সংসদে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী

দেশে বনভূমি ২৩ লাখ হেক্টর

দেশে বনভূমি ২৩ লাখ হেক্টর

বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বনের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর। যা মোট আয়তনের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।’

দেশের মোট আয়তনের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ বনভূমি আছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নত্তোর পর্বে মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বনের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর। যা মোট আয়তনের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।’

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন জানান, সামাজিক বনায়নের আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫১১ দশমিক ৭৮ হেক্টর উডলট ও ব্লক বাগান এবং ৭৪ হাজার ৭৬৫ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে। এতে গত ১০ বছরে এক লাখ ২৫ হাজার ৬৯১ জন ব্যক্তি লাভবান হয়েছেন।

অন্যদিকে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া জমির (সিকস্তি) পরিমাণ ৫ লাখ ১৪ হাজার ৬৭১ দশমিক ৯৫ একর। সবচেয়ে বেশি সিকস্তি জমি চট্টগ্রাম বিভাগে, আর সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সিকস্তি জমির খাজনা আদায়ের সুযোগ নেই।

বিভাগভিত্তিক সিকস্তি জমির মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৯ হাজার ১৪২ দশমিক ৯৮ একর, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৬২ দশমিক ৯৩ একর, খুলনায় ৩০ হাজার ৬৭১ দশমিক ১৫ একর, রাজশাহীতে ৯৭ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৮৪ একর, রংপুরে ১৫ হাজার ৪৮ দশমিক ৭৮ একর, সিলেটে ৩১ দশমিক শূন্য ৭ একর, ময়মনসিংহে ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ৪৪ একর, বরিশালে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৩ দশমিক ৭৭ একর জমি রয়েছে।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

বিদেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করছে চীন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বক্তব্য রাখেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। ছবি: এএফপি

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হবে, বহির্বিশ্বে এমন কোনো প্রকল্পে আর বিনিয়োগ করবে না চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বুধবারের বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন চীনের প্রেসিডেন্ট চি শিনপিং।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী বিশ্ব সম্প্রদায়।

অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় শিনপিং বলেন, ‘অন্য দেশের কল্যাণে চীনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি ব্যবহারে ন্যূনতম কার্বন নিঃসরণ ঘটে, এমন প্রকল্পে সাহায্য জোরদার করব আমরা। একই সঙ্গে কোনো দেশে নতুন করে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করব না।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপকে সড়ক, রেল ও নৌপথে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের এ নিউ সিল্ক রোড প্রকল্পও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মুখে ছিল চীন।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বেশিরভাগ উন্নয়নশীলসহ অনেকগুলো দেশে রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করেছে চীন।

বিভিন্ন দেশে কয়লা জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বেইজিং। কিন্তু এ পদক্ষেপে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অনেক দেশে কয়লাভিত্তিক কারখানার কর্মপরিধি সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালেই প্রথম ছয় মাসে কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্পে তহবিল দেয়নি বেইজিং।

চীন নিজেও বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও কয়লার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল দেশটি।

২০৩০ সালের আগেই সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণ শেষে ২০৬০ সালের মধ্যে চীনকে কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত করা হবে বলে গত বছর আশ্বাস দিয়েছিলেন বেইজিং।

চিনপিংয়ের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

দাবানল-মহামারির মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। ছবি: এএফপি

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী মেলবোর্নের বেশ কয়েকটি ভবন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। উৎসস্থল ছিল ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানীর অদূরে অবস্থিত ম্যান্সফিল্ডে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওসায়েন্সেস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎস ছিল বলে কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে প্রতিবেশি সাউথ অস্ট্রেলিয়া আর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

পরে চার আর তিন দশমিক এক মাত্রার দুটি আফটারশকও অনুভূত হয় অঞ্চলটিতে। আরও আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে ভিক্টোরিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ।

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও এতে গুরুতর ক্ষতি হয়নি। কেউ গুরুতর আহতও হয়নি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ভূমিকম্প, বিশেষ করে শক্তিশালী কম্পন বেশ বিরল। ভূগর্ভে টেকটনিক প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত মহাদেশটি। তবে গড়ে প্রতি ১০ বছরে একবার দেশটিতে ছয় মাত্রার ওপর ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মেলবোর্নের জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ বৃদ্ধিতে লকডাউন চলছে শহরটিতে।

এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটি। তীব্র দাবদাহ চলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সিডনিশহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে সম্প্রতি।

গত বছরের ভয়াবহ দাবানলের পর এ বছরও তাপমাত্রার তীব্রতা আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জ্বলছে আগুন।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার। ছবি: নিউজবাংলা

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে।'

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার।

সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে এবং বাংলাদেশে চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। পারস্পরিক আলাপ আলোচনা ও চাহিদার ভিত্তিতে এ সহযোগিতা বহাল থাকবে।

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।’

পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারিবিলিটি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল-২০ এর সভাপতি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। সিভিএফ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান ঘোষণা করেছেন।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান, আর্টিকেল-৬ (মার্কেট মেকানিজম) সহ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যান্য বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঐক্যমতে পৌঁছবেন বলে আশাবাদ জানান মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ হালনাগাদকরণ এবং বন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার জন্য বিএমজেড এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শহর এলাকায় অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহ জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে তিনি জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

কক্সবাজারের কলাতলীর শুকনাছড়ি এলাকায় এই বনভূমিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি করার জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গায় জুড়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করার সুপারিশ করেছে তারা। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার।

বৈঠকে ফিজিবিলিটি স্টাডি অফ ট্রান্সবাউন্ডারি ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর ইন চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্ট অ্যান্ড কক্সবাজার উইথ মিয়ানমার অ্যান্ড ইন্ডিয়া শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি; আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনের প্রস্তুতি এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা দেয়ার প্রস্তাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কমিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে পরিবহনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা দিতেও সুপারিশ করে স্থায়ী কমিটি।

২০২১-২০২২ অর্থ-বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেও তাগিদ দেয়া হয়।

বনবিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী না দিয়ে বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী দিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ রাখে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে ভেসে আসা বিষধর রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীয়ায় গড়াই নদীর তীরে আসা রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সব প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিষধর রাসেলস ভাইপারকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। তাদের দাবি, মানুষের জীবন আগে। বিষধর সাপ মেরে ফেলাই মঙ্গল বলছেন তারা।

পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াইয়ের তীরে কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়ীয়া থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধরা হয় রাসেলস ভাইপারটিকে। এটি কাশবনে জড়িয়ে ছিল।

মো. মৃদুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ছোট ঠেলা জাল দিয়ে সাপটিকে ধরে তার বাড়ি নিয়ে যান। তিনি সাপটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করে বিক্রির চিন্তা করছিলেন।

পরে কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এটি রাসেলস ভাইপার; বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন সাপটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন।

শাহাবউদ্দীন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে মঙ্গলবাড়িয়া থেকে রাসেলস ভাইপারটি নিয়ে ভেড়ামারা গোলাপনগরে পদ্মা নদীর ওপারে দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাপটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

তিনি জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
গড়াই নদীতীরের কাশবন থেকে উদ্ধার করা বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীকে শৃঙ্খলে সাজিয়ে রেখেছেন। ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

‘রাসেলস ভাইপারটি তার আবাস ছেড়ে ভুল করে চলে এসেছিল। এ জন্য আমরা আবার তার উপযোগী পরিবেশে ছেড়ে এসেছি।’

কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ শোয়াইব খান জানান, বিলুপ্তপ্রায় সাপটি বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রকৃতি থেকে যেমন ধরা হয়েছে, তেমনি প্রকৃতিতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাস উপযোগী দুর্গম চরাঞ্চলেই সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

এদিকে বিষধর সাপটিকে নিয়ে মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, ‘সবার আগে দরকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। ধর্মেও জীবন রক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানে এত বিষধর সাপ ধরে ছেড়ে দেয়া বোকামি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাপ আবারও পানিতে ভেসে চলে আসতে পারে; মানুষের জীবনহানি করতে পারে।’

স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘এত বিষধর সাপটিকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়ে ভণ্ডামি করা হয়েছে। লোক দেখানো প্রকৃতিপ্রেম।’

আশিক হোসেন সেতু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাপটাকে ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলাই ভালো ছিল।’

এ সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিং করার দাবি জানান খাদেমুল ইসলাম নামের স্থানীয় একজন।

পদ্মা অববাহিকা দিয়ে বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসতে শুরু করেছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। শরীয়তপুরে পদ্মার চরে গত বছর ভারত থেকে আসা সাপের প্রজাতিটির দেখা মেলার পর এ বছর এর আনাগোনা বেড়েছে।

সাপটি দেশে চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনোম রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক ও গবেষক বোরহান বিশ্বাস জানান, ভারত থেকে ২০১০-১১ সালের দিকে পদ্মার অববাহিকা ধরে রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে এসেছে। রাজশাহীতে প্রথম রাসেলস ভাইপারের দেখা মেলে। এরপর পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরে দেখা মিলেছে। চাঁদপুরেও বিষধর সাপটি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, রাসেলস ভাইপার বছরে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এলাকায়ও যেতে পারে। তারা নদীর পানিতে চলার সময় কচুরিপানায় ভেসে থাকে। নদীর তীরবর্তী ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণত আবাস গড়ে এরা। তীরের ধানক্ষেত তাদের থাকার জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। সাধারণত লোকালয়ে যায় না এ সাপ।

সঠিক তথ্য না থাকলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মৌখিক হিসাবে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রাসেলস ভাইপার পাওয়া গেছে।

দেখামাত্রই এসব সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড়ে গত সপ্তাহে একটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হরিপুরে পাওয়া গেছে একটি মরা রাসেলস ভাইপার।

আরও পড়ুন:
২০২০ সালে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে অনেক বেশি

শেয়ার করুন