-দশ ইঞ্চি হয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেন সেগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেবেন, যাতে বৃক্ষটি যথাযথ সংরক্ষিত হয় এবং শত বছর পর ২১১০ সালের দিকে যখন ফুল-ফল আসবে তখন ভবিষ্যৎ গবেষকরা যেন বৃক্ষটি নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে পারেন।

বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টের মহাপরিচালক আমি ড. মালা খান বলেন, ‘উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুযায়ী, তালিপাম গাছে ১০০ বছর পরে ফুল আসবে, ফল হবে এবং তারপর গাছটি মরে যাবে। এটাই হল তালিপামের চরিত্র সম্পর্কে এ পর্যন্ত মানুষের কাছে জানা তথ্য। অথচ অত্যন্ত আশ্চর্যের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি যে ১০ থেকে ১১ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এ গাছে ফুল ফুটেছে। আমরা আশা করব, আগামী এক বছরের মধ্যে এটাতে নিয়ম অনুযায়ী ফলও আসবে।

‘এই আশ্চর্যজনক ঘটনার কারণেই বাংলাদেশ বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখানে এসেছে। সাধারণ তালিপামের বৈশিষ্ট্য থেকে বের হয়ে এসে ১০০ বছরের আগে এটিতে ইমম্যাচিউর অবস্থায় কেন ফুল আসল; এর পরিণতি কোন দিকে যাচ্ছে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এবং বায়োটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রণব চক্রবর্তীসহ বিজ্ঞানীদের যে দল এই মুহূর্তে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তালিপামের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য। এটি হলে আমরা জানতে পারতাম, সাধারণ তালগাছের সাথে এই তালিপামের পার্থক্যটা কোথায়।

‘কেন এটা ১০০ বছর পরে ফুল দিচ্ছে, কেন ১০০ বছর পরে ফুল-ফল দেয়ার পরে সেটা আবার মরেও যাচ্ছে। এই গবেষণার মাঠ পর্যায়ে এসে আমরা এ রকম একটি তথ্য পেলাম, এখন আমাদের গবেষণার মাত্রাটা আরও গভীর হবে।’

সারা দেশে এখন ১০০টি তালিপাম গাছ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পামের সাথে তালিপামের পার্থক্য জানতে বাকি ৯৯টা গাছ পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। একটা গাছের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেছে, এখন বাকি ৯৯টা গাছের মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন আসছে কি না।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, ‘তালিপাম বৃক্ষ আমাদের পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক মরহুম এম বজলুল করিম চৌধুরী এখানে রোপন করেছিলেন। আমরা এ গাছটি দেখাশোনা করছি। শত বৎসর পরে এই গাছে ফুল ফুটে গাছটি মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যেই ফুল ফুটেছে।’

শেয়ার করুন

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়

আখড়ার গাছ থেকে পড়ে মৃত পাখি। ছবি: নিউজবাংলা

আখড়ার পুরোহিত গৌরাঙ্গ বৈষ্ণব গোসাই বলেন, ‘আমি মন্দির ও আখড়ার জন্য এসব করেছি। এর জন্য যদি আমাকে পুলিশে দেয়া হয়, তাও আমি মেনে নেব।’

সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্রায় চার একর জমির ওপর আছে বৈরাগীবাড়ির নয়ন গোসাই আখড়া। শাল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চল মামুদনগর গ্রামের এই আখড়ার গাছে গাছে বাসা বেঁধেছে বক, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

আখড়ার গাছ কাটা নিয়ে এর গোসাইদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের হয়েছে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি।

গোসাইদের দাবি, পাখির মলমূত্রে তারা আখড়া পরিষ্কার রাখতে পারছেন না। সে কারণে ডালপালা ছেঁটে পাখি তাড়াতে চান। এদিকে স্থানীয় লোকজন চান, পাখিগুলো আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ুক।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতি দুই বছর পরপর আখড়ার গাছের ডালপালা কাটা হয়। এগুলো বিক্রি করা টাকা আখড়ার উন্নয়ন ও মাছ চাষে ব্যয় করা হয়। এবার তিন বছর পর সোমবার গাছের ডালপালা কাটা শুরু হলে পাখির বাসা ভেঙে ছানা ও ডিম মাটিতে পড়ে যায়। ৬০০ পাখি আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

পাখিদের কিচিরমিচির বেড়ে গেলে স্থানীয়রা এসে বাধা দেন। একপর্যায়ে আখড়ার কর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি শুরু হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে কয়েক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেনকে এটি জানান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মুক্তাদির হোসেনকে গাছ কাটা বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

