দূষণকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কণ্ঠ জোরালো করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

দূষণকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কণ্ঠ জোরালো করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল-টুয়েন্টির (ভি২০) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এবারের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির আয়োজক দেশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনটি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য রাখবেন।

পরিবেশ দূষণকারী উন্নত দেশগুলোকে দায়বদ্ধ করতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরালো করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। অথচ পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশের কোন দায় নেই। কাজেই দূষণকারী উন্নত দেশকে দায়বদ্ধ করতে কণ্ঠস্বর জোরালো রাখতে হবে।’

বুধবার দুপুরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল-টুয়েন্টির (ভি২০) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এবারের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির আয়োজক দেশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনটি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য রাখবেন।

এই সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সরকার প্রতি বছর পরিবেশ বিপর্যয় রোধে প্রচুর টাকা ব্যয় করে; এই অর্থের সুফল প্রান্তিক মানুষ পায় কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর বাজেট থেকে গড়ে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করে পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলায়। এই বিপুল অর্থের সুফল প্রান্তিক মানুষ পায় কিনা- তা দেখার জন্য, নজরদারি করার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আছে। তারাই দেখভাল করে। এক্ষেত্রে আপনাদেরও (সাংবাদিক) দায়িত্ব আছে। আপনারা অনেকেই সেই দায়িত্বও পালন করে থাকেন।’

এ প্রসঙ্গে তিনি উপকূলীয় জেলা খুলনায় সম্প্রতি একজন সংসদ সদস্য জনরোষের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে ভি২০ দেশগুলোর বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান, জি২০ এবং শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত সিওপি-২৬ (কপ-২৬) সম্মেলনের আগে সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

২০১৫ সালে গঠিত ভি২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রীদের এ ফোরাম ক্রমাগতভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভি২০ ফোরামের সদস্য সংখ্যা ৪৮ এবং বাংলাদেশ এ ফোরামের বর্তমান সভাপতি।

ভি২০ দেশগুলোর জনসংখ্যা এখন প্রায় ১২০ কোটি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়া এ দেশগুলোর বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিককালে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এই সম্মেলনের ইস্তেহার আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এবং জি-২০ ক্লাইমেট এন্ড এনার্জি বিষয়ক যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় ভি২০ সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে যা গ্লাসগোতে কপ-২৬ সম্মেলনে আমাদের সুসস্পষ্ট অবস্থান তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য