মামুদনগর গ্রামের রাজ্জাক আহমদ নিউজবাংলাকে জানান, সোমবার আখড়ার কাজটি ভালো হয়নি। পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়তে থাকলে কেউ কেউ কুড়িয়ে নিয়ে গেছে, কেউ টাকা দিয়ে কিনেও নিয়েছে। তারা বাধা দিলেও শোনা হয়নি।

‘পবিত্রতা রক্ষায়’ পাখিরা নিরাশ্রয়
কেউ কেউ কুড়িয়ে নিয়ে যায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া পাখি

স্থানীয় আরেক ব্যক্তি জানান, ৫০০ থেকে ৬০০ পাখির বাসা তারা ভেঙেছে। গাছে বক আর পানকৌড়িই বেশি ছিল।

এ বিষয়ে আখড়ার পুরোহিত গৌরাঙ্গ বৈষ্ণব গোসাই বলেন, ‘আমি ধর্মের কাজ করি এখানে। মিথ্যা কিছু বলব না। আমি নিজেই এখানে পাখিদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। যেহেতু এটি পবিত্র স্থান, আমাদেরও সব সময় পবিত্র থাকতে হয়। পাখিদের বিষ্ঠা, পালক জায়গাটা অপবিত্র করছে।

‘আখড়ার পূর্ব দিকে বাতাস আসার যে জায়গা, সেখান দিয়ে বিষ্ঠা শুকিয়ে আখড়ার ভেতরে চলে আসে। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম পাখিগুলোকে এখান থেকে সরানোর কিন্তু যায়নি। বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মন্দির ও আখড়ার জন্য এসব করেছি। এর জন্য যদি আমাকে পুলিশে দেয়া হয়, তাও আমি মেনে নেব।

‘আমি মাত্র পাঁচটি গাছ কাটছি। তার মধ্যে দুইটায় পাখির বাসা ছিল, এগুলো ভেঙে গেছে। বিষয়টি অনেক বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘পাখিরা ধর্মীয় স্থানে শান্তির খোঁজেই হয়তো বাসা বেঁধেছিল। তাদের সঙ্গে যা হয়েছে এটি অন্যায়। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এলে আমরা গাছপালা কাটা বন্ধ রাখা নির্দেশ দিই। পাখিদের যেন কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

‘যদিও জায়গাটি ব্যক্তিগত, তবু আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যেন আর গাছ না কাটা হয়।’

শেয়ার করুন

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনে বন্যায় প্রাণহানি ৩ গুণ বেড়ে ৩০২

চীনের ঝেংঝৌতে বন্যার পানির তোড়ে উল্টেপাল্টে পড়ে আছে গাড়ি। ছবি: এএফপি

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি। গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশে গত মাসের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে, যা গত সপ্তাহে হালনাগাদকৃত তথ্যের প্রায় তিন গুণ বেশি। এখনও নিখোঁজ অর্ধশতাধিক মানুষ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বন্যায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝৌ। শহরটিতে বন্যায় মারা গেছে কমপক্ষে ২৯২ জন, নিখোঁজ ৪৭ জন। প্রদেশের অন্যান্য শহরে নিখোঁজ আরও তিনজন।

স্থানীয় সরকার সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সোয়া এক কোটি বাসিন্দার শহর ঝেংঝৌতে অন্যান্য সময়ে সারা বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, জুলাইয়ে মাত্র তিন দিনেই সে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে সেখানে।

১৭ জুলাই থেকে মাত্র তিন দিনে ৬১৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বা ২৪ দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড করে ঝেংঝৌ। শহরটিতে বার্ষিক গড় বৃষ্টি ৬৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বা ২৫ দশমিক ২ ইঞ্চি।

গত এক হাজার বছরে চীনে এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে সে সময় জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাতাল রেল, মাটির নিচে গাড়ি পার্কিং এলাকা আর সুড়ঙ্গ সড়ক ডুবে যায় পানিতে। আটকা পড়ে কয়েক হাজার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট, বন্যার পানির তোড়ে ভেসে আসা ধ্বংসস্তূপ, আর সাবওয়ে স্টেশনে গলা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকার দৃশ্য দেখা গেছে।

মেয়র হৌ হং সাংবাদিকদের জানান, গাড়িং পার্কিংসহ বিভিন্ন বেজমেন্ট থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাতাল রেলে পানিতে আটকে প্রাণ গেছে ১৪ জনের।

কিছুদিন আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লুওইয়াং শহরে একটি বাঁধ বন্যায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সেনা মোতায়েন করা হয় সেখানে। বাঁধটিতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাসহ সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা।

গত দুই সপ্তাহে বিরূপ আবহাওয়ার সাক্ষী হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল, এশিয়ায় চীন, ভারত, আফগানিস্তান, আফ্রিকায় নাইজার বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দাবদাহ ও দাবানলে বিপর্যস্ত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।

শেয়ার করুন